দুটি রাজনৈতিক দল একই বিষয়কে ভিন্নভাবে চিহ্নিত করেছে: অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলফাইল ছবি: বাসসের সৌজন্যে

জামায়াত থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দলটি বহিষ্কার করলেও তিনি পদত্যাগ করেননি। বিপরীতে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের কারণে বিএনপির একজন সংসদ সদস্য পদ হারিয়েছেন। একই যাত্রায় দুটি রাজনৈতিক দল একই বিষয়কে ভিন্নভাবে চিহ্নিত করেছে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম আসা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বৃহস্পতিবার পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। এ নিয়ে বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ওই মন্তব্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সদস্য তাঁকে পদত্যাগ করতে বলার মাধ্যমে এই বার্তাটিই তিনি (প্রধানমন্ত্রী) দিতে চেয়েছেন যে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে, কারও বিরুদ্ধে শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা না, তাঁর দেওয়া কোনো পদপদবিও তিনি কেড়ে নিতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না।’

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘নতুন যে বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখি রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সব সময় একটা অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে যে তাঁরা যেকোনো অপরাধকে ঢাকার চেষ্টা করেন। অপরাধী নিজদলীয় লোকজনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। কিংবা তাদের একরকম প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আজকের এই ঘটনা প্রমাণ পেল যে উনি (তারেক রহমান) কাউকে আসলে এ ধরনের কোনো প্রশ্রয় যে কথা দিতে চান না বলে পাবলিকলি বলেন, তা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করলেন।’

‘ইটস অ্যা ভেরি ক্লিয়ার মেসেজ’

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আমি মনে করি যে একটা শৃঙ্খলা দরকার। এই শৃঙ্খলা রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ছাড়া একটা দেশের মধ্যে কিন্তু শৃঙ্খলা আসবে না। আপনি যত ভালো কাজই করেন না কেন, যদি আপনার অনেক ভালো কাজ কোনো একটা খারাপ কাজ দ্বারা কিন্তু আপনার ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। টোটাল আপনার অর্জনটাকে ম্লান করে দিতে পারে। আমার ধারণা তারেক রহমান চাচ্ছেন না যে তাঁর এত অর্জনের মধ্যে কেউ কোনো ম্লান করার কোনো সুযোগ পায়। ইটস অ্যা ভেরি ক্লিয়ার মেসেজ। শুধু তাঁর দলের নেতা-কর্মী না, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা নাগরিকের জন্য—এটা একটা মেসেজ যে আমাদের সামনে কোনো কারণে রাষ্ট্রকে ক্ষতি করলে কোনো একটা ব্যবস্থাপনা আসলে কারও বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও তিনি যেকোনো এ ধরনের একটা বড় ধরনের সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে পারেন—এই বার্তাটাই সবচেয়ে বড় বার্তা।’

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘নাগরিক হিসেবে মনে করি, তিনি (তারেক রহমান) যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি তিনি যে পদত্যাগ করেছেন, দলীয় প্রধান এবং সংসদ নেতার কথার পরিপ্রেক্ষিতে, তিনিও একটা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন।’

গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করেছে, তিনি পদত্যাগ করেননি

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘জামায়াত কিন্তু তাদের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছে। তাঁর কিন্তু পদ শূন্য হয়নি। কারণ, বিদ্যমান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির সংসদ সদস্য পদ যাওয়ার ক্ষেত্রে দুটি বিধান। একটা হচ্ছে যদি তিনি পদত্যাগ করেন কিংবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেন। গাজী নজরুল ইসলাম দলের বিপক্ষে ভোটও দেননি এবং পদত্যাগও করেননি। সুতরাং জামায়াত যতই মুখে বলুক না কেন তারা একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তাদের সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি কিন্তু সংসদ সদস্য থেকেই যাচ্ছেন। কিন্তু বিপরীতে তারেক রহমান, তিনি যে অবস্থান নিয়েছেন, সে অবস্থানে কিন্তু একজন এমপি যিনি পদ হারালেন…এবং এটা একটা বিরাট ব্যাপার। সুতরাং আইনটাকে আপনি কীভাবে কতটুকু ধারণ করবেন, প্রয়োগ করবেন সম্পূর্ণ আপনার ওপর নির্ভর করে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘আমি মনে করি একই যাত্রায় দুটি রাজনৈতিক দল একই বিষয়কে ভিন্নভাবে চিহ্নিত করেছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে দায়সারাভাবে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে তিনি (গাজী নজরুল) সংসদ সদস্য থেকে গেলেন। তারেক রহমানের দলের নেতা হিসেবে দলের সিদ্ধান্ত এবং সংসদ নেতার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন এমপির এমপিশিপ চলে গেল। এখানে আইনগতভাবে দেখতে হবে যে সংশ্লিষ্ট এমপি তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার মাধ্যমে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রতিফলিত হয়েছে। আমি মনে করি সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের একটা অবস্থান, তা পাবলিক হয়ে গেল।’