ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার প্রতিবাদ এবং নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবিতে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের মার্কিন দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। পরে সংগঠনটির নেতা–কর্মীরা সড়কে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর শাহজাদপুর এলাকায় জড়ো হন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতা–কর্মীরা। পরে তাঁরা একটি মিছিল নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, সারা বিশ্বে আমেরিকা মাস্তানি করেছে। সম্পদ লুণ্ঠন করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উন্মাদ হয়ে উঠেছেন। এ ঘটনায় সরকার কোনো বিবৃতি দিল না। যাঁরা কথায় কথায় দিল্লি না ঢাকা বলে স্লোগান দেন, তাঁরাও এ ঘটনার কোনো প্রতিবাদ জানাল না।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ভেনেজুয়েলায় তেল ও সোনার খনি রয়েছে। এসব সম্পদ লুট করতেই দেশটিতে আক্রমণ করে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নেওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলার তেল লুটপাট করে ঋণগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঋণের ঘাটতি পূরণ করতে চায়।
বজলুর রশীদ ফিরোজ আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ও জাতিসংঘের আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করেছে। দেশে দেশে এই হামলার প্রতিবাদ হচ্ছে। মার্কিন নাগরিকেরাও এই হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু এ দেশের প্রগতিশীল ব্যক্তিরা ছাড়া কেউ এই মার্কিন হামলার প্রতিবাদ করছেন না। তিনি বলেন, সরকারে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরাও প্রতিবাদ করছেন না। যাঁরা সরকারে আসবেন, তাঁরাও কোনো প্রতিবাদ করছেন না। এমনকি ধর্মভিত্তিক দলগুলোও এ হামলার প্রতিবাদ করছে না।
প্রতিবাদী সমাবেশে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, সারা বিশ্বের মানুষ এই হামলার প্রতিবাদ করছে। অবিলম্বে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর মুক্তির দাবি জানান তিনি।
প্রতিবাদ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা সীমা দত্ত প্রমুখ।