প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা শুধু মুখে বললে হবে না। নিজের থেকে পাশে দাঁড়াতে হবে। অনেকে সমালোচনা করে যাচ্ছেন। কিন্তু এক মুঠো চাল দিয়ে বা হাত দিয়ে পানি থেকে কাউকে উদ্ধার করতে দেখা যায়নি।

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সব সময় ঐক্যে বিশ্বাস করি। যাঁরা আসবেন, তাঁদের সঙ্গে আমরা কাজ করব। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, যুদ্ধের ভয়াবহতা ও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন। যদিও অনেকে এর সমালোচনাও করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, এভাবে কথা বললে মানুষ ভয় পেয়ে যাবেন। ভয় নয়, মানুষকে সতর্ক করা এবং ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি বলেছেন।

বাংলাদেশ তুলনামূলক ভালো আছে

গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। সারা বিশ্বের অবস্থাই খুব টালমাটাল। বরং বাংলাদেশ অনেক উন্নত দেশ থেকে এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থায় আছে। ইউরোপ, আমেরিকা, গ্রেট ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিটি জায়গায় জ্বালানি তেলের অভাব, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সব জায়গায় লোডশেডিং। গ্রেট ব্রিটেনে বিদ্যুতের দাম ৮০ শতাংশ বেড়েছে। তারা সবকিছু রেশন করে দিচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে দেশে যাতে প্রভাব না পড়ে, তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে, সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সদস্য রুমিন ফারহানার একটি প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমেরিকায় দারিদ্র্য বেড়ে গেছে। খাবার পাচ্ছে না, থাকার ঘর নেই, রোগের চিকিৎসা নেই।

পণ্যসংকটে ইন্ধন থাকতে পারে

পণ্যসংকট ও মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আর্থিক লাভের কথা চিন্তা করে, মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে না। এ জন্য তারা অনেক সময় পণ্য লুকিয়ে রাখে এবং কৃত্রিম উপায়ে জিনিসের দাম বাড়ায়। এতে অনেকের ইন্ধনও থাকতে পারে। তবে তাদের ধরা হয়। ইতিমধ্যে অনেক পণ্য খুঁজে বের করা হয়েছে এবং তা বাজারজাত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সব সময় সরকারের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। এভাবে পণ্য লুকিয়ে রেখে মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চলমান থাকবে।

গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থায় ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার চরম আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য দেশের জনসাধারণের জীবনমান স্বাভাবিক রাখতে ও দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৬ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত আছে। নিরাপদ খাদ্য মজুত গড়ার মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান সচল রাখার প্রয়াসে ২০২২-২৩ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণভাবে ২২ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক—নানা রকম দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের উদ্যোগের ফলে জনমনে অচিরেই স্বস্তি আসবে।

প্রবাসে সরকারবিরোধীরা শাস্তির আওতায়

সরকারি দলের সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কিছু প্রবাসী ও অভিবাসী বাংলাদেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারে লিপ্ত হন। সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, উসকানিমূলক ও সম্পূর্ণ বানোয়াট বক্তব্য প্রদানকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি বা বিচারের মুখোমুখি করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার জন্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোয় এবং অনলাইন মিডিয়াতে নিয়মিত তথ্যবহুল সংবাদ, প্রবন্ধ, ফিচার, ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ প্রকাশের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের বানোয়াট ও ভিত্তিহীন পোস্টগুলো নজরদারি করা হয়।