সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে অস্থিতিশীলতার জন্য এক–এগারো হলো। তখন তাদের বড় বড় স্লোগান ছিল, মাইনাস টু। আসলে এটা ছিল মাইনাস ডেমোক্রেসি—গণতন্ত্রকে দূরে রাখো, নিয়ন্ত্রিত একটা শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করো। সেই একই সূত্র থেকে, একই ষড়যন্ত্র থেকে, একই চক্রান্ত থেকে পরবর্তীকালে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করল আওয়ামী লীগ।’

আওয়ামী লীগ জোর করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে আছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি একটা কথা বলাতে ওরা ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়েছিল। সেটা হচ্ছে যে আমি বলেছিলাম পাকিস্তান আমলেও এত অত্যাচার–নির্যাতন হয়নি। আমাকে ওরা পাকিস্তানের চরটর বানিয়ে দিল। ওরা জিয়াউর রহমান সাহেবকে পাকিস্তানের চর বলে, আমি তো কোন ছার। যিনি স্বাধীনতার যুদ্ধ ঘোষণা করলেন, তাঁকেই তো তাঁরা পাকিস্তানের চর বলেন, আমি তো ক্ষুদ্র মানুষ।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাস্তবতা এটা যে তাদের দুঃশাসন সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। অতীতের সব শাসনব্যবস্থাকে তারা ছাড়িয়ে গেছে। কলোনি আমলে ব্রিটিশ রুল, তারপরে পাকিস্তান রুল, তার পরে এরশাদের রুল—সবকিছুকে ছাড়িয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। তারা একটা দুঃশাসনে বাংলাদেশকে পুরোপুরিভাবে পঙ্গু করে ফেলেছে, ব্যর্থ করে ফেলেছে।’

একই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, ‘যেকোনো নাগরিক সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন তুলতে পারেন—যেভাবে, যে প্রক্রিয়ায় কেয়ারটেকার পদ্ধতি বিলুপ্ত করা হয়েছে, সেটা আইনসম্মত নয়। এটা আইনজীবীরা তুলতে পারেন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে সংবিধান লঙ্ঘন করে আমরা কেয়ারটেকার পদ্ধতিতে যেতে পারি কি না। আমার উত্তর হচ্ছে, আমরা ১০০ ভাগ পারি। সেই উত্তরটি আমি বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতকে দিয়ে থাকি। তাঁরা যখন ব্যাখ্যা চান, তখন আমি তার ব্যাখ্যাটি এভাবে দিই যে সংবিধান হচ্ছে মানুষের জন্য, মানুষ সংবিধানের জন্য নয়। যেহেতু তারা বিদেশি, আমি ইংরেজিতে বলি, কনস্টিটিউশন নট আ বাইবেল (সংবিধান বাইবেল নয়)—যে এটা পরিবর্তন করা যাবে না। এটার পরিবর্তন মানুষই করবে, প্রয়োজনে করবে এবং পরবর্তী সময়ে যখন সংসদ আসবে, সেটা আইনসম্মত করে নেবে। এর ভূরি ভূরি উদাহরণ রয়েছে।’

আবদুল মঈন খান বলেন, ‘এখন নির্বাচন করে ৬৪ জেলার ডিসি, ৬৪ জেলার এসপি, থানার ওসি, উপজেলার ইউএনওরা। নির্বাচন কমিশন এখান বাহুল্যমাত্র। গাইবান্ধার উপনির্বাচনে তা প্রমাণিত হয়ে গেছে। তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কোনো বিকল্প নেই।’

সড়কমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আজকে শুনলাম ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন যে বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রান্সপোর্ট) প্রকল্প এখন গলার কাঁটা হয়ে গেছে। অর্থাৎ আপনার এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর পর্যন্ত। এই কথাটা বলতে বলতে আমি হয়রান হয়ে গেলাম ভাই। কালকে ময়মনসিংহ থেকে এসেছি। কাপাসিয়া থেকে আমার আসতে লেগেছে ছয় ঘণ্টা। উত্তরা থেকে আমার ঢাকায় আসতে আড়াই ঘণ্টা লাগে। আমার বাসা উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টর থেকে এয়ারপোর্ট আসতে পুরো এক ঘণ্টা লাগে।’

‘এখন ওবায়দুল কাদের সাহেব বলছেন যে ওটা তাঁদের গলার কাঁটা হয়ে গেছে। নির্লজ্জ মানুষেরা। এ কথা বলার আগে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত ছিল। কারণ, এই প্রকল্প তাঁরা নিয়েছেন। তাঁরা ১০ বছর ধরে এই পুরো এলাকার মানুষ, পুরো নর্থ বেঙ্গলের মানুষ, পুরো ঢাকার মানুষকে তাঁরা অসহ্য রকমের একটা যন্ত্রণা দিচ্ছেন, যে যন্ত্রণা কল্পনা করা যায় না’, বলেন বিএনপির এই নেতা।

ময়মনসিংহে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ময়মনসিংহে সমাবেশকে কেন্দ্র করে হরতালের মতো হয়েছে। করফিউয়ের মতো হয়েছে। গাজীপুর পার হওয়ার পর মনে হলো হরতালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। সেখানেও কিন্তু ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি। সারা রাত গোলাগুলি করেছে, বোমাবাজি করেছে, কিন্তু আমাদের মানুষকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি। মানুষ উঠে দাঁড়িয়েছে। উঠে দাঁড়াচ্ছে।’

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আলম জর্জের সভাপতিত্বে ও উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম রফিকের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।