হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মামলায় ‘ক্যামেরা ট্রায়ালে’ একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ

কারাবন্দী হাসানুল হক ইনুকে মামলার শুনানির দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়ফাইল ছবি: প্রথম আলো

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মামলায় একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে ‘ক্যামেরা ট্রায়ালের’ মাধ্যমে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ এই মামলার বিচার চলছে। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আজ সোমবার তাঁদের আদালতে এ মামলার অষ্টম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ হয় ক্যামেরা ট্রায়ালে। এ সময় এজলাস থেকে মামলাসংশ্লিষ্ট আইনজীবী ছাড়া অন্য সবাইকে বের করে দেওয়া হয়। সাক্ষীর সুরক্ষায় তাঁর পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ক্যামেরা ট্রায়ালের আবেদনে প্রসিকিউশন অভিযোগ করে, আসামিপক্ষ থেকে সাক্ষীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগের বিরুদ্ধে তাঁরা (আসামিপক্ষ) আপত্তি জানিয়ে ট্রাইব্যুনালকে বলেছেন, এখানে আসামিপক্ষকে অপবাদ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, বিষয়টি আদেশে উল্লেখ করবেন।

হাসানুল হক ইনুকে এদিন কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যে ২৬ আগস্ট গ্রেপ্তার হন তিনি। হাসানুল হক ইনুর দল জাসদ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ১৪–দলীয় জোটের অন্যতম অংশীদার। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারে মন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছিল, তার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ওই সময় হাসানুল হক ইনুর নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় একটি মামলা হয়।

তাতে একমাত্র আসামি হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া, শেখ হাসিনার সঙ্গে থেকে আন্দোলনকারীদের দমনে গুলির নির্দেশ দেওয়া, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের গুলির নির্দেশ দেওয়া ইত্যাদি।

এই মামলায় বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি সফল করতে কুষ্টিয়ায় দুই থেকে তিন হাজার আন্দোলনকারী বক চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ মিলে হামলা চালায়। তাতে সুরুজ আলী বাবু, বাবুল ফরাজী, আবদুল্লাহ মুস্তাকিন, উসামাসহ ছয়জন শহীদ হন।