শেখ হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে নয়াদিল্লি: এনসিপি
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলেছে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে নয়াদিল্লি।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটি এ কথা বলে। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের জনগণের ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক চেতনা ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে।
এনসিপি মনে করে, শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভারত আবার প্রমাণ করেছে, তারা বাংলাদেশের জনগণের চেয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ককেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটি বলেছে, শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাঁকে কেন্দ্র করে যেকোনো সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতি, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনা করেছে এনসিপি। দলটি বলেছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করতে সরকার এখন পর্যন্ত যথেষ্ট কার্যকর, দৃশ্যমান ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ নিতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য বা কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।
এনসিপি আরও বলেছে, তারা গণতন্ত্র, জবাবদিহি এবং সব ধরনের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অবসানের পক্ষে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্নকারী এবং জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর অপরাধে দায়ী ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত না করে তাঁদের রাজনীতিতে ফিরে আসার কোনো সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলেও মনে করে দলটি।