সাবেক মেয়র মনজুর আলমসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সাবেক মেয়র মনজুর আলম ও সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনিফাইল ছবি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের সভা ও মিছিলের ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামির তালিকায় চট্টগ্রাম-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ারও রয়েছেন।

শুক্রবার রাতে ফটিকছড়ি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮০–৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. জামান বাবু (২৩) ও সাইফুল ইসলাম (২৫)। মামলার আসামিদের তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে।

মামলার বাকি আসামিদের মধ্যে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম (৬২), সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার (৪০) ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের (৪০) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় শতাধিক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভা করে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সভার অনেক ছবি ছড়িয়ে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার রোসাঙ্গিরি এলাকার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ‘বিশ্রামাগারে’ এই সভা হয়। সংগঠনের ফটিকছড়ি উপজেলা শাখা সভাটির আয়োজন করে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে রোসাঙ্গিরি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমনগর এলাকায় নাজিরহাট–মাইজভাণ্ডার পাকা সড়কে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা মশাল হাতে একটি মিছিল বের করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে থাকা ব্যক্তিরা মশাল ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১ ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যান।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক মেয়র ও সাবেক সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় তাঁরা জড়ো হন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছেন। তাঁরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে চারটি বাঁশের তৈরি মশাল জব্দ করা হয়।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভা ও মিছিলের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।