আমাদের মাইর দেওয়ার অভ্যাস করতে হবে: গয়েশ্বর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলা ‘প্রতিরোধের’ জন্য ছাত্রদলের প্রশংসা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘এখন থেকে আঘাত এলে পাল্টা-প্রতিরোধ করতে হবে, আঘাত করতে হবে। এই আঘাত করার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশকে স্বাধীন করেছি, অন্যায়ভাবে মাইর খাওয়ার জন্য না। আমাদের মাইর দেওয়ার অভ্যাস করতে হবে।’
আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর। খালেদা জিয়া ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ‘কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কমানোর দাবিতে এ মানববন্ধন করা হয়।
গয়েশ্বর বলেন, ‘আমাদের ওপর হাত তোলেন, আমাদের হাত আর পকেট থাকবে না। প্রতিবাদ করার অধিকার আমাদের আছে। সাংবিধানিকভাবে গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছি।’
সংসদ বিলুপ্ত, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন ও নতুন নির্দলীয় সরকার না হলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না বলে উল্লেখ করেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন করতে দেব না। আমরা এক জায়গায় আছি, এক জায়গায় থাকব। সাহস থাকলে (নির্বাচন) করেন। আমরা যদি পারি, তা প্রতিরোধ করব।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশে করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান। নিজে ভালো থাকুন, দেশবাসীকে ভালো থাকতে দিন।
বর্তমানে বিরোধী বিভিন্ন দল সরকারের বিরুদ্ধে যে ভাষায় কথা বলছে, তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য। তিনি বলেন, ‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ হন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।’
গয়েশ্বর দাবি করেন, দেশে যে দুর্ভিক্ষ দেখা দিচ্ছে, এই দুর্ভিক্ষের হাত থেকে দেশের মানুষ রক্ষা পাবে না।
বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, দেশের রিজার্ভের টাকা লুট করে রিজার্ভ খালি করা হয়েছে। দেশের ব্যাংকগুলো এখন দেউলিয়া ঘোষণা করলে শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থা হবে।
পুলিশের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘খুব সুন্দর ভাষায় পুলিশ আমাদের নামে মামলা দেয় যে, আমরা পুলিশের কর্তব্যে বাধা দিয়েছি। আপনারা যদি কর্তব্য পালন করেন, তাহলে নারী ও শিশু ধর্ষণ হয় কেন?’
কিছুদিন পরপর পুলিশ বিএনপির নেতাদের ঠিকানা জানতে চেয়ে হেনস্তা করছে বলে অভিযোগ করেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, ‘আপনারা এই যে ৩৫ লাখ মামলা করেছেন, প্রতিটি মামলার একজন আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) আছেন। যাঁরা আইও আছেন, তাঁরা যাবেন কোথায়? তাঁদের ঠিকানা তো সরকারিভাবে লিপিবদ্ধ করা আছে। সেটা মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকেন।’
মানববন্ধন বক্তব্যে রাখেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক প্রমুখ।