তৈমুরের প্রচারে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ চার ইউপি চেয়ারম্যান
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকারের পক্ষে বিএনপি ও সমমনা দলের নেতারা শুরু থেকেই মাঠে আছেন। শুক্রবার যুক্ত হলেন জাতীয় পার্টি (জাপা) সমর্থিত চার ইউপি চেয়ারম্যান। যাঁরা জাপার সাংসদ সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ। তাঁর ছোট ভাই শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ। এই দুটি সংসদীয় আসনই সিটি করপোরেশনের মধ্যে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির রাজনীতিও নিয়ন্ত্রণ করে ওসমান পরিবার।
এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও দলটির নেতা তৈমুর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পেছনে শামীম ওসমান বা ওসমান পরিবারের ইন্ধন রয়েছে বলে এখানকার মানুষের মধ্যে আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল। শুক্রবার ওসমান পরিবারের অনুগত চার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান তৈমুরের সঙ্গে প্রচারে নামায় এটা এখন প্রকাশ্যে এসে গেছে বলে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাপার সাংসদ সেলিম ওসমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ ভোট চায়নি। তাই জাতীয় পার্টি এখানে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেয়নি। যাঁরা সেখানে গেছেন, ব্যক্তিগতভাবে সেখানে গেছেন, দল থেকে নয়।’
শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে লক্ষ্মণখোলা এলাকায় গণসংযোগ ও মিছিল করেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার। তাঁর সঙ্গে দলবল নিয়ে অংশ নেন ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ চার ইউপি চেয়ারম্যান—বন্দর ইউনিয়নের এহসান চৌধুরী, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন ও ধামগড় ইউনিয়নের কামাল হোসেন।
বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈমুরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি এবং প্রচারে অংশ নিয়েছি।
প্রায় একই কথা বলেছেন মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন। আর কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভাষ্য, তিনি ভালোবেসে তৈমুরের প্রচারে অংশ নিয়েছেন।
ওই চার ইউপি চেয়ারম্যান ছাড়াও তৈমুরের মিছিলে অংশ নেন সাবেক সাংসদ ও নাগরিক ঐক্যের নেতা এস এম আকরাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, বিএনপির মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, বিএনপির বন্দর উপজেলার সভাপতি নুরুউদ্দিনসহ নেতা-কর্মীরা।
শুক্রবার সকালে গণসংযোগকালে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, পানি কাটলে দুই ভাগ হবে, কিন্তু বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর যে সম্পর্ক সেটি ছিন্ন হবে না। তিনি বলেন, ‘আমার দল আমাকে ভালো কাজ করে দিয়েছে, এখন নৌকার ভোটও পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।’
তৈমুর অভিযোগ করেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে রাস্তার মধ্যে তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছে। মাইকিং করা হচ্ছে। তাঁর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেবেন বলে তিনি জানান।
তবে তৈমুরের এ অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, তিনি আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিন ওয়ার্ড মিলে একটি মাইক দিয়েছেন। কিন্তু তৈমুর আলম সবচেয়ে বেশি মাইক ব্যবহার করছেন।