প্রচারণায় সরব আওয়ামী লীগ, নীরব অন্যরা

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে বেশ জোরেশোরে প্রচারণা চলছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী অপর চার প্রার্থী অনেকটাই নীরব রয়েছেন। প্রচারণা যেমন নেই, তেমনি এলাকায় তাঁদের পোস্টারও চোখে পড়ে না। সাধারণ ভোটারদেরও ভোটে খুব একটা আগ্রহ নেই।
গত মঙ্গল ও বুধবার সরেজমিনে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
ময়মনসিংহ-৩ আসনে উপনির্বাচনে ১৮ জুলাই ভোট হবে। গত ২ মে এ আসনের সাংসদ মজিবুর রহমান ফকির হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাজিম উদ্দিন আহমেদ। তাঁর বিরুদ্ধে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) থেকে আবদুল মতিন, জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে শামছুজ্জামান, ইসলামী ঐক্যজোটের আবু তাহের খান ও স্বতন্ত্র হিসেবে মো. আজিজুল হক প্রার্থী হয়েছেন।
গাজীপুর, কলতাপাড়া, রামগোপালপুর ও গৌরীপুর পৌর শহর ঘুরে নির্বাচনের তেমন কোনো আমেজ পাওয়া যায়নি। এসব এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কিছু পোস্টার দেখা যায়। তবে অন্য কোনো প্রার্থীর পোস্টার চোখে পড়েনি। প্রায় পুরো নির্বাচনী এলাকার চিত্র এ রকম বলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়।
দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জয় সময়ের ব্যাপার। তাই অনেকটা নির্ভার ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের প্রচারণা ও জনসংযোগ চলছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কয়েক দিন ধরে প্রচারণায় নেমেছেন কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। জেলা ছাত্রলীগও মঙ্গলবার গৌরীপুরের কয়েকটি এলাকায় প্রচারণায় অংশ নেয়। কেন্দ্রীয় নেতারা আজ শুক্রবার গৌরীপুর আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাজিম উদ্দিন আহমেদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কথা।
বেশ কয়েকজন ভোটার বলেন, নির্বাচন নিয়ে তাঁদের খুব বেশি আগ্রহ নেই। কারণ, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীই বিজয়ী হবে বলে সবার ধারণা। তা ছাড়া তাঁর কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীও নেই।
কমপক্ষে ৩০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশির ভাগ ভোটার আওয়ামী লীগের বাইরে চার প্রার্থীকে চেনেন না। অনেকে তাঁদের নামও জানেন না। চারজনের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুল হক প্রচারণায় কিছুটা সরব আছেন। দলীয় অন্য তিন প্রার্থী নীরব। তাঁরা জনসংযোগ করলেও বেশ নীরবেই করছেন।
রামগোপালপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী এক দিন এসেছিলেন বলে তাঁকে আমি এখন চিনি। বাকি প্রার্থীদের পক্ষে লিফলেট দিয়ে গেলেও আমি তাঁদের একজনকেও চিনি না।’
তবে মো. আজিজুল হক বলেন, ‘ভোট পেতে হলে ভোটারদের কাছে যেতে হয়। ক্ষমতাসীনদের কারণে কিছু বাধা-বিপত্তি থাকলেও সে কাজটা আমি করছি।’ তিনি ও ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী আবু তাহের খান তাঁদের প্রচারণায় আওয়ামী লীগ বাধা দিচ্ছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনের মাত্র তিন দিন বাকি থাকলেও ন্যাপের প্রার্থী আবদুল মতিনের পোস্টার গতকাল ছাপা হয়েছে। আবদুল মতিন বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ প্রতিদ্বন্দ্বী চারজনের চেয়ে আমি একাই বেশি ভোট পাব।’
জাপার প্রার্থী শামছুজ্জামান ও ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী আবু তাহের খানের দাবি, তাঁরা নিয়মিত ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে তাঁরাও আশাবাদী।
ময়মনসিংহ-১ আসনে প্রচারণা: কেন্দ্রীয় নেতারা বুধবার ময়মনসিংহ-১ (ধোবাউড়া-হালুয়াঘাট) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী জুয়েল আরেংয়ের পক্ষে হালুয়াঘাটে দুটি কর্মিসভায় অংশ নেন। গতকাল বৃহস্পতিবার একই প্রার্থীর পক্ষে ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ও গামারীতলা ইউনিয়নে দুটি পথসভায় অংশ নেন।
এ দুই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে প্রচাণায় মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠিক সম্পাদক আহাম্মদ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন, সদস্য সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।
আহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘প্রচারণায় অংশ নিয়ে বোঝা যাচ্ছে দলীয় প্রার্থীদের অবস্থা খুব ভালো। আশা করি, তাঁরা দুজনই বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।’