
গাইবান্ধা–৩ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আঠারোজন, বিএনপির দুইজন, জাতীয় পার্টির তিনজন ও জাসদ থেকে একজন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তবে কোন জোটে কে প্রার্থী হবেন তা নিয়ে এখন জল্পনা-কল্পনা চলছে। সাদুল্যাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৩ আসন।
এ আসনে বর্তমান সাংসদ, সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউনুস আলী সরকারদলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তাঁকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ১৭ জন। তাঁরা হলেন পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বক্কর প্রধান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম মোকছেদ চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার (অব) মাহমুদুল হক, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ উম্মে কুলসুম, চিকিৎসক শাহ মো. ইয়াকুবুল আজাদ, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মাজেদার রহমান, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জাহিদ হাসান, পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শ্যামলী বেগম, আইনজীবী নুরুল ইসলাম, সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাকারিয়া খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়া খান, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আবদুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মতিয়ার রহমান, আওয়ামী লীগ কর্মী এম এ ওয়াহেদ ও স্কুলশিক্ষক আজিজার রহমান।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরে পলাশবাড়ীতে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছিল। তখন বিএনপি-জামায়াত ছিল শক্তিশালী। তাদের প্রতিরোধে মাঠে নামতে পারেনি আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া সাংসদ ইউনুছের সঙ্গে দলীয় নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের তেমন যোগাযোগ নেই।
তবে সাংসদ ইউনুছ দাবি করেন, এলাকায় নিয়মিত তিনি সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ৪২ বছর ধরে এলাকার মানুষ উন্নয়নবঞ্চিত ছিল। তিনি অনেক উন্নয়ন করেছেন।
মোকছেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি অতিথি প্রার্থী নই, স্থানীয় মানুষ। এলাকায় থেকে তৃণমূল নেতা–কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। মনোনয়ন পেলে আসনটি নেত্রীকে উপহার দিতে পারব।’
বিশ্লেষকদের মতে, আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। তাই মহাজোট হলে এ আসনটি চায় জাতীয় পার্টি। এখানে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে ছয়বার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী। পরবর্তী সময়ে তিনি জাতীয় পার্টিতে (জাফর) যোগ দেন। এলাকায় ভোটের জাদুকর বলে পরিচিত রাব্বী চৌধুরী এবার ওই দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বিএনপির সঙ্গে তাঁর দলের জোট হলে তিনি জোটের প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে। আসনটি ছাড় দিতে নারাজ জামায়াত। জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি ও পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।
জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা দিলারা খন্দকার, সাদুল্যাপুর উপজেলা পরিষদের বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আকতার বানু লাকি, মমতাজ আলী, যুব সংহতির নেতা মনজুরুল হক। আকতার বানু বলেন, ‘পরপর দুই দফায় ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে এ আসনে বিজয়ী হতে পারব।’ দিলারা খন্দকার বলেন, ‘আমার দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত। তবে মহাজোট হলে কে প্রার্থী হবেন সেটা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বিষয়।’
সাদুল্যাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যন, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এস এম খাদেমুল ইসলাম জাসদের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। অল্প বয়সে জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন। খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হলে আসনটি জাসদকে উপহার দিতে পারব।’
জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক মইনুল হাসান সাদিক, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষকদলের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। মইনুল হাসান বলেন, মানুষ আওয়ামী লীগের দুশাসন দেখেছেন। তাঁরা এখন পরিবর্তন চান।