বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক কোন প্রক্রিয়ায়, ঠিক করার পরামর্শ

জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে তাঁরা খালেদা জিয়াকে এই ঐক্য গড়তে হলে আগে বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে কোন প্রক্রিয়ায় সম্পর্ক রাখবে তা ঠিক করার পরামর্শ দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে নিজের কার্যালয়ে বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন খালেদা জিয়া। সেখানে এই পরামর্শ ওঠে আসে বলে বৈঠকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার একটি সূত্র জানায়, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, ডান, বাম প্রগতিশীল সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হলে আগে বিএনপিকে এটি ঠিক করতে হবে যে, তারা জামায়াতের সঙ্গে কোন প্রক্রিয়ায় সম্পর্ক রাখবে। ১৯৭১ সালের কৃতকর্মের জন্য জামায়াতকে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে জামায়াতকে আলাদা রেখে ১৯৯১ সালের আদলে কাজ করতে হবে। বৈঠক সূত্র জানায়, জামায়াত ইস্যুতে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট আইনজীবী রফিক উল হক।
সভা শেষে জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতের পিতৃপুরুষেরা অন্যায় করেছে। মুক্তিযুদ্ধেও বিরোধিতা করেছে। একবার গোলাম আজম ক্ষমা চেয়েছিল। দলীয়ভাবে জামায়াতকে জাতির সামনে তাদের পূর্ব পুরুষদের কার্যকলাপের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।

মতবিনিময় সভার সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া মূলত বিশিষ্ট জনদের কাছ থেকে জাতীয় ঐক্য গড়ার বিষয়ে পরামর্শ চান। কিন্তু তিনি কোন প্রক্রিয়ার এটি করতে চান তা স্পষ্ট করেননি। সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আওয়ামী লীগসহ সব দলকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন। কেউ কেউ আওয়ামী লীগসহ সব দলের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে চা চক্র বা মতবিনিময় করার পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে এ জন্য আওয়ামী লীগকে বিএনপির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তাবও সভায় ওঠে আসে।

সভা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, সভায় গুলশানে হামলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবাই জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার পরামর্শ দিয়েছেন। সবাই একসঙ্গে মিলে এই সংকট অতিক্রমের বিষয়ে কথা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক উপাচার্য আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যেও যে আহ্বান জানিয়েছেন সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর আহ্বানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, এ জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। তবে এর প্রক্রিয়া কী হবে তা নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা হয়েছে।

সভায় অন্যদের মধ্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রুহুল আলম চৌধুরী, নয়া দিগন্তের সম্পাদক মহিউদ্দীন আলমগীর, সংগ্রামের আবুল আসাদ, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, রুহুল আমিন গাজী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মোস্তাহিদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।