মানুষের মুক্তি আর সাম্যের জয়গানে স্বতন্ত্র নজরুল: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, কাজী নজরুল ইসলাম মুক্তির পক্ষে, সাম্যের পক্ষে, নির্যাতিতদের পক্ষে কথা বলেছেন। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে উদ্দীপ্ত করেছে। কবিতা লেখার কারণে তাঁকে বারবার কারাগারে যেতে হয়েছে। নজরুলের কবিতা ও গান বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সে কারণে তাঁর সাহিত্যকর্ম তাঁকে অনন্য করেছে। সে জন্যই কাজী নজরুল ইসলাম অন্য কবিদের থেকে স্বতন্ত্র।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার দুপুরে কুমিল্লার নগর মিলনায়তন প্রাঙ্গণে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি যে কবি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে গেছেন, তিনি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। অন্য কবিদের চাইতে নজরুলের স্বাতন্ত্র্য হচ্ছে, অন্য কবিরা কবিতা লিখেছেন, সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। কিন্তু কাজী নজরুল শুধু সাহিত্যকেই সমৃদ্ধ করেছেন তা নয়, তিনি মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে তিনি ত্বরান্বিত করেছেন। একজন কবি যে মানুষ উদ্দীপ্ত করতে পারেন, মুক্তিকামী মানুষকে সাহস জোগাতে পারেন, মানুষকে যে বিদ্রোহী করতে পারেন, সেটির প্রমাণ হচ্ছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আগে বাঙালি জাতির পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালির জন্য কোনো রাষ্ট্র কখনো রচিত হয়নি। বাংলা ভাষাভাষী কিছু কিছু এলাকা নিয়ে বিভিন্ন সময় স্বাধীন রাজা ছিল কিন্তু কোনো স্বাধীন রাজ্য বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাজার বছরের ঘুমন্ত বাঙালিকে জাগ্রত করেছেন। কাজী নজরুল ইসলামের কাছ থেকেও তিনি মুক্তির পক্ষে, সাম্যের পক্ষে কথা বলার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন, অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। সে কারণে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে ইন্দিরা গান্ধীকে বলে কবিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।’
‘আজকে যদি বাংলাদেশ রাষ্ট্র রচিত না হতো, তাহলে বাংলা ভাষা কোথায় গিয়ে দাঁড়াত জানা নেই’ বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমি শিলিগুড়ি ও কলকাতা গিয়েছিলাম, সেখানে সব জায়গায় ইংরেজি ও হিন্দিতে সাইনবোর্ড দেখা গেছে। শতকরা পাঁচ বা বড়জোর ১০ ভাগ সাইনবোর্ড দেখেছি বাংলায়। যদি বাংলাদেশ রাষ্ট্র রচিত না হতো, আজকে আমরা যেভাবে কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উদ্যাপন করছি, এভাবে কি করতে পারতাম? এ জন্য আমি জাতীয় কবির পাশাপাশি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করি, গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’
অনুষ্ঠানস্থল কুমিল্লাকে কাজী নজরুল ইসলামের বহু স্মৃতিবিজড়িত বর্ণনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কবি নজরুল বারবার কুমিল্লায় এসেছেন, কান্দিরপাড়ের একটি বাসায় উঠতেন তিনি। নার্গিস ছিলেন নজরুলের কালজয়ী গানের পটভূমি। সেই নার্গিসের বাড়ি ছিল কুমিল্লায়।’
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের সভাপতিত্বে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সিমিন হোসেন রিমি, কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহার উদ্দিন বাহার, সংসদ সদস্য বেগম রওশন আরা মান্নান, সংস্কৃতি সচিব মো. আবুল মনসুর, নজরুল গবেষক অধ্যাপক শান্তিরঞ্জন ভৌমিক, কবি নজরুলের পৌত্রী মিষ্টি কাজী ও খিলখিল কাজী, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।