মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে বিএনপি
দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া, তাঁর ছেলে তারেক রহমান ও নাতনি জাইমা রহমান সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিএনপি। গত সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
মুরাদ হাসান দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জিয়া পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে নারী সদস্যদের নিয়ে যে চরম অশালীন, অরুচিকর এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক শিষ্টাচারবিবর্জিত সম্মানহানিকর কুৎসিত বক্তব্য দিয়েছেন, তার তীব্র সমালোচনা, নিন্দা ও প্রতিবাদ করা হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের নারীবিদ্বেষী, বর্ণবাদী, সমাজ এবং সংবিধানবিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে সমগ্র নারীসমাজ এবং মানবতাকে হেয় করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুরাদ হাসানকে জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ এবং প্রকাশ্যে জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
সভায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সভায় খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাঁকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর দাবিতে নতুন কর্মসূচি শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। তা হচ্ছে ২০ ডিসেম্বর থেকে জেলা পর্যায়ে সমাবেশ হবে। এসব সমাবেশে দলের জ্যেষ্ঠ ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সভায় খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য দোয়া করা হয়।
এর বাইরে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচি নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, ১৪ ডিসেম্বর সকাল নয়টায় মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সুবিধামতো সময়ে আলোচনা সভা এবং ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ভোরে সূর্যোদয়ের সময়ে সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল নয়টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, সাড়ে ১০টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, বিজয় শোভাযাত্রা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।