সম্মেলনের চার মাসেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি

১৯ বছর পর সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছিল গত ২৫ ফেব্রুয়ারি। সেদিন সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে কেবল নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সম্মেলনের প্রধান অতিথি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। কিন্তু চার মাসেও আর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। কবে হবে, সেটিও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ।
১৯৯৭ সালের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পৌর শহরের সরকারি জুবিলি উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এনামুল কবিরের (ইমন) নাম ঘোষণা করেন।
মতিউর রহমান ‘ভারমুক্ত’ হয়ে স্বপদে থাকলেও বাদ পড়েন ১৫ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী নুরুল হুদা (মুকুট)। এই দুটি নাম ঘোষণার পরই সম্মেলনের কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়।
পরে মঞ্চের সামনে শুরু হয় দুই পক্ষের কর্মীদের চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং হাতাহাতি। বিষয়টি আগেই আঁচ করতে পেরে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নাম ঘোষণার আগে মাঠে থাকা নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এই নাম দুটি দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কাছে দিয়ে বলেছেন তিনি যেন তাঁর পক্ষ থেকে নাম দুটি প্রস্তাব করেন। এরপর তিনি নাম ঘোষণা করেন এবং সবার সমর্থন চান।
দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়া এবং দলের ভেতরে নেতাদের দ্বন্দ্বে এমনিতেই সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগ ছিল স্থবির। নেতাদের অনেকেই ছিলেন নিষ্ক্রিয়। সম্মেলনের মাধ্যমে দল চাঙা হবে, নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হবেন—এমন আশা থাকলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় সেই স্থবিরতা কাটেনি।
গত জেলা কমিটিতে ছিলেন—এ রকম তিনজনসহ নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশী সাতজন নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তাঁরা কেউই নাম প্রকাশ করতে চাননি। তাঁরা জানান, গত চার মাসে সুনামগঞ্জে দলের তেমন কোনো কর্মসূচি পালিত হয়নি। যে যাঁর মতো করে চলছেন।
সভাপতি ও সম্পাদককে দুই দিন শহরে একসঙ্গে দলীয় কর্মসূচিতে দেখা গেছে। একটি হলো বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল, অন্যটি প্রেসক্লাবে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে।
এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষ হতেই দুই নেতা ঢাকায় চলে গেছেন। বিগত জেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন, এখনো তাই। নেতারা থাকেন ঢাকায় আর এখানে কর্মীরা পথে পথে ঘুরছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি যত দ্রুত হবে, দলের জন্য ততই মঙ্গল। এ বিষয়ে সভাপতি-সম্পাদকের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে তিনি চান দলের সবার পরামর্শ নিয়েই কমিটি করা হবে এবং কমিটিতে প্রবীণ-নবীন ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতারা স্থান পাবেন।
এনামুল কবির বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নেতা-কর্মীরা ব্যস্ত ছিলেন। নির্বাচন শেষ হলো মাত্র। এখন পবিত্র রমজান চলছে। ঈদের পর জেলা কমিটির সভাপতিসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা করব।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে নতুন কোনো খবর নেই। বিভিন্ন জেলায় তো এভাবে দুই বছর-তিন বছর ধরে চলছে। কমিটি করা খুবই কঠিন কাজ। ৭১ সদস্যের কমিটিতে সহসভাপতি হবেন নয়জন, কিন্তু তালিকায় নাম আছে ২০ জনের। আবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হবেন তিনজন; এই পদপ্রত্যাশী আছেন অন্তত ২৫ জন। আমরা যা করি সবাইকে নিয়েই করব।’