বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর
সুবিধার কথা চিন্তা না করলে ‘বিনা যুদ্ধে’ সরকারের বিদায় হবে
নিজের ও দলের সুবিধার কথা চিন্তা না করে দেশ ও জাতির সুবিধার কথা ভাবলে ‘বিনা যুদ্ধে’ এ সরকারকে বিদায় দেওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যুদ্ধ মানেই সব সময় অস্ত্র নয়। অস্ত্রবিহীন যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধটা নিখুঁতভাবে করতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন মনোবল ও সৎ সাহস। মনোবল যদি অটুট থাকে, সাহসের অভাব ঘটে না। সাহস কাজে লাগানো গেলে যেকোনো অসাধ্য সাধন করা যাবে।
আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপির নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এ সভার আয়োজন করে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মতো জ্বালাও–পোড়াও নাই–বা করলাম, হরতাল নাই–বা করলাম, গাড়িঘোড়ায় আগুন নাই–বা দিলাম, আমাদের কিছুই করার দরকার নেই। শুধু অবৈধ সরকারের অধীনে বাংলাদেশের গণতন্ত্রমনা মানুষের পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, সরকার প্রধান হেলিকপ্টারে করে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হবেন।’
এ সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, ১০ লাখ কোটি টাকার ওপর অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে সাড়ে ছয় শ কোটি টাকা নেই। শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা নেই। এভাবে অর্থনীতি যে শূন্য হয়ে গেছে, সেই শূন্য অবস্থায় আগে তো তলাবিহীন ঝুড়ি ছিল, এখন দেখা যাবে হয়তো তলা আছে, ঝুড়িই নেই। সুতরাং এ অবস্থার মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করা খুব কষ্টের।
গয়েশ্বর অভিযোগ করে বলেন, ‘উন্নয়নের নামে টাকা ধারকর্জ করে এর সিংহভাগ টাকা পাচার করা হয়েছে। সেই ধারের টাকার সুদ দিতে হবে দুই বছর পর। এ সুদের টাকা জোগান দেওয়া বর্তমান সরকারের পক্ষে কখনোই সম্ভব হবে না। সে কারণে জিনিসপত্রের দাম কমানো যাবে না। মানুষের হাহাকার এবং অভাব-অনটন দেখা দিয়েছে। এটা তীব্র থেকে তীব্র হবে। অতএব আমাদের ওপর আঘাতের পর আঘাত বা গুলি ছুড়ে দমন করা সম্ভব হবে না। কারণ, দেশ পরিচালনা করা এ সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।’
১৩ বছর ধরে অপেক্ষা করেছেন, দলের নেতা–কর্মীদের আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকালবেলাও পাকিস্তানের সাধারণ সৈনিকেরা জানত না তাদের আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতে এরশাদ পদত্যাগ করেন। অথচ পার্টির তৃণমূলের নেতারা জানতেন না এরশাদ পদত্যাগ করেছেন।’
এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘বর্তমান যে পার্লামেন্ট আছে, তা বলবৎ রেখে আমরা নির্বাচনে যাব না। তাহলে কী করতে হবে; সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। পার্লামেন্ট বাতিল করতে হবে। নিরপেক্ষ লোক দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে যাব না। এটাই আমাদের মূল অঙ্গীকার।’
এ প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘সেই অঙ্গীকার যদি আমাদের অন্তরের হয়, আর এটা যদি আমরা সবাই বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রমনা দলগুলো একই সুর মিলিয়ে যদি এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যায় এবং এই মনোবল নিয়ে যদি দৃঢ়তার সঙ্গে বাড়িতে ঘুমিয়েও থাকি, তারপরও শেখ হাসিনা সরকারে থাকতে পারবেন না। কারণ, শেখ হাসিনার পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব নয়।’
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, হুমায়ুন কবির খান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।