রোজা পালনে অক্ষম ব্যক্তি রোজার পরিবর্তে যে দান করেন, তাকে ‘ফিদিয়া’ বলে। কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন মুসলমান বার্ধক্যের কারণে বা অসুস্থতা অথবা অন্য যেকোনো কারণে রোজা পালনে অসমর্থ হলে এবং পুনরায় সুস্থ হয়ে রোজার কাজা আদায় করার মতো সম্ভাবনা না থাকলে তিনি প্রতিটি রোজার জন্য একটি সদকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ ফিদিয়া প্রদান করবেন।

সফরে বা ভ্রমণে থাকা অবস্থায়ও যদি কোনো ব্যক্তি রোজা পালন করে, তবে তা-ই উত্তম। আর বেশি কষ্ট হলে বা ইচ্ছা করলে রোজা ছাড়তে পারবেন; এই রোজা পরে সুবিধামতো নিকটতম সময়ে কাজা আদায় করে নিতে হবে। প্রিয় রাসুল (সা.) কোনো এক রমজানে রোজা অবস্থায় মক্কা শরিফের পথে যাত্রা করলেন। কাদিদ নামের একটি স্থানে পৌঁছার পর তিনি রোজা ছেড়ে দিলে লোকেরা সবাই রোজা ছেড়ে দিলেন (বুখারি, হাদিস: ১৮২০)।

রোজা পালনে অক্ষম ব্যক্তি রোজার পরিবর্তে যে দান করেন, তাকে ‘ফিদিয়া’ বলে। কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন মুসলমান বার্ধক্যের কারণে বা অসুস্থতা অথবা অন্য যেকোনো কারণে রোজা পালনে অসমর্থ হলে এবং পুনরায় সুস্থ হয়ে রোজার কাজা আদায় করার মতো সম্ভাবনা না থাকলে তিনি প্রতিটি রোজার জন্য একটি সদকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ ফিদিয়া প্রদান করবেন। ফিদিয়া প্রদানে অসমর্থ ব্যক্তির জন্য তা জরুরি নয়। ফিদিয়া প্রদান করার পর (এবং যিনি রোজা রাখায় অক্ষম ও ফিদিয়া প্রদানেও অসমর্থ ছিলেন) যদি পরবর্তী রমজানের আগে ওই ব্যক্তি রোজা পালনে সক্ষমতা লাভ করেন, তবে ওই রোজাগুলোর কাজা আদায় করতে হবে। ফিদিয়া দেওয়া রোজার কাজা কোনোভাবেই পরের রমজান বা তার পরবর্তী সময়ের জন্য প্রযোজ্য হবে না।

একজনের রোজা আরেকজন রাখতে পারে না, তাই ফিদিয়া রোজার পরিবর্তে রোজা নয়; ফিদিয়া হলো রোজার পরিবর্তে খাদ্য বা তার মূল্য দিয়ে দেওয়া। ফিদিয়া হলো রোজার ক্ষমতায় তার পরিবর্তে আর্থিক দান বা সদকা। তাই যাকে ফিদিয়া দেওয়া হলো, তার রোজাদার হওয়া জরুরি নয়, যেমন: নাবালেগ মিসকিন শিশু বা অতি বৃদ্ধ দুর্বল ও অক্ষম অসুস্থ অসহায় গরিব ব্যক্তি, যিনি নিজেও রোজা পালনে অক্ষম।

ফিদিয়ার পরিমাণ হলো একেকটি রোজার জন্য এক ফিতরা পরিমাণ। ফিতরার পরিমাণ সম্পর্কে হাদিস শরিফে রয়েছে, ‘সদকাতুল ফিতর’ হলো এক ‘সা’ (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) খাদ্য বা খাবার। আবু সাইয়িদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘আমাদের খাদ্য-খাবার ছিল খেজুর, কিশমিশ, পনির ও যব (বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২০৪-২০৫)।’

ফিদিয়া ও সদকা পণ্যদ্রব্য দিয়েও আদায় করা যায় এবং এর মূল্য দ্বারাও আদায় করা যায়। তবে গ্রহীতার জন্য যেটা বেশি উপকারী তা দ্বারা আদায় করা শ্রেয়। রোজা পালনে সক্ষম ব্যক্তি ফিদিয়া দিয়ে রোজার দায়মুক্ত হতে পারবেন না। ফিদিয়া শুধু যথাযথ অপারগতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, স্বাভাবিক অবস্থায় নয়।

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

[email protected]