বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হজরত খাদিজা তাঁর চারিত্রিক গুণাবলির জন্য ‘তাহিরা’ (পবিত্র) নামে সুপরিচিত ছিলেন। বিয়ের আগে তিনি ছিলেন মক্কার একজন ধনাঢ্য বিধবা—সিরিয়া প্রভৃতি অঞ্চলের সঙ্গে যাঁর বাণিজ্য চলত। মুহাম্মদ (সা.)-এর গুণাবলির কথা শুনে তিনি তাঁর ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করেন। রাসুল (সা.) হজরত খাদিজার মাল নিয়ে সিরিয়া সফর করেন এবং ব্যবসায় দ্বিগুণ লাভ করেন।

মহানবীর সততা, বিশ্বস্ততা, ভদ্রতা, পরোপকার-প্রবৃত্তি ও অন্যান্য চারিত্রিক গুণাবলিতে মুগ্ধ হয়ে খাদিজা (রা.) তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গৃহীত হয়। বিয়ের ১৫ বছর পর মক্কার অদূরে অবস্থিত হেরা গুহায় ধ্যানরত অবস্থায় মহানবী (সা.)-এর ওপর ওহি (প্রত্যাদেশ) অবতীর্ণ হলে তিনি কিছুটা ভীত হয়ে পড়েন; তখন হজরত খাদিজাই তাঁকে সাহস দেন।

রাসুল (সা.) মক্কায় ইসলাম প্রচার শুরু করলে সবাই তাঁর সঙ্গে শত্রুতা আরম্ভ করে এবং তিনি কুরাইশদের অমানুষিক অত্যাচারের শিকার হন। নবুয়তের সপ্তম বছরে মক্কার কুরাইশরা মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পরিবার-পরিজনকে একঘরে করে রাখে। তিন বছর পর্যন্ত তাঁদের বর্ণনাতীত কষ্ট সহ্য করতে হয়। এ সময়টা হজরত খাদিজা (রা.)-ই তাঁর পাশে থেকে সাহস দেন ও সর্ব-উপায়ে তাঁকে সাহায্য করেন। হজরত খাদিজা তাঁর অগাধ ধনসম্পদ ইসলাম প্রচারের কাজে ব্যয় করেন। নবুয়তের দশম বছরে তাঁর মৃত্যু হয়।


সূত্র: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ‘যার যা ধর্ম’, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা

* মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান: প্রয়াত সাবেক প্রধান বিচারপতি, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা

ইসলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন