বিজ্ঞাপন

যে রোজার আহ্বায়ক স্বয়ং খোদা এবং আমরা সে রোজার শর্তাদি পালন করেছি। আল্লাহর ফজলে কালিমার মাধ্যমে আমাদের বিদায় ঘটেছে। মুখে কালেমা জপরত অবস্থায় রুহটা বেরিয়েছে আমাদের দেহ থেকে। আমরা লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু (একমাত্র আল্লাহই সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী) জপছিলাম। অন্তরে আমাদের ইমানের নূর ছিল। আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রবল তামান্না ছিল। এমন অবস্থায় যে রোজার সমাপ্তি ঘটেছে। ভাবুন তো, সে রোজার ইফতারিটা কেমন হবে। ভাবুন তো একবার, কেমন হবে সেটা। হ্যাঁ, এটি তেমনই এক অসাধারণ নিমন্ত্রণ হবে, যা পাওয়ার জন্য মানুষ জান দিতেও রাজি। আল্লাহর বহু বান্দা জান কোরবান করেছেনও। রাসুলের দিদার লাভের প্রত্যাশায় অগুনতি মানুষ নির্দ্বিধায় প্রাণ দিয়েছেন। বিনিময়ে চেয়েছেন রাসুল খুশি হোন। সন্তুষ্ট হোন। যুদ্ধ-জেহাদের ঘটনাগুলো পড়ুন। সাহাবাগণ হাসতে হাসতে জীবন দান করে গেছেন।

এমনও ঘটেছে, বদরের যুদ্ধে এক কিশোর মহানবীর দরবারে হাজির হয়ে বলেছে, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাকেও জেহাদের অনুমতি দিন।’ মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তুমি এখনো ছোট।’ সে বলেছে, ‘না, আমি একেবারে ছোটটি নই। আমিও লড়তে জানি।’ সে ইজাজতের জন্য পীড়াপিড়ি করতে থাকল। তা দেখে কোনো কোনো সাহাবি সুপারিশও করলেন তার পক্ষে। মহানবী অনুমতি দিয়ে দিলেন। এটা দেখে অন্য আরও একজন এসে হাজির হলো মহানবীর সামনে। এও কিছুটা কমবয়সী ছিল। এ-ও বলল, ‘অমুককে ইজাজত দিয়েছেন যখন, আমাকেও অনুমতি দিন।’ মহানবী (সা.) বললেন, ‘তুমি তো এখনো বাচ্চা রয়ে গেছ।’ জবাবে কিশোরের উত্তর ছিল, ‘আপনি আমাদের দুজনের মধ্যে কুস্তি লাগিয়ে দিন, শক্তির পরীক্ষা নিন, আমি যদি ওকে ধরাশায়ী করতে পারি, তবে আমাকেও অনুমতি দিন।’ এদের প্রবল আগ্রহ ছিল। মনে বল ছিল। কুস্তি হলো।

বাস্তবেই সে ইজাজতপ্রাপ্ত কিশোরকে ধরাশায়ী করে ফেলল। মহানবী (সা.) দুজনকেই শেষ পর্যন্ত ইজাজত দিলেন। আখেরে দুজন শহীদও হলো। এরা ছিল দুই ভাই। আবদুর রহমান ইবনে আউফকে বললেন, ‘চাচা, আবু জাহেল লোকটাকে আমাদের দেখিয়ে দিন। আমরা শুনেছি আবু জাহেল নাকি রাসুলে খোদার শানে বেয়াদবি করেছে।’ আবু জাহেলকে দেখানোমাত্রই দুজনই ঝাঁপিয়ে পড়েন, খতম করে দেন চিরশত্রুকে।
ছোট রোজার হুকুম ও দায়বদ্ধতার কথা সবার জানা। সব রোজাদারই উপোস থাকেন। নিষিদ্ধ খাবারে ঠোঁট ছোঁয়ান না। কিন্তু এই বড় রোজার খবর খুব কম লোকই রাখেন।

অথচ এই রোজাগুলো বড় রোজার কৃপায়ই আমরা পেয়েছি। বড় রোজার বরকতেরই ফল এসব রোজা। মনে করুন, এসব রোজা বড় রোজার পুরস্কারস্বরূপ আমাদের কাছে এসেছে। ঈদও পেয়েছি বড় রোজার জন্যই। যদি ইসলাম না হতো, তবে নামাজ-রোজা কিছুই হতো না। দেখুন, যেখানে ইসলাম নেই সেখানে না নামাজ আছে, না আছে রোজা। সেখানে কালেমাও নাই, আল্লাহর ওপর বিশ্বাসও নাই। একত্ববাদ, হাশর, কেয়ামত বা পুনরুত্থান কিছুই নাই। এসবই ইসলামের বদৌলতে আমরা পেয়েছি। মনুষ্যত্ব, মানবতা, সম্মান, শক্তি, রুহানিয়্যাত সবই ইসলামের জন্য পেয়েছি। মৃত্যুর পর কেয়ামত শেষে এরই অছিলায় জান্নাত পাব। এমন জান্নাত যে জান্নাত কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, কোনো অন্তর তার যথাযথ ছবি আঁকতে পারেনি।

default-image

তো, এই দীর্ঘ আর ধারাবাহিক রোজার খবর রাখেন কজন। জানি না, আজকের পর আপনাদের সঙ্গে আর কবে দেখা হবে। আদৌ হবে কি না? হলেও কিছু বলার বা শোনার সুযোগ হবে কি না। খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথাটি আপনাদের বলে যেতে চাই। রমজান বা অন্যান্য নফল রোজায় পানাহার করলে ভেঙে যায়। একটি রোজার কাজা হিসেবে ৬০টি নতুন রোজা রাখতে হয়। কিন্তু সেই রোজা, যার ব্যাপারে মানুষ সজাগ নয়, ‘ইসলামের রোজার’ মধ্যে কী কী জিনিস নিষিদ্ধ, আমি আপনাদের বলে যেতে চাই। হারাম খাবার-দাবার এ রোজায় খাওয়া নিষিদ্ধ। এ রোজায় খোদার সঙ্গে শিরক করা মানা। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দের কর্মের নাম হলো শিরক। আল্লাহ বলেন:
আল্লাহ তাআলা শিরককারীকে ক্ষমা করবেন না। এ ছাড়া যাকে ইচ্ছে মাফ করে দেবেন।

শুনুন, শিরক কী জিনিস। এটিকে সবাই মন্দ মনে করেন। আপনারাও এটিকে খারাপ মনে করবেন। এ জগতের স্রষ্টা মহান আল্লাহ। তিনি এর পরিচালকও। এ সৃষ্টি তাঁরই কাজ। এসব পরিচালন করাও তাঁরই কর্ম। সবাই এ কথা মানেন, সবকিছুর স্রষ্টাই একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কিন্তু অনেক ভাই, মনে বা মগজে এ কথা ধারণ করতে পারেন না যে কুল-কায়েনাতের পরিচালকও তিনিই। এদের ধারণা, আল্লাহ তো স্রেফ কুন (হও) বলেছেন, ব্যস, অমনি (ফাইয়াকুন) সবকিছু হয়ে গেল। কিন্তু বিরাট এ পৃথিবীটার বিশাল যজ্ঞ পরিচালনায় অন্যান্য শক্তির হাত রয়েছে। রাজা-বাদশাহরা মরজিমাফিক কাউকে কোনো কাজ সোপর্দ করেন। খাদ্যভান্ডারের দায়িত্ব দেন কাউকে। কাউকে দেন খয়রাত বণ্টনের কাজ। কারও প্রতি নির্দেশ থাকে অসুস্থকে চিকিৎসাসেবা দানের। বিপদগ্রস্তের উদ্ধার, মামলা-মোকদ্দমায় হারজিত, একেক জনকে একেকটা কাজের ক্ষমতা দিয়ে রাখেন। একই ভাবে আল্লাহ তাআলাও যদি মকবুল বান্দাদের মধ্যে হরেক রকম কাজের ক্ষমতা ভাগ করে দেন, তাতে আল্লাহর অমর্যাদা হয় না। আল্লাহ কর্তৃক নৈকট্য লাভ এবং বুজুর্গির কারণে খোদা তাআলা নিজ ইচ্ছায় এ ক্ষমতা ওদেরকে দিয়েছেন। আবার যখন ইচ্ছা সব ক্ষমতা ছিনিয়ে নেবেন।
কিন্তু আদতে এমনটি অসম্ভব। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘সৃষ্টি করা আমার কাজ, সৃষ্টির পরিচালনও আমারই কাজ।’

পৃথিবীটা তাজমহল নয়। শাহজাহান বানালেন, আর চলে গেলেন। তারপর কারও মর্জি হলো তো দেয়ালে কিছু লাগিয়ে দিলেন। নতুনভাবে ভাঙা-গড়ার কাজ চালালেন। তিনি কিছুই করতে পারলেন না। তাঁর হাতে কোনো ক্ষমতাই রইল না। অথচ শাহজাহান কত বড় বাদশাহ বা সম্রাট। কিন্তু এ বিশাল পৃথিবী পুরোপুরি আল্লাহর আয়ত্তাধীন। তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা। প্রতিটি বস্তুর অস্তিত্ব দানকারী। তিনিই সম্রাট। সাদা-কালো, জীবন-মরণ, রুটি-রুজি, সন্তান-সন্তুষ্টির কেবল তিনিই একমাত্র দাতা।

সন্তান দেওয়া, রিজিক দেওয়া, ভাগ্যের ভালো-মন্দ, জয়-পরাজয়, মান-সম্মান, বিপদাপদ থেকে মুক্তিদান, এ সবই আল্লাহর ক্ষমতাধীন আছে এবং থাকবে। দুনিয়ার একটি পাতা কিংবা দানাও তাঁর নির্দেশের বাইরে নড়তে পারে না। ক্ষমতার বাগডোর এবং চাবিকাঠি পুরোটাই তাঁর হাতে।

মনে রাখুন, তওহিদে পূর্ণ বিশ্বাসী হওয়া চাই, তওহিদ কামিল হওয়া চাই। সন্তান কেবল তিনিই দিতে পারেন। রুটি-রুজি একমাত্র তিনিই দেন। ইজ্জত-সম্মান, হায়াত-মউত তিনিই দিতে পারেন। কোনো অলি-কুতুব, গাউস-আবদাল সামান্য ক্ষমতার অধিকারীও নয়। ভাবুন, নিজের ইমানকে যাচাই করুন। আল্লাহকেই একক স্রষ্টা, রিজিকদাতা তথা মুসাব্বাবুল আসবাব মনে করেন তো?
তওহিদের পর কেয়ামত ও পরকাল, মহানবী (সা.)-কে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, নবীদের নেতা, পাপীদের সুপারিশকারী এবং আল্লাহর প্রিয়জন মানতে হবে। এটাও মানতে হবে, শরিয়ত আজও সচল। কেয়ামত পর্যন্ত সচল থাকবে। কেয়ামত পর্যন্ত অন্য কারও শরিয়ত মানা যাবে না। এ শরিয়ত পরকালের কাজে লাগবে। যদি মহানবী (সা.)-এর পর নতুন কোনো শরিয়তের প্রবক্তা হাজির হন, তবে নিশ্চিত তিনি মিথ্যুক, দাজ্জাল, মুনাফেক এবং ধর্মদ্রোহী। তাকে কতল করা ওয়াজিব। শরিয়ত একমাত্র মুহাম্মদ (সা.)-এর শরিয়ত। কেয়ামত পর্যন্ত এটিই চলবে এবং সর্বত্র চলবে। যে এ শরিয়তের ওপর চলবে, সে-ই সফল হবে।
মহানবী (সা.) আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয়। যে মহানবীকে ভালোবাসবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ভালোবাসবেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত ইমানদার বলে গণ্য হবে না, যতক্ষণ না সে আমাকে তার পিতা, সন্তান তথা সব মানুষ থেকে অধিক ভালোবাসবে।’

এ মর্যাদা অন্য কোন বুজুর্গ বা অলি তো দূরের কথা, কোনো নবী-রাসুলেরও জোটেনি। এ মর্যাদা আল্লাহ তাআলা শুধুই মহানবী (সা.)-কে দিয়েছেন।

মহানবী (সা.)-এর ওপর ইমান বা বিশ্বাস রাখলেন। তাঁকে ভালোবাসলেন। তাঁর কাছে শাফায়াতের প্রত্যাশাও করলেন। যথাযথভাবে তাঁর শরিয়তও মেনে চললেন। যদি তা-ই হয়, তবে ইমানের দাবি হলো, আপনি এবার জানতে চাইবেন বিয়েশাদির শরিয়তের নিয়ম কী? মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম কীভাবে বিয়ে করেছেন। অর্থাৎ আনন্দ-বেদনার প্রকাশও শরিয়ত ও সুন্নতমতো হওয়া চাই। মাতম করা, গান-বাজনা, ধুমধামের সঙ্গে বিবাহ উদ্‌যাপন করতে গিয়ে প্রয়োজনে সুদের আশ্রয় নেওয়া, জমিজমা বিক্রি করতেও কুণ্ঠাবোধ না করা, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির লোকদেখানো পন্থাবলম্বন, ধুমধাম না করতে পারলে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাওয়ার যে সংস্কৃতি, এটা কোনাভাবেই রাসুলপ্রেম আর ইমানের সংস্কৃতি নয়। এ কাজ বড় ঘৃণ্য কাজ। এসবই শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড। আল্লাহ তাআলার চরম অপছন্দের কাজ এসব।

এসব কাজে শরিয়ত মেনে চলতে আমরা দায়বদ্ধ। স্রেফ নামাজ-রোজা পালনেই দায়মুক্তি নয়। জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমরা শরিয়তের কাছে দায়বদ্ধ। সব কর্মকাণ্ডে আমাদের আদর্শ মুহাম্মদ (সা.)। আল্লাহ তাআলা বলেন:
‘হে নবী! মানুষদের বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস তবে আমার অনুসরণ করো। আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।’

ইসলামি শরিয়তের ওপর আমল করুন। শরিয়তকে আপন ভাবুন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর বাস্তবায়ন ঘটান। পুরো জীবনে এর ছায়া থাকা চাই। জীবন থাকবে শরিয়তের অধীন। এমন না যে শুধু নামাজ-রোজা শরিয়ত মোতাবেক হলো, ব্যস কেল্লা ফতে। এর জন্য মাসআলা-মাসায়িল জেনে নিন। বিয়ে-তালাক, ব্যবসা-বাণিজ্যে লাগামছাড়া স্বাধীনতা, টেলিভিশনও দিন-রাত চলছে (যা লাহওয়াল হাদিসের উত্তম দৃষ্টান্ত), বেহুদা খরচ, অপব্যয়ও চলছে, নামযশ ও বড়ত্ব প্রদর্শনীও জারি আছে। ভিন্ন জাতীয় সংস্কৃতিও জারি রাখবেন, চর্চা করবেন, এমনটি যেন না হয়।

সাধারণ রোজার মধ্যে যেভাবে পরনিন্দা করা মানা, তেমনি এ বড় রোজায়ও এটি করা হারাম। মিথ্যে বলা, অশ্লীল বকা, ঘুষ লেনদেন, সুদখোরি, অতিরিক্ত খরচ বা অপব্যয় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমরা ধরে নিই, রোজার পর আমরা স্বাধীন। অসম্ভব। আমরা কখনো স্বাধীন নই। এ রোজা চলতেই থাকবে। এ রোজা এখনো জারি আছে। বরং এ রোজা তো বর্তমান রোজার সংরক্ষকও! রমজান মাসের রোজা এ বড় রোজারই অংশ মাত্র। যা আমরা রাখছি। এ রোজা চলতেই থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা আমাদের ইমানের সঙ্গে মৃত্যু দান করেন। ইমানের সঙ্গে মৃত্যুই আমাদের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বস্তু। যার জন্য জীবন বাজিও করা যেতে পারে। আমাদের স্বাধীনতা, দরিদ্রতা, ধনাঢ্যতা, বন্ধুত্ব, শত্রুতা, সফলতা কিংবা বিফলতা—সবকিছু ছাপিয়ে যেন ‘ইমান বিল খায়ের’ হয়। আল্লাহর অলিগণ এ নিয়ে চিন্তিত থাকতেন। তাঁদের জীবনী পড়ুন। এঁদের নাম মুখে নিলেও ইমান তাজা হয়। তাঁরা এ নিয়ে ভীষণ চিন্তিত ছিলেন। এমনকি শেষ ভালো হওয়ার জন্য এ অলিগণও অন্যদের দিয়ে নিজেদের জন্য দোয়া করাতেন। আল্লাহ তাআলা তাঁদের শেষটাও ভালো করেছেন। তাঁদের আলোচনা আজও জারি রেখেছেন।

default-image

রমজান শেষ হয়ে গেলে মনে করবেন না ছুটি হয়ে গেছে। আমরা এখন মুক্ত। স্বাধীন। যা ইচ্ছা করব। আমরা কখনোই আজাদ নই। আপনার গলায় ইসলামের শৃঙ্খল-মালা ঝুলে আছে। আপনার ডায়েরি, আপনার আইডি কার্ডে লেখা আছে আপনি মুসলমান।

আল্লাহর কাছে আজকের দিনের হিসাব দিতে হবে। এ রোজারও হিসাব দিতে হবে। আমি আপনাদের সামনে যে আয়াত পড়েছি তার অনুবাদ হলো, ‘আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিয়েছি।’ কেউ যদি এতে পরিবর্তন আনতে চায়, রাষ্ট্র যদি বলে, এটা করো ওটা করো, বড় থেকে বড় কোনো মুসলিম ব্যক্তি বা কোন পণ্ডিতও যদি বলেন, তবু কিছু যায়-আসে না।

যা হারাম তা কেয়ামত পর্যন্ত হারামই। দুনিয়ার কারও এখতিয়ার বা সুযোগ নেই একে হালাল করে। শরিয়তে কোনো ধরনের সম্পাদন বা পুনঃ পাঠের সুযোগ নেই। হারাম হারামই।

এখান থেকেই শপথ করুন, কারও সম্পত্তি-জমিজমা বা পুঁজি আপনার দখলে থাকলে ফেরত দেবেন। এ রোজার দাবিই হচ্ছে, আপনি অন্যের অধিকার ফেরত দেবেন। আল্লাহ তাআলা এতে অত্যন্ত খুশি হবেন। আল্লাহর ভয়েই এমনটা করুন। বলুন, এই নাও তোমার জমিজমা, তোমার বেদখল সম্পত্তি। আমরা এখন থেকে তওবা করেছি।

মিথ্যে বলা, মিথ্যে সাক্ষ্য দেওয়া, মনের পূজা, গালিগালাজ করা, নাজায়েজ ও হারাম কাজের সব মাধ্যম আমদানি করা, ঘুষ নেওয়া, সবই নাজায়েজ। সবাই হারাম। কেয়ামত পর্যন্ত হারামই থাকবে। এমনই ভাবে সুদও হারাম। আজকাল কিছু মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যে এটি জায়েজ করতে নানান পথ আবিষ্কার করেছেন, আফসোসের বিষয়। যা কিছু দ্বীন ও শরিয়ত হারাম করে দিয়েছে, কেয়ামত এলেও তা হারামই থাকবে।

চেষ্টা করুন, আপনার রোজার যেন বিশুদ্ধভাবে ইফতার হয়। শাহ গোলাম আলি মুজাদ্দেদি দেহলভি (রহ.) নকশেবন্দিয়াহ মুজাদ্দেদিয়া ধারার বড় শায়খ ছিলেন। নবাব মীর খাঁ তাঁর মুরিদ ছিলেন। শায়খের ওখানে শত শত মানুষ থাকতেন। খায়-খরচ সবই শায়খ বহন করতেন। অথচ শায়খের সে মতে তেমন কোনো আয়ের পথ ছিল না। ছিল না পুঁজিপাট্টাও। নবাব এসব দেখে শায়খের কাছে বড় অঙ্কের হাদিয়া নিয়ে বললেন, হজরত এগুলো কবুল করে নিন। শায়েখ বললেন, এ ফকির রোজা রেখেছে। যখন সূর্য ডুবতে শুরু করেছে, তখন রোজা ভাঙা উচিত না। আমার জীবনসূর্য ডোবার সময় খুব নিকটে। এখন যে যতই বলুক না কেন, এটা নিন, ওটা খান, আমি কিছুতেই রোজা ভাঙব না। সারা দিন রোজা রেখে যখন ইফতারের সময় সন্নিকটে, তখন ভাঙব রোজা!
সবার বুঝতে হবে, এই হচ্ছে ইসলামের রোজা। আজীবন রোজা। কোনো বিরতি নেই। এখানে হারাম হারামই। এখানে গলদ গলদই। আকিদা বিশুদ্ধ হওয়া চাই। মনে রাখবেন, কেউ কারও ভাগ্য ভালো-মন্দ করে বদলে দিতে পারে না। কেউ এসে আপনাকে পতিত বিপদ থেকে টেনে তুলে ফেলতে পারবে না। কেউ সন্তানও দিতে পারবে না। কেউ চাকরি দিতে পারবে না। অন্যের কাছে কেন হাত পাতবেন। যা কিছু চাওয়ার, তাঁর কাছেই চান। তিনি শোনেন। সাড়া দেন। আল্লাহ তাআলা রাসুলকে বলছেন, ‘লোকেরা তোমার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। তুমি বলে দাও, আমি তাঁর নিকটেই আছি। যখন সে প্রার্থনা করে তখন আমি তা কবুল করি।’

আপনারা এখন থেকে এই রোজার ধারণা নিয়ে যান। আনন্দিত হোন। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন। রমজানের রোজা তো ফুরিয়ে যাচ্ছে। আগামী রমজান পাওয়ার প্রার্থনা করুন। কিন্তু মনে রাখবেন, জীবনের কোনো ভরসা নেই। সুস্থতার কোনো নিশ্চয়তা নেই। হ্যাঁ, ধারাবাহিক ও দীর্ঘ এ রোজা তো থাকবেই। আপনার রোজা মোবারক হোক। এ রোজার খেয়াল রাখুন। এটি যেন ভেঙে না যায়। এ রোজা ভেঙে গেলে আপনার কিছুই আস্ত থাকবে না। সবকিছু অচল হয়ে পড়বে।

এই হলো দুই রোজা। এক রোজা হলো স্বল্প সময়ের রোজা। এ হলো রমজানের রোজা। সরা দিনের রোজা। আরেক রোজা হলো, আজীবন রোজা। মুসলমানদের জন্য যখন সে বালেগ হয়, তখন থেকে নিয়ে যতক্ষণ ধরে প্রাণ থাকে; নিশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ রোজার বিস্তৃতি। যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তাঁর জন্যও শরীরে রুহ-প্রাণ থাকা পর্যন্ত এ রোজা বলবৎ থাকবে।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে তৌফিক দিন; আমরা যেন এ রোজার ওপর অবিচল থাকতে পারি। যেন এ রোজার হেফাজত করি, কদর করি এবং এ রোজার ওপরই বাঁচি। এ রোজার ওপর থেকেই মরি।

ইসলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন