নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর সন্ধান করো (মুসলিম)।’ এ রাতগুলো হলো ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯। আরবিতে দিনের আগে রাত গণনা করা হয়। অর্থাৎ ২০, ২২, ২৪, ২৬ ও ২৮ রমজান দিবাগত রাতসমূহ। মুফাসসিরিনে কিরাম বলেন, আরবিতে ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দ দুটিতে ৯টি হরফ বা বর্ণ রয়েছে; আর সুরা কদরে ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দ দুটি তিনবার রয়েছে; ৯ কে ৩ দিয়ে গুণ করলে বা ৯ কে ৩ বার যোগ করলে ২৭ হয়, তাই ২৭ রমজানের রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি (তাফসিরে মাজহারি)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তুমি শবে কদরে বলবে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করা পছন্দ করেন; সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন (ইবনে মাজা, আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ, আলবানি)।’

সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে (বুখারি, হাদিস: ৩৪)।’

এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে অবতরণ করে বান্দাদের ডেকে ডেকে বলেন, ‘কে আছ অসুস্থ আমার কাছে চাও আমি শেফা দান করব, কে আছ অভাবগ্রস্ত আমার কাছে চাও আমি অভাব দূর করব, কে আছ বিপদগ্রস্ত আমার কাছে চাও, আমি বিপদ মুক্ত করে দেব।’ এভাবে বান্দার সব প্রয়োজনের কথা বলতে থাকেন।

শবে কদরে যেসব আমল করা যায়: নফল নামাজ—তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলিল মসজিদ, আউওয়াবিন, তাহাজ্জত, সালাতুত তাসবিহ, তাওবার নামাজ, সালাতুল হাজাত, সালাতুশ শোকর, অন্যান্য নফল ইত্যাদি পড়া। নামাজে কিরাআত ও রুকু–সিজদা দীর্ঘ করা। সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা মুজ্জাম্মিল, সুরা মুদ্দাচ্ছির, ইয়া-সিন, সুরা ত-হা, সুরা আর রহমান ও অন্যান্য ফজিলতের সুরা তিলাওয়াত করা; দরুদ শরিফ বেশি বেশি পড়া; তওবা ইস্তিগফার অধিক পরিমাণে করা; দোয়া কালাম, তাসবিহ তাহলিল, জিকির আজকার ইত্যাদি করা; কবর জিয়ারত করা। নিজের জন্য, মা–বাবার জন্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সব মুমিন মুসলমানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ–সমৃদ্ধি এবং বিশ্ববাসীর মুক্তি কামনা করে দোয়া করা।

আলী ইবনে উরওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুল (সা.) বনি ইসরাইলের চারজন আবেদ সম্পর্কে বলছিলেন, ‘তাঁরা ৮০ বছর ধরে অনবরত আল্লাহর ইবাদত করছিলেন। এর মধ্যে মুহূর্ত সময়ের জন্যও ইবাদত থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। বিখ্যাত এই চারজন আবেদ হলেন আল্লাহর নবী জাকারিয়া (আ.), আইউব (আ.), হিজকিল ইবনে আজুজ (আ.) ও ইউশা ইবনে নুহ (আ.)।’ এমনটি শুনে সাহাবিরা (রা.) রীতিমতো অবাক হলেন। এ সময় জিবরাইল (আ.) এসে বললেন, ‘হে মুহাম্মদ (সা.)! আপনার উম্মতরা এ কথা শুনে অবাক হচ্ছে? তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা এর চেয়ে উত্তম কিছু রেখেছেন। এরপর সুরা কদর পাঠ করা হয় (ইবনে কাসির, খণ্ড: ১৮, পৃষ্ঠা: ২২৩)।’

রমজান মাস এলে রাসুল (সা.) বলতেন, ‘এ মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বিরত হয়, সে প্রকৃতপক্ষেই হতভাগ্য (মুসনাদে আহমাদ: ৭১০৮; সুনানে নাসায়ি: ২১০৬)।’

এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে অবতরণ করে বান্দাদের ডেকে ডেকে বলেন, ‘কে আছ অসুস্থ আমার কাছে চাও আমি শেফা দান করব, কে আছ অভাবগ্রস্ত আমার কাছে চাও আমি অভাব দূর করব, কে আছ বিপদগ্রস্ত আমার কাছে চাও, আমি বিপদ মুক্ত করে দেব।’ এভাবে বান্দার সব প্রয়োজনের কথা বলতে থাকেন।

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

[email protected]

ইসলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন