নবীজির দ্বিতীয় শাম সফর: একটি নতুন ভবিষ্যতের সূচনা

ছবি: এআই / প্রথম আলো

প্রথম শাম সফরের প্রায় তেরো বছর পর, পঁচিশ বছর বয়সে মুহাম্মদ (সা.) দ্বিতীয়বার সিরিয়ার পথে রওনা হন—তবে এবার চাচার সহযাত্রী হিসেবে নয়, বরং মক্কার এক প্রতিষ্ঠিত ধনী নারী ব্যবসায়ী খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.)–এর বাণিজ্য কাফেলার প্রতিনিধি হিসেবে।

ততদিনে মক্কার চারণভূমি আর বাজারে সততা ও আমানতদারির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ‘আল-আমিন’ ও ‘আস-সাদিক’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। এই সফরই পরবর্তীকালে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবাহের পটভূমি তৈরি করে।

খাদিজার প্রস্তাব ও মুদারাবা চুক্তি

খ্রিষ্টীয় ৫৯৫ অব্দে মক্কায় তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা ও খরা দেখা দেয়। আবু তালিবের আর্থিক অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়লে তিনি মুহাম্মদ (সা.)–কে ডেকে বলেন, “ভাতিজা, আমি এক কপর্দকহীন মানুষ। দিন দিন আমাদের অবস্থা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই মুহূর্তে খুওয়াইলিদের মেয়ে খাদিজার একটি কাফেলা শামের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি তাঁর বাণিজ্যের জন্য বিশ্বস্ত লোক খুঁজছেন। তুমি যদি তাঁর কাছে গিয়ে প্রস্তাব করো, তবে তোমার সততার সুনামের কারণে তিনি নিশ্চিতভাবেই তোমাকে অগ্রাধিকার দেবেন। (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/১৩০, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮)

তৎকালীন আরব সমাজে নারীরা সরাসরি দূরপাল্লার বাণিজ্যযাত্রায় যেতেন না; বরং ‘মুদারাবা’ রীতিতে বিশ্বস্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে ব্যবসা চালাতেন—পুঁজি বিনিয়োগকারীর, শ্রম ও দক্ষতা প্রতিনিধির, আর মুনাফা নির্দিষ্ট অনুপাতে ভাগ হতো।

তরুণ মুহাম্মদ (সা.)-এর সততার সুনাম ইতিমধ্যে মক্কার ধনাঢ্য নারী খাদিজার কানে পৌঁছেছিল, আর তিনি চাচা আবু তালিবের মাধ্যমে এই প্রস্তাব পাঠান।

পারিশ্রমিকের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক নিয়ে বর্ণনায় কিছুটা ভিন্নতা আছে। কোথাও বলা হয়েছে দুটি উট, কোথাও লাভের একটি নির্দিষ্ট অংশ, আবার একাধিক সিরাত-বিবরণে বলা হয়েছে প্রচলিত পারিশ্রমিকের দ্বিগুণ। (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/১৩০, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮; ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/১৮৭, দারুল কিতাবিল আরাবি, বৈরুত, ১৯৯০)

খাদিজা তাঁর বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ কর্মচারী মাইসারাকে সহকারী হিসেবে সঙ্গে দেন।

মক্কা থেকে উত্তরমুখী প্রাচীন বাণিজ্যপথ ধরে মদিনা, খাইবার, ওয়াদিউল কুরা, তাইমা ও তাবুক হয়ে কাফেলাটি রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্ত নগরী বুসরা আল-শামে পৌঁছায়।

যাত্রাপথ ও দূরত্ব

সিরাতের ধারাবাহিক কালপঞ্জি ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক সফরটি সম্পন্ন হয়েছিল ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে (২৮ হিজরি পূর্ব সনে)। সে সময় মহানবীর বয়স ছিল পূর্ণ ২৫ চন্দ্রবছর। কোরআন বর্ণিত ‘রিহলাতাস সাইফ’ বা কোরাইশদের ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন কাফেলাটি মক্কা ত্যাগ করত সাধারণত বসন্তের শেষভাগে—অর্থাৎ মে-জুন ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে।

মক্কা থেকে উত্তরমুখী প্রাচীন বাণিজ্যপথ ধরে মদিনা, খাইবার, ওয়াদিউল কুরা, তাইমা ও তাবুক হয়ে কাফেলাটি রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্ত নগরী বুসরা আল-শামে পৌঁছায়। আধুনিক সিরাত-বক্তারাও বুসরাকে দামেস্কের প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণের একটি সুপরিচিত বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে ইয়েমেন-মিসরসহ নানা অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করতেন।

মক্কা থেকে বুসরা পর্যন্ত মোট দূরত্ব বিভিন্ন রুটে ১,৩০০ থেকে ১,৬০০ কিলোমিটার। ঐতিহাসিক বর্ণনায় রয়েছে ‘প্রায় ১,৩৫০ কিলোমিটার’। (ইবনে সাইয়িদ আন-নাস, উয়ুনুল আসার, ১/৪১, দারুল কলম, বৈরুত, ১৯৯৩)

দৈনিক এক মারহালাহ গতিতে একমুখী যাত্রায় সময় লাগত মোটামুটি এক মাস, আর বুসরার বাজারে কেনাবেচা ও ফেরার পথ মিলিয়ে সমগ্র সফরে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন মাস (মে থেকে আগস্ট ৫৯৫ খ্রি.)।

আরও পড়ুন

সন্ন্যাসী নাসতুরের সাক্ষ্য

বুসরায় পৌঁছে মুহাম্মদ (সা.) একটি গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেন, যার কাছেই বাস করতেন নাসতুর নামের এক সন্ন্যাসী। এই ঘটনা প্রথম শাম সফরের পাদ্রি বাহিরার কাহিনি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি স্বতন্ত্র বিবরণ, যা একাধিক স্বাধীন সূত্রে সংরক্ষিত আছে।

নাসতুর গির্জা থেকে নেমে এসে মাইসারাকে জিজ্ঞেস করেন, “গাছের নিচে বিশ্রামরত এই যুবকটি কে?” মাইসারা উত্তর দেন, “তিনি মক্কার হারাম সীমানার বাসিন্দা, কুরাইশ বংশীয় এক সম্মানিত যুবক।” নাসতুর বলেন, নবী ইসার পর থেকে আজ পর্যন্ত এই গাছের নিচে আর কোনো নবী ছাড়া কেউ বসেননি।

তিনি আরও লক্ষ করেন তরুণের চোখে একধরনের লালচে আভা, যা প্রাচীন সেমেটিক ধর্মগ্রন্থে নবুয়তের একটি চিহ্ন বলে উল্লেখ আছে বলে তিনি জানান। (বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ২/৬৫, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১৯৮৮)

পাদ্রি বাহিরার কাহিনির মতোই নাসতুরের এই ঘটনাও হাদিসশাস্ত্রে সমালোচনামূলক পর্যালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। এই বর্ণনা মূলত এসেছে ইবনে ইসহাক ও ওয়াকিদির সূত্রে, আর মুহাদ্দিসদের বিচারে এর অধিকাংশ সনদই ‘মুরসাল’ (অসম্পূর্ণ শৃঙ্খল) বা ‘মুনকাতি’ (বিচ্ছিন্ন সূত্র)।

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি ও ইমাম জাহাবি উভয়েই মন্তব্য করেছেন, ঘটনার মূল কাঠামো ঐতিহাসিকভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও এতে ব্যবহৃত কিছু বিস্তারিত উক্তি পরবর্তী বর্ণনাকারীদের স্মৃতিনির্ভর সংযোজন হতে পারে। (আজ-জাহাবি, শামসুদ্দিন, তারিখুল ইসলাম, ১/৫৬, দারুল কিতাবিল আরাবি, বৈরুত, ১৯৯০)

মুহাম্মদ (সা.) অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে সমকালীন অন্য সমস্ত ব্যবসায়ীর আগেই আকর্ষণীয় মূল্যে তাঁর কাফেলার সমস্ত চামড়া ও সুগন্ধি বিক্রি করে দেন। একই সঙ্গে তিনি মক্কার স্থানীয় চাহিদার কথা মাথায় রেখে উচ্চমানের সিরীয় বস্ত্র ও জলপাই তেল ক্রয় করেন।

লাত-উজ্জার নামে শপথ প্রত্যাখ্যান

বাজারে দরকষাকষির এক পর্যায়ে এক ক্রেতা মুহাম্মদ (সা.)-কে আরবের প্রচলিত রীতিতে মক্কার প্রধান দুই দেবী লাত ও উজ্জার নামে শপথ করতে বলে।

তিনি স্পষ্ট জবাব দেন, “মা হালফতু বি-হিমা ক্বাত্তু, ওয়া ইন্নি লা-আমুররু ফা-উ’রিদু আনহুমা...(আমি জীবনে কখনোই লাত ও উজ্জার নামে শপথ করিনি। এমনকি পথ চলার সময়ও যদি আমি সেগুলোর সামনে দিয়ে অতিক্রম করি, তবে মুখ ফিরিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাই)।

এই দৃঢ়তা দেখে ক্রেতা মুগ্ধ হয়ে তাঁর কথা মেনে নেন। এরপর তিনি মাইসারার কাছে গিয়ে মন্তব্য করেন, আল্লাহর শপথ, এই ব্যক্তি কোনো সাধারণ মানুষ নন; ইনি সেই ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব, যাঁর কথা আমাদের ধর্মগ্রন্থগুলোতে বর্ণিত রয়েছে।” (ইবনে আসাকির, তারিখু দিমাশক, ৩/৩৫)

বাণিজ্যিক স্বার্থের মুহূর্তেও পৌত্তলিক আচার থেকে এই সচেতন দূরত্ব বজায় রাখা নবুয়তপূর্ব জীবনেও তাঁর স্বতন্ত্র নৈতিক অবস্থানের একটি স্পষ্ট নজির।

পণ্যের ধরন ও বিনিময়

প্রাক-ইসলামী যুগে হেজাজ থেকে রোমান সাম্রাজ্যে কী ধরনের পণ্য রপ্তানি হতো এবং বিনিময়ে কী আনা হতো, তা প্রাচীন আরব বিশ্বের অর্থনৈতিক ইতিহাসের একটি মৌলিক প্রশ্ন। হেজাজের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা এবং মক্কার মরুময় ভূমির কারণে কোরাইশদের এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আদান-প্রদান ছিল তাদের সমাজ ও অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি।

হেজাজ থেকে মূলত ইয়েমেনি ও মাক্কী প্রক্রিয়াজাত চামড়া, উৎকৃষ্ট পশম ও লোমজাত বস্ত্র, রৌপ্য ও ধাতব বার এবং সুদূর ইয়েমেনের বিখ্যাত সুগন্ধি ও লোবান রপ্তানি করা হতো।

তৎকালীন রোমান সাম্রাজ্যের অভিজাত শ্রেণি এবং বিশাল সেনাবাহিনীর মধ্যে চামড়াজাত পণ্য যেমন—উন্নত জুতো, ঘোড়ার জিন ও সামরিক তাঁবুর ব্যাপক চাহিদা ছিল। কোরাইশদের প্রক্রিয়াজাত করা চামড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তার টেকসই গুণমানের জন্য শীর্ষস্থানীয় হিসেবে স্বীকৃত ছিল।

আরও পড়ুন

বিনিময়ে শাম (রোমান সিরিয়া অঞ্চল) থেকে হেজাজে নিয়ে আসা হতো সিরীয় মিহি রেশম ও সুতি বস্ত্র, জলপাই তেল (জাইতুন), বিভিন্ন ফলের মিষ্টি রস বা সিরপ, গম, ময়দা এবং উন্নত মানের রোমান ধাতব অস্ত্র ও কাচপাত্র।

মক্কার অনুর্বর মাটিতে কোনো কৃষিকাজ হতো না বলে সাধারণ খাদ্যশস্যের দৈনন্দিন জোগান এবং অভিজাত শ্রেণির বিলাসবহুল বস্ত্রের চাহিদার জন্য কোরাইশরা পুরোপুরি শামের আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, কোরাইশদের সমগ্র যৌথ বাণিজ্য কাফেলায় যত পণ্য থাকত, তার প্রায় সমপরিমাণ পণ্য থাকত খাদিজার একক মালিকানাধীন। (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/১৩০)।

মুহাম্মদ (সা.) অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে সমকালীন অন্য সমস্ত ব্যবসায়ীর আগেই আকর্ষণীয় মূল্যে তাঁর কাফেলার সমস্ত চামড়া ও সুগন্ধি বিক্রি করে দেন। একই সঙ্গে তিনি মক্কার স্থানীয় চাহিদার কথা মাথায় রেখে উচ্চমানের সিরীয় বস্ত্র ও জলপাই তেল ক্রয় করেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ৩/১১৯, দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, ১৯৮৮)

মাইসারার পর্যবেক্ষণ ও প্রত্যাবর্তন

গোটা সফরে মাইসারা মুহাম্মদ (সা.)-এর লেনদেনের সততা, ধৈর্য আর আচরণের সৌজন্য গভীরভাবে লক্ষ করেন। দেখেন যে ওজনে কম না দেওয়া, পণ্যের ত্রুটি গোপন না করা এবং ক্রেতার দুর্বলতার সুযোগ না নেওয়া তার ব্যবসার মূলনীতি। ফেরার পথে প্রচণ্ড গরমে তিনি লক্ষ করেন, দুটি মেঘখণ্ড নিয়মিত তাঁর মাথার ওপর ছায়া দিয়ে চলছে। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/১৮৮)

কাফেলা মক্কায় ফেরার সময় খাদিজা নিজেও, বর্ণনামতে, তাঁর গৃহের ছাদ থেকে দূর থেকে কাফেলাকে আসতে দেখেন। কাফেলাটি মক্কায় প্রবেশ করেছিল তীব্র গরমের এক দ্বিপ্রহরে (তৎকালীন আরবের পরিভাষায় ‘জাহীরা’ বা ঠিক দুপুরবেলা)।

মক্কায় প্রবেশকারী কাফেলার অগ্রভাগে উটের পিঠে আরোহী মুহাম্মদকে তিনি প্রথম দূর থেকে দেখতে পান এবং মাইসারার বর্ণনার আগেই নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেন যে দুটি মেঘখণ্ড বা অতিপ্রাকৃত ছায়া তাঁকে দুপুরের প্রখর খরতাপ থেকে রক্ষা করে তাঁর সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসছে।

মক্কায় প্রবেশকারী কাফেলার অগ্রভাগে উটের পিঠে আরোহী মুহাম্মদকে তিনি প্রথম দূর থেকে দেখতে পান এবং মাইসারার বর্ণনার আগেই নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেন যে দুটি মেঘখণ্ড বা অতিপ্রাকৃত ছায়া তাঁকে দুপুরের প্রখর খরতাপ থেকে রক্ষা করে তাঁর সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসছে। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/১৮৮)

বুসরার ব্যবসা শেষে দেখা যায়, খাদিজা তাঁর আগের যেকোনো সফরের তুলনায় বেশি মুনাফা অর্জন করেছেন। মুহাম্মদ (সা.) সততার সঙ্গে সব হিসাব বুঝিয়ে দেন, আর মাইসারা খাদিজাকে নাসতুরের কথা আর সফরের খুঁটিনাটি বিস্তারিত জানান।

ইবনে ইসহাকের বর্ণনা অনুযায়ী, এই বিবরণ শুনে খাদিজা তাঁর জ্ঞাতিভাই ওয়ারাকা ইবনে নওফালের সঙ্গে আলোচনা করেন, আর ওয়ারাকা মন্তব্য করেন, বর্ণনা সত্য হলে মুহাম্মদই হতে পারেন প্রতীক্ষিত সেই নবী।

খাদিজার সঙ্গে অন্যান্য বাণিজ্যিক অভিজ্ঞতা

খাদিজার আস্থা অবশ্য এক সফরেই তৈরি হয়নি। কিছু বর্ণনায় এসেছে, শাম সফরের আগে মুহাম্মদ (সা.) তিহামা অঞ্চলের (মক্কা থেকে প্রায় ৬-৮ দিনের পথ দক্ষিণে) বিখ্যাত বার্ষিক মেলা সুক্ব হুবাশাতেও খাদিজার পক্ষে বাণিজ্য করেছিলেন এবং সেখান থেকে ভালো মুনাফা নিয়ে ফেরেন। (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/১৩১)

এ ছাড়া ইয়েমেন সীমান্তের ‘জুরাশ’ নামক বিখ্যাত বাণিজ্যকেন্দ্রেও তিনি খাদিজার পক্ষে একটি বাণিজ্যিক অভিযানে গিয়েছিলেন বলে কিছু বর্ণনায় এসেছে, যেখানে পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি দুটি তরুণ উট পেয়েছিলেন তিনি। (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস: ৪৮৫২; সুনানুল কুবরা লিল-বাইহাকি, ৬/৬৩)

এই ছোট-বড় স্থানীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্যেই ধীরে ধীরে প্রমাণিত হয় তাঁর ব্যবসায়িক দক্ষতা, যার ভিত্তিতেই খাদিজা তাঁকে শামের মতো দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ আন্তর্জাতিক সফরের দায়িত্ব দিতে আস্থা পান।

দ্বিতীয় শাম সফর শুধু একটি সফল বাণিজ্যিক অভিযান ছিল না; এটি ছিল সেই সেতু, যা তরুণ মুহাম্মদ (সা.)-এর সততা আর বিচক্ষণতাকে খাদিজার আস্থার সঙ্গে যুক্ত করে দেয়, আর সেই সূত্র ধরেই আসে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবাহ।

আরও পড়ুন