আল্লাহর পছন্দের কিছু কাজ
আমরা সবাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে চাই। সেটা হতে হলে আমাদের আল্লাহর পছন্দের কাজ করতে হবে। আল্লাহর কাছে পছন্দের কাজ কী, তা জানা যায় বুখারি শরিফের হাদিসে।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.)–এর কাছ থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন, আমি নবী (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে কোন কাজ সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয়? রাসুল (সা.) বললেন, সময়মতো নামাজ আদায় করা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কোনটি? রাসুল (সা.) বললেন, বাবা–মায়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, এরপর? রাসুল (সা.) বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) বললেন, নবী (সা.) এগুলো সম্পর্কেই আমাকে বলেছেন। আমি রাসুল (সা.)–কে আরও বেশি প্রশ্ন করলে, রাসুল (সা.) আমাকে আরও জানাতেন।
বুখারি শরিফের আচার–ব্যবহার পর্বে বর্ণিত হাদিসে মানুষের সৎ স্বভাব সম্পর্কে নানা গুণের কথা বলা হয়েছে। সেসবের মধ্যে আছে:
১. বাবা–মায়ের সঙ্গে—তারা মুসলিম বা অমুসলিম যা–ই হোক না কেন—দয়ামায়া ও বিনয়–নম্রতায় পরিপূর্ণ অতি উচ্চমানের সৌজন্যমূলক আচরণ করা।
২. কারও ন্যায্য প্রাপ্য আটকে না রাখা।
৩. দারিদ্র্যের ভয়ে কন্যাশিশুকে হত্যা না করা।
৪. মিথ্যা না বলা, মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়া।
৫. শিরক না করা।
৬. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা না করা।
৭. নামাজ আদায় করা।
৮. জাকাত দেওয়া।
৯. পবিত্র থাকা।
১০. রক্তের সম্পর্ক বজায় রাখা।
১১. সন্তানদের আদর–স্নেহ করা।
১২. বাবা–মায়ের প্রিয়জন, স্বামী ও স্ত্রীর নিকটাত্মীয়দের প্রতি ভালো ব্যবহার করা।
১৩. বিধবা, এতিম, গরিব ও দুস্থদের ভরণপোষণের চেষ্টা করা এবং তাদের সাহায্য করা।
১৪. প্রাণীদের প্রতি দয়া দেখানো।
১৫. গাছ রোপণ করা।
১৬. প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথি, পথিক ও দাস-দাসীর সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা।
১৭. মেহমানকে সম্মান করা।
১৮. হাসিমুখে মিষ্টি ভাষায় কথা বলা এবং অশালীনতা বর্জন করা।
১৯. সব কাজে নম্র থাকা।
২০. মোমিনদের পারস্পরিক সহযোগিতা করা ও সৎ পরামর্শ দেওয়া।
২১. দানশীল হওয়া, কৃপণতা পরিহার করা।
২২. পারিবারিক কাজে সময় দেওয়া।
২৩. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাউকে ভালোবাসা।
২৪. অন্যকে উপহাস বা হেয় না করা।
২৫. কাউকে গালি ও অভিশাপ না দেওয়া।
২৬. কাউকে খারাপ নামে না ডাকা।
২৭. কারও কুৎসা না করা।
২৮. পরচর্চাকারীর কাছে অন্যের সম্পর্কে অপবাদ বা দুর্নাম না করা।
২৯. মুনাফেকি বর্জন করা।
৩০. কারও অতি প্রশংসা না করা।
৩১. আত্মীয়–অনাত্মীয় নির্বিশেষে ন্যায়বিচার করা।
৩২. কারও প্রতি জুলুম না করা।
৩৩. কারও প্রতি বিদ্বেষ পোষণ না করা।
৩৪. জাদু-টোনা না করা।
৩৫. কারও প্রতি বিরূপ ধারণা পোষণ না করা।
৩৬. অন্যের ত্রুটি খোঁজার জন্য গোয়েন্দাগিরি না করা।
৩৭. আন্দাজ করা থেকে বিরত থাকা।
৩৮. অন্যের ত্রুটি গোপন করা।
৩৯. অহংকার সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা।
৪০. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা।
৪১. অন্যের সঙ্গে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বন্ধ না রাখা।
৪২. আল্লাহর প্রতি অবাধ্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা।
৪৩. আপন লোকের সঙ্গে যথাসম্ভব বেশি বেশি সাক্ষাৎ করা।
৪৪. পুণ্যবান সঙ্গীর বাড়িতে আহার করা।
৪৫. সম্মানিত ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় উত্তম পোশাক পরা।
৪৬. মুসলিমদের সঙ্গে সৌভ্রাতৃত্বে আবদ্ধ থাকা।
৪৭. আলজিব বের করে উচ্চস্বরে না হাসা।
৪৮. সৎ কাজ করতে এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ জেনে নিতে লজ্জাবোধ না করা।
৪৯. ধৈর্যশীল হওয়া।
৫০. লজ্জাশীল হওয়া।
৫১. সরাসরি কাউকে তিরস্কার না করে সাধারণভাবে নসিহতের মাধ্যমে ভুল শুধরে দেওয়া।
৫২. কাউকে কাফির না বলা।
৫৩. কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে কঠোরতা প্রদর্শন করা।
৫৪. ক্রোধ দমন করা।
৫৫. মানুষকে ক্ষমা করা।
৫৬. কথায় ও কর্মে সহজতা ও সরলতা অবলম্বন করা।
৫৭. আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ক্ষেত্র ছাড়া ব্যক্তিগত কারণে কারও কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ না করা।
৫৮. মানুষের পরিবেশ ও পরিস্থিতির প্রতি লক্ষ করে নসিহত প্রদান করা।
৫৯. নিজ পরিবার–পরিজনের সঙ্গে হাসিতামাশা করা।
৬০. একই রকমের ভুল কাজ দ্বিতীয়বার না করা।
৬১. সংশ্লিষ্ট সবার অধিকারের প্রতি মনোযোগী থেকে প্রত্যেকের অধিকার আদায় করা।
৬২. বড়দের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা।
৬৩. আগন্তুককে মারহাবা বলে স্বাগত জানানো।
৬৪. সময়কে গালি না দেওয়া।
৬৫. ভালো নাম রাখা এবং ভালো নামে ডাকা।
৬৬. আশ্চর্য বোধ করলে আল্লাহু আকবার ও সুবহানাল্লাহ বলা।
৬৭. ঢিল ছোড়া থেকে বিরত থাকা।
৬৮. হাঁচি দিলে আলহামদুলিল্লাহ বলা এবং হাই উঠলে মুখ ঢাকা।
৬৯. রোগীর সেবা করা।
৭০. কেউ মারা গেলে জানাজায় অংশ নেওয়া।
৭১. কেউ দাওয়াত দিলে কবুল করা।
৭২. সালামের জবাব দেওয়া।
৭৩. মজলুমকে সাহায্য করা।
৭৪. শপথ পূর্ণ করা।