ইতিহাসের পাতায় ৫ রমজান বৈচিত্র্যময় ও সংবেদনশীল দিন। ইসলামি ঐতিহ্যের এই দিনে একদিকে যেমন মহান বিজয়ের পদধ্বনি শোনা যায়, তেমনি আধুনিক ইতিহাসের এক বিষাদময় অধ্যায় হিসেবে এটি ফিলিস্তিনের ‘নাকবা’ বা মহাবিপর্যয়ের সাক্ষী।
‘উম্মুল মাসাকিন’ ও নবীজীর ঘর
৪ হিজরির ৫ রমজান। নবীজি (সা.)-এর ঘরে প্রবেশ করেন হজরত জয়নব বিনতে খুজাইমা (রা.)। তাঁর দয়া ও অসহায় মানুষের প্রতি মমতার কারণে তাঁকে ইসলামের ইতিহাসে ‘উম্মুল মাসাকিন’ বা ‘মিসকিনদের মা’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল।
যদিও নবীজীর স্ত্রী হিসেবে তিনি মাত্র কয়েক মাস বেঁচে ছিলেন, কিন্তু তাঁর সেই সেবামূলক আদর্শ মুসলিম সমাজে সামাজিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের এক চিরন্তন উদাহরণ হয়ে আছে।
আন্দালুসের পথে মুসা ইবনে নুসাইর
৯২ হিজরির ৫ রমজান। সেনাপতি তারিক ইবনে জিয়াদের বাহিনীর শক্তিবৃদ্ধির লক্ষে ১৮ হাজার সৈন্যের বাহিনী নিয়ে জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করেন সেনাপতি মুসা ইবনে নুসাইর। এর ফলে আইবেরীয় উপদ্বীপে ইসলামি শাসন সুসংহত হয়। (ইবনে আসির, আল-কামিল ফিত তারিখ, ৪/৫৬২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১৯৮৭)
এর কয়েক বছর পর ১১৩ হিজরির ৫ রমজানেই দামেস্কে জন্ম নেন ‘সকরু কুরাইশ’ বা কোরাইশদের বাজপাখি খ্যাত আব্দুর রহমান আদ-দাখিল। উমাইয়া খিলাফতের পতনের পর তিনি নতুন করে আন্দালুসে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠা করেন, যা ইউরোপের ইতিহাসে এক স্বর্ণযুগের সূচনা করে।
কায়রোতে ফাতেমি খলিফা আল-মুইজ
৩৬২ হিজরির ৫ রমজান মিসরে ফাতেমি খলিফা আল-মুইজ লি-দীনিল্লাহ তাঁর সেনাপতি জওহর আল-সিকিল্লির নবনির্মিত শহর কায়রোতে প্রবেশ করেন। তাঁর আগমনের মাধ্যমেই কায়রো একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে সাম্রাজ্যের রাজধানীতে পরিণত হয়।
বর্তমান সময়ে কায়রোর ‘মুইজ স্ট্রিট’-এ রমজানের যে আলোকসজ্জা ও ঐতিহ্য দেখা যায়, তার সূচনা হয় তখন থেকেই। (জালালুদ্দিন সুয়ুতি, তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা: ৫৫৩, মাকতাবাতু নিযার মুস্তফা আল-বায, ২০০৪)
ফিলিস্তিনে নাকবার ক্ষত
আধুনিক ইতিহাসে ১৩৬৭ হিজরির (১১-১২ জুলাই ১৯৪৮) ৫ রমজান মোশে দায়ানের নেতৃত্বে জায়নিস্ট কমান্ডোরা ফিলিস্তিনের লুদ ও রামলা শহরে অতর্কিত হামলা চালায়।
ইফতারের পূর্বমুহূর্তে জায়নিস্ট ‘হাগানাহ’ বাহিনী দাহমাশ মসজিদে আশ্রয় নেওয়া ১৭৬ জন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর হাজারো ফিলিস্তিনিকে তাঁদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে এক ‘মৃত্যু মিছিলে’ অংশ নিতে বাধ্য করা হয়।