ধৈর্যশীলের জন্য আল্লাহর ৫ পুরস্কার

ছবি: পেক্সেলস

মানুষের জীবন সব সময় এক রকম থাকে না। কখনো সুখ, কখনো দুঃখ; কখনো প্রাচুর্য, কখনো অভাব—এসব নিয়েই জীবনের পথচলা। এমন পরিস্থিতিতে যে গুণটি একজন মানুষকে স্থির রাখে, বিপদের মধ্যেও আশাবাদী থাকতে শেখায়, সেটি হলো সবর বা ধৈর্য।

ইসলামে সবর বা ধৈর্য শুধু কষ্ট সহ্য করার নাম নয়; বরং আল্লাহর আদেশের ওপর অবিচল থাকা, পাপ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা।

সবর একজন মুমিনের ইমানকে শক্তিশালী করে, চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণের পথ সুগম করে।

১. ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে

ক্রোধ মানুষের অন্যতম একটি দুর্বলতা। মুহূর্তের ক্রোধ বা আবেগে মানুষ এমন কথা বা কাজ করে বসে, যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে হয়।

সবর মানুষকে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায় এবং ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে।

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১৪)

আরও পড়ুন

২. উভয় জগতে সুফল বয়ে আনে

জীবনের কোনো বড় অর্জনই ধৈর্য ছাড়া সম্ভব নয়। একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান অর্জন, একজন কর্মজীবীর উন্নতি কিংবা একজন মুমিনের আত্মিক পরিশুদ্ধতা—সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন ধৈর্য ও অধ্যবসায়।

যাঁরা প্রতিকূলতার মাঝেও চেষ্টা চালিয়ে যান এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখেন, তাঁরাই একসময় সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছান।

আল্লাহ-তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যের প্রতিযোগিতা করো এবং প্রস্তুত থাকো; আর আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ২০০)

৩. অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয়

জীবনে কখনো এমন সময় আসে, যখন চারপাশের সবকিছু কঠিন মনে হয়। প্রিয়জন হারানো, অসুস্থতা, অভাব কিংবা নানা বিপদ মানুষকে দুর্বল করে দিতে পারে।

কিন্তু সবর একজন মুমিনকে মনে করিয়ে দেয়, আল্লাহর প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে কোনো না কোনো কল্যাণ ও হেকমত। এই বিশ্বাস তাকে কঠিন সময়েও ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করে।

আল্লাহ-তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।’ (সুরা শারহ, আয়াত: ৫-৬)

এখানে লক্ষণীয়, আল্লাহ বলেননি যে কষ্টের পরে রয়েছে স্বস্তি; বরং বলেছেন কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি কঠিন সময়ের মাঝেই আল্লাহ এমন কল্যাণ ও সহজতার পথ তৈরি করে দেন, যা অনেক সময় মানুষ পরে উপলব্ধি করতে পারে।

আরও পড়ুন

৪. দোয়ার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করে

অনেক সময় এমন হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি দোয়া করা সত্ত্বেও তার ফল চোখে পড়ে না। তখন শয়তান মানুষের মনে নিরাশার বীজ বপন করতে চায়।

কিন্তু সবর মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, আল্লাহ কোনো দোয়াই উপেক্ষা করেন না। তিনি কখনো সঙ্গে সঙ্গে দান করেন, কখনো উপযুক্ত সময়ে দেন, আবার কখনো বান্দার জন্য এর চেয়েও উত্তম কিছু সংরক্ষণ করে রাখেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১১১৩৩)

৫. আল্লাহর ভালোবাসা ও সান্নিধ্য লাভ হয়

সবরের সবচেয়ে বড় মর্যাদা হলো, ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আল্লাহ নিজেই থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৪৬)

আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করা একজন মুমিনের সর্বোচ্চ সৌভাগ্য। যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তার অন্তরকে দৃঢ় করেন, তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় সাহায্য করেন।

রায়হান আল ইমরান: লেখক ও গবেষক

আরও পড়ুন