শয়তানের মন্ত্রণা থেকে সুরক্ষা দেয় যে ১০ আয়াত

ছবি: ফ্রিপিক

মানুষের চিরন্তন ও প্রকাশ্য শত্রু হলো শয়তান। সে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে মানুষের অন্তরে সংশয়, মন্দ চিন্তা আর অন্যায়ের প্ররোচনা তৈরি করে। এই অদৃশ্য শত্রুর ফাঁদ থেকে বেঁচে থাকা এবং আত্মিক পবিত্রতা বজায় রাখা মুমিনের অন্যতম বড় সংগ্রাম।

শয়তানের কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) থেকে আত্মরক্ষার জন্য পবিত্র কোরআনে যে ১০টি শক্তিশালী দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরা হলো:

১. আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা

যখনই মনে কোনো মন্দ চিন্তা বা অস্থিরতা আসবে, কালক্ষেপণ না করে স্রষ্টার কাছে সুরক্ষা চাওয়া উচিত।

  • উচ্চারণ: ওয়া ইম্মা ইয়ানযাগান্নাকা মিনাশ শাইতানি নাযগুন ফাসতাইয বিল্লাহ।

  • অর্থ: আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে তোমাকে কোনো প্ররোচনা আসে, তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সুরা আরাফ, আয়াত: ২০০)

২. শয়তানের উপস্থিতি থেকে মুক্তি

শয়তান কেবল কুমন্ত্রণাই দেয় না, সে মানুষের চারপাশ ও উপস্থিতিকে কলুষিত করতে চায়। তাই তার সঙ্গ থেকে দূরে থাকার দোয়া করা জরুরি।

  • উচ্চারণ: রাব্বি আউযু বিকা মিন হামাযাতিশ শাইয়াতিন। ওয়া আউযু বিকা রাব্বি আই ইয়াহদুরুন।

  • অর্থ: হে আমার রব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই শয়তানদের প্ররোচনা থেকে। আর আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই তাদের উপস্থিতি থেকে। (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ৯৭-৯৮)

আরও পড়ুন

৩. তেলাওয়াতের আগে সুরক্ষা

পবিত্র কোনো কাজ, বিশেষ করে কোরআন পাঠের সময় শয়তান বাধা সৃষ্টি করতে চায়। তাই তেলাওয়াতের শুরুতে আল্লাহর আশ্রয় নেওয়া আবশ্যক।

  • উচ্চারণ: ফাইযা কারাতাল কুরআনা ফাসতাইয বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।

  • অর্থ: অতএব যখন তুমি কুরআন পাঠ করবে তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। (সুরা নাহল, আয়াত: ৯৮)

৪. পদাঙ্ক অনুসরণে সতর্কতা

শয়তান মানুষকে হুট করে বড় পাপে লিপ্ত করে না, বরং ছোট ছোট ধাপের মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করে। তাই তার প্রাথমিক ইশারা থেকেও সাবধান থাকতে হবে।

  • উচ্চারণ: ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানুদখুলু ফিস সিলমি কাফফাতাও ওয়ালা তাত্তাবিউ খুতুওয়াতিশ শাইতান।

  • অর্থ: হে মুমিনগণ, তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২০৮)

৫. শয়তানকে শত্রু হিসেবে গণ্য করা

অনেকে শয়তানের প্ররোচনাকে সাধারণ মানবিক দুর্বলতা মনে করেন। কিন্তু কোরআন বলছে, তাকে সব সময় শত্রু হিসেবেই মোকাবিলা করতে হবে।

  • উচ্চারণ: ইন্নাশ শাইতানা লাকুম আদুওউন ফাত্তাখিযুহু আদুওওয়া।

  • অর্থ: নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু। অতএব তোমরা তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ করো। (সুরা ফাতির, আয়াত: ৬)

৬. মন্দ ও অশ্লীলতার প্ররোচনা

মনের ভেতর যখনই কোনো অনৈতিক বা অশ্লীল কাজের চিন্তা প্রবল হয়, তখন বুঝতে হবে এটি শয়তানের পক্ষ থেকে আসছে।

  • উচ্চারণ: ইন্নামা ইয়া'মুরুকুম বিসসুই ওয়াল ফাহশাই।

  • অর্থ: সে তো তোমাদের মন্দ ও অশ্লীল কাজের আদেশ দেয় এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলতে বলে যা তোমরা জান না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৬৯)

আরও পড়ুন

৭. সতর্ক মুত্তাকির গুণাবলি

যাঁদের অন্তরে আল্লাহর ভয় বা তাকওয়া থাকে, তাঁরা শয়তানের সামান্য স্পর্শ অনুভব করলেই সজাগ হয়ে যান এবং স্রষ্টাকে স্মরণ করেন।

  • উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযিনাত তাকাও ইযা মাসসাহুম তাইফুম মিনাশ শাইতানি তাযাক্কারু।

  • অর্থ: নিশ্চয় যারা মুত্তাকি, শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা তাদের স্পর্শ করলেই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে, তখনই তারা সতর্ক হয়ে যায়। (সুরা আরাফ, আয়াত: ২০১)

৮. বিবাদ ও শত্রুতা থেকে সাবধান

পারস্পরিক ঝগড়া, বিদ্বেষ কিংবা মাদক ও জুয়ার মতো নেশার মাধ্যমে শয়তান মানুষের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক শান্তি নষ্ট করতে চায়।

  • উচ্চারণ: ইন্নামা ইউরিদুশ শাইতানু আই ইউকিআ বাইনাকুমুল আদাওয়াতা ওয়াল বাগদাআ।

  • অর্থ: শয়তান তো চায় মাদক ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে তোমাদের বিরত রাখতে। (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৯১)

৯. মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও আশা

শয়তান মানুষকে ভবিষ্যতের মিথ্যা আশা দেখায় এবং পাপের পথে কোনো ঝুঁকি নেই বলে ধোঁকা দেয়।

  • উচ্চারণ: ইয়াইদুহুম ওয়া ইউমান্নিহিম। ওয়া মা ইয়াইদুহুমুশ শাইতানু ইল্লা গুরুরা।

  • অর্থ: সে তাদের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদের আশা জাগায়। আর শয়তান তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়। (সুরা নিসা, আয়াত: ১২০)

১০. শয়তানের পলায়নপর স্বভাব

শয়তান প্রথমে অন্যায় কাজকে খুব আকর্ষণীয় করে দেখায়, কিন্তু যখনই মানুষ বিপদে পড়ে বা আল্লাহর নূর প্রকাশিত হয়, সে দায় এড়িয়ে পালিয়ে যায়।

  • উচ্চারণ: ওয়া কালা ইন্নি বারিউম মিনকুম।

  • অর্থ: (শয়তান শেষ মুহূর্তে বলে) নিশ্চয়ই আমি তোমাদের থেকে মুক্ত। (সুরা আনফাল, আয়াত: ৪৮)

শয়তানের এই অদৃশ্য আক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে নিরন্তর জিকির (স্মরণ), ইবাদত এবং সচেতনতা প্রয়োজন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শয়তানের ধোঁকা থেকে হেফাজত করুন এবং সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে অবিচল রাখুন। আমিন।

  • সাধারণ পাঠকদের সুবিধার্থে এখানে বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হয়েছে। বিশুদ্ধ উচ্চারণের জন্য মূল আরবি আয়াতের সাহায্য নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

আরও পড়ুন