আজকের আধুনিক যুগে ‘শিক্ষা’ বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে শ্রেণিকক্ষ, নির্দিষ্ট সিলেবাস, সেমিস্টারভিত্তিক পরীক্ষা, জিপিএ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি। কিন্তু মধ্যযুগের ইসলামি স্বর্ণযুগে শিক্ষাব্যবস্থার চিত্রটি এমন যান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকতায় বন্দী ছিল না।
আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর বহু শতাব্দী আগেই মুসলিম বিশ্বে গড়ে উঠেছিল এক অত্যন্ত প্রাণবন্ত, সুসংহত ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা। মসজিদ ও তার পাঠচক্র (হালকা), প্রাথমিক মক্তব (কুত্তাব) এবং উলামাদের ব্যক্তিগত পাঠশালা থেকে শুরু করে ওয়াকফভিত্তিক সুবিশাল মাদ্রাসাগুলোতে জ্ঞানচর্চার যে ধারা প্রবাহিত ছিল, তা বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।
প্রাচীন ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা নিয়মহীন ছিল না; বরং তার নিয়মটি ছিল ভিন্ন প্রকৃতির। সেখানে শিক্ষার মূল কেন্দ্রবিন্দু কোনো দেয়ালঘেরা প্রাতিষ্ঠানিক ভবন ছিল না; বরং কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন শিক্ষক (আলিম বা শাইখ), নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় গ্রন্থ এবং সরাসরি শিক্ষক-ছাত্রের সহবত ও নিবিড় সান্নিধ্যের মাধ্যমে অর্জিত স্বীকৃতি বা সনদ (ইজাজাহ)।
সে যুগে একজন প্রজ্ঞাবান পণ্ডিতের পরিচয় নির্ধারিত হতো তিনি কতজন বিদগ্ধ শিক্ষকের সান্নিধ্য পেয়েছেন, কতগুলো মৌলিক গ্রন্থ সরাসরি তাঁদের সামনে পড়ে শেষ করেছেন এবং কত দীর্ঘ সময় গবেষণায় ব্যয় করেছেন তার ওপর।
ব্যক্তি যখন নিজেই প্রতিষ্ঠান
ইসলামের প্রাথমিক শতকগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ে শিক্ষকের ব্যক্তিত্বই বড় পাঠশালা হিসেবে গণ্য হতো। চার মাযহাবের ইমামদের জীবন পর্যালোচনা করলে এই ব্যবস্থার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়:
ইমাম আবু হানিফা (মৃ. ১৫০ হি.): কুফার এই মহান ইমাম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থায় জ্ঞানের দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি কুফার প্রধান ফকিহ হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমানের পাঠচক্রে দীর্ঘ আঠারো বছর সার্বক্ষণিক সান্নিধ্যে (মুলাযামাহ) থেকে নিজের ফিকহি ভিত নির্মাণ করেছিলেন।
ইমাম মালিক ইবনে আনাস (মৃ. ১৭৯ হি.): মদিনার সাহাবি ও তাবেয়িদের জ্ঞানধারাকে ধারণ করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন তাঁর নিজস্ব পাঠচক্র। তাঁর রচিত হাদিস ও ফিকহের প্রাচীনতম সংকলন আল-মুয়াত্তা কেবল নিভৃতে পড়ার কোনো বই ছিল না, বরং তা ছিল মদিনার জ্ঞানপীঠে সরাসরি শিক্ষকের মুখে শ্রুত ও পর্যালোচিত এক জীবন্ত পাঠ্য।
ইমাম শাফেয়ি (মৃ. ২০৪ হি.): তিনি ছিলেন জ্ঞানার্জনের জন্য দেশভ্রমণের (রিহলাহ) অন্যতম প্রতীক। মক্কায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি মদিনায় ইমাম মালিকের সান্নিধ্য নেন, এরপর ইরাকে গিয়ে হানাফি ঘরানার ফকিহদের থেকে জ্ঞান নেন এবং জীবনের শেষভাগে মিসরে গিয়ে তাঁর নতুন ফিকহি মাযহাবের পূর্ণতা দান করেন।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (মৃ. ২৪১ হি.): হাদিস অনুসন্ধানে তিনি হেজাজ ও ইয়েমেনের পথে পথে ঘুরেছেন, প্রবীণ মুহাদ্দিসদের মুখ থেকে সরাসরি হাদিস শুনেছেন এবং ইমাম শাফেয়ির নিকট থেকে ফিকহ ও উসূলের মূলনীতি আত্মস্থ করেছেন।
সে যুগে একজন প্রজ্ঞাবান পণ্ডিতের পরিচয় নির্ধারিত হতো তিনি কতজন বিদগ্ধ শিক্ষকের সান্নিধ্য পেয়েছেন, কতগুলো মৌলিক গ্রন্থ সরাসরি তাঁদের সামনে পড়ে শেষ করেছেন এবং কত দীর্ঘ সময় গবেষণায় ব্যয় করেছেন তার ওপর। (জর্জ মাকদিসি, দ্য রাইজ অব কলেজেস: ইন্সটিটিউশনস অব লার্নিং ইন ইসলাম অ্যান্ড দ্য ওয়েস্ট, এডিনবার্গ: এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮১, পৃষ্ঠা: ৩৫)
কী পড়তেন শিক্ষার্থীরা
তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্র কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া কোনো একক বা অভিন্ন পাঠ্যপুস্তক ছিল না। এর পরিবর্তে প্রতিটি বিষয়ের জন্য ক্রমানুসারে সাজানো আকরগ্রন্থ ও সহায়ক শাস্ত্রের একটি সমৃদ্ধ বিন্যাস চালু ছিল:
প্রাথমিক শিক্ষা: শিক্ষার্থীরা প্রথমে কোরআন পাঠ, মুখস্থকরণ এবং সুন্দর হস্তলিপির চর্চা দিয়ে যাত্রা শুরু করত।
সহায়ক শাস্ত্র: বিশুদ্ধভাবে আরবি ভাষা ও ধর্মগ্রন্থ বোঝার জন্য ব্যাকরণ (নাহু), রূপতত্ত্ব (সরফ) এবং অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ানো হতো।
মৌলিক শাস্ত্র: পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী হাদিস, তাফসির, ফিকহ, উসুলুল ফিকহ ও আকাইদ শাস্ত্রে প্রবেশ করত।
যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক বিদ্যা: ধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা (মানতিক), দর্শন ও ইতিহাসের মতো শাস্ত্রগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পড়ানো হতো।
জ্ঞানবিজ্ঞানের এই শাখাগুলোকে বিন্যস্ত করার জন্য মুসলিম মনীষীরা দর্শন ও তত্ত্বগত গ্রন্থও রচনা করেছিলেন। আবু নাসর আল-ফারাবি তাঁর ইহসাউল উলুম গ্রন্থে জ্ঞানের মানচিত্র এঁকেছিলেন, ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালি তাঁর ইহয়াউ উলুমিদ্দিন-এর ‘কিতাবুল ইলম’ অধ্যায়ে জ্ঞানের স্তর ও প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করেছিলেন। (আবু হামিদ আল-গাজালি, ইহয়াউ উলুমিদ্দীন, ১/১৫, বৈরুত: দারুল মারেফাহ, ১৯৮২)
পরে আল্লামা ইবনে খালদুন জ্ঞান অর্জনের মনস্তাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক দিক বিশদভাবে তুলে ধরেন। (আব্দুর রহমান ইবনে খালদুন, আল-মুকাদ্দিমাহ, ১/৫৪৬, বৈরুত: দারুল ফিকর, ১৯৮৮)
আবার ওসমানিয়া পণ্ডিত তাশকুবরিজাদাহ তাঁর মিফতাহুস সাআদাহ গ্রন্থে জ্ঞানের প্রতিটি শাখা-প্রশাখাকে বিশ্বকোষীয় আকারে সুবিন্যস্ত করেন। (আহমদ ইবনে মুস্তফা তাশকুবরিযাদাহ, মিফতাহুস সাআদাহ ওয়া মিসবাহুস সিয়্যাদাহ, ১/৪২, বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৯৮৫)
শিক্ষক নিজেই ছিলেন পাঠ্যক্রমের জীবন্ত আদর্শ। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সামনে বৃত্তাকারে (হালকা) বসত। শিক্ষক পাঠ্যগ্রন্থের মূল পাঠ (মতন) ব্যাখ্যা করতেন, শিক্ষার্থীরা তা লিখে নিত, পাল্টা প্রশ্ন করত এবং যুক্তিতর্কের মাধ্যমে বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করত।
শিক্ষাদান পদ্ধতি ও আদব শাস্ত্র
ইসলামি শিক্ষাধারায় শিক্ষাদান শুধু তথ্য মুখস্থ করানোর নামান্তর ছিল না। সেখানে শিক্ষক নিজেই ছিলেন পাঠ্যক্রমের জীবন্ত আদর্শ। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সামনে বৃত্তাকারে (হালকা) বসত। শিক্ষক পাঠ্যগ্রন্থের মূল পাঠ (মতন) ব্যাখ্যা করতেন, শিক্ষার্থীরা তা লিখে নিত, পাল্টা প্রশ্ন করত এবং যুক্তিতর্কের মাধ্যমে বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করত।
কীভাবে পড়তে হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে স্বতন্ত্র সাহিত্য গড়ে উঠেছিল। ইমাম বুরহানুদ্দীন আল-জারনুজি রচিত তালিমুল মুতাআল্লিম তারিকাত তাআল্লুম গ্রন্থে শিক্ষক নির্বাচন, সময়ের সদ্ব্যবহার ও অধ্যাবসায়ের নিয়ম বিধৃত হয়েছে। (বুরহানুদ্দীন আল-জারনুজি, তালিমুল মুতাআল্লিম তারিকাত তাআল্লুম, পৃষ্ঠা: ২৫, দামেস্ক: দারু ইবনি কাসির, ১৯৮৬)
অনুরূপভাবে শাফেয়ি ফকিহ বদরুদ্দিন ইবনে জামাআহ তাঁর তাজকিরাতুস সামি ওয়াল মুতাকাল্লিম গ্রন্থে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং পাঠচক্রের পরিবেশের পারস্পরিক আদব ও নীতিমালার একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা উপস্থাপন করেন। (বদরুদ্দিন ইবনে জামাআহ, তাজকিরাতুস সামি ওয়াল মুতাকাল্লিম ফি আদাবিল আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম, পৃষ্ঠা: ১৮, বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ২০১৪)
‘ইজাজাহ’: ব্যক্তিকেন্দ্রিক মূল্যায়নের ঐতিহ্য
প্রাচীন মুসলিম শিক্ষাব্যবস্থায় বর্তমানের মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাগজের সার্টিফিকেটের চেয়ে শিক্ষকের দেওয়া ‘ইজাজাহ’ বা সনদ ছিল সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য স্বীকৃতি। ইজাজাহর মূল কথা ছিল, অমুক ছাত্র আমার সামনে বসে অমুক গ্রন্থটি পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়েছে বা শুনেছে এবং সে এই বিদ্যা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
ঐতিহাসিকভাবে ইজাজাহ প্রধানত তিন ধরনের হতো:
১. রিওয়ায়াতের ইজাজাহ: হাদিস বা কোনো নির্দিষ্ট গ্রন্থ বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মে বর্ণনা করার অনুমতি।
২. সামা ও আরদের ইজাজাহ: শিক্ষকের মুখ থেকে পাঠ সরাসরি শ্রবণ করা কিংবা শিক্ষকের সামনে ছাত্র কর্তৃক নির্ভুলভাবে পড়ে শোনানোর সনদ।
৩. তাদরিস ও ইফতার ইজাজাহ: কোনো শিক্ষার্থী যখন ফিকহ ও শরিয়তের জটিল বিষয়ে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করত, তখন শিক্ষক তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যাপনা করার ও ফতোয়া প্রদানের অনুমতিপত্র দিতেন।
এই সনদের সৌন্দর্য ছিল এর বিশুদ্ধ সনদের ধারাবাহিকতা (ইসনাদ), যা ছাত্রকে সরাসরি তাঁর শিক্ষক হয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন জ্ঞানধারার সঙ্গে যুক্ত করত। (জোনাথন বার্কি, দ্য ট্রান্সমিশন অব নলেজ ইন মেডিভ্যাল কায়রো, পৃষ্ঠা: ৪৮, প্রিন্সটন: প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৯২)
বিত্তবান শাসক ও নাগরিকরা জমিজমা ও স্থাবর সম্পত্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে ওয়াকফ করে দিতেন। এর ফলে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত বেতন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া, পোশাক ও কিতাবের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হতো।
মসজিদ থেকে ওয়াকফভিত্তিক মাদ্রাসা
শুরুর দিকে মসজিদই ছিল শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু কালক্রমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার পরিধি বিস্তৃত হওয়ায় হিজরি পঞ্চম শতকে আনুষ্ঠানিক মাদ্রাসার রূপ আত্মপ্রকাশ করে। সেলজুক উজির নিজামুল মুলক বাগদাদ, নিশাপুর ও অন্যান্য শহরে যে ‘মাদ্রাসায়ে নিজামিয়্যাহ’ প্রতিষ্ঠা করেন, তা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই নিজামিয়া মাদ্রাসার প্রধান অধ্যাপক হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন ইমাম গাজালি।
এই প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল ইসলামি ‘ওয়াকফ’ ব্যবস্থা। বিত্তবান শাসক ও নাগরিকরা জমিজমা ও স্থাবর সম্পত্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে ওয়াকফ করে দিতেন। এর ফলে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত বেতন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া, পোশাক ও কিতাবের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হতো।
পরে মিসরের ঐতিহাসিক আল-আজহার (৯৭০-৯৭২ খ্রি.), মরক্কোর ফেজ নগরীর আল-কারাউইয়িন এবং তিউনিসিয়ার জামে যায়তুনা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জ্ঞানচর্চার অবিসংবাদিত বাতিঘর হিসেবে কাজ করেছে। এগুলো কোনো যান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ছিল না; বরং প্রতিটি শহরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও মাজহাবগত পরিবেশ অনুযায়ী নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে বিকশিত হয়েছিল।
আধুনিক রূপান্তর ও শিক্ষাদর্শন
ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে মুসলিম বিশ্বে পশ্চিমা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রভাব এবং আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামোর সূচনা ঘটে। এর ফলে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক স্তরবিন্যাস, লিখিত পরীক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির প্রচলন শুরু হয়। এমনকি আল-আজহারেও ১৯৩০ এবং ১৯৬১ সালের সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিক অনুষদ ও ডিগ্রি ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়।
এই রূপান্তরের ফলে প্রাচীন পদ্ধতির অনেক কিছুই বদলে গেছে। তবে প্রাচীন ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, শিক্ষা শুধু সিলেবাসের কতগুলো বইয়ের সমষ্টি নয়; শিক্ষা হলো প্রজ্ঞাবান শিক্ষক, শিক্ষার্থীর আত্মিক সাধনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং নৈতিক মূল্যায়নের এক সমন্বিত জীবনদর্শন।
ইট-পাথরের ভবনের চেয়েও যে শিক্ষকের সান্নিধ্য ও চরিত্রের প্রভাব জ্ঞানার্জনে বেশি ফলপ্রসূ, সেই ইতিহাস আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও এক চিরন্তন প্রেরণার উৎস।