বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম

এখন আমাদের জনসংখ্যা ১৬ কোটি। এর এক-তৃতীয়াংশ যুবশক্তি হলে ৫ থেকে ৬ কোটি যুবসমাজের সদস্য। তাঁদের পেছনে বিনিয়োগ করলে তার ১০ গুণ আমরা ফেরত পাব কয়েক বছরের মধ্যে। এই যুবসমাজ বেশি দিন থাকবে না। আমরা ধরে নিতে পারি, ২০৫০ সাল পর্যন্ত এ যুবসমাজের শক্তি নিয়ে চলতে পারব। আমরা যদি তাঁদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে নিতে পারি, তাহলে যখন বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়তে থাকবে, তখন অসুবিধা হবে না। সে জন্য বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। ধারাবাহিকভাবে তরুণদের প্রতি দৃষ্টি দিলে সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশের অর্থনীতি ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পারব।

তোসিবা কাশেম

default-image

বর্তমানে বাংলাদেশের ২১টি জেলায় অক্সফ্যাম কাজ করছে। প্রায় সব কটি প্রকল্পেই যুবদের জন্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে; এর মধ্যে এম্পাওয়ার ইয়ুথ ফর ওয়ার্ক প্রকল্প শুধু যুবদের নিয়ে কাজ করছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া ও পাকিস্তানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাবিত গ্রামীণ এলাকার যুব নারী ও যুব পুরুষদের দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের মধ্য দিয়ে তঁাদের আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছে। প্রকল্পটি বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর এই ৪টি জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অক্সফ্যামের উদ্যোগে সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস ২০২০ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশসহ ৪টি দেশে ‘যুবদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান’ শীর্ষক একটি গবেষণা পরিচালনা করে।

গবেষণাটি করোনা অতিমারির আগে হওয়ার কারণে করোনা অতিমারির বিষয়গুলো এখানে আলোচিত হয়নি। এই গবেষণায় দুটো দিক দেখা হয়েছে। প্রথমত, গ্রামীণ যুবদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান নীতিমালায়
যুবদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচিত হয়েছে কি না।

এই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে দেখা যায়, জনমিতিক পরিবর্তন, পরিবেশ ও জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নাগরিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্র—এই চারটি বৈশ্বিক মূল বিষয় বা মেগাট্রেন্ড বাংলাদেশের গ্রামীণ যুবসমাজের আয় ও কাজের সম্ভাবনা তৈরির ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করবে। এই বিষয়গুলো অসমতাও তৈরি করবে।

বাংলাদেশের ৬৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। ২০৫০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি গ্রামীণ জনসংখ্যা হ্রাস পেতে পারে। জনসংখ্যা হ্রাসের ক্ষেত্রে এটা হবে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম হ্রাস। উন্নয়নশীল দেশগুলো বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে আবহাওয়া ও জলবায়ুর ক্রমাগত পরিবর্তনের প্রভাব লক্ষণীয় হবে। জলবায়ুর এ পরিবর্তনের ফলে কৃষিজমির পরিমাণ ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাবে। অটোমেশন বা প্রযুক্তির প্রভাবে চিরাচরিত অনেক কাজের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে।

২০৪১ সালে অটোমেশনের কারণে বাংলাদশে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারেন। বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল চাকরির বাজারে ১৩ শতাংশ বাংলাদেশি যুক্ত আছেন। এখানে আমাদের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে লিঙ্গীয় অসমতা দেখা গেছে; ৮৪ শতাংশ পুরুষের বিপরীতে ৫৯ শতাংশ নারী মুঠোফোন ব্যবহার করছেন। এ গবেষণায় বাংলাদেশের জাতীয় যুবনীতি–২০১৭ বিশ্লেষণ করে আমাদের অবস্থান এবং সেখান থেকে উত্তরণের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা দেখানো হয়েছে।

মেগাট্রেন্ডগুলোর কারণে যেহেতু অসমতা তৈরি হবে, এগুলো সময়মতো চিহ্নিত না করলে অসমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এ জন্য নীতিমালায় এ বিষয়গুলোর প্রতিফলন দেখতে চাচ্ছি।

default-image

রশিদুল হাসান

বাংলাদেশে পাঁচ কোটির বেশি যুব এখনো গ্রামে বাস করেন। এ যুবসমাজকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব একটা সুযোগ তৈরি করেছে। সে ক্ষেত্রে যুবসমাজের প্রত্যেককে প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এখনো সাত কোটির বেশি মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। এখন কৃষি ব্যবস্থা যান্ত্রিকীকরণ হচ্ছে। শুধু যান্ত্রিকীকরণ না, কৃষিকাজে বিভিন্ন সেন্সর ব্যবহৃত হচ্ছে। আগামী দিনে আইওটি (ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তি) ব্যবহার হবে। স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার আসবে। এ স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচারের সঙ্গে যদি যুবসমাজকে যুক্ত করতে না পারি, তাহলে শুধু এ যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নয়, পুরো জাতি একটা বিপদের মুখে পড়বে।

আশার আলো হচ্ছে, ইতিমধ্যে অনেক জায়গায় আমরা অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে আছি। আমরা যোগাযোগ ও প্রযুক্তির জায়গায় অনেক দেশ থেকে এগিয়ে আছি। এখন মাঠে একটা সেন্সর ব্যবহার করে কৃষকেরা বাড়িতে বসে জানতে পারবেন জমিতে কতটুকু সার দিতে হবে ও কীটনাশক দিতে হবে কি না।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য অন্যতম বিষয়, সেন্সর তৈরির কাজ বাংলাদেশেই হতে হবে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যুবদের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা দরকার। যেন আমরা আইওটি–ভিত্তিক ডিভাইস ও সফটওয়্যারগুলো নিজেরা তৈরি করতে পারি। মোবাইল মেরামত সেবার মতো আগামী দিনে যেন সেন্সর ও আইওটি–ভিত্তিক ডিভাইসগুলো গ্রাম পর্যায়ে যুবরা মেরামত করতে পারেন।

তাহলে লাখো যুব উদ্যোক্তা তৈরি হবেন। যেকোনো প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা মোকাবিলায় জাতি হিসেবেও আমরা তৈরি থাকব।

স্বর্ণা খাতুন

default-image

আমি গ্রাম পর্যায় থেকে উঠে আসা একজন নারী, তরুণ উদ্যোক্তা। ব্যবসার ক্ষেত্রে নারীদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাজারে দোকান দেওয়া অনেক কঠিন। একই সঙ্গে ব্যবসার জন্য মূলধন ও ঋণ পেতে অনেক সমস্যা হয়। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ঋণের আবেদন করলে আমরা তা ঠিকমতো পাই না।

অবিবাহিত হওয়ার কারণ দেখায়। যুব নারী উদ্যোক্তাদের আইটি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, যেন অনলাইন ব্যবসাগুলো আমরা করতে পারি। সে জন্য উপজেলা পর্যায়ে যেন প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া হয়। গ্রাম পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়া খুবই জরুরি।

default-image

আছিয়া খালেদা নীলা

আমরা ৯ বছর ধরে কাজ করছি। গ্রাম পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে লক্ষ করছি, গ্রামে ডিভাইস প্রবেশাধিকার একটা চ্যালেঞ্জ। এখন গ্রামে শিক্ষায় প্রবেশাধিকার অনেক সহজ হয়ে গেছে। সরকারই তা নিশ্চিত করেছে। ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি গ্রাম পর্যায়ে খুব একটা পাওয়া যায় না। মোবাইল ডেটার ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে গ্রাম পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়াও চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়। মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমার অনুরোধ, এগুলো যেন আরও সহজ হয়। সাশ্রয়ী মূল্যের ইন্টারনেট সেবা যেন গ্রামবাসীও পায়। শহরগুলোতে অনেক বিকল্প ব্যবস্থা থাকে। গ্রামে সে সুযোগ নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ই-কমার্স অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ জন্য যথাযথ নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।

গ্রামে নারীর জন্য অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। সরকারি পর্যায়ে অনেক উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভালো হয়। প্রশিক্ষণগুলো যেন একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে নেওয়া যায়। কুড়িগ্রামে কিছু চর আছে। সেখানে শিক্ষায় প্রবেশাধিকার অনেক কঠিন।

যেকোনো প্রশিক্ষণ নিতে তাদের জেলা সদরে আসতে হয়। প্রতিটি কমিউনিটিতে সরকার থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে খুব ভালো হয়। গ্রাম পর্যায়ে ইন্টারনেটে প্রবেশগম্যতা সবচেয়ে বেশি দরকার। প্রশিক্ষণ কারিকুলামে অনেক কিছু পড়ানো হয়। গ্রাম পর্যায়ে চিন্তা করলে অনেক কিছু দরকার নেই। খুব নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষ লোকবল তৈরি করা গেলে এটা আরও বেশি কার্যকর হবে।

ফাহমিদা খাতুন

default-image

এ আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক। কারণ, কোভিড আসার আগে থেকেই চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের দ্বারপ্রান্তে এসে কড়া নাড়ছিল। কোভিড-১৯ এতে আরও গতিময়তা এনেছে। আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক, অফিশিয়াল ও ব্যক্তিগত কাজকর্ম এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। যুবকদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটা ঘাটতি রয়ে গেছে। তাঁদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা একটা চ্যালেঞ্জ।

আমাদের অর্থনীতিতে সবার কর্মসংস্থান করা সম্ভব নয়। সে জন্য স্ব-উদ্যোগে স্ব-নিয়োজনের পথ ধরতে হবে। পৃথিবীর অনেক অগ্রগামী দেশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্ব-নিয়োজনের পথ অবলম্বন করেছে। আমাদেরও সে পথে যেতে হবে।

তরুণদের সংখ্যা, বেকারত্বের হার, কোথায় কত শতাংশ বেকার আছে, তার একটা সঠিক ডেটাবেস থাকা দরকার। প্রযুক্তিতে সবার অধিগম্যতা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

শ্রমবাজারে সবার চাকরি থাকবে না, নিজেদের উদ্যোগ নিতে হবে, সে জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা দরকার। এ ক্ষেত্রে সবার পক্ষে ফি দিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব না। তাই নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক মানুষের জন্য বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এ প্রযুক্তির যুগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি নারীরাও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ৩৬ শতাংশ নারী শ্রমবাজারে আছেন। কিন্তু বেশির ভাগ নারী অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়েছেন। তাই নারীদের শ্রমবাজারে ধরে রাখতে প্রশিক্ষণের দরকার। শুরুর দিকে তৈরি পোশাক খাতে শ্রমশক্তির ৮০ শতাংশ ছিলেন নারী শ্রমিক। এখন সেটা ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। এর অন্যতম কারণ হলো কারখানাগুলো এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছে।

শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকাও জরুরি।

default-image

লাফিফা জামাল

গত ১০ বছরে আইসিটি খাতের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। সেই সঙ্গে আমরা সিলেবাসে তথ্যপ্রযুক্তি–বিষয়ক অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত করেছি। এটা একেবারে স্কুল পর্যায় থেকে শুরু হয়েছে। মায়ের ভাষা হিসেবে বাংলা তো আমাদের জানতেই হবে। তার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি জানতে হবে। এখন আমরা বলি, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত একটি প্রোগ্রামিং ভাষা জানতে হবে।

আমরা যখন শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন মনে করা হতো, যারা কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়বে, তারাই শুধু প্রোগ্রামিং জানবে। সময়ের সঙ্গে এ ধারণার পরিবর্তন হয়েছে। এখন যেকোনো বিষয়ে পড়াশোনা ও কাজ করতে হলে বিভিন্ন সফটওয়্যারে দক্ষ হতে হয় এবং প্রোগ্রামিং জানতে হয়। এ ক্ষেত্রে খুব বড় একটা সমস্যা হলো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের অভাব।

শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মোটামুটিভাবে শিক্ষক থাকেন। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। এ জায়গায় সরকারের জোর দেওয়া উচিত। কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়ার প্রয়োজন আছে।

যুবদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেক সম্ভাবনাময় তরুণ আছেন। তঁারা যথেষ্ট ভালোও করছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা নিয়ে স্বপ্ন দেখে না। তথাকথিত নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলে হয়তো কারিগরি শিক্ষার জন্য চেষ্টা করে। এ সময় কারিগরি শিক্ষাকে অত্যন্ত জোর দেওয়া অবশ্যক হয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ সময় প্রযুক্তিবিষয়ক জ্ঞান না থাকলে পড়াশোনা শেষে মুখ থুবড়ে পড়তে হবে। দিনে দিনে কিছু চাকরি বিলুপ্তপ্রায় হয়ে যাচ্ছে। আবার একই সঙ্গে নতুন কর্মক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে। রোবট সব কাজ নিয়ে নেবে, তাহলে মানুষ কী কাজ করবে— রোবটিকসের শিক্ষক হিসেবে আমাকে প্রায়ই এ প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু বিরক্তিকর ও যেসব কাজে সৃজনশীলতা নেই, সেগুলোই রোবট নেবে। তাই আমাদের সৃজনশীলও হতে হবে।

এ কোভিডকালে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। কিন্তু আইটি খাতে যঁারা কাজ করতেন, তঁাদের বরং আরও অনেক সুযোগ এসেছে। সে জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যান্য দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায়ের পড়াশোনা ও গবেষণা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও দেশের চাহিদাকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এ সম্পর্ক সেভাবে গড়ে ওঠেনি। আবার শিল্পপ্রতিষ্ঠানেরও একেবারে তাদের চাহিদা অনুযায়ী গড়ে তোলা লোকবল আশা করা ঠিক না। সে ক্ষেত্রে নতুন চাকরিতে যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে কাজে না দিয়ে তার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

আমাদের অনেক বিভাগে ইন্টার্নশিপ চালু আছে। এ ইন্টার্নশিপ চালু থাকা অনেক বেশি প্রয়োজন।

তানজিলুত তাসনুবা

default-image

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে যুব বেকারত্ব বিশেষত শিক্ষিত যুব বেকারত্ব রোধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্কিলিং, আপ স্কিলিং ও রি-স্কিলিংয়ের কথা বলা হয়েছে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দুটো দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তার মধ্যে একটি হচ্ছে যুব শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রাখা। আরেকটি হচ্ছে সিস্টেম অ্যান্ড প্রসেস আপগ্রেডেশন। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারে নজর দিতে হবে।

পাশাপাশি আমাদের আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কোন ধরনের উদ্ভাবনী সমাধান আনতে পারি, সে দিকে লক্ষ রাখতে পারি। এখন সময় এসেছে ডিজিটাল দক্ষতা, সফট স্কিল ও উদ্যোগ দক্ষতার সর্বজনীন আওতা (ব্ল্যাংকেট কাভারেজ) নিশ্চিত করা।

জনমিতিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) পেতে চাইলে তা ছাড়া উপায় নেই। এ জন্য এ দক্ষতাগুলো সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা এবং কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, সেখানে মনোযোগ দিতে হবে। তাদের শুধু শিক্ষা ও দক্ষতা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া নয়, শ্রমবাজারে সম্পৃক্ত করে দেওয়ার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। এটা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব না। সে জন্য দরকার সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশিদারত্ব। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ডিজিটাল দক্ষতা রপ্ত করছে ও বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে আসছে, তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য শিক্ষানবিশ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যতই আমরা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিই না কেন, বাস্তব দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। কেবল শিক্ষানবিশের মাধ্যমে প্রায়োগিক কিছু শেখা সম্ভব। সে জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে আরও আগ্রহী করা ও জাতীয় শিক্ষানবিশ কাঠামো তৈরির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শিক্ষানবিশ বিষয়টির ওপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। প্রবাসীদের গন্তব্য দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে একটা সম্ভাবনা তৈরি হবে। অটোমেশনের কারণে তৈরি পোশাক খাতে কোন ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন হবে, তা আমরা জানি।

কিন্তু অন্যান্য খাতে কী দক্ষতা প্রয়োজন, আমাদের কী দক্ষতা আছে ও কোথায় ঘাটতি আছে, তা এখনো জানি না। সে জন্য একটা বড় ম্যাপিং করা প্রয়োজন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হলে কারিকুলাম সংস্কারে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। প্রান্তিক জনগণ, ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষ, নারী শ্রমশক্তি সবাইকে নিয়ে সামনে এগোতে হবে।

default-image

মোস্তাফা জব্বার

পশ্চিমা দেশগুলো চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এ জন্য চেয়েছে, যেহেতু তাদের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী প্রায় নেই, সে কারণে যে কাজগুলো অন্য লোক দিয়ে করাতে হয়, সেগুলো যেন যন্ত্র দিয়ে করানো যায়। আমাদের দেশে ২৫ বছরের কম বয়সী জনগোষ্ঠী শতকরা ৫০ ভাগ। ৩০ বছরের কম বয়সী হিসাব করে তা ৬০ শতাংশের বেশি হয়। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এটা বাড়তে থাকবে। এরপর এ জনমিতিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কমতে কমতে ২০৫০ সালে আবার আমরা হয়তো একটা বেকায়দায় পড়ব।

আমাদেরও বয়স্ক জনসংখ্যা বেড়ে যাবে। অল্প বয়সী মানুষের সংখ্যা কমে যাবে। এখন সরকার তরুণদের প্রযুক্তি খাতে ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রেও সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের জন্য দেশের মানবসম্পদ একদিক থেকে অনেক বড় সম্পদ। আরেক দিক থেকে জাতীয় অগ্রগতির ক্ষেত্রে এ মানবসম্পদ কাজে লাগানো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ অবস্থায় শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দিলে এ সম্পদের ব্যবহার করার সুযোগই তৈরি করতে পারব না। আমাদের সব জনগোষ্ঠীকে কম্পিউটার বিজ্ঞান, রোবটিকস, এআই, ব্লকচেইন প্রভৃতি বিষয়ে দক্ষ হতে হবে না। কিন্তু প্রত্যেককে ডিজিটালি দক্ষ হতে হবে। ইতিমধ্যে যাদের শিক্ষিত বানিয়ে ফেলেছি ও সনদ দিয়ে দিয়েছি, তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা কঠিন।

একটি অফিস সহায়ক পদের বিপরীতে এক লাখ আবেদন পাওয়ার রেকর্ড আছে। যোগ্যতা এসএসসি পাস চাওয়া হলে মাস্টার্স পাস পর্যন্ত আবেদন করেন। কারণ, তঁার জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে প্রচলিত পদ্ধতিতে কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব না।

আমাদের তরুণ যে উদ্যোক্তা গ্রাম পর্যায়ে ইন্টারনেট পৌঁছানোর যে দাবিটি উত্থাপন করেছেন, তা অত্যন্ত যৌক্তিক দাবি। এটি সরকারিভাবে বা বেসরকারি খাতের সহায়তা নিয়ে পূরণ করা দরকার। রাষ্ট্রের এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা উচিত। শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইন্টারনেট দিলে তা ব্যয় না, বিনিয়োগ হিসেবে চিন্তা করা উচিত।

জমিতে আইওটি ডিভাইস ব্যবহার করতে হলে ফোর–জি নেটওয়ার্ক যথেষ্ট হবে না। সে ক্ষেত্রে ফাইভ–জি নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। ফাইভ–জি সাধারণ মানুষের নেটওয়ার্ক হবে, তা আমি মনে করি না। মোবাইল ব্যবহারের দক্ষতা থাকলে কৃষককে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বোঝাতে হবে না।

বাংলাদেশ সম্পর্কে যে যা–কিছু বলুক, আমার কাছে মনে হয় আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে না পারলে কোনো পরিকল্পনা কাজে আসবে না। বরং তাদের কাজে লাগাতে পারলে এখন যে পরিকল্পনা করছি, তা ১০ গুণ বাড়িয়ে নানাভাবে বিকশিত কর‍তে পারব।

তরুণদের কাজে লাগানো, দক্ষ করা, ডিজিটালি দক্ষ করাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত।

দুলাল কৃষ্ণ সাহা

default-image

দেশে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে শ্রমজীবীর সংখ্যা ৬ কোটি ৮০ লাখ। তার মধ্যে ৫ কোটি ৮০ লাখ শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ করে থাকে। এর মধ্যে নিট হলো ২৯ দশমিক ৮ ভাগ। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত আছে ৮৫ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে ৩৯ দশমিক ৯ ভাগের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই।

তাই বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক খাতের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক স্বল্পশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন করে শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। আমরা এখন জনমিতিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) ভোগ করছি। প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছেন। এটি আগামী ৩০ থেকে ৩৫ বছর চলমান থাকবে।

এদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে না পারলে এ জনমিতিক সুবিধা ভোগ করা যাবে না। এখানে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চলে আসে। আমরা ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করেছি। আমরা দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের দিকে এগোচ্ছি।

একজন শ্রমিক কারখানায় কাজ করেন। কিন্তু তাঁর কোনো সনদ নেই। তিনি দক্ষ শ্রমিক হিসেবে আবেদন করলে আমরা মূল্যায়ন করব। ফলে তিনি অন্য জায়গায় কাজ করতে পারবেন অথবা পূর্বের জায়গায়ই তঁার অবস্থান ভালো হবে। অন্য একটি কার্যক্রমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমরা চুক্তি করি এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী লোকবল প্রশিক্ষণ দিই।

কারিগরি শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ কম। কারিগরি শিক্ষায় আমরা সেভাবে লেখাপড়া করাচ্ছি কিনা? সেখানে ঘাটতি রয়ে গেছে। কারিগরি শিক্ষা শেষে চাকরি পাবে, সে নিশ্চয়তা নেই। যেসব শিক্ষার্থীকে তৈরি করা হচ্ছে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গেলে বলা হচ্ছে তাকে দিয়ে এ কাজ চলে না। তাই একদিকে শিক্ষিত বেকার বাড়ছে, অন্যদিকে আমরা যথার্থ প্রশিক্ষণ দিতে পারছি না। প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর আমরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটা সংযোগ করার চেষ্টা করব।

আলোচনায় এসেছে ২০৩১ সালের মধ্যে ৫৫ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারেন। এসব কারণে এ জায়গায় দ্বিমত করব। দেশে এখন প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরি হয়েছে। আইসিটি বিভাগ তাদের পরিচয়পত্র দিয়েছে। তারা চাইলে আরপিএল পদ্ধতিতে তিন দিনের অনলাইন পরীক্ষা দিয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে সনদ নিতে পারবে।

default-image

মোহাম্মদ শোয়েব ইখতেখার

আজকের আলোচনায় দুটো খাত প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে। এ দুটো খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটা হচ্ছে এসএমই। আমাদের মতো দেশের প্রেক্ষাপটে তা ৬৮ শতাংশ কর্মসংস্থান তৈরির কাজ করে। আরেকটি হচ্ছে কৃষি খাত। এ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ দুটো খাত ধরে কাজ করতে হবে। এ জন্য একটা অংশিদারত্ব মডেলের কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রথম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বেসরকারি খাতকে।

বলা হয়েছে, মোট ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ আসবে বেসরকারি খাত থেকে। তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখেছি, শুধু এককভাবে অর্থনৈতিক অধিগম্যতা কাজ করে না। এককভাবে কারিগরি গাইডলাইন, নেটওয়ার্কিং বা বিজনেস ডেভেলপমেন্ট সাপোর্টও কাজ করে না। এসব উপাদান অর্থাৎ অর্থনৈতিক অধিগম্যতা, কারিগরি গাইডলাইন, পর্যবেক্ষণ ও তদারকি, নেটওয়ার্কিং সাপোর্ট এবং মার্কেট প্রমোশন যখন একত্রে কাজ করে, তখন সাফল্যের হার অনেক বেশি হয়। সরকার এককভাবে এ সবকিছু করতে পারবে না।

সরকার একটা নীতিমালা তৈরি করবে যেন বেসরকারি খাত এ জায়গাগুলোতে কাজ করতে পারে। আমরা উন্নয়ন চিন্তা করি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত। স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন কর্মসংস্থানমূলক ব্যবস্থাপনা আছে। কিন্তু তার সঙ্গে বেসরকারি খাতের স্বার্থ ঠিক রেখে কাজ করতে চাইলে স্থানীয় মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউটের (এমএফআই) তাদের বিকল্প অর্থ ব্যবস্থায় যেতে হবে।

এর মধ্যে একটা হতে পারে ইমপ্যাক্ট ফান্ডিং। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে যঁারা এ সাহায্যগুলো পৌঁছাবেন, তঁাদের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করতে পারে। বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা গেছে। এখন যুব উন্নয়নের জন্য বিশেষ হাব করা জরুরি। এটা ভাবা দরকার।

এ রকম কিছু করা গেলে সঠিক সাহায্য সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, জবাবদিহি নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে অক্সফ্যামের মতো প্রতিষ্ঠান আগ্রহী। এ ব্যাপারে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই।

ফিরোজ চৌধুরী

যুবদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের অগ্রাধিকার নিয়ে চমৎকার আলোচনা হয়েছে। আলোচনা থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে এসেছে। আমরা প্রত্যাশা করি, যুবদের কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

সুপারিশ

  • অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এসএমই খাতের উন্নয়ন এবং গ্রামীণ প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

  • চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দক্ষতা উন্নয়ন ও পাঠ্যসূচি সংস্কারে মনোযোগ দিতে হবে।

  • আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের চাহিদা নিরূপণ করে যুবদের মানসম্মত দক্ষতা উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

  • প্রযুক্তিতে নারী ও গ্রামীণ জনগণ সবার প্রবেশাধিকার থাকা একান্ত প্রয়োজন।

  • শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত।

  • যুব উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের জন্য সহজ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

  • যুবদের কর্মসংস্থানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।

  • যুব কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে জাতীয় বাজেটে আলাদা অর্থ বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন।

  • তৃণমূল পর্যায়ে ‘যুব হাব’ মডেল তৈরির মাধ্যমে যুব উদ্যোক্তাদের ইনকিউবেশন সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।

গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন