নিরাপদে স্কুল খোলা: বাস্তবতা ও করণীয়

গোলটেবিলে অংশগ্রহণকারী

মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি

মাননীয় উপমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রাশেদা কে চৌধূরী

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা। নির্বাহী পরিচালক, গণসাক্ষরতা অভিযান।

মমিনুর রশিদ আমিন

অতিরিক্ত সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সৈয়দ গোলাম ফারুক

মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

ইউসুফ আলী

পরিচালক, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)।

কেনেথ এ রাসেল

শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

সামিয়া আহমেদ

সিনিয়র ম্যানেজার, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড ক্যাম্পেইন, সেভ দ্য চিলড্রেন

মোহাম্মদ মহসীন

শিক্ষা ব্যবস্থাপক, ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

মেহজাবিন আহমেদ

বিশেষজ্ঞ, ওয়াশ প্রকল্প, ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

আলোচনা

সৈয়দ গোলাম ফারুক

default-image

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হলো নিরাপদে স্কুলে ফেরার প্রস্তুতি কী হবে। কবে সঠিকভাবে আমরা স্কুলে ফিরতে পারব জানি না। তবে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রস্তুতি নেওয়াটা আমরা শুরু করেছি। একটা প্রস্তুতি হলো দীর্ঘদিন আমাদের স্কুল বন্ধ ছিল। এখন কিছু শিক্ষক স্কুলে যাচ্ছেন। স্কুল খোলার প্রস্তুতির বিষয় তাঁরা কাজ করছেন। স্কুলে যেন স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ থাকে, সে জন্য শিক্ষকেরা উদ্যোগ নিচ্ছেন।

ইউনিসেফের সঙ্গে আমরা পরিকল্পনা করছি। একটা কমিটিও হয়েছে। প্রাথমিক স্কুলের কথা বলা হয়েছে। আমাদের কমিটিও এ ক্ষেত্রে কাজ করছে। স্কুল খোলার আগে কী করা দরকার, খোলার সময় কী করা দরকার, পরে কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে—এসব নিয়ে কাজ করছি। এসব পরিকল্পনা অল্প কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। পরিবেশ পরিস্থিতি ঠিক হলেই আমরা স্কুল খুলে দিতে পারব।

বিজ্ঞাপন

মহিবুল হাসান চৌধুরী

default-image

আমরা স্কুল খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। একটা প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই আসছে যে সবকিছু খোলা আছে তাহলে স্কুল বন্ধ রেখে কোনো লাভ হচ্ছে কি না। কেউ বলছেন, স্কুল বন্ধ করে উপকার পাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের আমরা নিরাপদে রাখতে পারছি। আবার কেউ বলছেন, তেমন উপকার পাচ্ছি না; সব ধরনের কার্যক্রম চলছে, সে ক্ষেত্রে স্কুল কেন বন্ধ থাকবে। আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে আসতে পেরেছি বলে মনে করছি না। আমাদের ‘কোভিড-১৯ এর জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি’ রয়েছে। আমরা এখনো পর্যন্ত তাদের সুপারিশ মেনে চলছি। ভবিষ্যতেও মেনে চলব। তবে সব অংশীজনের মতও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কারিগরি পরামর্শক কমিটি এসব মতামত নিয়ে একটা গাইডলাইন দেবে। আমরা সেভাবে কাজ করব।

তবে বাস্তবতা হলো সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আংশিকভাবে হলেও আমাদের স্কুল খোলার পথে হাঁটতেই হবে। স্কুল খোলার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। স্কুল না খোলার জন্য ইতিমধ্যে শিক্ষা খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, এর পরবর্তী সামাজিক প্রভাব অনেক। এ ক্ষতি আমরা কতটা কমাতে পারব জানি না। তবে আমাদের অনেক অর্জন আজ হুমকির সম্মুখীন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাল্যবিবাহ রোধে কাজ করে যাচ্ছেন। এর ফলে মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে। কিন্তু আজ স্কুল বন্ধ থাকার জন্য এসব অর্জন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওকরণ, শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষার মানোন্নয়নে এসব উদ্যোগের ফলে ব্যাপক সামাজিক প্রভাব আমরা দেখতে পেয়েছি। এই সবকিছু এখন চ্যালেঞ্জর মুখে পড়েছে। কোভিড–পরবর্তী সময় কতটুকু আমরা ধরে রাখতে পারব জানি না। নতুন করে নতুন উদ্যমে আমাদের নামতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা এখন থেকেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল খুলতে পারব। কারণ ভ্যাকসিন এলেও সবার মধ্যে এটা পৌঁছাতে একটা সময়েরও প্রয়োজন হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। এখনই যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাতে পারতাম, এটা সংক্রমণ কমাতেও হয়তো ভূমিকা রাখত। কারণ শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য বাড়িতে থাকা মা–বাবা ও অন্যরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলত। সেটা হয়তো কার্যকর হতো। কিন্তু আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারিনি। বিভিন্ন কারণে খুলতে পারিনি। পরীক্ষাও নিতে পারিনি। এখন শীতকাল এসে যাচ্ছে। সারা পৃথিবীতে দেখা গেছে শীতে কোভিডের বিস্তার বেড়েছে। আমাদের দেশে যদিও শীতের প্রকোপ অত বেশি না। তারপরও শীতে সংক্রমণের হার কী হয়, সেটা এখনো দেখার প্রয়োজন আছে। সেটাই আমাদের কারিগরি পরামর্শক কমিটি দেখছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

কোভিড–পরবর্তী সময় এর প্রভাব কী হবে, আমরা কেউ সেটা নিরূপণ করতে পারছি না, সে জন্য আমাদের সবকিছু বিবেচনায় নিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলেন, ‘আমাদের আজকের শিশুরা আগামী দিনের সম্পদ।’ আমরা এখন যুব জনসংখ্যার সুবিধা ভোগ করছি। দেশে এখনো অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা খর্বকায় হয়ে থাকে। অনেকের পুষ্টির সমস্যা রয়েছে। এর সঙ্গে যদি কোভিডের মতো একটা সমস্যা যুক্ত হয় তাহলে এটা আমাদের জন্য একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। জনসংখ্যা সুবিধা নিয়ে আমাদের যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে, সেটা আরও জটিল হয়ে যেতে পারে। অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মেটাতে পেরেছি। আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পেরেছি। মেয়েদের স্বাস্থ্য ও বাল্যবিবাহ রোধ এসব ক্ষেত্রে আমাদের যে অর্জন হয়েছে, আমরা চেষ্টা করছি অর্জনগুলো ধরে রাখতে। এখন আমরা কাদের জন্য ঝুঁকি নেব, যাদের জন্য ঝুঁকি নেব তারা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। এ ক্ষেত্রে সামাজিক প্রভাবটা আমাদের অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা কোথাও কোথাও বাল্যবিবাহের খবর পাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের ভর্তি ইত্যাদি নিয়ে আমরা শঙ্কিত। আমাদের কাজই হচ্ছে শিক্ষা খাত নিয়ে কাজ করা, তাই সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত আমরা। আমাদের এত দিনের অর্জন যেন ধূলিসাৎ হয়ে না যায়, সে বিষয়ে আমরা ভাবছি। আমরা দ্রুত শুরু করতে চাই। সে জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন থেকে আমাদের সেভাবে পরিকল্পনা নিতে হবে। আপনাদের সবার মতামত এখানে আসবে। আমাদের মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে আলোচকেরা আছেন। আলোচনায় যে পরামর্শ ও নির্দেশনা আসবে সেসব আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। ইউনিসেফের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই, ইউনিসেফের সুপারিশ আমরা বিবেচনা করব। বিদ্যালয় আমাদের খুলতেই হবে। এখন প্রশ্ন হলো কখন খোলা যায়। কোভিড সংক্রমণ আমাদের দেশ থেকে একেবারে চলে যাবে সেটা তো ভাবতে পারছি না। তাই বিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতিটা এখন থেকেই নিতে হবে। আমরা সেটা নিচ্ছি। সবাইকে ধন্যবাদ।

কেনেথ এ. রাসেল

default-image

মাননীয় মন্ত্রী ও আলোচকদের শুভেচ্ছা জানচ্ছি। স্কুল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ স্কুল খুলে দেওয়ার বিষয়ে আজকের এ আলোচনা। করোনা মহামারি বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও তাদের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছে। মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষা প্রদানের দক্ষতা হ্রাস পাচ্ছে। দরিদ্র শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ বেড়ে যাচ্ছে। আবার শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্যও বাড়ছে। স্বাস্থের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। দুর্যোগের সময় অনেক শিক্ষার্থী ঠিকমতো পুষ্টি পায় না। মনসিক স্বাস্থ্য ঠিক থাকে না। বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

স্কুল বন্ধ থাকলে শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। ধীরে ধীরে শিক্ষার হার কমতে থাকে। বৈষম্য ও সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে যায়। মানব সম্পদ তৈরি বাধাগ্রস্ত হয়। বংশ পরম্পরায় দরিদ্য থেকে যায় ও অদক্ষ মানব সম্পদ তৈরি হয়।

মাননীয় উপমন্ত্রী বলেছেন তাঁরাও চান না যে স্কুল বন্ধ থাকুক। স্কুল যদি বন্ধ থাকে আর সেটা যদি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকে তাহলে সেটা শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। স্কুল বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির অভাব হয়। কারণ স্কুল থেকে শিশুরা খাবার পায়। স্কুল বন্ধ থাকলে শিশুদের ঠিক মতো পরিচর্যা হয় না।বিভিন্নভাবে তাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অর্থনৈতিক ক্ষতি হলো শিক্ষার্থীরা যদি ভালোভাবে লেখাপড়া করতে না পারে ভবিষ্যতে তাঁরা ভালে উপার্জন করতে পারবে না। এ সময় অভিভাবকেরাও তাদের কাজ হারায়। সার্বিকভাবে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ধারণা করা প্রায় বিশ্বে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী স্কুল থেকে ঝরে পড়তে পারে। বাংলাদেশেও অসংখ্য শিশু ঝরে পড়েছে। এটা একটা বড় সমস্যা। স্কুল বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীরা তাদের বন্ধুদের সাথে দেখা করতে পারে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে না। এ ধরনের লক ডাউন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা উদ্বিঘ্ন ও অস্থিরতার মধ্যে সময় কাটায়। শিক্ষকদেরও সমস্যা আছে। তারা অনেকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ায় অভ্যস্ত নয়। প্রযুক্তিগতভাবে যারা ভালো তারা ভালো করছে। অন্যদের চাকরি নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।

এই কোভিড পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ছে। প্রায় ৬০ ভাগ মানু্ষ মনে করছে বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় অর্জন করেছে। কিন্তু কোভিড শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট হচ্ছে। তাদের জীবনীশক্তি কমে যাচ্ছে। এই ক্ষতি হয়তো বংশ পরাম্পরায় দীর্ঘায়িত হতে পারে।

স্কুল বন্ধ থাকা নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক বলেছে, স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ৬ মাস ক্লাস রুমে ছিল না। দুই বছর আগে বিশ্ব ব্যাংকের একটা তথ্য হলো, সাড়ে ছয় বছরে যা শেখার কথা বাংলাদেশের শিশুদের সেটা শিখতে ১১ বছর লাগে। বিশ্বব্যাংকের ধারণা পাঁচ মাস স্কুল বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে উপর্জন কমে যায় প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলার। যা শিক্ষা খাতে মোট বিনিয়োগের ১৬ শতাংশবিশ্বে গড়ে স্কুল বন্ধ পাঁচ মাস, কিন্তু বাংলাদেশে সাত মাস। এ জন্য বিশ্বব্যাপী বর্তমান প্রজন্মের ভাবিষ্যত উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এটা খারাপ প্রভাব ফেলবে। এই প্রজন্মের প্রায় প্রত্যেকের ব্যক্তিগত আয় কমে যাবে।

কোভিডের আগে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় শিক্ষায় দারিদ্র ছিল ৫০ শাতংশ। দক্ষিণ এশিয়ায় ১০ বছরের শিশুরা ঠিক মতো টেক্সট পড়তে ও বুঝতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে এটা ৫৭ শতাংশ। এটা একটা বড় ধরনের সমস্যা। দুই মাসের বেশি শিক্ষার্থীদের গ্রীষ্মের ছুটি থাকে। এটাও শিক্ষার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ছুটির আগে তারা যে পড়া শিখেছিল তার প্রায় অর্ধেকটাই ভুলে যায়।

রাশেদা কে চৌধূরী

default-image

অত্যন্ত সময়োপযোগী আলোচনা হচ্ছে। শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেছেন, সব অংশীজনের সঙ্গে আলাপ–আলোচনার একটা সুযোগ আজ হয়েছে। ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ কেনেথের উপস্থাপনা অত্যন্ত ভালো। এ উপস্থাপনায় প্রায় সবাই এসেছে। স্কুল কেন খোলা হচ্ছে না সেটা আমরা বোধ হয় বুঝতে পারছি। মানুষের মধ্যে অনেক মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে কেন স্কুল খোলা হচ্ছে না। আমরা বোধ হয় বার্তাগুলোও ঠিকমতো সবার কাছে পৌঁছাতে পারছি না। স্কুল আমাদের একসময় খুলতে হবে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও টারশিয়ারি পর্যায় যেসব শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে তাদের ঝুঁকি অনেক কম। কিন্তু আমাদের পরিবারগুলো তো বিদেশের মতো বিচ্ছিন্ন না। বাংলাদেশে তো অন্য দেশের মেতো না। এক–একটা পরিবারে অনেক মানুষ থাকে। মা-বাবা, ভাইবোন, দাদা-দাদি, আত্মীয়স্বজন মিলে অনেক মানুষ থাকে। এরা অধিকাংশ প্রায় বয়স্ক। এটা মাথায় রেখে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা শুধু মা-বাবার কাছেই ফিরে যায় না। আরও অনেকের কাছে ফিরে যায়, স্কুল খোলার সঙ্গে এসব বিবেচনা করতে হবে।

অনেকে বলেছেন, আমরা তো সবকিছুই করছি, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে বাধা কোথায়। আমরা যে সবকিছুই করছি সেটা আমাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে করছি। কিন্তু স্কুলে শিক্ষার্থী বা শিক্ষক যদি অসুস্থ হন, সে দায় সরকারকে নিতে হবে। অনেক ভেবেচিন্তে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হবে। আমাদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা একটা বড় ব্যাপার। শিক্ষিত মানুষই মাস্ক ছাড়া চলাফেরা করছেন। সে ক্ষেত্রে গ্রাম এলাকায় কীভাবে স্বাস্থ্যসচেতনতা আশা করব। প্রায় ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর মা-বাবা লেখাপড়া জানেন না। তাঁরা প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী। তাঁদের কীভাবে সচেতন করা যাবে।

আমাদের এখানে একটা গাইডলাইন খুব জরুরি। জাপানিরা স্কুলের জন্য ইনফেকশন কন্ট্রোল ম্যানুয়াল করেছে। এটা করোনার ঝুঁকি প্রশমনে কাজ করবে। সম্প্রতি ইউনেসকোর একটা সভায় এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এটা জানেন। সম্পদের বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। স্কুলে না যেতে পারা ও যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য অনেক ধরনের খরচের বিষয় জড়িত।

আমাদের কাছে সঠিক তথ্যউপাত্ত নেই। আমরা জানি না কত শিক্ষার্থীর কাছে আমরা পৌঁছাতে পারিনি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কত শিক্ষার্থী আছে সেটাও আমরা জানি না। আমরা যদি স্কুল খুলি তাহলে তাদের বিষয়ে আমাদের কী উদ্যোগ হবে। এরা কীভাবে স্কুলে আসবে, এদের জন্য প্রস্তুতি কী হবে, সেটা ঠিক করতে হবে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরতে চায়। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে যখন স্কুলে ফিরব, তখন একটা উৎসব করব। সবার কাছে একটা বার্তা যেতে হবে যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক আছে, এখন শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে।

সামিয়া আহমেদ

default-image

কেনেথের উপস্থাপনায় অনেক বিষয় চলে আসছে। আমরা সেভ দ্য চিলড্রেন থেকে একটা গবেষণা করেছি। আমরা দেখতে পেয়েছি স্কুল বন্ধ থাকায় বাল্যবিবাহ বেড়ে গেছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে যে একটা উন্নয়নের ধারা ছিল সেটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। আমাদের দেশের প্রবণতা হলো প্রাথমিকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকে। প্রাথমিক থেকে যখন মাধ্যমিকে যায় তখন বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। উচ্চমাধ্যমিকে এসে মেয়েশিক্ষার্থীরা বেশি ঝরে পড়ে। কোভিড আমাদের অর্থনীতিকে অনেক বেশি সংকুচিত করে দিয়েছে। অনেকে তাদের চাকরি হারাচ্ছে।

ইতিমধ্যে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরে গেছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকেও তাদের মা–বাবার সঙ্গে গ্রামে ফিরে যেতে হয়েছে। এর মধ্যে মেয়েশিক্ষার্থী তো আছেই। সাধারণত দরিদ্র মা–বাবারা মেয়েশিশুর জন্য বিনিয়োগ করতে চায় না। মেয়েদের যেন স্কুলে রাখা যায়, সে জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করতে হবে। সেভ দ্য চিলড্রেন কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা একটা ডিজিটাল হ্যাংআউট করার চেষ্টা করছি। সেখানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মানুষ থাকবেন, শিশু প্রতিনিধি থাকবেন। এ আয়োজনে শুধু বাংলাদেশ নয় অন্যান্য দেশের শিশুরাও থাকবে। আমরা সবার কথা শুনব। এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা না, সারা বিশ্বের সমস্যা। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ। সামগ্রিকভাবে আমাদের সবার এ ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে যেন কন্যাশিশুদের বাল্যবিবাহ না হয়, সহিংসতার শিকার না হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের মেয়েরা যেন হারিয়ে না যায়। সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

মেহজাবিন আহমেদ

default-image

কোন স্কুলে কতটা ওয়াটার স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থাপনা আছে তার একটা মূল্যায়ন হওয়া জরুরি। স্কুলে ফেরাতে সবার জন্য হাত ধোয়া ও মেয়েদের মাসিককলীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন করা হয়েছে, যার প্রতিপাদ্য ছিল ‘হ্যান্ড হাইজিন ফর অল’। সবার হাত যেন সুরক্ষিত থাকে। স্কুলে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দুর্গম এলাকার প্রতি বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে মেয়েদের ঝুঁকি সব সময় বেশি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে মাসিকের সময় সাধারণত মেয়েরা স্কুলে আসে না। এখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্কুলে হাত ধোয়া, টয়লেট ব্যবহার কীভাবে সবকিছু করতে হবে। হাত ধোয়া, আলাদা টয়লেট, পরিষ্কার–পরিছচ্ছন্নতা সবকিছুর উদ্যোগ নেওয়া হলো, কিন্তু যদি তদারকি না থকে তাহলে কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসবে না। স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো পালন করা হচ্ছে কি না, সেটা নিয়মিত তদারক করতে হবে। কোনো কিছু নষ্ট হলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করতে হবে। রক্ষণাবেক্ষণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইউনিসেফের ওয়াশ বিভাগ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলে ৭২টি স্কুলে ওয়াটার স্যানিটেশন ও হাইজিন সুবিধা দিচ্ছি। এখানে আমরা ত্রিমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছি, যেখানে একটা হলো দল বেঁধে হাত ধোয়া। এ ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট সময় শিশুরা হাত ধোবে। একই সঙ্গে ১৪৪টি স্কুলে আমরা মেয়েদের মাসিক ব্যবস্থাপনা সুবিধা দিচ্ছি। সবকিছু মিলিয়ে বলতে চাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সময় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি।

ইউসুফ আলী

default-image

আমাদের প্রতিষ্ঠানটি মূলত প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে জড়িত। কোভিডের সময় আমরা অনলাইনে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এই অর্থবছরে আমরা প্রশিক্ষণ শুরু করতে পারিনি। তবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ শুরু করব। ৪০ জন প্রধান শিক্ষককে নিয়ে আমরা একটি কর্মসূচি শুরু করব। স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে আমরা শুরু করব। অন্যান্য কর্মসূচিগুলো সরাসরি নির্দেশনা মেনে শুরু করা যায় কি না, সে বিষয় ভাবা হচ্ছে। সামনে শীতকাল। স্বাভাবিক শীতেই আমাদের দেশে দেখা যায় শিশুরা আক্রান্ত হয়। শীতে কী অবস্থা হয় সেটা দেখার জন্য আমরাও একটু অপেক্ষায় আছি। সরাসরি কর্মসূচিগুলো চালু করার জন্য আমরা আরেকটু অপেক্ষা করছি। নভেম্বরের শুরুতে প্রধান শিক্ষকদের যে কর্মসূচি আছে, সেখানে স্কুল খোলার প্রস্তুতি, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, অভিভাবকদের সচেতনতা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে কি খুলবে না, এটা সরকারের একটি নীতিনির্ধারণী বিষয়। এ বিষয় সরকার নিশ্চয়ই একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিকল্পনা নেবে। আমাদের বিদ্যালয়গুলো কতটুকু প্রস্তুত, আমাদের অভিভাবকেরা কতটুকু প্রস্তুত, এ বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। কোভিড পরিস্থিতিতে অনেক বেশি মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গেছে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে গেছে। স্কুল চালু হলে যে যেখানে আছে আবার সবাই তার নিজের জায়গায় ফিরে আসবে। এর ফলে সবার সঙ্গে সবার মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়সহ অনেকভাবে আলোচনা হয়েছে। আমাদের সক্ষমতা ও পরিকল্পনা দুটিকে বিবেচনায় রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলো খোলার পরিকল্পনা করতে হবে।

মমিনুর রশিদ আমিন

default-image

স্কুলের বিকল্প বাড়ি বা অনলাইন ক্লাস হয় না। স্কুলে আমরা শুধু পড়ালেখা শিখি তা না, সেখানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিকতা ও খেলাধুলা শিখি। প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বন্ধুত্ব, শেয়ারিং–কেয়ারিংসহ আরও অনেক কিছু শিখি। কিন্তু কোভিডের জন্য স্কুলগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং এখনো বন্ধ আছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার খুবই কম। এটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র স্কুলগুলো বন্ধ রাখার জন্য। এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও মানসিক শক্তি ধরে রাখা। আমাদের জাতীয় সংসদের টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষকের ক্লাস আপলোড করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের হিসাব হলো, চলমান শিক্ষা কার্যক্রমে ৭ থেকে ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী হয়তো বাদ পড়েছে।

এখন পুনরায় স্কুল খোলার ক্ষেত্রে বাড়িতে তারা কীভাবে থাকছে, যাওয়া-আসা ও স্কুলে থাকাকালীন তাদের পরিস্থিতি কী হবে, সেটা বিবেচনা করতে হচ্ছে। কোভিড ১৯–এর উপসর্গ সবার ক্ষেত্রে এক না। থার্মাল স্ক্যানারে শুধু তাপমাত্রাটা দেখা যায়। কিন্তু তাপমাত্রা ছাড়াও অনেকের গলার ব্যথা আছে, শরীর ব্যথা আছে। থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে এসব নিরূপণ করা সম্ভব না। এই বিষয়গুলো আমাদের বিচার করতে হচ্ছে। আমাদের একটা ক্লাসে বসার ব্যবস্থা রয়েছে ৪০ থেকে ৫০ জনের। একটা ক্লাসে এত শিক্ষার্থী, তাদের কীভাবে বসানো হবে, সেগুলো চিন্তা করতে হবে।

আমরা তো আর ক্লাসের বাইরে যেতে পারব না। বিকল্প ক্লাস নিতে হবে কি না, সেটার ব্যবস্থা করতে হবে। একজন শিক্ষককে হয়তো দুবার ক্লাস নিতে হতে পারে। স্কুলে স্যানিটাইজার ব্যবস্থা, সাবান, পানি ঠিকমতো আছে কি না, এমন অনেক বিষয় আমাদের চিন্তা করতে হচ্ছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মা-বাবা, ম্যানেজিং কমিটি ও কমিউনিটিতে যাঁরা আছেন, সবাইকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হচ্ছে।

শীতের সময় কী পরিস্থিতি হতে পারে, এ সবকিছু বিবেচনা করতে হচ্ছে। কারণ এই ভাইরাসটা যে কাউকেই আক্রান্ত করতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। সবকিছু বিবেচনা করে বিভিন্ন গাইডলাইনের ভিত্তিতে যথাসময়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্কুল খোলার বিষয়টি বাস্তবায়ন করব।

মোহাম্মদ মহসীন

default-image

বাংলাদেশে ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রি–স্কুল চলে। প্রি স্কুল হলো অনূর্ধ্ব পাঁচ বছরের শিশুদের জন্য। তবে আগামী বছর থেকে চার বছরের শিশুদেরও প্রি–স্কুলের আওতায় আনা হবে। ছোট শিশু যারা প্রথমবারের মতো স্কুলে ভর্তি হলো, তারা কিন্তু স্কুল পেল না। এ ক্ষতি অপূরণীয়। ছোট শিশুর আর্লি লারর্নিং ক্যাপাসিটির জন্য আমাদের যা যা আয়োজন, সেটা যদি ঠিকভাবে সম্পন্ন করা না হয়, তাহলে তাঁর বিকাশ কখনো সেভাবে হবে না। সারা জীবনেও এটা পূরণ হবে না।

শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে যে তুলনামূলকভাবে যারা প্রি–স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, প্লে–গ্রুপ, নার্সারিতে পড়ে, তারা কোভিডে খুব একটা আক্রান্ত হয়নি। এমনকি যেসব স্কুল খুলে সংক্রমণের জন্য আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এখানেও দেখা গেছে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের হার অনেক কম। বিশ্বব্যাপী এটা ৬ শতাংশ। তাই আমার পরামর্শ হলো যারা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে, তাদের আগে স্কুলে নিয়ে আসা। এটা একটা বড় বিষয়।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হলে, স্কুলকে নিরাপদ করতে হলে অর্থের প্রয়োজন, বাজেট প্রয়োজন। স্কুল খোলার জন্য অনেক প্রস্তুতির কথা বলছি। কিন্তু স্কুলের বাজেটের বিষয় তেমন আলোচনা হচ্ছে না। বর্তমানে যে ব্যবস্থা আছে সেটা যথেষ্ট না। শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল যদি নিরাপদ চিন্তা করি, তাহলে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সম্পৃক্ত করে বরাদ্দ অনেক বাড়াতে হবে।

একটা শ্রেণিতে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী পড়ে। আলোচনায় এসেছে কীভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে। এ ক্ষেত্রে সপ্তাহে তিন দিন করে ক্লাস হতে পারে। একই সঙ্গে আমাদের স্কুল ও অনলাইন চালু রাখতে হবে। তিন দিন সরাসরি ক্লাস করবে। তিন দিন অনলাইনে ক্লাস করবে। আগামী দিনের বাস্তবতা হচ্ছে, শ্রেণীকক্ষের পাশাপাশি একধরনের অনলাইন পদ্ধতি চালু থাকা। পরিকল্পনা ‘এ’ হবে সরাসরি স্কুলে পড়াশোনা। পরিকল্পনা ‘বি’ হলো অনলাইনে স্কুল চালু রাখা। পরিকল্পনা এ–তে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে পরিকল্পনা বি চালু রাখতে হবে। এটা আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয়ভাবেও হতে পারে। এর জন্য অবকাঠামো নির্মাণ সহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

আলোচনায় সুপারিশ

  • স্কুল খোলার আগে, স্কুল চালার সময় ও পরে কীভাবে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় থাকবে এ জন্য জরুরি উদে্যাগ নেওয়া প্রয়োজন

  • হাত ধোয়া, আলাদা টয়লেট, পরিষ্কার–পরিছচ্ছন্নতা সবকিছুর উদ্যোগ নেওয়া হলো, কিন্তু যদি তদারকি না থকে তাহলে কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসবে না

  • স্কুল না খোলার জন্য অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। বাল্যবিবাহ বাড়ছে। সামাজিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে

  • সবার কাছে একটা বার্তা যেতে হবে যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক আছে, এখন শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে

  • স্কুলের বিকল্প বাড়ি বা অনলাইন ক্লাস হয় না। স্কুলে আমরা শুধু পড়ালেখা শিখি তা না, সেখানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিকতা ও খেলাধুলা শিখি

  • স্কুল বন্ধ থাকলে শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। ধীরে ধীরে শিক্ষার হার কমতে থাকে। বৈষম্য ও সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে যায়

মন্তব্য পড়ুন 0