বিজ্ঞাপন

আলোচনা

default-image

আদিল মোহাম্মদ খান

মেয়র সংলাপ আলোচনায় উপস্থিত সম্মানিত আলোচকদের স্বাগত জানাচ্ছি। নগরায়ণ বাংলাদেশের একটি ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে যতগুলো নগর আছে এবং নগরের বাইরে যে ইউনিয়ন পরিষদগুলো নগরের দিকে ধাবিত হচ্ছে, সব ক্ষেত্রে নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বাংলাদেশে উদ্বেগজনক হারে নগরায়ণ বাড়ছে। নগরায়ণ একই সঙ্গে যেমন সম্ভাবনা, তেমনি আবার সংকটও। আজকের আলোচনায় এসব বিষয় আসবে।

default-image

অনো ভ্যান মানেন

দেশে প্রায় ৫ কোটি ৭৫ লাখ শিশু রয়েছে। কয়েক দশক ধরে নগরে বসবাসের চাপ বাড়ছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবে। সে সময় আরও ব্যাপক হারে মানুষ শহরে বাস করবে। মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ শিশু। তাই নগরে শিশুদের জন্য অবকাঠামোসহ বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। দুই দশক ধরে স্থানীয় সরকার শিশুসহ সেব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিরাপদ ও টেকসই নগরায়ণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ নগরে স্বেচ্ছাসেবকের গুরুত্ব অনুভব করে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা ভাবছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দিয়ে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। গত বছর করোনা মহামারি অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ভবিষ্যতেও এ চ্যালেঞ্জ দীর্ঘায়িত হতে পারে। এখন থেকেই নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর নির্মাণের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

রাজউক, পরিকল্পনা কমিশন, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরের জন্য নীতি প্রণয়ন ও গাইডলাইন তৈরি করা প্রয়োজন। আমরা ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজের উদ্যোগ নিয়েছি, যেন শিশুসহ নগরে বসবাসকারী সবার জীবন সুন্দর হয়। প্রায় দুই বছর ধরে যাঁরা এ উদ্যোগের সঙ্গে আছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা যেন একসঙ্গে কাজ করতে পারি, এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। মাননীয় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, মেয়র ও অন্য আলোচকদের ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি।

default-image

আকতার মাহমুদ

আজকের আলোচনার মূল বিষয় হলো নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর। টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার ১১ ধারায় এই তিনের সঙ্গে সহনশীল বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ আমাদের নগরের দর্শন হবে নিরাপদ, টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা-২০৪১, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-২০৩০ ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বংলাদেশের যেকোনো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই তিন পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হবে। প্ল্যানিং কমিশনকে ধন্যবাদ পরিকল্পিত নাগরের জন্য তাঁরা তিনটি সমাঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর পরিকল্পনা করেছেন। আমাদের এখন লক্ষ্য আমরা উন্নত দেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। যেখনে আমাদের দারিদ্র্য থাকবে না। মাথাপিছু আয় হতে হবে ১২ হাজার ৫০০ ডলার। ২০৪১ সালে বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ নগরে বাস করবে। প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে নগর ঘিরে। এ ক্ষেত্রে আমাদের নগরগুলো প্রস্তুত আছে কি না। এ জায়গায় কোনোভাবেই ব্যর্থ হওয়া যাবে না। আমাদের নগরগুলোকে প্রস্তুত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা-২০৪১ ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনায় প্রতিটি নগরকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলা আছে। স্ট্রাকচার ও ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানের কথা বলা হয়েছে। অংশগ্রহণ ও জবাবদিহির কথা বলা হয়েছে। আমাদের আগামী দিনের নগর হতে হবে দুর্যোগ সহনশীল। ভবন নির্মাণবিধি সঠিকভাবে পালন করতে হবে। নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হবে। আমাদের গণপরিবহন, গণপরিসরসহ সব জায়গা নিরাপদ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

default-image

আশেকুর রহমান

নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরের ধারণা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অংশ। এসডিজির ১৭টি ধারাই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে ধারা ১১ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এসডিজির ১১ ধারায় নিরাপদ ও টেকসই নগরের কথা বলা হয়েছে। নগরের সঙ্গে এসিডিজির একটা বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে এসডিজির বাস্তবায়ন নির্ভর করবে নগরের সক্ষমতার ওপর। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ এখন নগরে বাস করে। বাংলাদেশে আগামী ১৫ বছরে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ নগরে বাস করবে। পৃথিবীর মোট জিডিপির ৮০ ভাগ নগর খাত থেকে আসে। আবার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ হয় এই নগর থেকেই। তাই নগর একদিকে যেমন সম্ভাবনা, আরেক দিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জও।

আজকের আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নগরকে কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায়। আমাদের শহরের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এখানে আয় ও সম্পদের বিশাল বৈষম্য রয়েছে। আমাদের শহরের একট বড় জনগোষ্ঠী বস্তিতে বাস করে। গত ২০ বছরে উল্লেখযোগ্য হারে আমাদের দারিদ্র্য কমে এসেছে। কিন্তু সেই হারে নগরের দারিদ্র্য কমেনি। গ্রামের দরিদ্র মানুষ থেকে শহরের দরিদ্র মানুষেরা সব সূচকে পিছিয়ে আছে।

কোভিড মহামারির জন্য নতুন করে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে, যার অধিকাংশই শহরে বাস করে। সাম্প্রতিক বাজেটে ৯৫ হাজার কোটি টাকা সামাজিক নিরাপত্তা খাতের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। গ্রামে যেখানে ৩৫ শতাংশ মানুষ সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে আছে, শহরে সেখানে ১০ ভাগ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা নেওয়া জরুরি। টেকসই, নিরাপদ ও অন্তর্ভু্ক্তিমূলক নগর তৈরিতে সিটি করপোরেশনকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। কিন্তু তাদের লোকবল ও বাজেটের অভাবে এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। আমাদের মাননীয় মেয়রদের অনেকে খুব ভালো কাজ করছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র এক হাজার শয্যার কোভিড হাসপাতাল তৈরি করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে একটি নেটওয়ার্ক করে এক মেয়রের ভালো কজের অভিজ্ঞতা নিয়ে অন্য মেয়র কাজে লাগাতে পারেন।

default-image

ড্যানিয়েলা দোর্সো

দুই বছর ধরে ঢাকার বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের অংশীদারেরা নগরের কমিউনিটি, ব্যক্তি খাত, স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে কি না, সেটা নিয়ে কাজ করছে, যেন নগর সবাইকে সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে।

এ ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের কাজ এখানে শেষ হয়নি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করছি। করোনা মহামারির জন্য চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। মহামারি শুধু যে আমাদের অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করেছে তা নয়, আমাদের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে মহামারি আমাদের বুঝতে শিখিয়েছে সব বিষয়ে প্রস্তুতি, কার্যকর উদ্যোগ ও আন্তযোগাযোগ কত জরুরি।

নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর তৈরি করা কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে সম্ভব নয়, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, নাগরিক ও সামাজিক উদ্যোগ মিলে একসঙ্গে সবাইকে কাজ করতে হবে। ২০২০ সাল থেকে মহামারি একটা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আমাদের সামনে এসেছে। এই মহামারি মোকাবিলা করতে হলে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সবাইকে নিশ্চিত হতে হবে যে আমরা সবাই মিলে একটা প্ল্যাটফর্ম থেকে কাজ করে নগরকে নারী, শিশু, বয়স্ক, কর্মজীবী, বিপন্ন ব্যক্তিসহ সবার জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলব।

default-image

সেলিনা হায়াৎ আইভী

আমাদের নগরগুলো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে। সমস্যাগুলো আমরা জানি। আমাদের নগরের প্রধান সমস্যা হলো অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা, গণপরিসরের অভাব ইত্যাদি। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে আমরা এর সমাধান করতে পারি না। সিটি করপোরেশনের কাজ শুধু ড্রেন করা, ময়লা পরিষ্কার করা ও বাতি লাগানো নয়; অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরের জন্য তাদের আরও অনেক কাজ করার আছে।

এই কথাগুলো অনেক বছর ধরে বলে আসছি। কোনো সমাধান হয়নি। এখানে আবার নতুন করে গাজীপুরে চাপিয়ে দেওয়া হলো উন্নয়ন সংস্থাকে। স্থানীয় সরকারের নেতৃত্বে নগর পরিচালিত হতে হবে। তাদের ক্ষমতা দিতে হবে। তা না হলে কখনো পরিকল্পিত নগর হবে না।

ক্ষমতা দেওয়ার পরিস্থিতি হয়েছে কি না, সেটা বড় কথা নয়। একটা একটা করে দায়িত্ব দিয়ে শুরু করতে হবে। কেউ জায়গা দখল করল, এমনভাবে বাড়ি করল যে রাস্তা নেই, এসব যদি মেয়রকে ঠিক করতে হয়, তাহলে অন্য সংস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। রাজনৈতিক, সামাজিক বিভিন্ন কারণে তারা সহযোগিতা করতে পারে না। তবে সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি করেছি। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। যেকোনো দুর্যোগে তারা এগিয়ে আসে।

একটা শহরে যে পরিমাণ খোলা জায়গা থাকার কথা, সেটা আমাদের প্রায় কোনো শহরে নেই। নারায়ণগঞ্জে অনেক সংস্থার খোলা জায়গা আছে, কিন্তু সিটি করপোরেশনের তেমন নেই। কোনো সংস্থার কাছে খেলার মাঠ বা শিশুদের পার্ক করতে চাইলে কেউ দেয় না। এভাবে একটা নগর কোনো দিনই পরিকল্পিত হতে পারে না। পরিকল্পিত নগরের স্বার্থেই আমাদের দায়িত্ব দিতে হবে।

default-image

মো. জাহাঙ্গীর আলম

নির্বাচনের সময় আমরা জনগণকে কথা দিয়েছিলাম, তাদের সব সমস্যা দেখব। একটি শিশুর জন্মের পর থেকে বড় হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত তার নাগরিক সমস্যাগুলো আমরা সমাধান করব। কিন্তু বাস্তবে আমরা কী করছি? স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে যতটুকু দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেটুকু করতে পারছি। এখানে বাকি যে কাজগুলো হচ্ছে, সেখানে কারও মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই।

গ্যাসের লাইন কোথায় দিচ্ছে, রোডসের রাস্তা কোথায় হচ্ছে, রাজউকে কোথায় ভবন নির্মাণ করছে, পরিবেশ সনদ কে দিচ্ছে—কিছুই আমরা জানি না। গাজীপুরে প্রায় চার হাজার শিল্প আছে, এগুলো থেকে কালো ধোঁয়া, কালো পানি বের হচ্ছে। এসব শিল্প খাল-বিল, বাড়িঘর সব নষ্ট করছে। ঢাকা থেকে পরিবেশ সনদ দিচ্ছে। কিন্তু জনগণ সবকিছুর দোষ আমাদের দিচ্ছে।

অমরা মেয়র থাকি বা না থাকি, আমাদের জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু অন্য সংস্থার কোনো জবাবদিহি নেই। নগরের জন্য ভালোমন্দ যা–ই হোক, তারা তাদের ইচ্ছেমতো কাজ করছে। আমরা একজন চলে যাব, আরেকজন আসবে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নগর করতে হবে। তা না হলে বিভিন্ন সংস্থার অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডে নগর ধ্বংস হতে থাকবে।

এখানে পুলিশ প্রশাসন কী করে আমরা জানি না। ভূমির মালিক ডিসি। কিন্তু কোনো সমস্যা হলে মানুষ আমাদের কাছে আসে। আমরা তখন অনেক ক্ষেত্রে সমাধান করতে পারি না। আমার শেষ কথা, অন্যান্য সংস্থা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ না করলে কোনো দিন নিরাপদ, টেকসই আধুনিক নগর হবে না।

default-image

আরিফুল হক চৌধুরী

সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়া সম্ভব নয়। যাঁরা ইউটিলিটি সেবা দেন, তাঁরা তাঁদের মতো কাজ করেন। আমরা যদি কোনো একটা সভা করতে চাই, তাঁদের আসতে বলি, তখন এমন একজন আসেন, যিনি সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। এমন একটা ব্যবস্থা থাকা উচিত, যেন আমরা মাসে সবাই একসঙ্গে বসে অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর করার জন্য আলোচনা করতে পারি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

একটি সিটিতে কতগুলো গাড়ি চলতে পারে, এর কোনো হিসাব নেই। বিআরটিএ থেকে ইচ্ছেমতো রেজিস্ট্রেশন নেয়। যানজটের সব দোষ হয় মেয়রদের। যানজট দূর করতে হলে পুলিশ লাগবে। পুলিশ আবার আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।

একটা রাস্তার ধারণক্ষমতা হয়তো সর্বোচ্চ পাঁচ টন। সেখানে হরহামেশাই ১০–১২ টন ওজনের গাড়ি চলছে। রাস্তা তৈরির দু–তিন মাস পরই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর দায় কার?

এ দায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের। কিন্তু সব দায় মেয়রকে নিতে হচ্ছে। মাস্টারপ্ল্যান থাকলেও অনেক সংস্থা সেটা জানেই না। আবার জানলেও মানে না। ইচ্ছেমতো ভবন নির্মাণ করছে। রাস্তা ছাড়ছে না। খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করছে।

পরিকল্পিত নগর নির্মাণে অবশ্যই সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সিটি করপোরেশনগুলোর বাজেটের সমস্যা থাকে। তাই করপোরেশন যদি হাটবাজার, খেলার মাঠ, বিনোদনের পার্ক তৈরি করতে পারে, তাহলে নগরে যেমন খোলা জায়গার ব্যবস্থা হয়, তেমনি
আয়ও হয়। এসব বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

default-image

রেজাউল করিম চৌধুরী

টেকসই উন্নয়নের জন্য টেকসই নগর গঠন অপরিহার্য। কিন্তু এ জন্য মেয়ররা অনেকাংশে সরকারের ওপর নির্ভরশীল। নগরের পরিকল্পনা ও নীতিতে মেয়রের তেমন কোনো ভূমিকা নেই। সেবা সংস্থার সঙ্গে মেয়রদের কার্যকর সমন্বয় না থাকলে কোনোভাবেই টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়া সম্ভব নয়।

নগর উন্নয়নে নগরের স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা থাকতে হবে। পরিবেশের সুরক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় নগরবাসীর ভূমিকার বিকল্প নেই। সিটি করপোরেশনগুলোর লজিস্টিক সুবিধা ও আর্থিক সক্ষমতা না থাকলে ভবিষ্যতে নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরের স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে। আমাদের সিটি করপোরেশনে ৪টি মেটারনিটি হাসপাতাল, একটি জেনারেল হাসপাতাল, ৫১টি আরবান হেলথ কেয়ার সেন্টার পরিচালনা করে থাকে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী আমাদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে থাকে।

আমরা স্কুল, কলেজ মিলিয়ে ৭৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে থাকি। তারপরও দরিদ্র মানুষেরা স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।

সিটি করপোরেশনের বাজেট সংকট একটা বড় সমস্যা। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের আয়ের ১ শতাংশ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর সঙ্গে খাল খনন করতে হবে। ড্রেনেজ প্রশস্ত করতে হবে।

default-image

তালুকদার আবদুল খালেক

সিটি করপোরেশন ভালোভাবে পরিচালনা করতে হলে আমাদের দায়িত্ব দিতে হবে। ক্ষমতা দিতে হবে। সেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের অধিকার যদি সিটি করপোরেশনের না থাকে, কোনো দিন একটি নিরাপদ আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠা হবে না। হাত-পা বেঁধে নদীতে ছেড়ে দিয়ে বলবেন সাঁতরে ওপারে যাও, কোনো দিন এটা হবে না।

খুলনা উন্নয়ন সংস্থা আবাসন, মার্কেটসহ যেসব অবকাঠামো করেছে, সেখানে বর্জ্য ফেলার জায়গা নেই। মানুষ আমাদের দোষ দেয়। ওয়াসা, বিদ্যুৎ, টিঅ্যন্ডটি—সবার সঙ্গে প্রায় একই সমস্যা। খুলনা সিটি করপোরেশনে ২২টি খাল ও ভূমি আছে।

এসব যদি উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করা যায়, তাহলে দখল হয়ে যাবে। আমি দখলমুক্ত করেছি। কিন্তু সিটি করপোরেশনের বাইরের অংশ দখল হয়ে আছে। ফলে জলাবদ্ধতার নিরসন হচ্ছে না।

২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের এসডিজি অর্জন করতে হবে। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হবে। কিন্তু নগরের যে ব্যবস্থাপনা আছে, এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে কোনো দিন এটা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিকল্পিত নগর হবে না।

টেকসই পরিকল্পিত নাগরের জন্য অবশ্যই সিটি করপোরেশনকে ক্ষমতায়ন করতে হবে।

default-image

ইকরামুল হক

মাননীয় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আমাদের সহযোগিতা করছেন। আমাদের সিটি করপোরেশনের বয়স মাত্র আড়াই বছর। এর মধ্যে আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করেছি। অমারা মানুষের বিনোদনের জন্য কয়েকটি পার্ককে নতুনভাবে করেছি। শিশু–নারীসহ সব শ্রেণি–পেশার মানুষের জন্য কর্মসূচি নিয়েছি। পরিবেশ উন্নয়নে ইউএনডিপি ও সরকার আমাদের সহযোগিতা করছে। ময়মনসিংহ একটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। এ জন্য আমরা একটি মাস্টারপ্ল্যান করেছি। এটির ধারাবাহিকতা রক্ষা রকতে পারলে একটি ভূমিকম্প–সহনশীল নগর করতে পারব। কিন্তু যদি গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টিঅ্যান্ডটি, পরিবহন, পরিবেশ ইত্যাদির মধ্যে সমন্বয় না থাকে, তাহলে এটি করা সম্ভব নয়। সবাইকে একটি ছাতার নিচে না আনতে পারলে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। গণপূর্ত বিভাগ রাস্তা ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা না দেখেই ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়। এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত। আশা করি সবাই মিলে আমরা একটি নিরাপদ অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তুলতে পারব।

default-image

মো. আতিকুল ইসলাম

নিরাপদ ও টেকসই নগর গড়তে আমরা কাজ করতে চাই। ঢাকার কল্যাণপুরে একটি পাম্প পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখি, এ এলাকার ১৭৩ একর সরকারি জমির মধ্যে ১৭০ একর দখল হয়ে গেছে। জনপ্রতিনিধি ছাড়া এটা অন্য কারও পক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব নয়।

আমি এবং মাননীয় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এ জমি উদ্ধার করার চেষ্টা করছি। এখানে রিটেইনশন পন্ডে সবাই ময়লা পানি ফেলছে। এমনকি গুলশানের বাসিন্দারাও তাদের বাসার ময়লা পানি সরাসরি খালে ফেলছে। উৎসে যদি আমরা পানি পরিষ্কার না করি, তাহলে আমাদের নদী-খাল সব দূষণ হয়ে যাবে।

আজ এই অনুষ্ঠান থেকে বলে দিতে চাই, গুলশান–বনানীতে যত বড় টাকাওয়ালা বা পেশিশক্তিওয়ালা থাকুন না কেন, সবাইকে অনুরোধ করব, আপনাদের ময়লা পানির লাইন লেকে দেবেন না। মহামারির পর আমরা এসব গণমাধ্যমে প্রকাশ করব। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ আমাদের সব নগরই অপরিকল্পিত। একে পরিকল্পিত নগর করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের।

একটা ভবনকে রেক্টোফিটিং করে ঠিক করা কয়েক গুণ বেশি খরচ ও অনেক বেশি ঝামেলা। পরিকল্পিত নগর হলে এমন হতো না। আমাদের শহর, গ্রাম এমন হবে, যেন শিশুসহ সবার জন্য টেকসই ও নিরাপদ হয়। আমরা যদি গুলশানের দিকে তাকাই, তাহলে দেখা যায়, এর একদিকে বিশাল ধনী জনগোষ্ঠী, অন্যদিকে কড়াইল বস্তি।

সবাইকে নিয়েই আমাদের থাকতে হবে। আমাদের উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮টি ইউনিয়নকে ওয়ার্ড করা হয়েছে। এসব ওয়ার্ডে ডাক্টিং, রাস্তা তৈরি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার জন্য মাননীয় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বরাদ্দ দিয়েছেন।

আমাদের নগরের স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বাজার, পরিবহন—সবকিছুকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে, তাহলে নগর নিরাপদ ও টেকসই হবে। আমরা মহাখালীতে দোকান বরাদ্দ বাদ দিয়ে হাসপাতাল করেছি। কারণ, আমাদের কাছে মানবসেবাই বড় ধর্ম। আমরা সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শ নগর গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।

default-image

মো. তাজুল ইসলাম

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। আমাদের দেশে গড়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১ হাজার ৩০০ জন বসবাস করে। কিন্তু ঢাকা শহরে এ সংখ্যা প্রায় ৪৯ হাজার জন। আবার টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনায় বলা আছে, কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না। আমরা আসলে সমগ্র বাংলাদেশকেই শহর করতে চাই। তাহলে প্রত্যেক মানুষই নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

হংকং অনেক ঘনবসতিপূর্ণ শহর। কিন্তু তারা সবকিছু সুন্দরভাবে সাজিয়েছে। একটা আদর্শ শহরের জন্য আধুনিক আবাসনব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সবুজায়ন, জলাধার ও অন্যান্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন একটা সমন্বিত উদ্যোগ। তাই সরকার, সংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, নাগরিক সমাজ—সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের সম্মানিত মেয়ররা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। মেয়রদের আরও ক্ষমতায়নের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। কিন্তু এটি যদি দেওয়া হয়, তাহলে তাঁদের জন্য এটা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। শুধু ক্ষমতায়ন হলে হবে না, ক্ষমতা ধারণ করার জন্য যে সক্ষমতা দরকার, কিছুটা সময় নিয়ে সেটা অর্জন করতে হবে।

হাইরাইজ ভবনের বিষয়টি এসেছে। যদি রাস্তা, খেলার মাঠ, বিনোদন ও অন্যান্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকে, তাহলে সেখানে হাইরাইজ ভবন করা যাবে। ঢাকা শহরের পানি নিষ্কাশন করতে হলে খালগুলো উদ্ধার করতে হবে। শুধু উদ্ধারই নয়, একে হাতিরঝিলের মতো সংস্কার করে বিনোদনমূলক যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে পারি। এটা করতে হলে খালগুলোকে স্থানীয় সরকারের অধীনে আনতে হবে। আর এটা করতে হলে আমাদের পূর্বপ্রস্তুতির দরকার।

আমরা উদ্যোগ নিতে চেয়েছি এ জন্য যে জনপ্রতিনিধিত্বশীল কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দায়িত্ব নেয়, তাহলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এর সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। ঢাকা উত্তরে ওয়াটার ফ্রন্ট করার জন্য ১৭৩ একর জায়গা রাখা হয়েছে। সে জায়গাটা দখল করতে করতে সাড়ে তিন একর জায়গা আছে। মেয়র মহোদয়সহ আমরা উদ্ধার করতে গিয়ে দেখি সেখানে অবৈধ কাগজপত্র করে হাইরাইজ ভবন করা হয়েছে। এক জায়গায় দেখা গেল ১০০ ফুট খালের ৮০ ফুট দখল করে আটতলা ভবন করা হয়েছে। খালের পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে দখল ‍উচ্ছেদ করতে হবে।

আমরা এসব বিষয়ে কাজ করছি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে আমরা স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরি করতে পারব না। ওয়াসা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ইত্যাদি কারণে আমাদের রাস্তা কাটা হয়। এতে জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। আধুনিক শহরে ডাক্টিংয়ের মাধ্যমে এর ব্যবস্থাপনা করা হয়। আমাদের কোনো আধুনিক ব্যবস্থা নেই বলেই এটা হয়। এসব বিষয় নিয়ে আমরা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ডাক্টিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সবার আলোচনা শুনেছি। একটা নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর তৈরির জন্য আজ অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। ৩৯টি খাল উদ্ধার করে আমরা যদি ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট চালু করতে পারি, তাহলে ঢাকা এখনো একটা নান্দনিক শহর হতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ‘আমার গ্রাম আমার শহর’। গ্রামের মানুষেরা যেন নাগরিক সুবিধা পায়, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

আমরা বলেছি গ্রামে যেকোনো ধরনের অবকাঠামো হোক না কেন, এর অনুমোদন নিতে হবে। উপজেলা ইউনিয়নকে সমন্বয় করে আমরা একটা ব্যবস্থা করব। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে গতিশীল নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মেয়র মহোদয়েরা দেশকে ভালোবাসেন। তাঁরা নগরের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সবার চেষ্টায় আমরা নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তুলতে পারব।

রাজউকসহ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্যই হলো নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করা। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সবার মানসিকতা সমান নয়। এ জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে হলে সবার সমন্বিতভাবে কাজের কোনো বিকল্প নেই। নগরে কোনো ধরনের অবকাঠামো তৈরি হতে হলে রাজউক যেন সিটি করপোরেশনের মতামত বা অনুমোদন নেয়, এ ক্ষেত্রে রাজউকের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের একটা সমন্বয়ের ব্যবস্থা আমরা করব।

পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, হোল্ডিং ট্যাক্স ইত্যাদি সেবা সমন্বয় করতে হবে। গুলশান-বনানীর মানুষ যে হারে বিল দেবে, টঙ্গীর মানুষও সে হারে দেবে, এটা হতে পারে না। এর মধ্যে একটা সমন্বয় করতে হবে। পৃথিবীর কোথাও এমন ফ্ল্যাট রেট আছে কি না জানি না। এক লিটার পানি কেনা হয় ২০ টাকায়। এক হাজার লিটার পানির বিল দেওয়া হয় ৫০ টাকা। এভাবে চলতে পারে না।

আমরা কে কোথায় আছি, কে বড়, কে ছোট—এসব ভাবার দরকার নেই। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই হবে সবার লক্ষ্য। তাহলে ভবিষ্যতে আমরা নিরাপদ ও সমৃদ্ধ নগর গড়ে তুলতে পারব।

আদিল মোহাম্মদ খান

মাননীয় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী যেমন বলেছেন, একটি নিরাপদ, টেকসই নগর নির্মাণে সিটি করপোরেশনের মতো অন্যান্য সেবা সংস্থারও ভূমিকা রয়েছে। নগরে যারা ধনী আছে, তাদের কর বাড়িয়ে কীভাবে দরিদ্রদের সহযোগিতা করা যায়, সেটা ভাবা প্রয়োজন। নগর ব্যবস্থাপনার এসব আধুনিক ধারণা কাজে লাগাতে হবে।

নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরের জন্য আজ অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

সুপারিশ

■ নগরের অন্য সেবা সংস্থাগুলো সিটি করপোরেশনের অধীনে না থাকলে কখনো নিরাপদ, টেকসই অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর প্রতিষ্ঠিত হবে না।

■ পরিকল্পিত নগরের সেবাসমূহের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য জতীয় নগরায়ণ নীতিমালা প্রণয়ন ও অনুমোদন দিতে হবে।

মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নগর করতে হবে। তা না হলে বিভিন্ন সংস্থার অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডে নগর ধ্বংস হতে থাকবে।

একটা আদর্শ নগরের জন্য আধুনিক আবাসনব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সবুজায়ন, জলাধার ও অন্যান্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে।

নগরে দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি বাড়ছে। নগর দুর্যোগ মোকাবিলায় অপৎকালীন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করতে হবে।

দেশের নগরগুলো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। এসব নগরকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হলে একটা পরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর নির্মাণ করতে হলে স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতায়ন করতেই হবে।

গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন