বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন

রঞ্জন কুমার ঘোষ

অ্যাডভোকেসি স্পেশালিস্ট, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ

পার্থ হেফাজ সেখ

ডিরেক্টর, পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ

সূচনা বক্তব্য

আব্দুল কাইয়ুম

সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো

সঞ্চালনা

ফিরোজ চৌধুরী

সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো

সুপারিশ

■ সুবিধাবঞ্চিত চা-শ্রমিকদের পানি ও স্যানিটেশন অধিকার নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশের নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেক্টরের জন্য দরিদ্র সহায়ক কৌশল ২০২০’-এর বাস্তবায়নে আর্থিক বরাদ্দসহ যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

■ ‘কাউকে পিছনে না ফেলে’ একসাথে এগিয়ে যাওয়ার এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে থাকা চা–শ্রমিকদের উন্নয়নের মূল প্রবাহে সম্পৃক্ত করতে হবে।

■ চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়ন ও নির্দেশনা প্রদান জরুরি ।

■ চা–শ্রমিকদের পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিতে চা-বাগান মালিকপক্ষ, চা-শ্রমিক ইউনিয়ন, স্থানীয় পঞ্চায়েত, চা বোর্ড, স্থানীয় সেবা প্রদানকারী, প্রাইভেট সেক্টর, এনজিও এবং সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। সবার মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় আরো বাড়াতে হবে।

■ সুবিধাবঞ্চিত চা-শ্রমিকদের পানি ও স্যানিটেশন অধিকার নিশ্চিত করতে চা-বাগানের ভূ-প্রকৃতি এবং চা-শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ ও পৃথক বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে।

■ চা খাত থেকে লাভের একটা অংশ শ্রমিকদের পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যয় করা হলে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়ন ও নির্দেশনা প্রদানসহ চা- বাগান মালিকদেরও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।

মূল প্রবন্ধের সারসংক্ষেপ

default-image

রঞ্জন কুমার ঘোষ

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টে (এসডিজি) ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ১৬৯টি নির্দেশক নিয়ে কাজ করতে হবে। সেখানে বাংলাদেশ সরকারের কিছু অগ্রাধিকার লক্ষ্য আছে। শতভাগ মানুষকে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের আওতায় নিয়ে আসা সরকারের একটি অগ্রাধিকার লক্ষ্য। চা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল ও রপ্তানি পণ্য। দেশে বর্তমানে ১৬৭টি চা-বাগান আছে। শুধু সিলেটের মৌলভীবাজারেই ৯১টি চা-বাগান রয়েছে। আমরা বেশ কিছু চা-বাগানের চা-শ্রমিকদের নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছি। চা উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে দেশের বড় অনেক প্রতিষ্ঠান যুক্ত। এসব বড় প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকার পরও চা-শ্রমিকদের নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা আশানরূপ নয়।

একটি সাম্প্রতিক জরিপে এসেছে, চা-শ্রমিকদের ৭৪ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চা-শ্রমিকের মজুরি ১২০ টাকা। ২৩ কেজি চা উৎপাদন করতে পারলেই এ মজুরি দেওয়া হয়। ফলে আগ্রহ থাকলেও টয়লেট ও টিউবওয়েল বসানোর মতো আর্থিক ক্ষমতা তাদের নেই। এ ছাড়া তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাবও রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে। বাড়ির কাছাকাছি টয়লেটের ব্যাপারে তারা আগ্রহী নয়। তারা সাধারণত কুয়ো বা খালের পানি পান করে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু টিউবওয়েল বসানো হচ্ছে। কিন্তু টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহে তাদের অনেক দূরে যেতে হয়। টিউবওয়েলের সংখ্যাও কম। এসব শ্রমিকের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার অভ্যাসও কম। তাদের মধ্যে বিনা মূল্যে সেবা পাওয়ার প্রবণতা বেশি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ ও স্থানীয় সরকার নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন উন্নয়নে যথেষ্ট বরাদ্দ দিচ্ছে না।

নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন পাওয়া মানুষের অধিকার, যা ২০১০ সালে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে। কাউকে বাদ না রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে। সেখানে দুর্গম ও চা-বাগানের শ্রমিকদের বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য অর্জনে তাদের উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

default-image

পার্থ হেফাজ সেখ

নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়নে সরকার অনেক কাজ করছে। চা শ্রমিকদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের অনেক কাজ আছে, যা আমাদের সবাই মিলে করতে হবে। চা-বাগান মালিকপক্ষ, শ্রমিক ইউনিয়ন, স্থানীয় পঞ্চায়েত, চা বোর্ড, এনজিও ও স্থানীয় সরকারের করণীয় সুনির্দিষ্ট করতে পারলেই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব। এ বিষয়ের সার্বিক অবস্থা উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে একধরনের নীতি প্রণয়ন করা জরুরি। মালিকপক্ষের জায়গা থেকেও পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন আছে। কাউকে পেছনে ফেলে রাখব না। সবাইকে নিয়েই আমরা এগোব। না হলে এসডিজি অর্জন করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে কিছু ভালো কাজও হচ্ছে। আমরা কিছু জায়গায় নিরাপদ পানি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, টয়লেট ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছি।

আলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের মূলকথা হলো, কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না। প্রত্যেক মানুষকে তার মর্যাদার জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। আজকের আলোচনার বিষয় নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশন, যা টেকসই অভীষ্টের একটি লক্ষ্য। এখানে চা-শ্রমিকদের কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা আলোচনায় আসবে। স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এদিক থেকে আমরা পার্শ্ববর্তী দেশের চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ের চা-শ্রমিকদের পানি, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনের পরিস্থিতি কেমন? এ বিষয়ে আমাদের করণীয় কী? এসব বিষয় আলোচনায় আসবে।

default-image

নজমুল হক

আমরা ২৭ বছর ধরে সিলেট অঞ্চলে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। স্বাস্থ্য বিভাগের একটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম থেকেই আমরা নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য বিষয়ে কাজ করছি। শুরুর দিকে প্রত্যন্ত অঞ্চল, গ্রামীণ ও হাওর অঞ্চলে আমাদের কার্যক্রম ছিল। চা-বাগানগুলোর অবস্থান সিলেটের খুব কাছাকাছি। এত কাছাকাছি থাকা সত্ত্বে চা-বাগানগুলোতে আমরা অনেক পরে কাজ শুরু করি। ২০১০ সালে ওয়াটারএইডের সহযোগিতায় আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়।

চা-বাগানের বিষয়টি আমাদের সবার নজরে আসে অনেক দেরিতে। হয়তো তারা মূলধারার অংশ না হওয়ায় এটা হয়েছে। এখন উন্নয়ন কার্যক্রমে মূলধারার বাইরের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। শুরু থেকে এ ধরনের লক্ষ্য ছিল না। চা-বাগানে কাজ করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কাজ করার ক্ষেত্রে চা-বাগানে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া এর মধ্যে অন্যতম। কিছু বাগানে অনেক চেষ্টা করেও আমরা ঢুকতে পারিনি। চা-বাগানে বসবাস করা মানুষ আমাদের মূলধারার মানুষ নয়। এ বাগানে কাজ করার সময়ে মানুষের মধ্যে অসচেতনতার বিষয়টি দেখেছি। সচেতনতা তৈরিতে প্রচেষ্টাও খুব একটা ছিল বলে মনে হয় না। বদ্ধ টয়লেট ব্যবহারে চা-শ্রমিকেরা অভ্যস্ত ছিল না। এখনো তাদের খোলা জায়গায় মলত্যাগের অভ্যাস রয়েছে। এসব ছড়ার পানির সঙ্গে মিশে, যা থেকে রোগজীবাণু ছড়ায়। এ জন্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে।

default-image

রাজু গোয়ালা

সাম্প্রতিক সময়ে চা-বাগানে কিছু টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। চা-বাগানের বাসস্থানের অবস্থাও ভালো নয়। রেশনের ক্ষেত্রে আমাদের শুধু আটা অথবা চাল দেওয়া হয়। অনেক সময় এ চাল বা আটা খাওয়ার উপযোগী থাকে না। সরকার অনেক কাজ করছে। কিন্তু এ সুবিধা পেতে অনেক অসুবিধা পোহাতে হয়। এ জায়গায় কাজ করতে হবে। ইদানীং টয়লেট ব্যবহার সম্পর্কে চা বাগানের অনেকে সচেতন হয়েছে। চা বোর্ড ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কাজ করছে। বাগানগুলোতে এ কাজ চলমান রাখলে মানুষ কিছুটা উপকৃত হবে। আমাদের বেতনের কী অবস্থা? মজুরি বোর্ডের আচরণে আমরা অনেক মর্মাহত হয়েছি। এসব সমাধানে আমরা কার কাছে যাব? করোনার সময় দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে আমরা জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি। ভারত ও শ্রীলঙ্কায়ও তো চা-বাগান রয়েছে। তারাও তো লাভ করছে। কিন্তু আমাদের মালিকপক্ষ শুধু বলে লাভ হয় না। আমাদের মজুরি বাড়ালে আপনাদের ক্ষতি হবে না। হয়তো লাভ একটু কম হবে।

অনেক চা-বাগানে এখনো বিদ্যুৎ নেই। চা-শ্রমিকদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষা প্রয়োজন। আমি বাগানে কাজ করি বলে আমার ছেলেকেও বাগানে কাজ করতে হবে, এটা তো হতে পারে না। আমরাও এ দেশের উন্নয়নের অংশীদার হতে চাই। আমার জন্ম স্বাধীন বাংলাদেশে। আমি এ দেশের নাগরিক। ১৬ কোটি মানুষের সঙ্গে যেন আমরাও অধিকারের ভাগীদার থাকি। আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

default-image

মিতালী দত্ত

আমাদের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৪৩টি চা-বাগান রয়েছে। সরকারিভাবে টিউবওয়েল স্থাপনের ক্ষেত্রে একটা ফি রয়েছে। এর পরিমাণ ১০ হাজার টাকা। চা-শ্রমিকদের পক্ষে এটা দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই আমরা আগামী অর্থবছরে টিউবওয়েলের ফি নিম্নতম পর্যায়ে রাখার সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চা-শ্রমিকদের জন্য টিউবওয়েল স্থাপনে নিজেদের টাকা দিতে হয়। কারণ, সরকারি ফি তো দিতেই হয়। চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন করা আমাদের লক্ষ্য। এ জন্য উপজেলা পরিষদসহ সবাই কাজ করছে। ইতিমধ্যে বরমাছড়া চা-বাগানে সরকারিভাবে মাধ্যমিক স্কুলের ভিত্তি স্থাপন করেছি।

একসময় চা-শ্রমিকেরা কর্তৃপক্ষের কাছে বন্দী ছিল। এখন ধীরে ধীরে তারা এ বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসছে। চা-শ্রমিকের সন্তানেরা শিক্ষা গ্রহণ করছে। আমাদের একার পক্ষে একা তাদের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। সবাই মিলে তাদের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

চা-শ্রমিকের জীবনযাপনের বাস্তব চিত্র দেখলে চোখে জল এসে যায়। গত বছর আমরা একটি পরিবারকে জয়িতা পুরস্কার দিয়েছি। তাদের ছয় সন্তান। একটি ছেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। একটি মেয়ে এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন এবং বাকি চার সন্তান বিএ পাস। কোভিডকালে পড়ুয়া সন্তানদের অনলাইনে ক্লাস অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই উপজেলা পরিষদ থেকে তাঁদের ল্যাপটপ দেওয়া হয়। এভাবে আমরা অনেক সহায়তা করি।

চা শ্রমিকদের মজুরি মাত্র ১২০ টাকা। এ ছাড়া রেশন হিসেবে শুধু আটা দেওয়া হয়, যা খাওয়ার উপযোগী নয়। সবার ভালো জীবনযাপন ও সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্ন থাকে। বাগান কর্তৃপক্ষের এ বিষয়গুলো পরিদর্শন করা দরকার। চা বোর্ড থেকে সরাসরি তাদের বাসস্থান পরিদর্শন ও কথা বলা প্রয়োজন।

default-image

অলক কুমার মজুমদার

চা–বাগানের কথা বললেই মনে পড়ে ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা ঔষুধ দিব কোথা।’ চা–বাগানে শ্রমিকেরা খুব মানবেতর জীবন যাপন করেন। এটা না দেখলে বোঝা যাবে না। তাদের শ্রমের ফল আমরা ভোগ করছি। আমরা সকালে যে চা পান করি, তা তাঁদেরই ঘামের ফসল। তাই তাঁদের প্রতি আমাদের দৃষ্টি দেওয়া উচিত। সম্প্রতি আমরা চা বাগানে একটি জরিপ পরিচালনা করি। জরিপে এসেছে, সেখানে মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছেন। ৩ দশমিক ৮ শতাংশ স্বাস্থ্যবান্ধব স্যানিটেশন পাচ্ছেন। সারাদেশে খোলা জায়গায় মলত্যাগের হার প্রায় শূন্য। কিন্তু চা–বাগানে খোলা জায়গায় মলত্যাগের এ হার ৪৫ শতাংশ। আলোচনায় এসেছে ২০৩০ সালের মধ্যে শত ভাগ স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করতে চাই। এ জন্য আমাদের সময় আছে মাত্র ৯ বছর। স্যানিটেশন ব্যবস্থার হার ৩ ভাগ থেকে ১০০ ভাগে নিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। এ জন্য আমাদের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা দরকার। তা না হলে চা–বাগান অঞ্চলে স্বাস্থ্যবান্ধব স্যানিটেশন লক্ষ্য অর্জিত হবে না। আমরা তাঁদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও অভ্যাস পরিবর্তনে কাজ করি। সবাই সম্মিলিতভাবে তাঁদের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা উচিত।

default-image

রামভজন কৈরী

স্যানিটেশন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে হলেও ওয়াটারএইড খুব ভালো কাজ করছে। এ কাজ কীভাবে আরও সম্প্রসারিত করা যায় তা ভাবতে হবে। এনজি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট বাজেট নিয়ে প্রকল্পভিত্তিক কাজ করে। প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পরে প্রকল্পের অর্জনগুলো ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরে এর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

চা–বাগানে কাজ করতে হলে একবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়, আবার চা–বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু দেশে কোথাও কোনো কাজের সরকারি অনুমতি পেলে অনুমতির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু চা–বাগান এলাকার হিসাব ভিন্ন। তার মানে হলো আমাদের নিয়মের মধ্যে কোনো ত্রুটি আছে। নিয়মের এ ত্রুটিগুলো দূর করতে হবে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করার জন্য রাস্তা তৈরি করতে হবে। এ–সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। চা–বাগানের মালিকদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। কিছু আইনিভাবে আছে; আর কিছু আছে শ্রমিক-মালিকের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে।

বাংলাদেশ শ্রম আইনে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকার কথা বলা হয়েছে। চা–বাগানে সেটা অনুপস্থিত। শ্রম বিধিমালায় চা–বাগানের প্রতিটি সেকশনে একটি করে টিউবওয়েল ও শৌচাগার তৈরির কথা বলা হয়েছে। আমাদের শ্রমিক-মালিকের দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতেও এ বিষয়গুলো উল্লেখ করা আছে। আইনের সঠিক বাস্তবায়নে মালিকপক্ষ আন্তরিক হলে এবং শ্রমিকেরা আরেকটু সচেতন হলে, অনেক সমস্যার সমাধান হবে। কিছু দিন আগে জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে সারা দেশে চা–বাগান শ্রমিকদের জন্য টিউবওয়েল বসানোর প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্প নেওয়ার সময় আমি বলেছি, এটা বাস্তবায়ন করতে হলে সহায়ক চাঁদা মালিক পক্ষকে দিতে হবে। একপর্যায়ে মালিকপক্ষ সহায়ক চাঁদা দিতে রাজি হয়। যা এ–সংক্রান্ত নীতিমালায় স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে। কিন্তু সব মালিক এটা দিচ্ছেন না। মালিকপক্ষ যেন এ চাঁদা দেয় তা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

default-image

মো. সফিকুল ইসলাম

চা উৎপাদনকারী প্রধান দেশগুলোর মধ্যে জাপান ছাড়া সব নিম্ন আয়ের দেশ। চা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ১২তম।

চা বাগানের শিশুরা পুষ্টির অভাবে খর্বাকৃতির হয়। সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়নে আরও কাজ করার সুযোগ আছে ।

কিছু চা–বাগানে কথা বলে জেনেছি, অনেক সময় তারা চা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পান না। অথচ সেখানে পানির উৎস আছে। এ পানির উৎসগুলোকে সার্বিক পানি ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে এলে চা বাগানের উৎপাদনে কাজে আসবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের উন্নয়নে সহায়ক হবে। চা শ্রমিকেরা কাজের সময় অন্য একজন খাবার পানি দিয়ে যায়। ফলে তিনি হয়তো প্রয়োজনের সময় পানি পাচ্ছেন না। কর্মকালে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য সেখানে শৌচাগারের ব্যবস্থা করা দরকার।

একটি চা–বাগানে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা কেমন হবে তা নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা গেলে অন্য সব চা–বাগানে এটা কাজে লাগানো যাবে। এটা করতে খুব বেশি ব্যয়ও হবে না। আশা করছি এ ক্ষেত্রে ওয়াটারএইড ও সিটি গ্রুপ যৌথভাবে কাজ করবে। এটা সফল হলে অন্যান্য চা–বাগানে তা শুরু করা যাবে। শ্রমিকদের এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য শিক্ষা প্রয়োজন। তাই যত কষ্টই হোক, তাঁদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। সারা দেশে চা–শ্রমিকের সংখ্যা আমাদের মোট জনসংখ্যার তুলনায় খুবই নগণ্য। এ স্বল্পসংখ্যক শ্রমিকের জীবনমান পরিবর্তনে কত টাকা লাগে? সে জন্য তাদের জীবনমান উন্নয়নে একটা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দরকার। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন দরকার। একটি জনগোষ্ঠী পেছনে রেখে আমরা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন করতে পারব না।

default-image

সেজাদ সারোয়ার

চা–শ্রমিকেরা আমাদের চা–শিল্পের প্রধান মানবসম্পদ। শ্রমিক ভালো না থাকলে এ শিল্প ভালো থাকবে না। এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে শিল্পের প্রধান শক্তি চা–শ্রমিকদের জীবনযাপন, বসবাস ও সার্বিক উন্নয়ন অবশ্যই দরকার। অনেক চা–বাগানেই স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় একেবারে নজর নেই। বড় কোম্পানিগুলো চা–বাগানে যতটুকু সম্ভব স্যানিটেশন ব্যবস্থা করে যাচ্ছে। আইনে স্যানিটেশন ও পানি ব্যবস্থাপনা কেমন হবে তা স্পষ্ট করে বলা আছে। মালিক-শ্রমিক সবাই আমরা আইন মানতে বাধ্য। আইন তদারকির ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি হচ্ছে কি না, সেটা দেখা প্রয়োজন।

আমাদের একটি চা–বাগানে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে ওয়াটারএইডের কাজগুলো অত্যন্ত চমৎকার। এই চা বাগানটি অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। এখানে পৌঁছানো সহজ না। এ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ওয়াটারএইড নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করে দিতে পেরেছে। তাহলে অন্যান্য চা–বাগানে এ ব্যবস্থা কেন হবে না? এ জন্য উদ্যোগ ও সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

চা বাগান এলাকায় সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস করেন। এসব মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা করা কঠিন কিছু না। ১৬ কোটি মানুষের দেশে এটা করা কিছুই না। সরকারের উদ্যোগ ও আইন আছে। কিন্তু তদারকির ক্ষেত্রে যদি কোনো ঘাটতি থাকে, তবে সেখানে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। আমরা প্রতিবছর চা–শ্রমিকদের জন্য ২০ থেকে ২৫টি অত্যন্ত ভালো মানের ঘর তৈরি করে দিচ্ছি। ২০২২ সালেও আমাদের সেরকম পরিকল্পনা আছে। সিটি গ্রুপের মালিকানাধীন বাগানগুলোকে মডেল চা–বাগান বানানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য নিরাপদ পানি, শিক্ষাব্যবস্থা, শ্রমিকের উন্নতি করার ক্ষেত্রে আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব থাকবে না, সে কথা আমি দিয়ে যাচ্ছি।

default-image

তাহমিদুল ইসলাম

আজকের আলোচনায় প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটু জোর দেওয়া দরকার। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) একটা বড় প্রকল্প নিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। বেসরকারিভাবেও নানান উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে গৃহিত উদ্যোগগুলো উপযুক্ত প্রযুক্তির অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই স্থায়িত্বশীল হচ্ছে না। উপযুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। যা আমরা বিভিন্ন চা–বাগানে করে দেখিয়েছি। নাহার গার্ডেনে ৬০০ ফুট ওপরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়। চা–বাগান ব্যবস্থাপনা পরিষদ এ পানি চা তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে। তখন তারা দেখতে পায়, বৃষ্টির পানি ব্যবহারে চায়ের রঙ টিউবয়েল বা ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহারের তুলনায় আরও ভালো হয়। ফলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্প প্রক্রিয়ায়ও কাজে লাগানোর সুযোগ আছে। স্যানিটেশনের বেশ কিছু আইনের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সেখানে সেকশনভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ টয়লেট ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। এ জায়গায় অবদান রাখতে পারলে তা চা–শ্রমিকের অন্তর্ভুক্তিতে বেশ বড় ভূমিকা রাখবে।

default-image

ইমামুর রহমান

একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, শ্রমিকের স্বাস্থ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। চা–বাগানে বেশির ভাগ নারী শ্রমিক কাজ করেন। এ ক্ষেত্রে তাঁদের নিরাপদ মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নিরাপদ পানি, স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে শ্রমিক পক্ষকেও একটু সচেতন হতে হবে। সবাই মিলে একটি টিউবওয়েল বসানো কঠিন কিছু না। এর জন্য মালিকের দিকে চেয়ে থাকলে, সবসময় তা সম্ভব না–ও হতে পারে। আলুবাড়ি পাইপ ওয়াটার সিস্টেম করার সময় পাঁচবার ব্যর্থ হতে হয়েছিল। ষষ্ঠবার এটা করা সম্ভব হয়েছে। সেখানে ১০৬টি পরিবার মিলে কমিউনিটি পর্যায়ে এ ব্যবস্থাপনা করছে। তাই শ্রমিক পক্ষেরও ছোটো ছোটো দায়িত্ব নেওয়া উচিত। এসবের ব্যবস্থাপনার জন্য শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে।

default-image

হাসিন জাহান

চা–শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় কোনো প্রামাণ্যচিত্র বানানোর ক্ষেত্রে চা–বাগানের একটি অবধারিত দৃশ্য থাকে। মেয়েরা চা তুলছে, এ রকম একটি দৃশ্য থাকবেই থাকবে। এটাকে আমরা দেশের একটি ঐতিহ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু এসব মানুষের জীবনে কী হচ্ছে—তা কি আমরা দেখছি? দেশে প্রায় পাঁচ লাখ চা–শ্রমিক আছেন। তাঁদের দুই–তৃতীয়াংশ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করছে। তাদের নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন আওতায় আনা না গেলে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ৬ দশমিক ২ কোনোভাবেই অর্জন করা সম্ভব হবে না।

বেশির ভাগ চা–বাগান অঞ্চলে সহজে টিউবওয়েল স্থাপন করা যায় না। কারণ, এখানে পাথর ও গ্যাস আছে। ফলে এখানে টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য খনন করা খুবই ব্যয়বহুল। সে জন্য টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ৬ অর্জনে এ জায়গায় বাড়তি উদ্যোগ থাকতে হবে। আমাদের একটা সমন্বিত পরিকল্পনা হওয়া দরকার। যেখানে মালিকপক্ষ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, চা বোর্ড ও চা–শ্রমিকেরা থাকবেন। কিন্তু মালিকপক্ষ কেন এই সমন্বিত পরিকল্পনায় যুক্ত থাকবেন? কারণ, কর্মীরা ভালো থাকলে ব্যবসায় উন্নতি হবে। উৎপাদন ভালো হবে। সার্বিক হিসাবে তা মালিকদেরই লাভ বয়ে আনবে। তাই কর্মীদের কল্যাণ ও আইনগত কারণে তাঁদের এসব উদ্যাগে যুক্ত থাকা উচিত।

চা বোর্ডের উদ্যোগে মালিকপক্ষের সঙ্গে আমরা যৌথভাবে একটা শিক্ষণ ভাগাভাগি কর্মশালা করতে পারি, যেখানে অভিজ্ঞতা শেয়ার ও ভালো চর্চাগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হবে। এ কাজে মালিকপক্ষ শ্রমিক ও মালিকের সুবিধাগুলো দেখলে তারা আরও এগিয়ে আসবেন। এ ক্ষেত্রে আমরা ওয়াটারএইড থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে পারি। আমরা অন্তত একটি কোম্পানির সঙ্গে কাজ করে একটি মডেল দেখাতে চাই, যেন তা অন্যদের জন্যও মডেল হিসেবে আসতে পারে। সর্বোপরি যা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সহায়ক হবে।

default-image

নাজনীন কাউসার চৌধুরী

চা–শ্রমিকদের সমস্যাগুলো আমরা সবসময় তদারকি করি। তাদের পক্ষ থেকে আসা অভিযোগগুলো সমাধানে আমরা চেষ্টা করি। সরকার ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে উন্নয়নের পথনকশা প্রণয়ন করেছে। সেখানে চা–বাগানের শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য উন্নয়ন অনেক কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে ১ নম্বর হলো—চা বাগানের স্বাস্থ্যসম্মত আবাসিক সুবিধা প্রদান। দ্বিতীয়ত, পানীয় জল বা সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা। তৃতীয়ত, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু সদন ও মাদারস ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা। চতুর্থটি হলো শ্রমিকের ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

চা–শ্রমিকের সংখ্যা বিষয়ে নানা জন নানা কথা বলে। আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, সে অনুযায়ী আমাদের দেশে চা–শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। তাঁদের পরিবারের সদস্যাসহ এ সংখ্যা পাঁচ লাখের কিছু বেশি। এই পাঁচ লাখ জনসংখ্যাকে সামনে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ হাজার বাসস্থান ও ১৫ হাজার শৌচাগার তৈরি করা হবে। ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আমাদের স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য অনুযায়ী ১৫ হাজারের মধ্যে ৬ হাজার শৌচাগার করার কথা, যা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে ১৫টি গভীর নলকূপ স্থাপনের কথা। এটিও শতভাগ অর্জিত হয়েছে। দুই হাজার হস্তচালিত নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। ১২৫টি পাতকুয়া নির্মাণ করা হয়েছে। উন্নয়নের পথনকশা অজি৴ত হচ্ছে কি না, তা কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।

মালিকপক্ষ ও শ্রমিক পক্ষ দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকের মজুরি নির্ধারিত হয়েছিল। তারা উভয়ই একমত পোষণ করেছিল। চুক্তি সই করার পরে অসন্তোষের কারণ আমাদের জানা দরকার। প্রয়োজনে নবায়নের সময় তা পরিমার্জন করতে হবে। কোনো চা–কর্তৃপক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করে কম মজুরি দিচ্ছে, এই তথ্য আমাদের জানানো হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকেরা সুবিধা না পেলে তা অবশ্যই চা বোর্ডকে অবহিত করতে হবে। কারণ, চা বোর্ড আছে সব স্টেকহোল্ডার নিয়ে চা–শিল্পের উন্নয়নে জন্য।

বাগান পরিচালনা করার জন্য সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, বিনা মূল্যে বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এনজিও, উন্নয়ন অংশীদার, সরকার ও সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের কথাও উন্নয়নের পথনকশায় রয়েছে। কোথাও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ভঙ্গ হলে আমাদের জানাবেন। আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করব। চা বোর্ডের পক্ষ থেকে সব স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করার প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।

ফিরোজ চৌধুরী

আলোচনায় চা বাগানে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অনেক কটি সুপারিশ এসেছে। এসব বাস্তবায়নে চাই সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ। আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন