প্রতিবন্ধী নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

ইউকে এইডের সহযোগিতায় লিওনার্ড চ্যাশায়ার ও প্রথম আলোর আয়োজনে ‘প্রতিবন্ধী নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২৪ মার্চ ২০২১। আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত হলো।

অংশগ্রহণকারীরা

নাছিমা বেগম, এনডিসি,

চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

তাহেরা জাবিন

সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার, ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস, ইউকে

জহির বিন সিদ্দিক

কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ, লিওনার্ড চ্যাশায়ার

তাওহিদা জাহান

চেয়ারপারসন, কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এ এইচ এম নোমান খান

নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)

নাহিয়ান বুশরা

উপকারভোগী, আইটুআই প্রকল্প

মহুয়া পাল

সহপ্রতিষ্ঠাতা, একসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন

খন্দকার জহুরুল আলম

নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিজঅ্যাবিলিটি

মুহাম্মদ মুশফিকুল ওয়ারা

কান্ট্রি ডিরেক্টর, সিবিএম ইন্টারন্যাশনাল

নাসরিন জাহান

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ডিজঅ্যাবলড চাইল্ড ফাউন্ডেশন

ওবায়দুল ইসলাম রাব্বী

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, নূর সফটস

সুরাইয়া আক্তার

প্রোগ্রাম ম্যানেজার, লিওনার্ড চ্যাশায়ার

সূচনা বক্তব্য

আব্দুল কাইয়ুম

সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো

সঞ্চালক

ফিরোজ চৌধুরী

সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো'

বিজ্ঞাপন

আলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম

আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভিন্নভাবে সক্ষম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এটা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সামগ্রিক পরিবর্তনের ব্যাপার। এ পরিবর্তন আনা গেলে সহজেই আমরা অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারব। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টে (এসডিজি) সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোনোর কথা বলা হয়েছে। তাই ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষদেরও আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।

প্রতিবন্ধী মানুষেরা এমনিতেই অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়। তাদের মধ্যে প্রতিবন্ধী নারীদের আরও বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাদের সামনে চ্যালেঞ্জও অনেক। প্রতিবন্ধী নারীদের এ চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে অতিক্রম করা যায়, তা নিয়ে আজকের আলোচনা হবে।

জহির বিন সিদ্দিক

default-image

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা লিওনার্ড চ্যাশায়ার প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালে। তখন থেকে এ সংস্থা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবন্ধী মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশে ২০০৫ সাল থেকে আমরা কাজ করছি। ইনোভেশন টু ইনক্লুশন (আইটুআই) প্রকল্পের অধীনে আজকের কর্মসূচি হচ্ছে।

এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, যা একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও কেনিয়ায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি সংঘ, লিওনার্ড চ্যাশায়ার এর নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে আমরা এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব। বাংলাদেশে তিনটি সহযোগী উন্নয়ন সংস্থা আমাদের সঙ্গে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

লিওনার্ড চ্যাশায়ার দেশের একটি সর্ববৃহৎ অনলাইন জব পোর্টালকে সব শ্রেণির প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য প্রবেশগম্য করছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান নিয়েও কাজ করছে।

লিওনার্ড চ্যাশায়ার ইউএনসিআরপিডি আর্টিকেলস নম্বর ২৭ ও ২৮ নিয়ে অ্যাডভোকেসির জন্য কাজ করছে। এই কাজে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ১০টি সংগঠন সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।

default-image

তাহেরা জাবিন

এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আলোচনার সুযোগ করে দেয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি ফরেন কমনওয়েলথ ডেভেলপমেন্ট অফিসের সর্বোচ্চ গুরুত্বে রয়েছে। সারা বিশ্বে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ প্রতিবন্ধিতা নিয়ে জীবন যাপন করছে। এদের ৮০ শতাংশ উন্নয়নশীল দেশের বাসিন্দা।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। এসব প্রতিবন্ধী ব্যক্তি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক সহযোগিতা ও সামাজিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অনেক রকম সুযোগ–সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। বিদ্যমান লিঙ্গবৈষম্য এবং যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের ঝুঁকির কারণে নারী ও শিশু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা প্রায়শই দ্বিগুণ বৈষম্যের শিকার হয়। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক। দ্বিগুণ বৈষম্য, দারিদ্র্য ও নারী হওয়া তাদের জীবনকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তোলে।

কোভিডকালে এসব ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টে কাউকে পেছনে না ফেলে এগোনোর কথা বলা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য কমাতে প্রয়োজন আরও কার্যকর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রচেষ্টা। ২০১৮ সালে ইউকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি কৌশল তৈরি করেছে, যেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইনোভেশন টু ইনক্লুশনের মতো কর্মসূচি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আরও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ করে দেয়।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে শ্রমবাজার থেকে প্রতিবন্ধী মানুষ বাদ পড়ায় জিডিপির পরিমাণ কমে যায়, যা জিডিপির প্রায় ৩ থেকে ৭ শতাংশের মতো। বাংলাদেশে ইনোভেশন টু ইনক্লুশন কর্মসূচিটি বেসরকারি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে একটি দুর্দান্ত উদাহরণ।

গত বছরের শেষের দিকে এ কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্ম বিডিজবসের সঙ্গে একটি চাকরি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়।

যা সব ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাঙ্ক্ষিত চাকরি খোঁজা ও আবেদন করার সুযোগ করে দেবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

নাছিমা বেগম

যেকোনো দুর্যোগে প্রতিবন্ধী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা হলো সবচেয়ে বেশি ভঙ্গুর শ্রেণি। আমার বড় ছেলের অটিজম আছে। এটা আমি অকপটে সব জায়গায় বলি। তাই তাদের চাহিদাগুলো আমার জানা আছে। আলোচনায় প্রতিবন্ধী নারীদের অনলাইনে চাকরির বিষয়টি এসেছে। এটা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। প্রতিবন্ধী মানুষেরা কারও ওপর বোঝা হয়ে থাকতে চায় না। তারাও কর্মক্ষম হতে চায়। নিজে কিছু করে দেখানোর মানসিকতা তাদের আছে।

সম্ভাবনার বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী নারীরাও পিছিয়ে থাকতে চায় না। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে আমরা সর্বজনীন মানবাধিকারের ৩০টি অনুচ্ছেদ বুলেট আকারে এক পাতায় লিখেছি, যেন তা সবাই সহজে বুঝতে পারে।

জন্ম থেকে অনেকের দৃষ্টি, বাক্‌ ও শারীরিক প্রতিবন্ধিতা হয়। আবার পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে প্রতিবন্ধিতা হতে পারে। কিন্তু প্রত্যেক মানুষেরই সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। সর্বজনীন মানবাধিকারের অনুচ্ছেদ দুইয়ে বলা হয়েছে, কারও প্রতি কোনো বৈষম্য নয়। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কিছু প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আছে। সেখানে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য আলাদা কোটা রাখার কথা বলেছিলাম।

আমার কাছে একজন প্রতিবন্ধী নারী একটি অভিযোগ করেন: তিনি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে চান, কিন্তু তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। মানবাধিকার কমিশন থেকে যোগাযোগ করার পরদিন ওই নারীকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়। এখন আমাকে এটা বলতে হবে কেন? এটা তো প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণের কর্মসূচির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

এ প্রশিক্ষণ দিতে হবে প্রতিবন্ধী মানুষের ধরন অনুসারে। শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া খুব কঠিন নয়। কারণ, তারা আমাদের মতোই বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষ। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহজ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো যায়। প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রতি আস্থা রেখে প্রশিক্ষিত করা গেলে আর্থসামাজিক মুক্তি বড় বাধা হবে না। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। আমরা যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে নয়।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ভিন্নভাবে সক্ষম। তাদের সক্ষমতাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসে নারীদের, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির পথ সুগম হবে।

default-image

ওবায়দুল ইসলাম রাব্বী

আমার প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষেরা সমানতালে কাজ করছে। কোভিড-১৯–পূর্ব সময় থেকেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। কোভিডকালে ঘরে থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার সময়ে আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। আমরা অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পেরেছি। তারা তাদের অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছে। কোভিডকালে অনেকেই অর্ধেক বা অল্প বেতন পাচ্ছেন।

অনেকের আবার চাকরি চলে গেছে। কিন্তু আমরা প্রতিবন্ধী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পেরেছি। বর্তমানে কাজ করা এসব প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধীনে আরও লোকবল নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে তাদের টিম লিডার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

অনেকে মনে করেন প্রতিবন্ধী মানুষেরা অপ্রতিবন্ধী মানুষের চেয়ে কম কাজ করে। এটা একেবারেই ভুল ধারণা। আমার প্রতিষ্ঠানে সাধারণ কর্মীর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী কর্মীরাও সমানতালে কাজ করছে।

আমাদের সঙ্গে এখন ১২ জন প্রতিবন্ধী কর্মী কাজ করছে। তারা প্রত্যেকেই এখন অনলাইনে কাজ করে। তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আমাদের প্রত্যেকের এগিয়ে আসা উচিত।

নাহিয়ান বুশরা

default-image

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছি। ছোটবেলা থেকে আমি সব সময়ই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে আমার পক্ষে কিছু করা সম্ভব হবে। প্রতিবন্ধকতা আমাকে আটকাতে পারবে না। সেখান থেকে আমি স্কুল ও কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি। এ ক্ষেত্রে আমাকে অনেক বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। আমি প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেছি। কম্পিউটারের বেসিক ও আডভান্স পর্যায়ের প্রশিক্ষণ নিয়েছি।

default-image

সুরাইয়া আক্তার

লিওনার্ড চ্যাশায়ার বাংলাদেশে আইটুআই নামে একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছে। যেখানে সাত হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে চাকরিমুখী করতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হবে। আমাদের এ প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো তাদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষদের কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ দিতে নিয়োগদাতাদের উৎসাহিত করা।

এ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ৪০ শতাংশ প্রতিবন্ধী নারীকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের উপযোগী করা।

আমাদের লক্ষ্য ছিল আরও বেশি নারী প্রতিবন্ধীকে আমাদের প্রকল্পে সংযুক্ত ও সহযোগিতা করা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে নারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। প্রথম বাধা আসে তাদের পরিবার থেকে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বপ্নকে তাদের পরিবারই দুঃসাহস মনে করছে। তাই প্রথমেই তারা এ স্বপ্ন দুমড়েমুচড়ে দেয়। এ জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে অনেক সময় লাগে।

আমাদের প্রকল্পের মাধ্যমে ৪০টি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতার করে প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষের কর্মপরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছি। অনেক নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান আছে, যারা এখনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে প্রস্তুত নয়। আমাদের নারীরা বর্তমানে বেশির ভাগই গ্রামমুখী। তাই গ্রাম থেকে শহরে এসে প্রশিক্ষণ নেওয়া বা চাকরি করা কঠিন। এটা একটা বড় বাধা।

আমাদের আইটুআই ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজার নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। এ প্ল্যাটফর্ম থেকে আমরা নারী ও পুরুষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনলাইনভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিই। নারীদের এ প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত করতে গিয়ে দেখি প্রযুক্তি বিষয়ে তাদের জ্ঞান অনেক কম। এসব প্রতিবন্ধী নারীকে কর্মমুখী শিক্ষায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে পারলে তারা এগিয়ে যাবে।

তাওহিদা জাহান

default-image

বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিবন্ধী মানুষসহ রাষ্ট্রের সব নাগরিকের সাম্য ও মৌলিক অধিকারের অঙ্গীকারের ব্যাপারটি উল্লেখ রয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন পাস করেছে। এ আইন দ্বারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে সাম্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তার কতখানি বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাই? বাস্তব পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে ৭০ শতাংশের বেশি নারী বৈষম্যের শিকার। এর মধ্যে ৮০ লাখ প্রতিবন্ধী নারী আরও বেশি বৈষম্যের শিকার।

কোভিড মহামারি সময়ে এ বৈষম্য আরও বেড়েছে। এ বিষয়ে প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী কন্যাশিশু ও নারীদের তিন-চতুর্থাংশ মানসিক নির্যাতনের শিকার। আর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয় ৩০ শতাংশের বেশি নারী। এ মানসিক নির্যাতন ছাপিয়ে প্রতিবন্ধী নারীরা শারীরিক নির্যাতন এবং সর্বশেষ যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়।

সমাজ যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব হওয়ার কথা, সেখানে উল্টো প্রতিবন্ধী নারীরা নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারণ কী? প্রতিবন্ধী কন্যাশিশু ও নারীদের একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হলো ভাষিক যোগাযোগ প্রতিবন্ধকতা। প্রতিবন্ধী নারীরা তার সঙ্গে কী ধরনের নির্যাতনের ঘটনা হয়েছে কিংবা তাকে কী ধরনের খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না, যার সুযোগ নেয় সমাজের কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ।

এমনকি এই ভাষিক যোগাযোগ প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুরা নির্যাতনের বিচার পেতে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হয়ে থাকে। তাই কেবল আইনের প্রয়োগ বা সামাজিক সচেতনতা প্রতিবন্ধী নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়। আমাদের বিভাগ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই প্রতিবন্ধী শিশু ও নারীদের ভাষিক যোগাযোগের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কাজ করে আসছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

মুশফিকুল ওয়ারা

প্রতিবন্ধী নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার আছে। এ পদক্ষেপ ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু হয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত চলবে। এ ক্ষেত্রে কোনো পর্যায়ে বিচ্যুতি ঘটলে উন্নয়নের শৃঙ্খল ভেঙে যায়। আলোচনায় এসেছে প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বিষয়টি অনেক সময়ই উপেক্ষিত থাকে। আমাদের কার্যক্রমগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে, যেন সবাই তাতে অংশগ্রহণ করতে পারে। বাংলাদেশে নারীদের উন্নয়নের পেছনে সব সময়ই আরেকজন নারী ছিলেন। এটা হতে পারে তার মা, বড় বোন কিংবা শাশুড়ি।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিবেশগত কিছু বাধা আছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা চিকিৎসা, শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা, প্রশিক্ষণ নেওয়াসহ সবকিছুতে অংশগ্রহণ করতে চায়। কোনো ব্যক্তি অন্যের ওপর নির্ভর করে থাকতে চায় না, তা সে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হোক আর না হোক। তাই ঘরের বাইরে যাওয়ার জন্য ঘরের বাইরের পরিবেশ নিরাপদ করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের নির্বাচনী এলাকাকে সব মানুষের জন্য নিরাপদ ঘোষণা করতে পারেন। এমনকি প্রতিবন্ধী নারীও আমার নির্বাচনী এলাকায় সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। আইনের প্রয়োগ ও অর্গানাইজেশনের নীতিমালা প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা, সেবাকেন্দ্র ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

default-image

আমি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারী। আমিও অনেক বাধাবিপত্তির মধ্য দিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি। এখনো অনেক বাধার মুখোমুখি হচ্ছি। অনেক সময় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। তবে এসব বাধাকে বাধা মনে করছি না। কারণ, আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সাহস না থাকলে আগাতে পারব না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে আমি একটি চাকরি নিই। তখন আমার মনে হয়েছে যে আমার কমিউনিটির জন্য কিছু করা দরকার। সে জন্যই এ সংগঠন গড়ে তুলেছি। আমার সঙ্গে আরও প্রতিবন্ধী ও সহযোগী ব্যক্তি রয়েছে। সবাই মিলে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

আমরা মূলত প্রতিবন্ধী শিশুসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে থাকি। আমরা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আমাদের ছোট আকারের একটি লার্নিং সেন্টার রয়েছে। সরকার এখন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ব্রেইল বই দেয়। এ বই প্রকাশনার সঙ্গে আমরা যুক্ত আছি। আমাদের সব প্রকল্পই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে।

পরিবার প্রতিবন্ধী নারীদের নিরাপত্তার অভাবে ছাড়তে চায় না। তাই তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের জড় পদার্থ না ভেবে প্রশিক্ষণ দিয়ে সামনে এগিয়ে আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে সফলতার অনেক উদাহরণ আছে। সেগুলো পরিবারকে দেখাতে হবে।

default-image

মহুয়া পাল

জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১ ও তা বাস্তবায়নকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩–তে প্রতিবন্ধী নারীদের বিষয়ে উল্লেখ করা আছে। তবু তাদের কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী নারীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৩০টির মতো কার্যক্রম আছে। এসব কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী নারীদের আলাদাভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।

সংসদে যেন প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা রাখা হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সংগঠন ও সরকারি-বেসরকারি প্রচেষ্টার ফলে প্রতিবন্ধী নারীরা কিছুটা হলেও উন্নয়নের মূল স্রোতোধারায় এসেছিল। এ ক্ষেত্রে কোভিড মহামারি একটা বড় বাধা তৈরি করেছে। কোভিডকালে অনেকে চাকরি ও ব্যবসা হারিয়েছেন। তাই তাঁদের আত্মকর্মসংস্থানের দিকে নজর দিতে হবে।

প্রতিবন্ধী নারীদের সব সময়ই কেয়ারগিভার প্রয়োজন হয়, যা এ কোভিডকালে তারা ঠিকভাবে পাচ্ছে না। এ কেয়ারগিভার সেবার প্রতি জোর দিতে হবে। আমাদের দেশের কোনো যানবাহনেই প্রতিবন্ধী মানুষ হুইলচেয়ার নিয়ে যাতায়াত করতে পারে না। প্রতিবন্ধী নারীদের চাহিদাগুলো যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হয়। অনেক মন্ত্রণালয়ে বেশ কিছু ঋণ প্রদান করে থাকে। এখানে প্রতিবন্ধী নারীদের যেন বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। যেন সহজে প্রতিবন্ধী নারীরা সেখানে সম্পৃক্ত হতে পারে।

খন্দকার জহুরুল আলম

default-image

প্রতিবন্ধী নারীদের নিয়ে ২০০২ সালে একটি বড় গবেষণা হয়েছে। চিত্রটা এখনো খুব বেশি পাল্টায়নি। তবে তা পাল্টাচ্ছে। তখন মাত্র ৩ শতাংশ নারী স্কুলে যেত। এখন এ সংখ্যা বেড়ে ১১ শতাংশ হয়েছে। প্রতিবন্ধী নারীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সংখ্যা বেড়ে ২১ শতাংশ হয়েছে। এটা একটা বড় পরিবর্তন। তখন মাত্র ২ শতাংশ প্রতিবন্ধী নারীর বিয়ে হয়েছে। এ সংখ্যাটা এখন বেড়েছে।

আইটুআই প্রকল্পের অধীনে আমাদের অন্যতম একটি কাজ হলো সাত হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। আগামী এক বছরের মধ্যে ৫০০ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আইসিটি জগতে খুব ভালো করছে। মুজিব বর্ষে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অনেকগুলো কাজ করছে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান এর মধ্যে অন্যতম। আমরা এ পর্যন্ত ২ হাজার ১২৬ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ডিজিটাল জ্ঞান ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছি।

খুব চেষ্টা করে এখানে নারী প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৩৫ শতাংশ আনতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো ৪০ শতাংশ নারীকে অংশগ্রহণ করানো। প্রতিবন্ধী নারীরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ছেলেদের চেয়ে ভালো করছে। এরা অনেকে এখন ঘরে বসে আয় করতে পারবে। আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের চিন্তা থেকেই এটা সম্ভব হয়েছে। এ নারী এখন ঘরে বসে একটি কল সেন্টারে কাজ করছে।

এ এইচ এম নোমান খান

default-image

সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয় প্রতিবন্ধী নারীরা। এ বিষয়ে ২০০২ সালে পরিচালিত গবেষণার সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম। সে সময়ের অবস্থা ও আজকের অবস্থা দেখে কিছুটা হলেও তৃপ্তি পাই।

প্রতিবন্ধী নারীরা তাদের ক্ষমতার প্রকাশ ঘটাতে পারছে। তাই তারা যে পারে, তা বিশ্বাস ও মূল্যায়ন করতে হবে। প্রতিবন্ধী মানুষের হার ১০ শতাংশ করে হিসাব করলে দেশে ১ কোটি ৭০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষ আছে। এ সংখ্যার প্রায় অর্ধেক হলো প্রতিবন্ধী নারী। অর্থাৎ প্রায় ৬৫ লাখ প্রতিবন্ধী নারী রয়েছে। আমরা কতজন প্রতিবন্ধী নারীকে বৈষম্য থেকে বের করে আনতে পারছি, তা একটা প্রশ্ন।

প্রতিবন্ধী মানুষের কোনো বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন হলে আমরা তা মূল্যায়ন করি না। সব ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন রয়েছে, যা প্রদান করে কেয়ারগিভাররা। এটা হয়তো মা বা সংসারের অন্য কোনো নারী।

এ সংখ্যাটা কত? ১ কোটি ৭০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ কেয়ারগিভার রয়েছে, যার ৯৫ শতাংশ নারী। প্রতিবন্ধী নারীদের বিষয়গুলো আরও জোর দিয়ে দেখতে হবে।

জহির বিন সিদ্দিক

প্রতিবন্ধী নারীর অন্তর্ভুক্তির জন্য সবার আগে দরকার তার শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা ও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কী প্রবেশগম্য? এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতা অনেক দরকারি। এ প্রবেশগম্যতা শুধু অবকাঠামোগত নয়, বিষয়বস্তুগুলোও প্রবেশগম্য হতে হবে।

ইনোভেশন টু ইনক্লুশন কর্মসূচির অধীনে আমরা সাত হাজার প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা তাদের জন্য দুই রকমের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। একটা হলো সফট স্কিল ট্রেনিং, অন্যটা ডিজিটাল লিটারেসি ট্রেনিং। এ দুটি প্রশিক্ষণই যেকোনো মানুষের জন্য দরকার। বিশেষ করে তার কর্মসংস্থানের জন্য অবশ্যম্ভাবী। বর্তমানে কোভিড পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণে ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।

অনলাইনে সব প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ঘরে বসে অনলাইনে এ প্রশিক্ষণগুলো নিতে পারছে। অভিভাবকদের নেতিবাচক মানসিকতা প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এটা প্রতিবন্ধী মানুষের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। স্বপ্ন দেখার মতো একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একটা প্রকল্প সবকিছু করতে পারবে না, সে জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ, সহযোগিতা ও সরকারের আন্তরিকতা দরকার।

ফিরোজ চৌধুরী

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পেছনে ফেলে রেখে কোনো লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব নয়। প্রতিবন্ধী নারীদের তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ তাদের স্বনির্ভর করে গড়ে তুলবে। আজকের গোলটেবিল বৈঠকে যেসব সুপারিশ এসেছে, আশা করি সরকারের নীতিনির্ধারকেরা তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। সম্মানিত অতিথি ও আলোচকদের প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

সুপারিশ

  • প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে

  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ, চাকরি ও সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন

  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যেকোনো কর্মপরিকল্পনা ও নীতিমালা প্রণয়নের আগে তাদের মতামত নেওয়া জরুরি

  • গ্রামীণ প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য অনলাইনভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে

  • প্রতিবন্ধী নারীদের সামাজিকভাবে শক্তিশালী করতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

  • চাকরিদাতাদের নারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ কোটা বৃদ্ধি ও কর্ম পরিবেশ তৈরি করতে হবে

  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যেকোনো কর্মপরিকল্পনা ও নীতিমালা প্রণয়নের আগে তাদের মতামত নেওয়া জরুরি

  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিচর্যায় কেয়ারগিভার সেবা নিশ্চিত করতে হবে

গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন