বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আব্দুল কাইয়ুম

আজ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারলে আমরা সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারব। আজকের গোলটেবিল বৈঠকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে। সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে।

শফিকুল ইসলাম

বাংলাদেশের জাতিসংঘের প্রতিবন্ধিতা সংক্রান্ত সনদে স্বাক্ষর করেছে অনেক আগে। আমাদের দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কিছু কাজ হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। সনদের ২৭ নম্বর আর্টিকেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের কথা বলা আছে। সেই সঙ্গে তাঁদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টির কথাও বলা আছে। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ সালের কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরি সংস্থান ও চাকরির ক্ষেত্রে সমান সুযোগের কথা খুব জোর দিয়ে বলা হয়েছে। সুতরাং আমাদের দেশের আইন চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক। কিন্তু আমরা সবাই এই আইন ও এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে কতটুকু জানি? এগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমাদের কি আসলেই আগ্রহ আছে? আমাদের এ ব্যাপারে আরও সচেতন হতে হবে।

কর্মক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পিছিয়ে আছেন, নাকি আমরাই তাঁদের পিছিয়ে রাখছি, সেটাও ভাবতে হবে। শুধু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না। সেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ধরেও রাখতে হবে। তাঁরা যাতে ঝরে না পড়েন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিবন্ধী মানুষের নিয়োগ পাওয়া যেমন জরুরি, তেমনি কর্মপরিবেশ ভালো রাখাটাও জরুরি। তাঁরা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারলে আবার ঝরে পড়বেন। প্রয়োজনে তাঁদের সহায়তা দেওয়া দরকার। কোথাও দেখা যায়নি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরি দেওয়া হয়েছে কিন্তু তাঁরা ঠিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। তাঁরা বরং আরও আগ্রহ নিয়ে কাজ করছেন। তাঁদের পাশে আমাদের সবার দাঁড়াতে হবে, সহযোগিতা করতে হবে। সেই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদেরও দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। আমাদের আরও বেশি উদার হওয়া দরকার। প্রচার-প্রচারণা আরও বাড়ানো দরকার।

আব্দুর রাকিব

এডিডি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের সাথে অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে এক সঙ্গে কাজ করছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আমরা সরকারি-বেসরকারি চাকরিদাতাদের কর্মসূচির সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে কাজ করছি। সমাজে প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান, এটি দুর করার জন্য গণমাধ্যমকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের আত্বনির্ভরশীল করে সমাজ থেকে ভ্রান্ত ধারণা দূর করা সম্ভব। জাতিসংঘ ঘোষিত সনদ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে সকল বাধা ও চ্যালেঞ্জগুলো দূর করা যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এক্ষেত্রে সকল চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সকলকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সুদীপ্ত কুমার দাস

আমি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছি। এদিকে আমার সরকারি চাকরির বয়সও শেষ হয়ে যাচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও চাকরি পাচ্ছি না। কোথাও ইন্টারভিউ দিতে গেলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে কাজটি ঠিকমতো করতে পারব কি না। অন্যান্য দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নানা রকম সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশে এখনো সে রকম কিছু দেখছি না।

জান্নাতুল ফেরদৌস অর্থি

আমি একজন কর্মজীবী প্রতিবন্ধী নারী। প্রতিবন্ধী নারীদের চাকরির ইন্টারভিউতে গিয়ে প্রথমে শুনতে হয়, ‘আপনি কি কাজটি করতে পারবেন?’ তবে আমি বর্তমানে যে প্রতিষ্ঠানে আছি, সেখানে আমি অনেক সহায়তা পেয়ে থাকি। সহকর্মীরাও স্বাভাবিক ব্যবহার করেন। আমি কাজের ক্ষেত্রে আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি বলতে চাই, আমাদের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুযোগ দিলে আমরাও কাজ করতে পারি, স্বাবলম্বী হতে পারি।

মহুয়া পাল

নিয়োগকর্তাদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরিপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা। এ ছাড়া আমার মতো যাঁরা হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য যাতায়াত আরেকটি বড় সমস্যা। সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এ রকম কিছু কিছু সমস্যা থাকে। অনেক নিয়োগকর্তা বলেন, ‘আমি চাকরি দিয়েছি কিন্তু তিনি কাজ করতে পারছেন না।’ কিন্তু কেন কাজ করতে পারছেন না, সেটি কিন্তু কেউ দেখছেন না। কারণ, আমাদের কাজের সে রকম পরিবেশ নেই। সে রকম পরিবেশ থাকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও আরও ভালো কাজ করতে পারবেন। নিয়োগকর্তাদের প্রতিবন্ধী মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে যে তাঁরাও কাজটি করতে পারেন। তাঁদের মানসিকতার কিছুটা পরিবর্তন করলেই দেশের লাখ লাখ চাকুরী প্রত্যাশী প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েদের কর্মসংস্থান হবে।

ভাস্কর ভট্টাচার্য

প্রযুক্তির শক্তি দিয়ে আমরা বিশ্ব জয় করতে পারি, সেটি আমরা অনেকবার প্রমাণ করেছি। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ৫ বার সরকারি লিখিত পরীক্ষায় টিকেও ভাইভায় গিয়ে টিকতে পারিনি। কারণ, আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। আমাকে যোগ্য মনে করা হয়নি। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। প্রযুক্তির কারণে এখন আমি সরকারের একটি তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগে কাজ করছি। সুতরাং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আস্থা হারালে চলবে না। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সরকার প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য অনলাইনে ‘মুক্তপাঠ’ প্রতিষ্ঠা করেছে। কোনো প্রতিবন্ধী মানুষ চাইলেই এখন ঘরে বসে অনেক কিছু শিখতে পারবেন। ঠিক করে নিতে পারবেন নিজেদের দক্ষতা। আমরা মাল্টিমিডিয়া টকিং বুক চালু করেছি। এই বই পড়া যায় এবং শোনা যায়। সুতরাং আমাদের মতো প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কাজ করতে হলে খুব বেশি কিছু করতে হয় না। সাধারণ মানুষ যা ব্যবহার করছে, সেটাই যাতে আমরাও ব্যবহার করতে পারি, সেই ব্যবস্থা করে দিলেই আমরাও সমাজের সাধারণ মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারব। বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে পূর্ণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তরুণদের বলতে চাই, সারা পৃথিবী এখন তোমার দেশ। প্রযুক্তি তোমাদের সেই সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলো। তাহলে তুমিও সফল হবেই।

আজিজা আহমেদ

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যাঁরা চাকরি করতে আগ্রহী, তাঁদের কীভাবে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা দেখেছি, চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রত্যাশী ব্যক্তি—দুই পক্ষের মধ্যে একটা গ্যাপ তৈরি হয়ে আছে। গ্যাপটা দুই পক্ষ থেকেই রয়েছে। কারণ, দক্ষতার সমস্যা হয় অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির। চাকরিদাতারা যে ধরনের স্কিল চায়, আমাদের প্রতিবন্ধী ভাইবোনেরা যদি সেগুলোকে আয়ত্ত করেন, তাহলে গ্যাপটা কমবে। ট্রেনিং সেন্টারে ব্যাপারটা গুরুত্বের সঙ্গে শেখানো উচিত। কোভিডের কারণে যখন সবাই চাকরি হারাচ্ছিলেন, তখন কিন্তু প্রথমেই প্রতিবন্ধী মানুষেরা চাকরি হারিয়েছেন। সুতরাং এখন তাঁদের আবার কীভাবে কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা যায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। এ ছাড়া আরও যারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে, তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে, একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সাবিহা দিল আফরোজ

আমি বলব, প্রথমে চাকরিদাতাদের মানসিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা চারজন ব্যক্তিদের মানুষকে আমাদের সঙ্গে কাজে যুক্ত করেছি। তাঁরা সাধারণত ক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করেন। যেমন ক্রেতাদের থেকে টাকা নেওয়া-দেওয়া, কম্পিউটারে সেটা এন্ট্রি করা ইত্যাদি। আমাদের সঙ্গে যে চারজন কাজ করছেন, তাঁরা খুবই ভালো কাজ করছেন। তাঁদের পদোন্নতির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তাঁরা কোনোভাবে একজন অ–প্রতিবন্ধী মানুষের তুলনায় কম কাজ করেন না। আমরা ভাবছি, এরপর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আমরা কল সেন্টারে কাজে লাগাব। আমরা ধীরে ধীরে প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে আরও কাজ করব।

হুমায়ুন কবির

একটি শিশু প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মালে সেটা শিশু বা মা–বাবা, কারও দোষ নয়। কিন্তু আমরা পরিবারে ও সমাজে প্রতিবন্ধী শিশুটিকে সঠিকভাবে সম্মান করতে পারি না। আমরা চেষ্টা করি আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শাখায় দু–তিনজন প্রতিবন্ধী মানুষকে চাকরি দিতে। সে লক্ষ্যে এক দশক ধরে আমি কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিবন্ধী মানুষেরা যেভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছেন, তাতে তাঁরা আরও এগিয়ে যাবেন বলে আমার বিশ্বাস।

জহির–বিন–সিদ্দিক

আমাদের সঙ্গে অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কাজ করেছেন। তাঁরা আসলেই অনেক মেধাবী। কিন্তু চাকরি করতে গেলে তাঁদের সামর্থ্য নিয়ে যখন প্রশ্ন করা হয়, তখন তাঁরা আস্থা হারিয়ে ফেলেন। তাঁদের সুযোগ দিতে হবে। বলছি না যে দয়া করে তাঁদের চাকরি দেন। তাঁদের যোগ্যতা অনুসারে চাকরি দেন।

বাংলাদেশে এ ব্যাপারে একটি আইন আছে। কোনো কোম্পানি যদি তাদের মোট কর্মকর্তার ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী মানুষকে চাকরি দেয়, তাহলে বার্ষিক করের ৫ শতাংশ ফেরত পাবে। কিন্তু এটা আসলে হচ্ছে না। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের আরও অনেক মেধাবী প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েরা কাজের সুযোগ পাবে।

সালাউদ্দিন মাহমুদ

আমরা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করি। সরকার থেকে করোনাকালে তাদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আমি বলতে চাই, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আমাদের সমাজের বোঝা নন। তাঁদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে, শিক্ষিত করা গেলে তাঁরাও আমাদের দেশের সম্পদে পরিণত হবেন। তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ডেটাবেইস থাকাটা খুব জরুরি। তাহলে সেই ডেটাবেইস দেখে যিনি যেখানে যোগ্য, সেখানে তাঁকে চাকরি দেওয়া সম্ভব হবে।

আমরা চাই সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে। একজন প্রতিবন্ধী মানুষ পরিবার বা সমাজ থেকে হেয়প্রতিপন্ন হলে তাঁর নিজের কাছেও ছোট মনে হয়। এটা কিন্তু মোটেও ঠিক নয়। আমাদের সমাজকে উন্নয়ন করতে হলে সমভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

কামরুল ইসলাম চৌধুরী

আমাদের দেশে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আছে। কিন্তু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যে রকম সেটআপ বা ইকুইপমেন্ট দরকার, সেগুলো সব জায়গায় গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে অনেক গ্যাপ থেকে যাচ্ছে। কর্মকর্তারা চাকরি ক্ষেত্রে যে ধরণের দক্ষতা চান, সরকার যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূল স্রোতোধারায় আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সরকারের একক চেষ্টায় পরিবর্তন আসা কঠিন। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশীজনদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে ও প্রতিবন্ধীবান্ধব করতে হবে। আমাদের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আছে, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আছে, সমাজসেবা অধিদপ্তর আছে। সবার একসঙ্গে জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।

ফিরোজ চৌধুরী

আজকের গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য সম্মানিত অতিথিদের প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন