৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ প্রথম আলো ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা: করোনাকালে জেলেদের অবস্থা ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা’ শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়
৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ প্রথম আলো ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা: করোনাকালে জেলেদের অবস্থা ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা’ শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়

গোলটেবিলে অংশগ্রহণকারী

মো. তৌফিকুল আরিফ: যুগ্ম সচিব (ব্লু ইকোনমি), মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়

শাহীন আনাম: নির্বাহী পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

আবদুল ওহাব: টিম লিডার, ইকো ফিশ প্রকল্প, ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ

সৈয়দ আরিফ আজাদ: সাবেক মহাপরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর

বেগম নুরুন্নাহার: ন্যাশনাল অপারেশনস অফিসার, এফএও বাংলাদেশ

মো. শরিফ উদ্দিন: প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ইউনিট, চট্টগ্রাম

রেজাউল করিম চৌধুরী: নির্বাহী পরিচালক, কোস্ট ট্রাস্ট

নইমুল আহসান জুয়েল: উপদেষ্টা, বিলস ও সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশ

শেখ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ: সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

রুমানা সুলতানা: সহকারী অধ্যাপক, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)

এস এম জাকির হোসেন: সমাজকল্যাণ সম্পাদক, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় কমিটি

মিজানুর রহমান বাহাদুর: উপদেষ্টা, কক্সবাজার মৎস্য শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন

সূচনা বক্তব্য

আব্দুল কাইয়ুম: সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো

সঞ্চালনা

ফিরোজ চৌধুরী: সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন

আলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম

সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও করোনাকালে জেলেদের অবস্থা নিয়ে আজকের আলোচনা। দুই দিক থেকেই উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা সমস্যায় আছেন। একদিকে মাছ ধরা বন্ধ, অন্যদিকে এই সময় বিকল্প কর্মসংস্থান থাকে না। এই গোলটেবিলের উদ্দেশ্য হলো প্রান্তিক জেলেদের জীবনমানের উন্নয়ন ও সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষা।

মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। কোভিডের সময় তাঁরা এখন আরও বেশি খারাপ অবস্থায় আছেন। সরকারি সহযোগিতার সঙ্গে তাঁদের যেন বিকল্প কাজের সুযোগ থাকে।

default-image

শেখ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ

বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্য খাতের সামগ্রিক অবস্থা বিশ্লেষণের জন্য ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন একটি গবেষণাধর্মী প্রকল্প শুরু করেছে। বিলস ও কোস্ট ট্রাস্টকে সঙ্গে নিয়ে ড্যানিশ ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান রাইটসের সহযোগিতায় ‘সাসটেইনেবল ওশানস’ নামক প্রকল্পটি কক্সবাজার জেলার মহেশখালী এবং বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলায় কাজ করছে। প্রকল্পটি একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পের অংশ। এর আওতায় দক্ষিণ আমেরিকার চিলিতেও অনুরূপ প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশে এর প্রাদুর্ভাব ঘটে এ বছর মার্চ মাসে। সে সময়ে প্রকল্পের বেশির ভাগ এলাকায় মাছ ধরার কাজ চলতে থাকলেও বাজারে ক্রেতার অভাব, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে চলা, মানুষজন বাসা থেকে বের না হওয়া ইত্যাদি কারণে জেলেদের জীবিকা বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর ২০ মে শুরু হয় সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর বার্ষিক ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এটা বলবৎ থাকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত। এর ফলে মহেশখালী ও পাথরঘাটা অঞ্চলের জেলেরা অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।

৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা ও করোনাকালীন ছুটিতে সামুদ্রিক জেলেদের কতটা ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে, তা নিরূপণের জন্য ‘সাসটেইনেবল ওশানস’ প্রকল্পের পক্ষ থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে একটি জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট মহেশখালী ও পাথরঘাটার জেলে ও মাছ ধরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৬১ জনের ওপর যৌথভাবে এ জরিপ পরিচালনা করে। করোনার বিষয়ে জেলেদের সচেতনতা কতটা ছিল এবং করোনাকালে সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ে জেলেদের প্রবেশগম্যতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাসুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের অধিকার কেমন ছিল, তা বোঝা ছিল এ জরিপের অন্যতম উদ্দেশ্য।

জরিপ থেকে যে চিত্র পাওয়া যায়, তাতে দেখা যায় যে জেলেরা এই সময়ে জীবিকার প্রশ্নে সমস্যায় পড়েন। তাঁরা মূলত মাছ ধরার ওপরই নির্ভরশীল এবং এর পাশাপাশি অন্য কোনো ধরনের কাজের দক্ষতা না থাকায় তাঁদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দিনমজুরি করতে বাধ্য হন।

অপর এক-তৃতীয়াংশ কর্মহীন অবস্থায় কাটান। করোনা প্রাদুর্ভাবের আগে যেখানে তাঁদের পারিবারিক দৈনিক আয় ছিল গড় ৩৭১ টাকা, সেটা মার্চ থেকে ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার আগে নেমে আসে ১৭১ টাকায়। ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালে এ আয় আরও কমে ১০৭ টাকায় পৌঁছায়।

জেলেদের সার্বিক অবস্থার উন্নয়নে তাঁদের আপত্কালীন অবস্থা মোকাবিলার জন্য অন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি জেলেদের জন্য নগদ সহায়তা ও দুর্যোগকালে সহজ শর্তে বা বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করাও প্রয়োজন। সুপারিশ হিসেবে আরও বলা যায় যে বাংলাদেশের জলসীমায় অন্য দেশের নৌযান প্রবেশ ও মাছ ধরার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জেলে সম্প্রদায় এবং প্রকারান্তরে পুরো দেশের সামুদ্রিক মৎস্যশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

default-image

রুমানা সুলতানা

মাছ ধরতে না পারলে জেলেদের আয় কমে যায়। আয় কমে গেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে নারীরা অনেক চিন্তায় পড়ে যান। এখানকার গর্ভবতী নারী, বয়স্ক নারী-পুরুষ ও শিশুরা ভীষণ সমস্যায় পড়ে। আবার তাদের হাসপাতালে সেবার সুযোগ কমে যায়।

তবে করোনাকালে লকডাউন ও ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজন। এটা সঙ্গে নিয়ে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলাটাই উদ্দেশ্য। তাঁরা খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য প্রধানত যে কাজ করেছেন, তা হলো আত্মীয়স্বজনসহ অন্য কোনো সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন।

ঋণের জন্য তাঁদের প্রতি সপ্তাহে সুদসহ কিস্তি দিতে হয়েছে। তাঁদের দক্ষতার কথা বারবার এসেছে। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এটা শুধু জেলেদের জন্য নয়। কারণ, জেলেদের প্রায় অর্ধেক নারী সদস্য। তাঁদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বাড়ির অন্য সদস্যদের শাকসবজি উৎপাদনে জড়িত থাকা প্রয়োজন।

তাহলে আপত্কালীন মাছ-মাংস না হোক, শাকসবজি খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। নারী, শিশু, বয়স্কসহ যাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ; তাঁদের কথা ভাবতে হবে। তাঁদের নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া খুবই প্রয়োজন। তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। জেলে সম্প্রদায়কে স্বাবলম্বী করার জন্য তাদের যদি প্রশিক্ষণ দিতে হয়, তাহলে সেটা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

আবদুল ওহাব

করোনায় দেশের মানুষকে রক্ষার জন্য সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কতগুলো ভালো পদক্ষেপ নেয়, তার মধ্যে একটি ছিল লকডাউন। লকডাউনে নানা সম্প্রদায়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলে সম্প্রদায়। তারা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারল, বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নৌকা নেওয়া যাবে না।

মার্চ-এপ্রিল দুই মাস জাটকার জন্য বন্ধ থাকে। এরপর এসেছে ৬৫ দিনের বন্ধ। সব মিলে ১৪৮ দিন বন্ধ থাকে। জেলে সম্প্রদায়ের এক-তৃতীয়াংশ শুধু সাগরে মাছ ধরে। এক-তৃতীয়াংশ শুধু নদীতে মাছ ধরে। এক-তৃতীয়াংশ সাগর ও নদী উভয় জায়গায় মাছ ধরে। তাই যেখানেই নিষেধাজ্ঞা হোক না কেন, এক-তৃতীয়াংশ চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দুই–তৃতীয়াংশ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞার জন্য আরও বৈজ্ঞানিক তথ্যের প্রয়োজন। কারণ, বাংলাদেশের জেলে সম্প্রদায় ত্যাগস্বীকার করেছে বলেই ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। শুধু নদীতে নয়, সাগরেও ইলিশের ‍উৎপাদন বেড়েছে। ৬৫ শতাংশ মাছই সাগরের ইলিশ। এই ইলিশ রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার যে সাফল্য দেখিয়েছে, তারই ফলে আজ সামুদ্রিক মাছও বেড়েছে।

৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সমালোচনা থাকলেও এটা দেশের মৎস্যসম্পদ ও মানুষের কল্যাণে করা হয়েছে। কিন্তু এই কল্যাণের মধ্যে কিছু অকল্যাণ আছে। সেটা হলো—৬৫ দিনে একেবারে ২৩ জুলাই পর্যন্ত যেতে হবে কি না বা ৩০ জুন পর্যন্ত করতে পারলে জেলেরা আরও ২৩ দিন সময় পেতেন কি না, এর জন্য বৈজ্ঞানিক তথ্য–উপাত্তের প্রয়োজন আছে।

এই দুই মাসের জন্য তাঁদের যেন নগদ দুই হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। যাঁদের ত্যাগের জন্য এই মাছ উৎপাদিত হয়েছে, সেখান থেকে কেজিপ্রতি এক টাকা করে সঞ্চয় করে সেটা আবার জেলেদের কল্যাণে ব্যয় করতে পারি।

default-image

মো. শরিফ উদ্দিন

৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারের দিক থেকে যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করেছি, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমাদের উপকূলীয় ১৪টি জেলার ৪৪টি উপজেলায় চট্টগ্রাম মহানগরসহ আইডি কার্ডধারী ৪ লাখ ২০ হাজার জেলে পরিবারকে মাসে ৪০ কেজি করে ৬৫ দিনে প্রায় ৮৬ কেজি খাদ্যসহায়তা প্রদান করে থাকি। আপনারা জেনে খুশি হবেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল ও মেরিন ফিসেচ প্রকল্প নামে একটা প্রকল্প চলমান। এ প্রকল্পের মাধ্যমেও উপকূলীয় মৎস্যজীবী ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের বিভিন্ন কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ সালে সমুদ্র উপকূলে প্রায় ৭ হাজর ৫০০ মৎস্যজীবীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি।

কোভিড–১৯–এর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবী, কাঁকড়াচাষিদের প্রণোদনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মৎস্যপণ্য বাজারজাতকরণের জন্য সহায়তা প্রদান করছি। মৎস্য সংরক্ষণ, মৎস্য বৃদ্ধি ও আমাদের মৎস্যসম্পদ ঠিক রাখার জন্য ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন আছে; এ ব্যাপারে কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি।

সমুদ্রে নানা জাতের মাছ বিভিন্ন সময় প্রজনন করে। তবে অধিকাংশ মাছই এই ৬৫ দিনে প্রজনন করে। তবে অবশ্যই সময়-সময় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্নির্ধারণ করার প্রয়োজন রয়েছে।

default-image

রেজাউল করিম

কোভিড–১৯ ও ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলে পরিবারের নারী, শিশু ও কিশোর–কিশোরী। আমি নিশ্চিত যে বাল্যবিবাহের সংখ্যা বেড়েছে। আমরা যদি তাদের মানবাধিকার দিতে চাই, তাহলে শিক্ষা, শিশু ও কিশোর–কিশোরীরা যেন বাল্যবিবাহের শিকার না হয়, সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে হবে।

কোথায় বিনিয়োগ করতে হবে? আমরা অনেকে জানি, বাংলাদেশে ২৪টি জেলা হলো উপকূলীয় জেলা। বাংলাদেশে জেলে জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি। গবেষকেরা বলছেন, ২০৫০ সাল পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রতি পাঁচজনে একজন উদ্বাস্তু হবে। এদের মধ্যে এই জেলে সম্প্রদায়ও আছে। আমাদের আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে, যদি তারা উপকূলে থাকে, তাহলে কীভাবে মাছ ধরবে। আর যদি উপকূলের বাইরে যায়, তাহলে তাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত নগরায়ণ হচ্ছে। তাদের সেখানে কীভাবে সম্পৃক্ত করব, সেটি ভাবতে হবে। বংশপরম্পরায় জেলেরা মাছ ধরে অভ্যস্ত। আমাদের উপকূলীয় এলাকায় জলদাসদের অবস্থা দেখেছি। আমরা যদি জেলেদের উন্নয়ন করতে চাই, তাহলে তঁাদের শিক্ষায় ব্যয় করতে হবে। বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারকে জলদাস সম্প্রদায় যা দিয়েছে, এর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ জেলেদের কিছুটা ফিরিয়ে দিতে হবে তঁাদের মানবাধিকারকে শ্রদ্ধা করার জন্য। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

default-image

শাহীন আনাম

সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। কোস্ট ট্রাস্ট ও বিলস প্রথম থেকেই ‘সাসটেইনেবল ওশানস’ প্রকল্পের সঙ্গে আছে। করোনাকালে জেলেদের অবস্থা কী, সেটা তারা গবেষণা করেছে। তাঁদের জীবনমানের জন্য কী কী কাজ করতে পারি, সেটা নিয়ে বিলস ও কোস্ট ট্রাস্ট কাজ করছে।

সমুদ্রে মাছ না ধরার জন্য ৬৫ দিনের যে নিষেধাজ্ঞা থাকে, সেটা অনেক সুফল দেয়। এ বিষয় সবাই একমত। কিন্তু এটা ৬৫ না, ৬০ না, ৫৫ দিন হবে; সেটা একটা গবেষণার বিষয় হয়ে গেছে। এটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আমাদের কথা হলো জেলে সম্প্রদায় এমনিতেই প্রান্তিক। তারা নানা ধরনের দুঃখ, কষ্ট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আছে। সমুদ্রে মাছ ধরা এত সহজ নয়। তারা অনেক সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে যায়। এদের প্রান্তিকতা কীভাবে কমানো যায়, সেটা নিয়েই আলোচনা করছি। সরকার যে অনুদান বা সাহায্য দেয়, আমরা অবশ্যই এটার সাধুবাদ জানাই। এটা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়। চাল, ডালের সঙ্গে কিছু নগদ অনুদান দেওয়া প্রয়োজন। তাদের বিকল্প জীবন–জীবিকার কথা চিন্তা করতে হবে। যাঁরা মাছ ধরবেন, তাঁরা বংশপরম্পরায় শুধু মাছ ধরবেন; আর কিছু করবেন না, এটা তো হতে পারে না। তাঁদের সন্তানদের লেখাপড়া শিখে অন্য পেশায় যাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিকল্প জীবিকার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা যেন করা হয়।

উপকূলীয় এলাকায় নারীরা খুবই একটা চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে বসবাস করেন। তাঁরা যে নিজেরা উন্নতি করবেন, এর সুযোগ নেই। তাঁদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের দিকে নজর দেওয়া খুবই দরকার। কোভিড না থাকলেও তাঁদের জীবন খুব ঝুঁকিপূর্ণ। কোভিডে অবস্থা আরও খারাপ। সবাই মিলে চিন্তা করে তাঁদের জন্য কিছু ভাবতে হবে। সবাইকে ধন্যবাদ।

default-image

এস এম জাকির হোসেন

জেলেদের ৪০ কেজি চাল দেওয়া হয়। প্রত্যেকের পরিবারে পাঁচ থেকে ছয়জন সদস্য। ৪০ কেজি চালে তাঁদের কিছুই হয় না। জেলেদের অন্যতম একটা দাবি হলো, প্রতি মাসে তাঁদের যেন ৬০ থেকে ৮০ কেজি চাল দেওয়া হয়। আর দুই হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয়।

সরকারের যে নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটা তাঁরা মেনে চলছেন। এই নিষেধাজ্ঞার প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা আছে। ট্রলার নিয়ে যখন সাগরে যান, তখন তাঁদের জ্বালানি ও বাজার নিয়ে যেতে হয়; পরবর্তী সময়ে মাছ বিক্রি করে এ টাকা শোধ করতে হয়।

তাঁদের কোনো কল্যাণ তহবিল নেই। তাঁরা যদি নিখোঁজ হন, মারা যান, তাঁদের সাহায্যের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাঁদের স্বাস্থ্যসেবার তেমন ব্যবস্থা নেই। গত বছর যেখানে ২৮ জন ডাক্তার থাকার কথা, সেখানে মাত্র ৩ জন ডাক্তার ছিলেন। এবার আছেন ৮ জন।

বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য দুই বা তিন বছরের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি।

বিজ্ঞাপন
default-image

মিজানুর রহমান বাহাদুর

জেলেদের দাবি হলো, মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার সময় মাসে আট হাজার টাকা করে দিতে হবে। তাহলে তাঁরা কোনো রকম চলতে পারবেন। তাঁদের ধরা মাছ যদি পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি হয়, তাহলেও তাঁরা কোনো লাভ পান না। তাঁরা শুধু নির্দিষ্ট একটা বেতন পান।

মাছ ধরতে যাওয়ার সময় এক হাজার টাকা দেওয়া হয়। আসার পর হয়তো আবার তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়, তা–ও যদি মাছ পাওয়া যায়। না পাওয়া গেলে আর টাকা দেওয়া হয় না। ফলে তাঁকে ঋণ করে চলতে হয়। যাঁরা এ পেশার সঙ্গে জড়িত, তাঁরা অধিকাংশই কোনো লেখাপড়া জানেন না। জেলেদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যেন তাঁরা দক্ষতার সঙ্গে ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৎস্য শিকার করতে পারেন। এই বলে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

default-image

বেগম নুরুন্নাহার

২০১৫ সালে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। আজ ২০২০ সাল। এই সময়টা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সমুদ্রে মাছের প্রবাহ বাড়ানো। মাছের প্রজননের সময়ে যদি মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়, তাহলে সমুদ্রসম্পদ বৃদ্ধি পাবে।

আমি সুপারিশ করতে চাই, যাঁদের কার্ড আছে, শুধু তাঁদের নন, যাঁদের কার্ড নেই, তাঁদেরও সহায়তা দিতে হবে। কেবল চালের ওপর নির্ভর করলে প্রয়োজনটা পূরণ হবে না। তাঁদের যদি টেকসই উন্নয়ন করতে হয়, তাহলে আপৎকালীন সাহায্যের সঙ্গে তাঁদের সংঘবদ্ধ করতে হবে। একেকটা এলাকায় তাঁদের ছোট ছোট দলের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। সেই সংগঠনের মাধ্যমে তাঁদের চাহিদা পূরণ করা যাবে। আলোচনায় সঞ্চয়ের কথা এসেছে। তাঁদের যদি সংগঠিত করা যায় এবং সেই সংগঠনের নামে যদি কমিউনিটি ক্যাপিটাল তৈরি করা যায়, তাহলে আপৎকালীন সহযোগিতা পেতে পারে। সব সময় সরকারের কাছ থেকে সাহায্য নিলেই হবে না, তাঁদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।

আমি মনে করি জেলে সম্প্রদায়ের নারীদের জন্য আলাদা প্রণোদনার প্রয়োজন আছে। তা না হলে সাধারণ প্রণোদনায় নারীরা খুব একটা সুযোগ পান না।

default-image

নইমুল আহসান জুয়েল

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) ও ট্রেড ইউনিয়ন করপোরেশন মিলে যতটুকু দেখি, সেটা হলো ৩০ শতাংশ জেলের কার্ড আছে। ৭০ শতাংশের নেই। এই ৩০ শতাংশের সবাই জেলে নন। জেলেদের বাইরেও অনেকে কার্ড পেয়েছেন। আমাদের কাছে এমন তথ্য আছে। এমনও জানি যে ২৭ বছর যাবৎ জেলে হিসেবে কাজ করছেন, কিন্তু তিনি কার্ড পাননি। এ রকম ‍উদাহরণও আমাদের কাছে আছে। জেলেদের একটা চেইন আছে। দুই মাস পাঁচ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে এই চেইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁদেরও এখানে ‍নিয়ে আসতে হবে। সামনের অক্টোবরে আবার নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। অক্টোবরের ৮ তারিখ থেকে পরবর্তী ২২ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

বিশেষ করে আমাদের দেশে যখন মাছ ধরা বন্ধ থাকে, তখন ভারতে চালু থাকে। সে জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের একটি পরিকল্পনা করা উচিত। আমরা বিভিন্নভাবে খবর পেয়েছি, এই বন্ধের সময় গোপন পথে এই মাছ চুরি হয়ে যায়। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলে গেলে যে পরিমাণ মাছ পাওয়ার কথা, অনেক ক্ষেত্রে সে পরিমাণ পাওয়া যায় না।

তাঁদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়নের সুযোগ দিতে হবে। অবাধ ট্রেড ইউনিয়নের সুযোগ দিলে তাঁদের অধিকার আদায় করে নিতে পারবেন। ধন্যবাদ।

default-image

সৈয়দ আরিফ আজাদ

৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে আমি একজন। কারণ ওই সময় আমি মৎস্য অধিদপ্তরের দায়িত্বে ছিলাম। অনেকেই আজ আলোচনায় বলেছেন কাজটা ভালো হয়েছে। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আসলেই প্রয়োজন ছিল। একজনও বলেননি যে নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই। এ জন্য আমি কিছুটা কৃতজ্ঞতা বোধ করছি। কিন্তু জেলেদের দুঃখ–কষ্টের কথা শুনে বেদনাবোধ করি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৎস্য খাতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সব কটি উদ্যোগ প্র–অ্যাকটিভ। সরকার যেটা মনে করেছে জনকল্যাণে করা দরকার, সেটা প্র–অ্যাকটিভলি করেছে।

৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞাও আমরা প্র-অ্যাকটিভলি করেছিলাম। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার সুবিধা-অসুবিধার দায় আমিও কিছুটা নিতে চাই।
কারণ আমরা যখন ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলাম, সে সময় আমাদের কোনো প্রাথমিক তথ্য ছিল না। আমরা কিছু সেকেন্ডারি তথ্য ও পার্শ্ববর্তী দেশের রেফারেন্স ব্যবহার করে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলাম। কাজেই ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা ঠিক আছে কি না, এই প্রশ্ন যাঁরা তুলেছেন, তাঁরা ঠিকই তুলেছেন বলে মনে করি। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়বে, কমবে, এগোবে, পেছাবে—এটা নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। এবার ভারতের নিষেধাজ্ঞা ছিল ৬১ দিন।

আমাদের জেলে ভাইদের জীবনই সংগ্রামের। ইউএসএআইডির সহায়তায় সরকার ইতিমধ্যে তাঁদের জন্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটা তহবিল করেছে। ভবিষ্যতে এটা পরিপক্ব হবে। ৪৫০টি গ্রামে গ্রুপ ফরমেশন হবে। এটার নিবন্ধন ও দলবদ্ধ কার্যক্রম ও সঞ্চয় হবে। এসব বিষয়ে সরকার চিন্তা ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

default-image

মো. তৌফিকুল আরিফ

সরকারের যে কার্যক্রম আছে, সেগুলো তেমনভাবে আলোচনা হয় না। আলোচনায় প্রায় সবাই স্বীকার করে নিয়েছেন ৬৫ দিনের যে নিষেধাজ্ঞা, সেটার প্রয়োজন আছে। বঙ্গোপসাগরের মাছ আহরণের যে প্রবণতা, সেটা হলো সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পিক টাইম। ২০১৫ সালে যখন নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়, তখন এটা শুধু ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারের জন্য প্রযোজ্য ছিল। অন্য ট্রলারের জন্য প্রযোজ্য ছিল না।

২০১৯ সালে আমরা সবাইকে নিয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ফিশারিজ–সংক্রান্ত কার্যক্রম প্র-অ্যাকটিভ। তিনি নিজের হাতে লিখে দিলেন খাদ্যসহায়তাসহ এ কর্মসূচি এ বছর থেকে চালু করা হোক। ২০১৯ সালে খাদ্যসহায়তা দিয়েই চালু করেছি। অধিকাংশ আলোচকই ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পর্যালোচনা করার সুযোগ আছে বলেছেন। মন্ত্রণালয়ও এটি মনে করে। আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। শিগগিরই বিজ্ঞানী, একাডেমিশিয়ান ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সময়সীমা সমন্বয় করব। আলোচনায় এসেছে, ভারতের সঙ্গে সমন্বয় করা যায় কি না। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ফিশারিজ–সংক্রান্ত জয়েন্ট কমিশনে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছি। একই সঙ্গে বে অব বেঙ্গলের যে ইন্টার গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশন আছে, সেখানে আমরা ভারতসহ আরও যারা আছে, তাদের নিয়ে সময়টা সমন্বয় করা যায় কি না, সে ব্যাপারে প্রস্তাব দিয়েছি।

জেলেদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প আছে। আলোচনায় করোনার বিষয়টি এসেছে। এই করোনাকালে সরকার ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫৮৯ জন জেলেকে খাদ্যসহায়তা দিয়েছে। এই খাদ্যসহায়তার সঙ্গে আর্থিক প্রণোদনার বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় আছে। করোনাকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সেখান থেকে ৪ শতাংশ সুদে জেলেদেরও ঋণ নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। সবাইকে ধন্যবাদ।

ফিরোজ চৌধুরী

সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল একটা জনগোষ্ঠী জেলে সম্প্রদায়। তাদের জীবনমানের উন্নয়নের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের ভার্চ্যুয়াল গোলটেবিল আলোচনায় জেলে সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সুপারিশ ও পরামর্শ এসেছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে আশা করি।

প্রথম আলোর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

আলোচনায় সুপারিশ

  • জেলেদের সার্বিক অবস্থার উন্নয়নে তাঁদের আপত্কালীন অবস্থা মোকাবিলায় বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি

  • বাংলাদেশের জলসীমায় অন্য দেশের নৌযান প্রবেশ ও মাছ ধরা বন্ধে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন

  • জেলেদের প্রতি মাসে অন্তত ৬০ থেকে ৮০ কেজি চাল দতে হবে

  • দুই মাসের জন্য জেলেদের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থসহায়তা জরুরি

  • জেলে সম্প্রদায়কে স্বাবলম্বী ও তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন

  • যাঁদের কার্ড আছে, শুধু তাঁরা নন, যাঁদের কার্ড নেই, তাঁদেরও সহায়তা প্রয়োজন

  • ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আরও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন

  • দুই মাসের জন্য তাঁদের যেন নগদ দুই হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। তাহলে তাঁরা লবণ, তেল, চিনি ও খাবারের অন্যান্য উপকরণ কিনতে পারবেন।

  • সময়-সময় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্নির্ধারণ করার প্রয়োজন রয়েছে।

  • জেলেদের অন্যতম একটা দাবি হলো, প্রতি মাসে তাঁদের যেন ৬০ থেকে ৮০ কেজি চাল দেওয়া হয়

  • আমি সুপারিশ করতে চাই, যাঁদের কার্ড আছে, শুধু তাঁদের নয়, যাঁদের কার্ড নেই তাঁদেরও সহায়তা দিতে হবে

গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন