আলোচনা

মোহাম্মদ ফজলে রেজা সুমন

আমরা জানি, অক্টোবর মাসকে আরবান অক্টোবর বলা হয়ে থাকে। নভেম্বর নগর–পরিকল্পনার মাস। শহরের দ্রুতগতির পরিবর্তনের জন্য সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ নিয়ে আমরা আলোচনা করি। এর মাধ্যমে আমরা একটি উন্নত শহরের ভবিষ্যৎ তৈরিতে  সচেতনতামূলক কাজ করি। শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য  সুপারিশ তৈরির চেষ্টা করি। ৮ নভেম্বর আমরা বিশ্ব নগর–পরিকল্পনা দিবস পালন করে থাকি। ১৯৪৯ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এই দিবস পালন করা হলেও বাংলাদেশে ২০০২ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবী ও পৌরসভা পর্যায়ে এটি বিচ্ছিন্নভাবে পালিত হয়। এ বছর আমরা দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের প্রস্তাব পেশ করেছি।

জাতীয় পরিকল্পনাসহ উচ্চতর পরিকল্পনার জন্য বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সরকারকে আরও উদার হতে হবে। এ ছাড়া ড্যাপ বাস্তবায়নের জন্য রাজউকের বোর্ড, পূর্বতন ডিআইটির আদলে পেশাজীবীদের দিয়ে পুনর্গঠন করতে হবে। এ ছাড়া সারা দেশে নগরায়ণের মূল দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন।

সরকারের রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ প্রায় ৮০ শতাংশ নগরায়ণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। নগরায়ণ আজ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। নগর–পরিকল্পনা আমাদের এমন একটি উন্নত নগর সামাজিক কাঠামোর স্বপ্ন দেখায়, যেখানে কোনো মানুষই বস্তিতে বাস করবে না। সবার জন্য সুন্দর জীবনমানের আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী মানসম্পন্ন নগর পরিষেবা প্রদান করা হবে।

আশা করছি, আজকের গোলটেবিল আলোচনা থেকে নগরায়ণের জনঘনত্ব ও বাসযোগ্যতার সমস্যা সমাধানকল্পে কিছু সুপারিশ আসবে। 

শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান

১৯৪৯ সালে প্রথম কার্লোস মারিয়া ডেলা পাওলেরা নামের ল্যাটিন আমেরিকার  একজন অধ্যাপক উপলব্ধি করলেন নগর–পরিকল্পনা দিবস পালন করা উচিত। কারণ, সারা বিশ্বে ব্যাপক আকারে নগরায়ণ হচ্ছে।  ২০০২ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ দিবসটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পালন করা হয়। 

গত এক যুগে এ দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল থেকে অনুমোদিত বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১–এ বলা হয়েছে, ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্র হবে। আমাদের দেশে কোনো গরিব মানুষ থাকবে না। ৮০ শতাংশ নগরায়ণ হবে। এটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সব সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসব প্রতিষ্ঠানের সব পর্যায়ে যদি পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন না হয়, ঢাকা শহর যদি উন্নত দেশের রাজধানীর মতো না হয়, তাহলে উন্নত দেশের স্বপ্ন অর্জিত হবে না। 

বঙ্গবন্ধু তঁার জীবদ্দশায় সারা দেশের উন্নয়নকল্পে জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে আর কোনো সরকার সে পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেয়নি। আমরা মনে করি, জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। সারা দেশের কোথায় আমরা কত মানুষ রাখতে চাই, সে জন্য দেশব্যাপী একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা দরকার। কেবল ঢাকা শহরের জন্য ড্যাপ গঠন করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। উন্নয়নের সুফল প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকার ১০০টি ইকোনমিক জোন তৈরি করছে। আবার ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রকল্প এবং    প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। 

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এর আলোকেই আমাদের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিকল্পনা করতে হবে। এ জন্য আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন প্রয়োজন। কারণ, একাধিক মন্ত্রণালয় নগরায়ণ নিয়ে কাজ করছে৷ এ ক্ষেত্রে আলাদা কোনো প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন কি না বা স্থানীয় সরকারকাঠামোসহ অন্যান্য বিভাগের দপ্তর কি ঢেলে সাজানো প্রয়োজন কি না, তা ভাবতে হবে। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে পর্যাপ্তসংখ্যক নগর–পরিকল্পনাবিদদের সংযুক্ত করতে হবে।

আকতার মাহমুদ

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ শীর্ষক একটি কারিগরি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।    এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের ৪৯৫টি উপজেলার অধীনে ৮৭ হাজার গ্রামে নগর–সুবিধাকে সম্প্রসারণ করা। এ বিষয়টি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল। কেউ কেউ ভাবছে, গ্রামগুলোকে হয়তো শহরে রূপান্তর করা হবে।  আসলে তা নয়। গ্রামকে নগরে পরিণত করা এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, কীভাবে গ্রামের মানুষকে নাগরিক সুবিধা দেওয়া যায়। 

এটি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই অনেকগুলো পলিসি পেপার তৈরি করা হয়েছে। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হচ্ছে উপজেলা মাস্টারপ্ল্যান। সারা বাংলাদেশে ৪৯৫টি উপজেলা আছে। এসব উপজেলায় পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য মাস্টারপ্ল্যান জরুরি। এর আগেও আশির দশকে এ ধরনের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হয়েছে। সে সময় একটি মাস্টারপ্ল্যানও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এর অন্যতম প্রধান কারণ, উপজেলা পরিষদে কোনো নগর–পরিকল্পনাবিদ নেই৷ প্রতিটি উপজেলায় নগর–পরিকল্পনাবিদ থাকা প্রয়োজন। 

রূপকল্প ২০৪১, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, প্রেক্ষিত পরিকল্পনাসহ প্রতিটি পরিকল্পনায় সারা বাংলাদেশের সুষম উন্নয়নের কথা বলা আছে। সুষম উন্নয়ন করতে চাইলে গ্রামকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা কেবল ঢাকাকে নিয়েই আলোচনা করি। এ আলোচনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারবে না, যদি আমরা সারা বাংলাদেশকে নিয়ে চিন্তা না করি। বাংলাদেশ অত্যন্ত ছোট একটি দেশ। এ দেশে বসবাসকারী জনসংখ্যা অনেক বেশি। সুতরাং, প্রতিটি ইঞ্চি জমি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবহার করা প্রয়োজন। 

বাংলাদেশে বসত ভূমি সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে প্রতিবছর ১ শতাংশ কৃষিজমি অ-কৃষিজ খাতে রূপান্তরিত হচ্ছে। এটি আমাদের খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের হুমকি। ফলে সারা বাংলাদেশে ভূমি ব্যবহারে পরিকল্পনা প্রয়োজন। 

ইশরাত ইসলাম

বাংলাদেশের সামনে এখন অনেকগুলো সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। এর মধ্যে অন্যতম হলো এসডিজি। এটি বাস্তবায়নে আমরা বিশ্বব্যাপী অঙ্গীকারবদ্ধ। সুতরাং সেখানে নগরবিষয়ক সূচকগুলো সংযুক্ত করার বিষয়ে আমি জোর দেব৷ উন্মুক্ত স্থান, জলাধার সংরক্ষণ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। বাসযোগ্যতা একটি বড় বিষয়। মানুষের জন্য আগে মাথা গোঁজার ঠাঁই জরুরি, তারপর আসে খাদ্য-বস্ত্রের বিষয়গুলো। এসডিজি ২০১৬ সাল থেকে শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই আমাদের অর্ধেক সময় অতিবাহিত হয়েছে। উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোয় আমাদের অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রয়োজন। 

‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রকল্প বাস্তবায়নে এসডিজির এসব সূচকের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে তো বাংলাদেশের কর্মীরাই কাজ করবেন। সুতরাং, তঁাদের আবাসস্থল যেন সেখানেই হয়, তঁাদের সন্তানেরা সেখানেই পড়াশোনা করবে, এ বিষয়গুলো এখনো কর্মপরিকল্পনায় আসতে দেখিনি। সব শহরের জন্য ড্যাপ করা উচিত। 

ড্যাপে ব্লু নেটওয়ার্ক বলতে দেখানো হয়েছে শুধু জলপথ। অর্থাৎ খালগুলো নদীর সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এখন কেবল খাল থাকলেই তো হবে না। এর পাশে  হাঁটার জন্য আরও জায়গা লাগবে৷ ব্লু নেটওয়ার্ক আবার ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক হলে ঘাট হবে। তাই খালের পাশাপাশি এ জায়গাকেও শনাক্ত করতে হবে। পুরো ড্যাপ এরিয়ার জন্য দ্রুতই এ পরিকল্পনা করতে হবে। তা না হলে পরে উচ্ছেদের মতো সমস্যামূলক প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। ব্লু নেটওয়ার্কে ছয়টি জলকেন্দ্রিক পার্ক করার কথা রয়েছে। এসব পার্কের জমির মালিকানা ব্যক্তিগত। এই নিষ্পত্তি–সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করা উচিত। 

আবু সায়ীদ এম আহমেদ

এটি সত্যি যে আমাদের পুরো বাংলাদেশের পরিকল্পনা করতে হবে। আমাদের এখানে ব্যবসা ও যোগাযোগব্যবস্থা ঐতিহাসিকভাবে বেশ ভালো ছিল।  সারা পৃথিবীর মানুষ এখানে এসেছে। আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন, ঢাকা শহরের উন্নয়ন করেছে আর্মেনীয়রা। তারা ঢাকায় ট্রানজিট চালু করেছে, বিদ্যুৎ চালু করেছে, প্রথম স্কুল চালু করেছে। এর অর্থ হচ্ছে আমাদের সংস্কৃতি বহুবিচিত্র। সারা পৃথিবীর মানুষ ব্যবসার কারণে বাংলাদেশে এসেছে। 

ঢাকা শহরের জনঘনত্ব নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। প্রায়োগিক দিক নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। জনঘনত্ব পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। ব্যবসাকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। এ জন্য সারা দেশকে নিয়ে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। আরেকটি বিষয় জরুরি। তা হচ্ছে, ঢাকা শহরে আসার প্রয়োজন বন্ধ করতে হবে। ঢাকা শহরে যদি ২০ হাজার শয্যার মেডিকেল করা হয়, তাহলে লোকজন তো আসবেই। কেন কোস্টাল বোর্ড ঢাকায় থাকবে? এ জায়গাগুলোয় আমাদের জোর দিতে হবে৷

আনিসুল হক

আলোচনায় সারা বাংলাদেশকে নিয়ে পরিকল্পনা করার বিষয়টি এসেছে। আমি এর সঙ্গে একমত। এ জন্য যদি জাতীয় একটি কমিটি করার প্রয়োজন হয়, তা করতে হবে। এতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে কাজ করা জরুরি। তবে আমি মনে করি, বিদেশি জ্ঞান দিয়ে এ দেশ চলবে না। আমাদের নিজেদের জ্ঞান দিয়েই এটি করতে হবে। আমরা উন্নয়নের নামে জলাভূমি ও পানিনিষ্কাশনের রাস্তাগুলো নষ্ট করছি। হাওরগুলোকে নষ্ট করেছি। আমাদের এখনই ভাবতে হবে কোন কোন জায়গায় লোকালয় স্থাপন করব, স্কুল-কলেজ করব, কোথায় মেডিকেল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় করব। বাংলাদেশে যা কিছু প্রয়োজন, সব ঢাকায়। এটি আমাদের বন্ধ করতে হবে। জাতীয় যে কমিটি করার সুপারিশ এসেছে, তার উন্নয়ন এমনভাবে করতে হবে যেন তেঁতুলিয়ার একজন লোককে ঢাকায় না আসতে হয়। সারা দেশের প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে নাগরিক সুবিধা দেওয়া সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় মানুষকে স্থানীয়ভাবে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখাতে হবে৷ 

আঞ্চলিক বৈষম্যের জন্যই বাংলাদেশের জন্ম। এ দেশে আঞ্চলিক বৈষম্য থাকা স্বাধীনতার চেতনার বিরোধী। এ বৈষম্য দূর করা জরুরি। যদি ঢাকাকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে না আনতে পারি, তাহলে পদ্মার ওপারে রাজধানী স্থাপন করা যায়। নতুন রাজধানী হবে পরিকল্পিত। ভারত-পাকিস্তানও এটি করেছে। তা না হলে এ শহর পরিত্যক্ত হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

মো. আশরাফুল ইসলাম

আমরা মানুষের কথা বিবেচনা করেই পরিকল্পনা করি। একটি শহরের পরিকল্পনা তৈরির প্রথম বিষয়টিই হচ্ছে আমি কতজন মানুষের জন্য পরিকল্পনা করব। এর মৌলিক নীতি আমাকেই ঠিক করতে হবে। আবাসন একজন মানুষের অন্যতম মৌলিক উপাদান। তার চলাচলের জন্য জায়গা, শিশুর জন্য খেলার মাঠ, স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা ও কার্যকর নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। এই সবকিছু মিলে আমার একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ লাগবে। শুধু ঘুমানোর জায়গা নিয়ে শহরের পরিকল্পনা করা হয় না। ঘুমানোর জায়গার পাশাপাশি স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠ, রাস্তা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়।

আমরা জানি, ঢাকা শহর বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। কারণ, ঢাকা শহর সারা দেশের জিডিপির ৩৫ শতাংশ অবদান রাখে৷ এখানে সারা দেশের এক–দশমাংশ লোক বসবাস করে। ঢাকা শহর বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের জিডিপির চিত্র কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়। 

যেভাবেই হোক, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করতে হবে৷ ঢাকায় রাস্তার পরিমাণ মোট ভূমির মাত্র ৬ শতাংশ। এটিই ঢাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা। 

ড্যাপের মূল পরিকল্পনা করা হয়েছে মানুষের চিন্তা করে। ড্যাপের আওতায় আমরা ঢাকা মেট্রোপলিটন অঞ্চলকে ছয়টি অঞ্চলে বিভক্ত করে সুষম উন্নয়ন করতে চাই। ৯০ শতাংশ পোশাকশ্রমিকের কর্মস্থল গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ায়। অথচ তাঁরা বসবাস করেন মিরপুর বা উত্তরায়৷ অথচ তঁাদের জন্য কর্মস্থলের পাশে থাকার ব্যবস্থা করা যায়।  ড্যাপে ৬ টি আঞ্চলিক পার্ক করার প্রস্তাবনা রয়েছে। যদি ৬টি আঞ্চলিক পার্ক আমরা তৈরি করতে পারি, তবে ঢাকার বাসযোগ্যতা অনেকাংশেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সারওয়ার জাহান

নগরকে আমরা মানবদেহের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। নগরের জন্ম হয়, নগর বড় হয় এবং একপর্যায়ে গিয়ে থেমে যায়। মানবশিশু যখন বড় হয়, তখন তার দেহের সব অঙ্গই সমানুপাতে বৃদ্ধি পায়। একটি শহরের ক্ষেত্রেই তা হওয়া উচিত। এর ব্যতিক্রম হলেই সমস্যার সৃষ্টি হয়। যেমন, শহরে জনসংখ্যা বাড়লেও  স্কুল-কলেজ বা অন্যান্য নাগরিক সুবিধা বাড়েনি। এর মানে হচ্ছে সুষম উন্নয়ন হচ্ছে না। আমাদের অবশ্যই ভারসাম্য বাজায় রেখে উন্নয়ন করতে হবে। উন্নয়নের পরিকল্পনায় জনসংখ্যা ও নাগরিক সুবিধার চাহিদা মেটানো, দুটি বিষয়ই থাকতে হবে। মানবদেহে মাথা পুরো শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে। তেমনি শহরের মাথা হচ্ছে ব্যবস্থাপনা ও শাসনব্যবস্থা। এটি ঠিক না থাকলে শহরে ঠিকমতো উন্নয়ন হবে না। 

আমরা জানি, নগরায়ণ কখনো থেমে থাকে না। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে নগরায়ণের সরাসরি সম্পর্ক আছে৷ অর্থনৈতিক উন্নয়ন যত বেশি হবে, নগরায়ণ তত বেশি হবে। সব গ্রামই শহর হবে না। যেসব গ্রাম বেশি সংযুক্ততা নিশ্চিত করতে পারবে, তারাই শহর হবে। বাকিরা স্যাটেলাইট হিসেবে থাকবে৷

নগরায়ণ হবেই, হতেই হবে। তবে সেই নগরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে, সুষম উন্নয়ন করতে হবে। প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধাও আনতে হবে। এটি নগরের ব্যবস্থাপনা ও শাসনব্যবস্থাকেই নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরই নগরের সবকিছু দেখভাল করতে হবে৷ এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কিন্তু সে পদ্ধতির উন্নয়ন করিনি। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও বাস্তবায়নকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে নগরের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

মো. আতিকুল ইসলাম

বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস অ্যাওয়ার্ড-২০২২ পেয়েছে বাংলাদেশ। ‘জলবায়ুর স্থিতিস্থাপকতা নির্মাণ করতে ঐক্যবদ্ধ’ ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেয়রদের নিয়ে গঠিত বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম সি-৪০ সিটিস। এ স্বীকৃতির কারণে পৃথিবীজুড়ে বাংলাদেশের নাম আবারও আলোচিত হচ্ছে। আমি মনে করি, আমরা যে ২৪টি খেলার মাঠ উদ্ধার করেছি, এর কারণেই পুরস্কারটি পেয়েছি। পাশাপাশি এর পেছনে ড্যাপেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। এর পুরস্কারও পেয়েছি আমরা। আমি ছোট একটি উদাহরণ দিতে চাই। মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের প্যারিস রোডের খেলার মাঠটি দখল হয়ে গেছে। মাঠের বদলে এখানে ৩২টি প্লট দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু ১৯৬৫ ও ১৯৮৭–এর ড্রয়িংয়ে, এমনকি ড্যাপেও দেখানো আছে এটি সবুজায়ন, এটি একটি খেলার মাঠ। কেন এই খেলার মাঠে ন্যাশনাল হাউজিং অথরিটি প্লট বানিয়ে বরাদ্দ দিল? কেউ কি দেখেননি মাস্টারপ্ল্যানে আছে এটি খেলার মাঠ! নতুন ড্যাপের পরিকল্পনায় বিভিন্ন এলাকায় উন্মুক্ত স্থানের প্রস্তাব আছে। ঢাকা শহর আমাদের সবার, কারও একার নয়। খেলার মাঠ আমাদের লাগবে। মিরপুরের প্যারিস রোডের দখলকৃত জায়গায় আমরা বালু ফেলেছি, ঘাস লাগাব। ঘাস লাগানোর আগেই সেখানে খেলা শুরু হয়ে গেছে। এর মানে হচ্ছে, আমাদের মাঠের অত্যন্ত প্রয়োজন, উন্মুক্ত স্থানের প্রয়োজন। এটি না হলে আমাদের বিল্ডিং গড়বে, কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর একটি ব্যবস্থা করে দিতে পারব না। অফিসাররা কীভাবে খেলার মাঠ হাউজিংয়ে অনুমোদন দিলেন। আমরা দেখি, রাজউকের প্লটে খেলার মাঠ-লেক ভিউ দেখানো থাকে, তা অন্য কাজে দেওয়া হচ্ছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। ঢাকাকে টেকসই করতে হলে দখলদারির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। 

আমরা কাজ করছি, সেনাবাহিনীকে খালের সীমানা নির্ধারণ ও পিলারের দায়িত্ব দিয়েছি। এ ক্ষেত্রে আমরা কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। সিএস ম্যাপের খালের সীমানার ভেতর জমির মালিকানা দেখানো হয়েছে মহানগর জরিপে। নদীর সীমানা যদি সিএসই (ব্রিটিশ আমলে করা) জরিপ দাগ দিয়ে হয়, খালের সীমানা কেন হবে না? এর বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। সিএসই দাগে খালের সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে ঢাকা শহরকে বাঁচানো যাবে না।

নজরুল ইসলাম

ঢাকাসহ অন্য নগরগুলোকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য জাতীয় কমিটি গঠন করতে হবে। জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা করা ঢাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি বিভাগ, জেলায় সব শ্রেণির ব্যক্তিদের নিয়ে দল গঠন করে শহরের উন্নয়ন করতে হবে। ঢাকাসহ জেলা শহরগুলোরও বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। পাশাপাশি সারা দেশের জন্য ত্রিমাত্রিক উন্নয়ন করতে হবে। এ বিষয়গুলো সবাই তুলে ধরেছেন। এখানে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে। জাতীয় নগর নীতিমালার খসড়া ২০১৩ সাল থেকে পড়ে আছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে। এত বছরেও নীতিমালার কাজ শেষ না হওয়া খুবই বিপজ্জনক। দ্রুত নীতিমালাটি পাস করার দাবি জানাই। 

প্রতিটি বিভাগীয় শহর এখন প্রায় মেট্রোপলিটন। জেলা শহরগুলোয় উন্নয়ন করুন। উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। প্রথমেই করতে হবে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, অর্থাৎ রাজধানী সরানোর বিষয়টি ভাবতে হবে। যদি বিকেন্দ্রীকরণ করা যায়, তাহলে রাজধানী সরানোর প্রয়োজন হবে না। লন্ডনের মানুষ বাইরে চলে গিয়েছিল। কলকাতার জনসংখ্যায় এখন আর বেশি নেই। এ বিষয়গুলো আমাদের জাতীয় নগর নীতিমালায় লিখেছিলাম। প্রতিটি শহরের জন্য পরিকল্পনা ও পরিকল্পক প্রয়োজন। পেশাগত স্বার্থপরতা না থাকাই ভালো। কেউ যদি বলে কেবল পরিকল্পক, স্থপতি বা প্রকৌশলী প্রয়োজন, তা হবে না। সবাই মিলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন

জনঘনত্ব কেবল একটা সংখ্যা নয়। এর সঙ্গে পুরো শহর, পুরো দেশে ঘনত্বের প্রভাব আছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অবকাঠামো, নির্মাণ, জীবনযাপন, জনস্বাস্থ্যসহ সর্বক্ষেত্রে এর প্রভাব আছে। সুতরাং পুরো দেশে জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ জরুরি। বিশ্বের ইতিহাস বলে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে নগরায়ণ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

২০৩৫ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরের জন্য ড্যাপ করে দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন করতে হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, পরিকল্পনায় একটি বাধ্যতামূলক বিধান আছে যে সময়ের সঙ্গে একে হালনাগাদ করতে হবে। সংবেদনশীলতা না থাকলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ড্যাপের সবচেয়ে বড় দিকে হচ্ছে, এটি একটি দলিল। এটি সমন্বিত দলিল। এটি কোনো সংগঠনের পক্ষে একা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ঢাকা শহরে এ বিষয়ে অন্তত ৫০টি সংগঠন কাজ করে। ড্যাপ বাস্তবায়নে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। ড্যাপ ঢাকাবাসীর জন্য একটি সনদ। এখন আমাদের কাজ হবে সবাই মিলে একে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা।

এখানে পরিবেশের কথাও এসেছে। আমাদের সংবিধানে পরিবেশ ইস্যুকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিশ্বের খুব কম সংবিধানে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে অনুচ্ছেদ আছে।

খন্দকার মনজুর মোর্শেদ 

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ড্যাপ নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করেছি এবং বিভিন্ন সময়ে আমাদের সুপারিশমালাও আমরা সরকারকে দিয়েছি। সেই মতামতের অংশবিশেষ ড্যাপের প্রতিবেদনেও এসেছে। কিন্তু আমি মনে করি, এটার আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়া উচিত। ঢাকা শহরে প্রায় ২ কোটি মানুষ বসবাস করছে। এ  শহরে বিভিন্ন রকম সমস্যা আছে, সেই  সঙ্গে নানা রকমের চাহিদাও আছে। তাই ড্যাপ নিয়ে আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ড্যাপ-এর যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কারিগরি কমিটি গঠন প্রয়োজন। যারা পরিকল্পনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে সরকারের কাছে নিয়মিতভাবে লিখিত প্রতিবেদন প্রস্তাব করতে পারে। যার আলোকে হালনাগাদকরণ করা যেতে পারে। ড্যাপ বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী একটি নীতিমালা প্রণয়ন করার প্রয়োজন আছে। 

মো. তাজুল ইসলাম, এমপি

কেবল ঢাকা শহর নিয়ে কাজ করলে হবে না। আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে সারা বাংলাদেশের জন্য কাজ করার। ২০১৬ সালে ড্যাপ হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। এভাবে ছয় বছর কেটে যায়। পরে প্রধানমন্ত্রী আমাকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করে দিয়েছেন।

সবার সহযোগিতায় আমরা এক বছরের কাছাকাছি সময়ে কাজটা করতে পেরেছি। এ জন্য আমাদের অনেকগুলো সভা করতে হয়েছে। সেখানে কিছু ভুলত্রুটির কথা এসেছে। যাঁদের মতামত ছিল, তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, এর ৯০ শতাংশের ক্ষেত্রেই তাঁরা একমত। বাকি ১০ শতাংশে তাঁরা কিছু মতামত এবং পরামর্শ দিয়েছেন। 

প্রতিটি এলাকায় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী রাস্তা, হাউজিং, স্বাস্থ্যসেবা, খেলার মাঠ, প্রাথমিক বিদ্যালয় দিতে হবে। প্রতি পাঁচ হাজার মানুষের জন্য হাঁটাদূরত্বের মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রাখা প্রয়োজন। তা না হলে শিশুদের দুই থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরের বিদ্যালয়ে নিয়ে যেতে গেলে যানজট হবে। আবাসন গড়তে হলে স্কুল, খেলার মাঠ রাখতে হবে। পানি ধারণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

হংকংয়ে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ বর্গফুটের ভবন আছে। এর মধ্যে খেলার মাঠসহ সব সুবিধাই আছে। আমরা আলাদা বাড়ি না করে এ রকম সমন্বিত করতে পারি কি না। কারণ, ৪০ শতাংশ জমি তো আবার ছেড়ে দিতে হয়। ছেড়ে দেওয়া সব জমি একসঙ্গে করলে বড় একটি খেলার মাঠ হবে। পাশাপাশি একটি কমিউনিটি সেন্টার, ক্লিনিকও করা যেতে পারে। এ ধারণার ভিত্তিতেই ড্যাপে ব্লক হাউজিংয়ে কথা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি নিয়ে কিছু সমালোচনা হয়েছে। এটি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কথা হয়েছে। আমার মনে হয়, এখন ওই মাত্রায় সমালোচনা নেই। এটি বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত।

প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার হলো ‘আমার গ্রাম, আমার শহর।’ এর অধীন সড়ক যোগাযোগ, ইন্টারনেট-টেলিযোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সুপেয় পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো সন্নিবেশিত হয়েছে। একটি উন্নত জীবনযাত্রার জন্য যে ব্যবস্থাপনা মানুষের প্রয়োজন, তার সবই রয়েছে। গ্রামগুলোয় শহরের সুবিধা নিশ্চিত হলে শহরমুখী মানুষের চাপ কমবে। গ্রামে আগে কম খরচের রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণ করা হতো। এখন আমরা এর নকশা পরিবর্তন করেছি। আমরা এখন টেকসই রাস্তা করছি। কেবল রিকশা চলাচল বা মানুষ হাঁটা নয়, সেখানে গাড়ি চলবে। ড্যাপ কেবল রাজউক বাস্তবায়ন করবে না। রাজউক একমাত্র কর্তৃপক্ষ নয়। খাল সচল করতে আমরা হাতিরঝিলের মতো আরও প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এখন প্রয়োজন অর্থায়ন।

আমাদের পরিকল্পিত নগর ও যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। টোকিও কিংবা সিঙ্গাপুরে ট্রাকে সবজি নিয়ে যেতে হয় না। সেখানেও তো খাদ্য সরবরাহ হয়। ট্রাকস্ট্যান্ড শহরের বাইরে নিতে হবে। কোনো উন্নত দেশে শহরের মধে্য ট্রাকস্ট্যান্ড বা পাইকারি বাজার থাকে না। আমাদেরও সেটা করতে হবে। তা না হলে ঢাকাকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।

মোহাম্মদ ফজলে রেজা সুমন

আজকের আলোচনায় পরিকল্পিত নগরায়ণ তৈরির  অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিকে এসেছে। এর মধে্য রাজউকসহ অন্যান্য নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য এর পরিচালনা বোর্ডের সম্প্রসারণ, পুনর্গঠন ও এতে পেশাজীবী সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করছি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব  প্ল্যানার্স  (বিআইপি) ও প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

সুপারিশ

■ রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে  বঙ্গবন্ধুর সময়ে সূচিত জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।  

■ উন্নয়ন বিকেন্দ্রীকরণ, নগর–সুবিধা সম্প্রসারণ ও কৃষিজমি রক্ষায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিকল্পনা করতে হবে

■ দ্রুত জাতীয় নগর নীতিমালা ও আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণ ও পাস করা জরুরি। 

■ রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে পরিকল্পনাবিদদের স্থায়ী পদায়নের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা জরুরি। 

■ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দেশীয় জ্ঞান ও সক্ষমতার মূল্যায়ন অত্যাবশ্যক ।

■ নগর ব্যবস্থাপনায় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সরকারের অংশগ্রহণ জরুরি।  

■ প্লট নয়, ব্লকভিত্তিক নগর আবাসন হতে হবে। 

■ সিএস দাগমতে নদী ও খালের সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। 

■ ঢাকার বাসযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য ড্যাপ বাস্তবায়ন জরুরি।

■ পর্যাপ্তসংখ্যক পরিকল্পনাবিদের পদ সৃষ্টি এবং পরিচালনা বোর্ডের পুনর্গঠনের মাধ্যমে রাজউককে ঢেলে সাজাতে হবে।