আলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম

বাংলাদেশে অনেক শিশু পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করে। যদিও অভিভাবকেরা সচেতন থাকলে তা হওয়ার কথা নয়। গ্রামে শিশুরা পানির সঙ্গে খুব পরিচিত এবং তারা সাঁতার শিখে নেয়। শহরের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তবে এখন সাঁতার শেখার জন্য শহরে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিশুরা খুব সহজে সাঁতার শিখতে পারে।

আমিনুর রহমান

default-image

সারা বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ৬৫০ জন মানুষ পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করে। এর প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি মৃত্যু ঘটে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশগুলোয়। এটা উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় তিন গুণ বেশি।

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১৯ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। এদের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ জনের বয়স ১৮ বছরের কম। তাহলে প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়।

এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী যেসব শিশু মারা যায়, তাদের ৫৮ শতাংশের মৃত্যু হয় পানিতে ডুবে। বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটনা ঘটে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে। পানিতে ডুবে মৃত্যুর ৮০ শতাংশ বাড়ি থেকে মাত্র ২০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন পুকুর, ডোবা ও জলাধারে ঘটে থাকে।

সিআইপিআরবি পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত তত্ত্বাবধানের জন্য শিশুযত্ন কেন্দ্র, ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধার কৌশল ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি শিশুযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ৮০ শতাংশ এবং সাঁতার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ৯৫ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব। এই ব্যবস্থাগুলো স্বল্প খরচে এবং স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় করা সম্ভব, যা নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের জন্য উপযোগী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই প্রতিরোধব্যবস্থাগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

শিশুমৃত্যুর এই নীরব ঘাতককে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশুযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা এবং শিশুর সাঁতার প্রশিক্ষণ–সুবিধা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির নেতৃত্বে অংশীজনদের সম্পৃক্ততায় জাতীয় নীতি ও কর্মকৌশল প্রণয়নের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে ২০২১ সালের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত রেজল্যুশন গ্রহণের মাধ্যমে ‘বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস’–এর স্বীকৃতি পেয়েছে ২৫ জুলাই।

পানিতে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ কার্যক্রম বাস্তবায়নের পথে কিছু চ্যালেঞ্জ কাজ করছে। নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা, সব অংশীজনের সম্পৃক্ততা ও সমন্বয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সারা দেশে এই কার্যক্রম প্রসারের ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

জাতিসংঘের নির্দেশনামতে সরকার নীতি প্রণয়ন, সম্পদের সুষম ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও তথ্য-উপাত্ত ব্যবস্থাপনা করবে। শিশুমৃত্যু প্রতিরোধব্যবস্থার প্রসার, গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে বেসরকারি অংশীজন। গণমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। সবার সমন্বিত সম্পৃক্ততায় পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব, যা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০ অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

মাহমুদা আকতার

default-image

শিশুর উন্নয়নে নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিক থেকে আমরা কাজ করছি। আমরা বিভিন্ন গবেষণা থেকে বলি, শিশুর জন্মের পর প্রথম এক হাজার দিন তার মস্তিষ্কের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। মা-বাবা, পরিবার, গোষ্ঠীসহ সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে আমাদের একটি বড় লক্ষ্য আছে, তা হলো এসডিজি অর্থাৎ সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল। এর জন্য অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। বালিতে যখন এসডিজি পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হচ্ছিল, তখনো আমরা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলাম। যাতে এসডিজিতে বৈশ্বিকভাবে শৈশবকালীন উন্নয়নকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেভাবেই বিষয়টি এসডিজিতে এসেছে। এসডিজিতে আসার পর সরকার বিষয়টিকে সচেতনভাবে নিয়েছে। ২০১৩ সালে আমাদের কম্প্রিহেনসিভ আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নীতি হয়েছে। সরকারের দিক থেকে অনেক বিষয়ে এগিয়ে আসা হচ্ছে। এরপরও আমাদের এদিকে বিনিয়োগ অনেক কম। বৈশ্বিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নার্সারি কেয়ার ফ্রেমওয়ার্কে বলা হয়েছে, শৈশবের শুরুতে শিশুর উন্নয়নকে আলাদাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এতে সম্পূরক হিসেবে এসেছে সুস্বাস্থ্য, পর্যাপ্ত পুষ্টি, নিরাপত্তা, রেসপনসিভ কেয়ার ও আর্লি লার্নিং ইত্যাদি।

গর্ভ থেকেই শিশুর উন্নয়নপ্রক্রিয়া শুরু হয়। গর্ভে আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই শিশুর মস্তিষ্ক উন্নয়নের কাজ শুরু হয়ে যায়। তাই একজন মায়ের যত্নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তার পরিবার, স্বামীসহ সবাইকে এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়টি নিরাপত্তার মধ্যে পড়ছে। সুতরাং বিষয়টিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

এ ছাড়া পরিবার তথা মা-বাবার শিক্ষার প্রয়োজন আছে। একজন মাকে তার শিশুর নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে হবে। কীভাবে বেড়া দিলে শিশু পুকুরে ডুবে মৃত্যুবরণ করবে না, সেই জ্ঞান একজন মায়ের থাকতে হবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে।

সদরুল হাসান মজুমদার

default-image

ইউনিসেফ ও সিআইপিআরবি পরস্পর ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আমি সিআইপিআরবিতে কাজ করেছি। বর্তমানে দেশের ২৮টি জেলায় ৫০ হাজার শিশুকে সাঁতার শেখানোর কাজ করছে সিআইপিআরবি। এতে সহযোগিতা করছে ইউনিসেফ। মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ইউনিসেফ বাংলাদেশের ৪৫০টি অ্যাডলোসেন্ট ক্লাবের সহযোগিতায় ১০ হাজার বালক-বালিকাদের সংগঠিত করে তাদের সমস্যা সমাধানের কাজ করছে।

সেখানে পানিতে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টিও আলোচনা হয়। উন্নয়নের বিষয়ে আমরা সব সময় পশ্চিমা সমাধান পেতে অভ্যস্ত। কিন্তু পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সিআইপিআরবির গবেষণা থেকে আসা তিনটি মুখ্য পদক্ষেপকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে।

জাতিসংঘ দেশগুলোকে বলে দিয়েছে, ২৫ জুলাই বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস পালন করতে। যাতে বিষয়টি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সফলতা ও ভালো কর্মকাণ্ডগুলো সম্পর্কে মানুষ জানতে পারে এবং সচেতনতা বাড়ে। পাশাপাশি প্রতিটি দেশকে এ বিষয়ে নীতি প্রণয়ন করতে বলেছে জাতিসংঘ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। গত বছর জাতিসংঘের রেজল্যুশন হওয়ার পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২৭১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

ইসাকুল কবির

default-image

বিভিন্ন গবেষণালব্ধ ফলাফল থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ড্রাউনিং প্রিভেন্টিং আ লিডিং কিলার’ নামক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে ২০১৭ সালে ‘প্রিভেন্টিং ড্রাউনিং অ্যান ইমপ্লিমেন্টেশন গাইড’ প্রকাশিত হয়। এসব প্রকাশনায় পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে ছয়টি ইন্টারভেনশন এবং চারটি ইমপ্লিমেন্টেশন কৌশলের সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো হলো—পানির কাছে যাওয়া নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বেড়া বা বাধা তৈরি; শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাস ও দিবাযত্নকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা; স্কুলগামী শিশুদের সাঁতার শেখানো; পানি থেকে নিরাপদে উদ্ধারের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান; নৌপথে চলাচল নিরাপদ করার জন্য নীতিমালা তৈরি ও বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা করা।

বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে একটি কর্মকৌশল তৈরি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই কর্মকৌশল তৈরিতে অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এষা হোসেন

default-image

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২৭১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটি গত ফেব্রুয়ারি মাসে একনেকে পাস হয়েছে। এ বছর বিষয়টি আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের পানিতে পড়ে মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য। বিষয়টি এখন প্রমাণিত যে কেয়ার সেন্টারে তদারকির মধ্যে থাকলে ৮৮ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশুদের জীবন বেঁচে যায়। বিষয়গুলো যখন প্রমাণিত হলো, তখন এই সেক্টরের বড় অনুদানদাতা ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রোপিজের সঙ্গে সিনারগোজ কাজ শুরু করে।কিন্তু কাজ করতে এসে যেন অথই সাগরে পড়লাম। কারণ, ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ একটি ছোট খাত। এর সঙ্গে প্রতিযোগী আরও অনেক খাত আছে। জাতিসংঘের এজেন্সিগুলোর প্রতি সরকারের দুর্বলতাও আছে। তারা যেসব প্রস্তাব দেয়, সেদিকে সরকারের আগ্রহ বেশি থাকে।

এ ছাড়া ব্লুমবার্গ অপেক্ষাকৃত নতুন এবং এখানে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরাও নতুন।

পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের বিষয়টি জটিল। এখানে কোন মন্ত্রণালয় নেতৃত্ব দেবে, তা একটি জটিল বিষয়। আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে গিয়েছি, স্থানীয় সরকারের কাছে গিয়েছি। কিন্তু অসংক্রামক রোগের আওতায় থাকা ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের বিষয়টি কোন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে হবে, তা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরে অবশ্য তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় আসে। কিন্তু প্রতিরোধের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় সামনে আসছে, সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন সেক্টর প্রতিনিধিত্ব করছে। ব্লুমবার্গ যেহেতু শিশু উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে, সেহেতু সবশেষে দৃষ্টি গেল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দিকে। সেখানে গিয়ে দেখলাম, এ বিষয় নিয়ে তাদের কোনো নীতিমালা নেই। তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যেতে বলে।

তবে এটি মাল্টিসেক্টরাল একটি বিষয়। জটিল একটি বিষয়। এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের খুব একটা অভিজ্ঞতা নেই। তেমন কোনো উদাহরণ নেই। যেহেতু এখন প্রকল্পটি পাস হয়েছে, সিনারগোজ সহযোগিতা করে যাবে। এখানে গণমাধ্যমের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের যে ভূমিকা, তা প্রকল্প পাসের ক্ষেত্রে সহায়ক ছিল।

রুহুল কুদ্দুস

default-image

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তা পাসের জন্য আমরা সমর্থন জানিয়ে আসছি। প্রকল্পটি নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। আরও কিছু কাজ করা প্রয়োজন। যেমন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় বলা আছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এনসিডি–সম্পর্কিত অকালমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনতে হবে। এখানে আরও কিছু বিষয় আছে। শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা কিংবা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা। শিশুর ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি একধরনের অপমৃত্যু। কিন্তু টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু নেই।

আমাদের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রোগব্যাধি–সম্পর্কিত বিষয়াদি কমিয়ে আনা আছে। কিন্তু ডুবে মৃত্যুসংক্রান্ত অপমৃত্যু কমানোর কোনো লক্ষ্য এখানে নির্দিষ্ট নেই। এমনকি আমাদের সপ্তম ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও এ বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট নেই। মূলত এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যেই মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়। এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের বিষয়টি জাতীয় অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখতে হবে। এর কোনো বিকল্প আমাদের নেই। আমি মনে করি, এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকা উচিত। কারণ, বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংযুক্ত। এর সঙ্গে অন্য মন্ত্রণালয়গুলোও থাকবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্প হাতে নিতে পারে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, সেখানে তিন বছরের মধ্যে দুই লাখ শিশুকে ডে কেয়ার সেন্টারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মোট সংখ্যার তুলনায় এটি খুবই নগণ্য। তাই সব শিশুকে এই সেবার আওতায় আনার জন্য আমাদের অনেক কাজ করার প্রয়োজন আছে।

গওহার নঈম ওয়ারা

default-image

কেরালায় কমিউনিস্ট সরকারের সরাসরি বিবেচনার মধ্যে ছিল শিশসুরক্ষা। তখন তারা ‘অঙ্গন বাড়ি’ ধারণাটি নিয়ে আসে। বিষয়টি ছিল এমন—যেসব শিশু এখনো স্কুলে যায়নি, অর্থাৎ যাদের বয়স পাঁচ বছরের নিচে তাদের মধ্য থেকে ৩০ শিশু ও তাদের মায়েদের দায়িত্ব দেওয়া হলো, প্রতে্যক মা যেন এই শিশুদের এক দিন করে সময় দেন। এতে শিশু ও মায়েদের মধে্য এক ধরনের মাজিক বন্ধন সৃষ্টি হয়। এসব শিশু মায়েদের সঙ্গে থাকার জন্য একদিকে যেমন সুরক্ষিত থেকেছে তেমনি পানিতে ডুরে মৃতু্যর থেকে রক্ষা পেয়েছে।

আমরা জেনেছি, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার বেশি। এ ক্ষেত্রে সাঁতার শেখানো থেকে বরং ওই বয়সে তাদের দেখাশোনা করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখা আসল কাজ। পৃথিবীজুড়ে যে দেশে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার গুরুত্ব বেশি, সে দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বেশি ভালো। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে তাই স্থানীয় সরকারকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, শিশুর মৃত্যু নিবন্ধনের আওতায় আনা হয় না। নিবন্ধনের আওতায় আনলে কোন শিশুর কী কারণে মৃত্যু হলো, তা জানা যেত। গত মে থেকে জুলাই পর্যন্ত পানিতে ডুবে মোট মৃত্যুবরণ করেছে ১৬০ জন। তাদের মধ্যে ১৩৭ জন শিশু। এর মধ্যে ৭৬ জনের মৃতু্য হয়েছে বন্ধু-বন্ধব ও স্বজনকে বাঁচাতে গিয়েে। এদের ৭২ জনের বয়স ছিল পাঁচ বছরের কম।

যারা ডুবে মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের নিয়ে কথা বলা হয়। কিন্তু যারা বেঁচে ফিরেছে, তাদের কথা কেউ বলে না। বেঁচে যাওয়ার পর তাদের শেখার প্রক্রিয়া ধীর হচ্ছে। ওই সময়ে তিন-চার সেকেন্ড মস্তিষ্কে অক্সিজেন না পৌঁছানোর প্রভাব তারা পরবর্তী সময়ে ভোগ করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, উদ্ধারের পর উপজেলা বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলেও নাম পর্যন্ত নিবন্ধন করা হয় না। এই জবাবদিহির প্রয়োজন আছে। তিন থেকে সাত লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বলা হয়। যদি আসলেই তা হয়ে থাকে, তাদেরও এ বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

আনিসুল হক

default-image

বাংলাদেশে প্রতিদিন মানুষ পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি। পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে দুটি পর্যায় আছে। একটি হলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়। আমরা কী বলব, কী চাইব—এ বিষয়গুলো আমাদের জানাতে হবে। তা নিয়ে প্রথম আলো বা অন্য গণমাধ্যমগুলো প্রচার করতে পারবে। জনমত গঠন করতে পারবে। কাজেই কী বলতে হবে, তা গবেষণা করে আমাদের জানাতে হবে।

অন্য পর্যায়টি হলো ব্যক্তি বা পরিবার পর্যায়ে কী ধরনের সচেতনতা অবলম্বন করা যায়। ঈদের আগে যানজট নিয়ে অনেক কথা আমরা বলি। পরিবারগুলোর সচেতনতা অবলম্বন নিয়ে কিছু বলি না, এমন অভিযোগ একজন করেছেন। ডে কেয়ার সেন্টার, পুকুরের আশপাশে বেড়া দিয়ে রাখা, সাঁতার শেখানো, অঙ্গন বাড়ি বা আঁচলের কথা বলা হয়েছে।

সিআইপিআরবির দুজনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, কিশোর আলোর সঙ্গে তাঁরা কাজ করতে চান। শিশু, কিশোর কিংবা মানুষের জন্য ভালো—এমন সবকিছু প্রথম আলো করতে রাজি আছে। প্রথম আলোর স্লোগানই তো ‘যা কিছু ভালো, তার সাথে প্রথম আলো’। মানুষের যদি প্রকৃতার্থে উপকার হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই সেটা প্রচার করব।

আমাদের সবকিছু জানা নেই। তাই এ ধরনের গোলটেবিল বৈঠক প্রয়োজন। এতে আমরাও অনেক কিছু জানতে পারি। যখন আমরা সম্পাদকীয় লিখি, সম্পাদকীয়তে বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের বিষয় লেখা হয়।

আব্দুল জলিল চৌধুরী

default-image

বাংলাদেশের হয়তো অনেক কিছু নেই, কিন্তু অনেক অর্জন আছে। স্বাস্থ্য খাতের অর্জন সম্বন্ধে আপনারা সবাই জানেন। যেমন ডায়াবেটিসের ব্যাপারে বাংলাদেশের কিছু পদক্ষেপ জাতিসংঘ স্বীকৃত। যক্ষ্মার ক্ষেত্রেই বিষয়টি এমন। পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস পালনের অন্যতম উদ্যোক্তাও বাংলাদেশ। বিষয়টি আমাদের জন্য গর্বের।

সিআইপিআরবি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। তারা গবেষণা করবে, পথ দেখাবে। ইতিমধ্যে পথ দেখিয়েছে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া কোনো কাজই সফল হয় না। সে জন্য ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর ড্রাউনিং প্রিভেনশন (এনএডিপি) নামের একটি সংগঠন ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা সিআইপিআরবির দেখানো পথে কাজ করার চেষ্টা করছে।

গোষ্ঠী সচেতনতা বৃদ্ধি ও একাধিক সেক্টরকে সংযুক্ত করে কাজ করার লক্ষ্যে এনএডিপি কাজ করবে বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এখানে শিক্ষিত মায়ের কথা বলা হয়েছে। জানি না, আমরা কখন শিক্ষিত মা পাব। পেলে আর কিছুই করা লাগত না। আমরা যদি মায়েদের সুশিক্ষিত করতে পারতাম, তবে তাঁরাই জানতেন, কীভাবে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

সচেতনতা বৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এখানে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অনেক বিষয় আছে, সেগুলো যদি পত্রিকায় না আসত, তবে সরকার সচেতন হতো না। অনেক প্রতিষ্ঠান তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে কাজ করছে। কিন্তু গণমাধ্যম যখন কোনো কথা বলে, তখন তা অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়।

মো. নাজমুল ইসলাম

default-image

পানিতে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি বিশ্বব্যাপী বিরল কিছু নয়। প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ মারা যায়। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার অনেক বেশি। যখন একটি শিশু পৃথিবীতে আসে, তখন তাকে নিয়ে পরিবার, আত্মীয় ও এলাকাবাসী স্বপ্ন দেখে। সে তো দেশের সম্পদ। শিশুমৃত্যুর ক্ষেত্রে দেখা যায়, যত মৃত্যু হচ্ছে, তার সিংহভাগই পানিতে ডুবে হচ্ছে। এ ধরনের মৃত্যু কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য। এটিকে রুখে দেওয়া যায়, থামিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু তা বুঝতেও আমাদের সময় লেগেছে।

বিশ্বের অনেক দেশ এ বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তবে সূচনার জায়গায় বাংলাদেশের বড় ভূমিকা আছে। এ ক্ষেত্রে সিআইপিআরবিসহ আপনারা যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের সাধুবাদ জানাই। এখানে গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে এলাকাবাসীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের মনে একবার যদি গেঁথে যায় প্রতিরোধের কাজটি তাঁরও দায়িত্ব, তাহলে এলাকার শিশুদের দেখভাল করে নিরাপদে রাখতে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবেন। মানুষ যদি বিশ্বাস করতে শেখে যে এ কাজ তাঁর কাজ—এ কাজ করলে শেষে তাঁরই ভালো হবে, তখন এ কাজ করতে আর কাউকে বলে দিতে হবে না। আমার মনে হয়, এ বিশ্বাসের জায়গায় কাজ করতে হবে। ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। দুই দশক ধরে যদিও কাজ চলছে। সরকার খুব সচেতনভাবে বিষয়টি নিয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
কম হলেও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এখানে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া উভয়ের করণীয় আছে।

রোবেদ আমিন

default-image

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমাদের এ আলোচনা চলাকালে পাঁচজন শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। আমরা প্রতিনিয়ত এ ঘটনাগুলো দেখছি। এই দেখে যাওয়ার বয়স ৫০ বছর। সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি হওয়া বন্যায় শিশুসহ প্রায় ৯৬ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে। শিশুগুলো যে মারা যাচ্ছে, এই প্রতিবেদন কে দেয়? কারা করে? সিআইপিআরবিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা গবেষণা করে আমাদের এই পরিসংখ্যান দিয়েছে। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে এই কাজগুলো
কে করে? এ ক্ষেত্রে তো হাসপাতালে আনা হয় না। মারা গেলে কবর দিয়ে দেওয়া হয়। এসব বিষয়ের ক্ষেত্রে মৌখিক ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। কিন্তু তা কি হচ্ছে? বাংলাদেশের সব জায়গায় কি মৌখিক ময়নাতদন্ত হচ্ছে? না, আমরা তা করতে পারিনি।

আমাদের এখানে মৃত্যুর হিসাবটা আসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে। তারা প্রতিবছর প্রায় ৯ লাখ মৃত্যুর তথ্য দেখায়। কখনো কি দেখেছেন, তারা মৃত্যুর কারণ হিসেবে কী দেখায়? মাতৃমৃত্যু বা সন্তান জন্মদানকালে মৃত্যুকে তারা বলে ‘কমপ্লেক্স ডেলিভারি’। এই নামে কি কোনো পরিভাষা আছে?

যেখানে মৃত্যুসংক্রান্ত ডেটাবেজ করা হয়, সেখানে কোনো চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ থাকেন না। মৌখিক ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা আছে। এ ধরনের মৌলিক জায়গাগুলোতে সমস্যা রয়ে গেছে। পানিতে ডুবে মৃত্যুর অনেক ঘটনা নথিভুক্ত হয় না। এসব বিবেচনায় নিয়ে এনসিডিসি পানিতে ডোবা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মকৌশলের খসড়া তৈরি করেছে। এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

ফজলুর রহমান

default-image

পানিতে ডুবে মৃত্যুকে নীরব মহামারিও বলতে পারি। শিশুর ১০ থেকে ১২ মাস বয়স হলেই তার মধ্যে আশপাশের পৃথিবী দেখার অদম্য ইচ্ছা জাগে। গ্রাম এলাকায় অনেক বাড়ির পাশে ছোট্ট ডোবা থাকে। বর্ষাকালে এখানে বেশি পানি থাকে। অন্য মৌসুমেও অল্প পানি থাকে। মা বা বড়রা যখন ব্যস্ত, তখন শিশুটি হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ডোবায় পড়ে যায়। এরপর খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে শিশুটি পানিতে ভেসে ওঠে। এরপর গ্রামের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাকে মাথায় করে ঘোরানো হয়, লবণ দেওয়া হয়। শেষে যখন কিছুতেই কিছু হয় না, তখন নিয়ে যাওয়া হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে ওই শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কোনো ধরনের নিবন্ধন করা হয় না। দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও তার মৃত্যু নথিভুক্ত হলো না, সামাজিক বা ইউনিয়ন পরিষদেও হলো না। এমনকি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হওয়ার কারণে বিষয়টি গণমাধ্যমেও আসে না। এই হলো সাধারণ চিত্র। এ ক্ষেত্রে আমি বলব, প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান। গণমাধ্যমে এ বিষয়টি আনা যেতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পানির কাছে যাওয়া আটকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এত পানি, সেটাও সম্ভব হয়ে উঠছে না। আমরা দরজায় বেড়া দেওয়ার কথাও বলেছিলাম। তা–ও সম্ভব হয়নি। কেউ দিতে চায়, কেউ চায় না। এ ছাড়া প্লাস্টিক ও কাঠের তৈরি শিশু সুরক্ষা কাঠামো (প্লে-পেন) আবিষ্কার করি। এখানে শিশুকে রেখে অল্প সময়ের জন্য বাইরে যাওয়া যায়। সেটিও কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়নি।

যে পদক্ষেপগুলো প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটি হলো মানুষের মধে্য সচেতনতা বৃদ্ধি। পানিতে ডুবে মৃত্যু একটি সমস্যা। বিষয়টি মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের সবার একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

চলতি বছর দেশে পানিতে ডুবে ১৯ হাজার মানুষ মারা গেছে। কোভিডে দুই বছরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ মারা গেছে। কোভিডের ক্ষেত্রে মৃত্যু রোধ করার জন্য কত চেষ্টা ছিল আমাদের। কিন্তু পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধের বিষয়টি নীরব থেকে গেছে। কোভিডের ক্ষেত্রে টিকা দেওয়া হয়। আর পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধের ক্ষেত্রে সাঁতার শেখানো জরুরি। কাজেই সাঁতার শেখানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি উদ্ধার-কৌশল শেখাতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে

ফিরোজ চৌধুরী

আজকের গোলটেবিল আলোচনায় যেসব সুপারিশ এসেছে, আশা করি, সেগুলো নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে যাবে। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

সুপারিশ

  • পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধ জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

  • মা-বাবাসহ শিশুর অভিভাবকদের পানিতে ডোবা প্রতিরোধে সচেতন হওয়া জরুরি।

  • এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য শিশুযত্ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

  • ছয় বছর হলেই শিশুদের সাঁতার শেখানোর পাশাপাশি সমবয়সী কেউ পানিতে ডুবে গেলে উদ্ধারকৌশল শেখানো দরকার।

  • তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে সিপিআর (মুখে শ্বাস-বুকে চাপ) প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।

  • পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে সহায়ক ভূমিকা রাখতে হবে।

  • মৃত্যুর নথিতে কারণ হিসেবে পানিতে ডুবে মৃত্যু উল্লেখ করাসহ জাতীয় তথ্যভান্ডারে তা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

  • যেকোনো ছুটিতে বাড়িযাত্রা এবং পানিকেন্দ্রিক পর্যটন স্থানে শিশুর প্রতি আলাদা যত্ন নেওয়ার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

  • পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার প্রশাসনকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন