যানজট ময়মনসিংহ শহরের প্রধান সমস্যা
এফসিডিওর সহযোগিতায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ও প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘ময়মনসিংহ শহরে যানজট ও নাগরিক সেবা’ শীর্ষক গোলটেবিল সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন মিলনায়তনে
অংশগ্রহণকারী: রোকনুজ্জামান সরকার, প্রশাসক, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ময়মনসিংহ। রফিকুল ইসলাম মিঞা, প্রধান প্রকৌশলী, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। গোলাম মাওলা তালুকদার, জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন), ময়মনসিংহ।
এ কে মাহবুবুল আলম, সভাপতি, মাল্টি পার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (ম্যাফ)। অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক, মহানগর বিএনপি। সাঈদ ইসলাম, কো–অর্ডিনেটর, ময়মনসিংহ ফোরাম। মাহবুব হাসান শামীম, সহকারী সেক্রেটারি, মহানগর জামায়াতে ইসলামী।
সৈয়দা সেলিমা আজাদ, আহ্বায়ক, ময়মনসিংহ নারী ফোরাম। আলমগীর মাহমুদ, সভাপতি, জেলা মোটর মালিক সমিতি, ময়মনসিংহ। তৌহিদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক, ব্যবসায়ী সমিতি ঐক্য পরিষদ। ফারিয়া তাসনিম, দপ্তর সম্পাদক, মাল্টি পার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম। আলী ইউসুফ, সম্পাদক, সুজন ময়মনসিংহ মহানগর শাখা। আবদুল কাদির চৌধুরী, সভাপতি, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন। আশরূপা হক চৌধুরী, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, ঢাকা। নারগিস আক্তার, সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, ময়মনসিংহ। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। সঞ্চালনা: ফিরোজ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো।
আলোচনা
রোকনুজ্জামান সরকার
প্রশাসক, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন।
প্রশাসক হিসেবে আমার প্রথম প্রায়োরিটি খুবই পরিষ্কার—ময়মনসিংহ শহরের যানজট, জলাবদ্ধতা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। তিনটি বিষয় সামনে রেখে আমি একজন সেবক হিসেবে কাজ শুরু করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, মাঠে নেমে কাজ করলেই বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই যানজট নিয়ন্ত্রণে আমি নিজেই প্রতিদিন রাস্তায় থাকব, যেন ন্যূনতম শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
গতকাল (১৪ মার্চ) আমাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এবং আজ আমি মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেছি। দায়িত্ব পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই শহরবাসীর প্রত্যাশা বেড়েছে। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, গত ১৭ বছরের যানজট আমি যদি বলি ৭ দিনেই শেষ করে ফেলব, তা সম্ভব নয়। তবে আগামীকাল থেকেই অন্তত একটি কার্যকর সিস্টেম দাঁড় করানোর চেষ্টা শুরু করব। আমার লক্ষ্য হবে, যেখানে মানুষ আগে ১০ মিনিট আটকে থাকত, সেখানে যেন ১–২ মিনিটের বেশি আটকে না থাকে।
ঈদের ছুটির পরপরই নগরের খাল ও ড্রেন পরিষ্কারের জন্য আমি একটি ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেব। কারণ, জলাবদ্ধতা দূর করতে হলে ড্রেনেজ–ব্যবস্থাকে দ্রুত ঠিক করা ছাড়া উপায় নেই।
যানজট নিরসনে কিছু বড় সংকট আমি স্পষ্টভাবে দেখি—শহরে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি পরিবহন চলছে। চালকেরা শৃঙ্খলা মানতে চান না আর যাত্রীরাও যেখানে ইচ্ছা সেখান থেকে গাড়িতে উঠতে–নামতে চান। চালকেরা জানেন না কোথায় থামবেন, যাত্রীরাও জানেন না কোথায় নামা উচিত। এই বিশৃঙ্খল অবস্থা না বদলালে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
আমি বিশ্বাস করি, সবার সহযোগিতা পেলে—চালক, যাত্রী, পরিবহন মালিক, নগরবাসী—ময়মনসিংহকে একটি বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও স্বস্তির শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। আমি সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে চাই। (অনলাইনে দেওয়া বক্তৃতা।)
আসাদুজ্জামান
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ময়মনসিংহ
ছোট যানবাহনের চাপ এ শহরের যানজটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রতিদিনই অভিযান চালায়, উচ্ছেদ করে; কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই আবার আগের অবস্থা ফিরে আসে।
ময়মনসিংহে যে জনচাপ তৈরি হয়েছে, তা কমানো এখন প্রায় অসম্ভব। বৃহত্তর ময়মনসিংহের পাঁচ জেলার মানুষের সঙ্গে এই শহরের একধরনের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস–আদালত, হাসপাতাল—সবই এখানে কেন্দ্রীভূত। ফলে শহরকে বড় ও বিস্তৃত করা এখন সময়ের দাবি। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারের এলাকাগুলোর ব্যবহার এখন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। সেখানে সরকারি অফিস–আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ক্লিনিক—যতগুলো সমস্যা রয়েছে , তা বিস্তৃত করা দরকার।
এক দিনে এ সমস্যার সমাধান হবে না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম এখন থেকেই শক্তিশালী করতে হবে। বিভাগীয় শহর স্থাপনের জন্য এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে, এখন প্রক্রিয়াধীন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের আরও সুনির্দিষ্ট হতে হবে। আশা করা যায়, ময়মনসিংহ তখন একটি আদর্শ শহরে রূপান্তরিত হবে।
রফিকুল ইসলাম মিঞা
প্রধান প্রকৌশলী, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন
ময়মনসিংহের যানজট এ শহরের অন্যতম বড় সমস্যা। সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অযান্ত্রিক রিকশা নিয়ন্ত্রণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এগুলো হঠাৎ বন্ধ করা সম্ভব নয়। শহরের রাস্তাঘাট অনেক পুরোনো ও সরু, সেগুলো ইচ্ছা করলেই সম্প্রসারণ করা যায় না। তবে নদীর ওপারে শহরের নতুন এলাকাগুলোতে আমরা উন্নয়নকাজ শুরু করেছি। নদীর ওপারের ২৬, ৩০ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে যেখানে এখনো ঘনবসতি হয়নি, সেখানে রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প স্থানীয় সরকার বিভাগ অনুমোদন করেছে।
শহরের যানজটের অন্যতম কেন্দ্র পাটগুদাম বাস টার্মিনাল। ময়মনসিংহে এখনো কোনো ট্রাক টার্মিনাল নেই। একটি বাস টার্মিনাল ও একটি ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প অর্থ বিভাগে আছে, এরপর এটি একনেকে যাবে। তা ছাড়া স্টেডিয়ামের পাশের টাঙ্গাইলমুখী বাসস্ট্যান্ডটি আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিপরীতে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছি। এসবের জন্য ৪০৭ কোটি টাকার জমি অধিগ্রহণের প্রকল্পও প্রক্রিয়াধীন।
যানজটের কারণে নাগরিক সেবা ব্যাহত হয়, কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, নানা জটিলতা তৈরি হয়। তাই চালক, পরিবহন মালিক, দোকানদার—সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
গোলাম মাওলা তালুকদার
জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন), ময়মনসিংহ
আমি এই ময়মনসিংহ শহরেই পড়ালেখা করেছি। আশির দশক থেকে আজ পর্যন্ত রাস্তাগুলো এক ইঞ্চিও বাড়েনি—এটাই বাস্তবতা। অথচ বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে অসংখ্য, কিন্তু পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সব যানবাহন রাস্তায় রাখা হয়। শহরে ১২টি রেলক্রসিং, দিনে ২৩টি ট্রেন—মোট ৪৭ বার আপ-ডাউন করে। প্রতিবার গেট বন্ধ থাকে কমপক্ষে ৫ মিনিট। এই সময়েই যানবাহন জমে গিয়ে পুরো শহরকে ৭–৮ ঘণ্টা স্থবির করে দেয়।
আমার অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই, এ শহরকে বিকেন্দ্রীকরণ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। ব্রহ্মপুত্রের ওপারে যোগাযোগের সুবিধার্থে এখনো যথেষ্ট সেতু নির্মিত হয়নি। শহরের দুই পাশ একীভূত হলে চাপ অনেকটাই কমে যেত।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও বিভিন্ন কলেজের বাসগুলো সারা দিন শহরের ভেতর দিয়ে চলাচল করে, যা যানজট বাড়ায়। তার ওপর পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় ট্রাফিক পুলিশও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সেবা দিতে পারে না—মেট্রোপলিটন শহরের তুলনায় আমরা খুব অল্প জনবল নিয়ে কাজ করি। অন্য বিভাগীয় শহরের মতো এখানেও দ্রুত মেট্রোপলিটন পুলিশ চালু প্রয়োজন।
এ কে মাহবুবুল আলম
সভাপতি, মাল্টি পার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (ম্যাফ)
শহরের যানজট ও সড়ক ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো সবার কাছেই স্পষ্ট। ফুটপাতে হকারদের কারণে শহরের যানজট বাড়ছে। চরপাড়া ও নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে ফুটপাত ও বসার জায়গা ঠিকঠাকভাবে পুনর্বিন্যাস করলে রাস্তায় যানজট কমানো সম্ভব। প্রয়োজনে সিটি করপোরেশন ভাড়া নেওয়া জায়গায় ফুটপাত ব্যবহারকারীদের বসার ব্যবস্থা করে দিতে পারে।
বেসরকারি স্কুল ও কোচিংয়ে শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাচল রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। প্রশাসন চাইলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা যায়, যেন তারা রাস্তার ব্যাঘাত না ঘটিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ চালায়।
একইভাবে শপিং মল ও বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকেও বাধ্য করা যেতে পারে, যেন তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নিচে পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখে।
আমাদের শুধু আলোচনা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। ছোট উদ্যোগও শহরের যানজট কমাতে কার্যকর হতে পারে, যদি প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও নাগরিক—সবাই একত্রে কাজ করি। আমি আশা করি, সঠিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রাজনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা শহরের রাস্তাগুলোকে যানজটমুক্ত করতে পারব।
অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী
যুগ্ম আহ্বায়ক, মহানগর বিএনপি
শহরের যানজট মূলত আমাদের নিজের আচরণ ও শৃঙ্খলার অভাবের ফল। রাস্তা প্রশস্ত হয়নি, কিন্তু যানবাহন বেড়েছে। শহরের দুই পাশের রাস্তাগুলো সম্প্রসারণের আর কোনো সুযোগ নেই। একমাত্র ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে নতুন শহর গড়ে উঠলে আমরা যানজট থেকে মুক্তি পেতে পারব।
যদি নিজেকে শুধরে নেওয়া যায়, তাহলে যানজট কিছুটা হলও কমবে। হকারদের কারণেও যানজট হচ্ছে। এই সমস্যা যদি সমাধান করা যায়, তাহলে আমরা এখনো সেই পুরোনো রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারব, যেমন সানকি পাড়া থেকে গাঙ্গিনার পাড় হয়ে মানুষ চলাচল করছে।
রাস্তা সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তা অসম্ভব। একবার এক–এগারোর সময় রাস্তা সম্প্রসারণের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কারও বাড়ির কার্নিশ ভাঙা হলে মানুষের মধ্যে মারামারি পর্যন্ত হয়েছিল। তাই আমি বলি, পুরোনো শহরের মতো এখানে রাস্তা সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। শহরের ঐতিহ্য ও নিরাপত্তার কারণে পুরোনো শহরকে ওল্ড টাউন হিসেবে রেখে দিতে হবে। আর নদীর ওপারে নতুন শহর—নিউটাউন—গড়ে তুলতে হবে। তখন আমরা যানজটমুক্ত পরিবেশ পেতে পারি।
মাহবুব হাসান শামীম
সহকারী সেক্রেটারি, মহানগর জামায়াতে ইসলামী
আমরা অনেক আলোচনা করি, কিন্তু দৃশ্যমান সমাধানের উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। শহরের রেললাইন সমস্যাও গুরুতর। রেলক্রসিং শহরের চতুর্দিক বিস্তৃত। প্রতিটি ক্রসিংয়ে কয়েক মিনিটের জন্য গেট বন্ধ থাকায় রাস্তার দুই পাশে যানবাহন জমে যায়, যা শহরের চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করছে। আমি মনে করি, রেলস্টেশন শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া জরুরি।
রাস্তা এখনো প্রশস্ত নয়। ছোট রাস্তা ও ফুটপাতের ব্যবস্থাপনা অপর্যাপ্ত। ব্রহ্মপুত্র নদের দুই পাশে যদি বড় রাস্তা তৈরি করা হয়, তবে যানজট অনেকটা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন অবৈধ বস্তি ও নির্মাণ উচ্ছেদ করে প্রধান সড়ক সম্প্রসারণ করা গেলে গাড়ির চলাচল স্বাভাবিক হবে।
সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব শুধু অনুমোদন দেওয়া নয়; বরং নির্মাণকাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নজরদারি করা। আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং, রাস্তার ওপর যানবাহনের অবস্থান—এসব নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া ছোট রাস্তা ও সংযোগগুলোকে ওয়ানওয়ে রোড হিসেবে পরিচালনা করলে শহরের যাতায়াত অনেকটা সহজ হবে।
আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সমন্বিতভাবে কাজ করলে ময়মনসিংহকে যানজটমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সাঈদ ইসলাম
কো-অর্ডিনেটর, ময়মনসিংহ ফোরাম
আজ এখানে যে স্টেকহোল্ডাররা বসেছেন—রাজনীতিবিদ, পরিবহন ব্যবসায়ী, প্রশাসন—তাঁদের যদি সত্যিকারের ইচ্ছা থাকে, ময়মনসিংহের যানজট আজকের মধ্যে অর্ধেক কমে যাবে। প্রশ্ন হলো, এত দিন পরেও কেন হচ্ছে না? কারণ, সমস্যা চিহ্নিত হলেও এর সুবিধাভোগী কিছু মানুষের জন্য তা হচ্ছে না। সমাধান সম্ভব, যদি আমরা ব্যক্তিগত স্বার্থ ভুলে প্রকৃত সমাধানের চিন্তা করি।
দেখা যাচ্ছে, এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর, অন্যের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে। স্টেকহোল্ডাররা একে অপরকে দায়ী করছেন। এভাবেই গত ১০ বছর কেটে গেছে। অনেক আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
বাসস্ট্যান্ড, সিএনজি অটোস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড—সবকিছু শহরের মধ্যে অবস্থান করছে, অথচ অন্য কোথাও এগুলো সরানো সম্ভব। শহর বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়া যানজটের মূল কারণ ঠিক আছে। কিন্তু প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, রাজনৈতিক নেতারা সবাই জবাবদিহি এড়াচ্ছেন। আমার মনে হয়, এখন শুধু আলোচনা নয়; এই তিন স্টেকহোল্ডারকে জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে জবাব দিতে হবে। নাগরিকেরা সচেতন হবেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতা বাস্তব সমাধানের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন—তবেই ময়মনসিংহের যানজট স্থায়ীভাবে কমানো সম্ভব হবে।
সৈয়দা সেলিমা আজাদ
আহ্বায়ক, ময়মনসিংহ নারী ফোরাম
যানজট কমাতে আমাদের প্রথমেই স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার দিকে নজর দিতে হবে। আমরা এখন স্মার্ট বাংলাদেশে এগোচ্ছি। তাই হস্তচালিত সিগন্যালের পরিবর্তে ডিজিটাল সিগন্যাল চালু করা গেলে শহরের যান চলাচল অনেকাংশে স্বাভাবিক হবে।
এ ছাড়া ফুটপাতে আলাদা সাইকেল লেন তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে মানুষের চলাচল ও যানবাহনের পথ আলাদা হয়ে যায়। জলাবদ্ধতা কমানোর জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে উন্নত ও নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
নাগরিকদের দায়িত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যায় অনেক সময় ড্রেনে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ফেললে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তাই নাগরিকেরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন না করলে সিটি করপোরেশনের প্রচেষ্টা অপ্রতুল থাকবে। এ জন্য সচেতনতা তৈরি করতে হবে, মাইকিং ও প্রচার চালাতে হবে। ড্রেনে ময়লা ফেলার ক্ষেত্রে জরিমানা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের এলাকাকে নিয়মিত পরিষ্কার রাখবে। নাগরিকদের মধ্যে এই সচেতনতা এবং দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পেলে শহরের পরিবেশ ও যান চলাচল উভয়ই সহজতর হবে।
সিটি করপোরেশন, প্রশাসন এবং নাগরিকেরা একসঙ্গে কাজ করলে ময়মনসিংহ শহর আরও সুন্দর ও জনবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে উঠবে।
আলমগীর মাহমুদ
সভাপতি, জেলা মোটর মালিক সমিতি, ময়মনসিংহ
আমরা সবাই জানি, শহরের যানজটের মূল সমস্যা হলো অবকাঠামোর পুরোনো অবস্থা এবং পরিকল্পনার অভাব। মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড ৩০ বছর আগে তৈরি হয়েছিল, আজ সেখানে কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেই। এটি অবশ্যই শহরের বাইরে সরানো উচিত। একইভাবে রেলপথ, সিএনজিস্ট্যান্ড, ফুটপাতের দোকান—সবকিছু পুনর্বিন্যাস করতে হবে।
সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। প্রত্যেক ব্যক্তি যদি দায়িত্বশীলভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং অসচেতন আচরণ না করেন, তবে শহরের যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব। ১০ মিনিটের মধ্যে ভ্যান বা সিএনজি সরিয়ে নাগরিকদের চলাচলের জন্য রাস্তা মুক্ত করা যায়। কিন্তু এ জন্য সাহস ও উদ্যোগ প্রয়োজন।
আমার প্রস্তাব হচ্ছে, সিটি করপোরেশনকে আরও কার্যকরভাবে রাস্তাগুলো পুনর্বিন্যাস করতে হবে। আমাদের শহরের প্রতিটি রাস্তা যথাযথভাবে পরিকল্পিত হতে হবে, যাতে ১৭ হাজার নয়, প্রয়োজনে ৫১ হাজার গাড়িও নিরাপদে চলাচল করতে পারে। রেলপথ, বাসস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ড—এগুলো নতুন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ মানসিকতার পরিবর্তন। যখন নাগরিক এবং প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করবে, তখনই ময়মনসিংহের যানজটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
তৌহিদুজ্জামান
সাধারণ সম্পাদক, ব্যবসায়ী সমিতি ঐক্য পরিষদ
প্রথমেই বলতে চাই, আমরা নগরায়ণ, সিএনজি স্ট্যান্ড, বাস ও যানজটের নানা সমস্যা নিয়ে বারবার আলোচনা করেছি, কিন্তু কার্যকর সমাধান চোখে পড়ে না। ময়মনসিংহ শহরের উপশহর নেই, নদীর ওপারে প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা নেই, যার কারণে যান চলাচল ও নাগরিক সুবিধা সীমিত।
শহরের ফুটপাত, সিএনজি ও বাসস্ট্যান্ডের অসংগঠিত অবস্থান, হাইরাইজ ভবন ও পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থার অভাব—এই সব সমস্যার কারণে শহরে নিয়মিত যানজট তৈরি হয়। রাস্তায় একের পর এক রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল বাড়ছে। অথচ এসবের অনুমোদিত সংখ্যা ও নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রশাসনের প্রতিশ্রুতিও সব জায়গায় কার্যকর হয় না।
ফুটপাত তৈরি, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং নিশ্চিত করা, নতুন বাজার ও স্টেশন রোডের রেড মার্কিং জোন কার্যকর করা এবং নদীর ওপারে উপশহর গঠন—এসব একসঙ্গে করতে পারলে শহর বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব নেওয়া দরকার, সচেতনভাবে চলাফেরা করা ও স্থান সংরক্ষণে সহযোগিতা করা।
যদি প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও নাগরিকেরা একসঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করি, ময়মনসিংহকে যানজটমুক্ত ও পরিকল্পিত শহরে রূপান্তর করা সম্ভব।
ফারিয়া তাসনিম
দপ্তর সম্পাদক,
মাল্টি পার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (ম্যাফ)
ম্যাফ একটি বহুদলীয় প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি একত্রে কাজ করেন। আমরা অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে নাগরিকদের প্রত্যাশা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সংলাপ আয়োজন করি।
ময়মনসিংহে ২০২০ সাল থেকে আমাদের এ প্ল্যাটফর্ম কাজ করছে। আমরা বিদ্যাময়ী স্কুল এলাকার রাস্তা ও ড্রেন উন্নয়ন, মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জয়নুল আবেদিন পার্কে নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ নিয়েও সংলাপ করেছি।
নাগরিকদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেমন পাটগুদাম, চরপাড়া, নতুন বাজার ও গাঙ্গিনারপাড়ের রাস্তা অস্বাভাবিকভাবে ব্যস্ত। এ সমস্যার পেছনে রয়েছে পুরোনো সড়ক, সীমিত গণপরিবহন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিস্তার। যদিও সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ ও জেলা প্রশাসন কাজ করছে, সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
আমরা মনে করি, সংলাপ ও সমন্বয়ই ময়মনসিংহের মতো দ্রুত বিকাশমান শহরে কার্যকর সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে। আজকের আলোচনা ভবিষ্যতের কার্যকর সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করবে। সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসককে অভিনন্দন জানাই। আশা করি, নতুন নেতৃত্বে নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে এবং শহরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাবে।
আলী ইউসুফ
সম্পাদক,
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), ময়মনসিংহ শাখা
প্রথমেই বলতে চাই, ময়মনসিংহ শহরে শুধু যানজট নয়, এটি এখন জনজটের শহরে পরিণত হয়েছে। ময়মনসিংহ অনেক পুরোনো শহর এবং শহরটি অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। আর এটাই এই শহরের বিকাশের পথে মূল সমস্যা।
আট বছর হলো ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন হয়েছে। নগর-পরিকল্পনার যে উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল, তা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। আমরা সবকিছু এক স্থানে কেন্দ্রীভূত করেছি—অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বড় বাজার, যা শহরের সম্প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করছে। নতুন বাড়ি ও যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে, অথচ সড়ককে প্রশস্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
যানজটের সমাধানে শুধু রিকশা সরিয়ে নেওয়া যথেষ্ট নয়। সমস্যা মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যেখানে জনজট আরও বাড়াচ্ছে। আমরা শহরের ভবিষ্যৎকে সুন্দর, সমৃদ্ধ ও কার্যকর করতে চাইলে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে। প্রত্যেক ওয়ার্ডে সুবিন্যস্ত নগরায়ণ, যথাযথ সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থার বিকল্প ভাবা এখন সময়ের দাবি।
আমার বিশ্বাস, যদি আমরা নিজেরা স্বপ্নবান হই, পরিকল্পিতভাবে শহরকে গড়ি এবং দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিই, তবেই ময়মনসিংহকে যানজটমুক্ত ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আবদুল কাদির চৌধুরী
সভাপতি,
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন
আমরা যাঁরা এই শহরে বাস করি, আমরা প্রতিদিন এর প্রভাব অনুভব করি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে যত আলোচনা, মিটিং বা সমীক্ষা হয়েছে, তার বাস্তব পরিবর্তন দেখা যায়নি।
প্রতিটি সভায় আমরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করি এবং অঙ্গীকার করি যে একটি করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু কিছুই বাস্তবায়ন হয় না। উদাহরণস্বরূপ, গত মিটিংয়ে বলা হয়েছিল যে ঈদগাহ মাঠের সামনে সিএনজি স্ট্যান্ড সরানো হবে। অথচ আজও তা সেই স্থানে আছে। কেন? প্রশাসন কি পারে না, নাকি কোথাও দুর্বলতা রয়েছে—আমরা সেটা জানতে চাই।
আজকের এই গোলটেবিল আলোচনায় আমি আশার বাণী শুনেছি। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার, ব্যক্তিগতভাবে যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। আমার সংগঠন নিরাপদ সড়ক আন্দোলন তার পাশে থাকবে। আমরা চাই প্রতিটি চিহ্নিত সমস্যার বাস্তব সমাধান হোক।
আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট, ময়মনসিংহকে জনবান্ধব, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত শহরে পরিণত করা। আমি বিশ্বাস করি, যদি আমরা সবাই সক্রিয়ভাবে অংশ নিই এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করি, তবে এই শহরের দীর্ঘদিনের সমস্যা যানজট সমাধান করা সম্ভব।
আশরূপা হক চৌধুরী
প্রোগ্রাম ম্যানেজার,
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, ঢাকা
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং এফসিডিওর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
ময়মনসিংহ শহরের যানজট শুধু রাস্তায় যানবাহনের সমস্যা নয়; এটি শহরের নাগরিকদের নিরাপত্তা, জরুরি চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনেও বিঘ্ন ঘটায়। দীর্ঘ সময় রাস্তা ও যানজটে আটকে থাকার কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তিও বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে, শহরের সড়কে যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং যানজট নিরসনে বিভিন্ন সরকারি অফিস ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাজের সমন্বয়ের অভাব ব্যবস্থাপনায় সমস্যা সৃষ্টি করে।
এ আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মধ্যে যেসব সমন্বয়ের অভাব রয়েছে, তা চিহ্নিত করা এবং কীভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা যায়, সে বিষয়ে একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করা।
ময়মনসিংহের মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরামের (ম্যাফ) সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক প্রত্যাশা অনুযায়ী যানজট নিরসনে কাজ করে আসছেন এবং এর আগেও এ বিষয়ে সংলাপ আয়োজন করেছেন। সব অংশীজনের সঙ্গে যুক্ত থেকে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে ম্যাফ এই প্রক্রিয়ায় আরও শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
নারগিস আক্তার
সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার,
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, ময়মনসিংহ
প্রথমেই ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক মহোদয়কে অভিনন্দন জানাই। অডিও বার্তায় আমরা শুনলাম, তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার—যানজট, জলাবদ্ধতা ও পরিচ্ছন্নতা। তাঁর বক্তব্য আমাদের সবাইকে আশার আলো দেখাচ্ছে।
আজকের সভায় উপস্থিত প্রতিটি অংশগ্রহণকারীর ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। এখানে উপস্থিত সবাই শুধুই নাগরিক হিসেবে নয় বরং নিজ নিজ দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে মতামত দিয়েছেন।
আমি বিশেষভাবে ময়মনসিংহের মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরামের (ম্যাফ) সভাপতি এ কে মাহবুবুল আলমসহ উপস্থিত সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই। ছয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত এই প্ল্যাটফর্ম নাগরিকদের প্রত্যাশা ও সমস্যা সামনে আনার মাধ্যমে দলমত–নির্বিশেষে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রশাসন এবং নাগরিকদের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের সুযোগ তৈরি করা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা।
আমি আশা করি, এ ধরনের আলোচনা ও সমন্বিত উদ্যোগ শহরের যানজট, দুর্ভোগ এবং অন্যান্য নাগরিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
সুপারিশ
ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা।
ফুটপাত পুনর্বিন্যাস এবং আলাদা সাইকেল লেন তৈরি করা।
খাল ও ড্রেন দ্রুত সংস্কার ও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা।
নাগরিকদের সচেতন করা, ড্রেনে ময়লা/পলিথিন ফেলা নিয়ন্ত্রণ ও জরিমানা প্রয়োগ।
হকার নিয়ন্ত্রণ এবং স্কুল, কোচিং ও বড় প্রতিষ্ঠানকে রাস্তা ব্যাহত না করতে বাধ্য করা।
নদীর ওপারে নতুন উপশহর গঠন করে প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থানান্তর করা।
হাইরাইজ ভবনে পর্যাপ্ত আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং নিশ্চিত করা, রাস্তার ওপর পার্কিং সীমিত করা।
অগোছালো বাস, সিএনজি ও ট্রাকস্ট্যান্ড পুনর্বিন্যাস করা।
প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগে বাস্তব ও স্থায়ী সমাধান করা।
রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ, ট্রাক/বাস টার্মিনাল নির্মাণ ও রেলক্রসিং পুনর্বিন্যাসের সময় নিয়মিত নজরদারি করা।