শিশুর সামগ্রিক বিকাশ কার্যক্রম গতিশীলকরণ: পরিপ্রেক্ষিত সিলেট অঞ্চল
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) চার বছর ধরে ‘বাংলাদেশে সামগ্রিক শিশু বিকাশ’ প্রোগ্রামের মূল্যায়ন করেছে। এ লক্ষ্যে বিআইজিডি ও প্রথম আলোর উদ্যোগে ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এই মূল্যায়নের ফলাফল উপস্থাপন ও অংশীজনদের মতামত তুলে ধরা হয়।
আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী
প্রশাসক, সিলেট সিটি করপোরেশন
শিশুর সামগ্রিক বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সরকার একা সব দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনকে সমন্বিতভাবে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামত নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে। আজকের এ আলোচনার মাধ্যমে শিশুর বিকাশ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে—এটি একটি ভালো উদ্যোগ।
শিশুকে শুধু খাওয়ানো, লালন-পালন ও বড় করে তোলাই যথেষ্ট নয়। তার যত্ন, নিরাপত্তা এবং আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রেও পরিবার ও সমাজকে যত্নশীল হতে হবে। সামাজিক সংকোচের কারণে অনেক পরিবার এ শিশুদের আত্মীয়স্বজন বা জনসমাগমে নিয়ে যায় না। এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
সিলেটে শিশুর সামগ্রিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি রয়েছে। তাই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশুর বিকাশ, স্পিচ থেরাপি বা এ-সংক্রান্ত কোনো বিষয় চালু করা যায় কি না, তা আমরা দেখতে পারি। এতে স্থানীয়ভাবে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য খেলাধুলার কর্নার তৈরি এবং প্রয়োজন হলে শিক্ষক দেওয়ার উদ্যোগও আমরা নিতে পারি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে কথা বলে কাজ করা যেতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাক্-প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন সেবাগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। শিশুরা সেখানে কীভাবে বেড়ে উঠছে এবং তাদের বিকাশে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে কি না, তা দেখার ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী
উপাচার্য, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
সিলেটের শিশুদের সামগ্রিক বিকাশে হাওর ও চা-বাগান এলাকার বাস্তবতা বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। হাওরাঞ্চলের অনেক এলাকা প্রায় ছয় মাস প্লাবিত থাকে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় টিকাদান, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা বাধাগ্রস্ত হয়। চা-বাগান এলাকায় দারিদ্র্য, কম মজুরি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ঘাটতি এবং প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার সীমিত সুযোগ শিশুদের বিকাশে ঝুঁকি তৈরি করছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের এমআইসিএস ২০২৫-এর সূচক অনুযায়ী সিলেট ২ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের ৬৭ শতাংশ সঠিক বিকাশের পথে রয়েছে। জাতীয় হার ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। ৩ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার সিলেটে ১৩ শতাংশ, যা আটটি বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন। জাতীয় হার ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সিলেটে মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ শিশুর বাড়িতে তিনটি বা তার বেশি বই রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে খাদ্য দারিদ্র্যের হার ৭২ দশমিক ১ শতাংশ, যা বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
শিশুর সামগ্রিক বিকাশে পরিবার ও সমাজকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। গর্ভকাল থেকে আট বছর পর্যন্ত, বিশেষ করে প্রথম তিন বছরে, শিশুর শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, ভাষাগত ও আবেগময় বিকাশে নজর জরুরি। যৌথ পরিবার কমে যাওয়া, মা-বাবার কর্মব্যস্ততা ও প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে শিশুযত্নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও পরিচর্যা কমছে। হাওরাঞ্চলে বোট ও স্যাটেলাইট ক্লিনিক, নিয়মিত টিকাদান এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এ জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ, পরিবার ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মো. আবদুল্লাহ আল মামুন
জেলা প্রশাসক, সিলেট
সিলেটকে সাধারণত প্রবাসী-অধ্যুষিত ও সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে দেখা হলেও এখানে দারিদ্র্যের বাস্তবতা রয়েছে। দুর্গম ও দরিদ্র এলাকায় শিশুদের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করা কঠিন। এসব এলাকায় কোনো প্রকল্প নেওয়ার সময় স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সরকারি কর্মসূচিতে আমাদের মূল কাজ বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় করা। শিশুর সামগ্রিক বিকাশের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমানে শিশুদের মধ্যে এডিএইচডি, স্পিচ ডিলে ও অন্যান্য বিকাশগত সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এসব সমস্যার কারণ এখনো নির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। শিশুদের পর্যাপ্ত মেলামেশা ও খেলাধুলার সুযোগ না থাকা, অতিরিক্ত শাসন এবং ছোটবেলা থেকেই ইন্টারনেট, মোবাইল ও কম্পিউটারের ওপর নির্ভরতা এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিশুর বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো জরুরি। সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করছে। সিলেটেও মাঠের প্রস্তাবগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। শিশুদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হচ্ছে।
শিশুদের এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ভালো থেরাপিস্টের ঘাটতিও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। সঠিক খাদ্য, খেলাধুলা ও শিশুর যত্ন—সবকিছু সমন্বিতভাবে দেখতে হবে। কিশোরদের অপরাধ ও মাদকাসক্তির দিকটিও আমাদের গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। শুধু আলোচনা নয়, কী করা উচিত, তা নির্ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে।
মাহমুদা সুলতানা
উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিলেট
সিলেটের সব এলাকার বাস্তবতা এক নয়। অঞ্চলভেদে মানুষের জীবনযাপন, আয়রোজগার ও শিশুদের বেড়ে ওঠার পরিবেশে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। যেমন ভোলাগঞ্জে ফসল ভালো হয় না। অনেক পরিবারের জন্য সেখানে তিন বেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন। এমন বাস্তবতায় শিশুদের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করা কীভাবে সম্ভব, সেটিও আমাদের ভাবতে হবে।
চা-বাগান এলাকায়ও শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত। একসময় সেখানে শিশুদের পড়াশোনার সুযোগই ছিল না। সম্প্রতি কিছু এনজিও প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ শুরু করলেও তা এখনো যথেষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। তাই শিশুর সামগ্রিক বিকাশের উদ্যোগ শুধু শহরকেন্দ্রিক হলে হবে না; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা শিশুদেরও এর আওতায় আনতে হবে।
আপনারা যেসব উদ্যোগের কথা বলেছেন, সেগুলো লিখিত প্রস্তাব আকারে দিলে আমাদের কার্যক্রম নিতে সুবিধা হবে। উপজেলা থেকে মন্ত্রণালয়—যে পর্যায়ে প্রয়োজন, আমরা সেসব প্রস্তাব নিয়ে কাজ করতে পারব। স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।
সামগ্রিক শিশুবিকাশের উদ্যোগে স্থানীয় বাস্তবতা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার, এনজিও ও স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি। সে অনুযায়ী যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।
জেমস ওয়ার্ড খকশী
সিনিয়র রিসার্চ কো–অর্ডিনেটর, বিআইজিডি
বাংলাদেশে ২০১৩ সালের প্রারম্ভিক শৈশব ও শিশুযত্ন নীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এরপর শিশুর বিকাশ নিয়ে চাহিদার দিকটি অনেকটা সংগঠিত হলেও সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষগুলো এখনো সেভাবে সংগঠিত হয়নি। আমাদের গবেষণার মূল প্রশ্ন ছিল, শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ ও যত্নবিষয়ক প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষণগুলো কীভাবে সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত করা যায়।
সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মূল্যায়ন ও সুপারিশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে চলমান নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, সম্পদ, নেতৃত্ব, সম্পর্ক ও টেকসইতার শর্ত—সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে শিশুর সামগ্রিক বিকাশ বিষয়ে সচেতনতা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এই অগ্রগতি এখনো অনেকাংশে অনানুষ্ঠানিক সমন্বয় ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বদলি হলে সেই সমন্বয়ও অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে।
আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই সমন্বয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় কাঠামোগুলোকে কার্যকর করা, মনিটরিং ব্যবস্থাকে সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে।
সিলেটে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় জোরদার করে বিদ্যমান জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিশুর সামগ্রিক বিকাশের উদ্যোগকে আরও স্থায়ী ও কার্যকর করতে হবে।
ফারাহ মুনীর
সিনিয়র রিসার্চ কো–অর্ডিনেটর, বিআইজিডি
শিশুর জন্মের পর আমরা সাধারণত তার শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়েই বেশি ভাবি—সে দেখতে কেমন, কার মতো হয়েছে। শিশুর মানসিক ও ভাষাগত বিকাশের বিষয়গুলোও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, তা পরিবার ও সমাজে এখনো সেভাবে গুরুত্ব পায় না। অথচ শিশুর সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হলে শুরু থেকেই এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিশুর নিরাপত্তা, যত্ন ও দিবাযত্নসেবার সমন্বয় প্রয়োজন।
আমরা বিআইজিডিতে চার বছর ধরে শিশুর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সেবাগুলো সরকারি ব্যবস্থার মূলধারায় যুক্ত করার লক্ষ্যে গবেষণা ও কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আমাদের অংশীদারদের মাধ্যমে ৩০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার মডেল বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীদেরও শিশুর সঙ্গে মা-বাবার কথা বলা, খেলা ও বই পড়ার উপকারিতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদারে আমাদের অংশীজন প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন খাতে বিচ্ছিন্নভাবে চলা উদ্যোগগুলোকে সমন্বিত করে সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা। কারণ, শিশুর সামগ্রিক বিকাশ কোনো একটি খাতের একক উদ্যোগে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও যত্ন—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সিলেটে শিশুর সামগ্রিক বিকাশের উদ্যোগে স্থানীয় বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মাসুমা কাওসার
জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা, আইসিডিডিআরবি
আমরা ২০১৪ সাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এবং ২০২০ সাল থেকে সরকারের সঙ্গে কাজ করছি। কমিউনিটি ক্লিনিককে প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিয়ে ৬ থেকে ৩৬ মাস বয়সী শিশুদের সামগ্রিক বিকাশে আমরা কাজ করছি। এখন পর্যন্ত ৪ টি বিভাগের ২৪টি জেলায় ৬০০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা তাঁদের এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করেছি। এখন সরকারের দায়িত্ব হলো কর্মসূচিটিকে নিজেদের উদ্যোগ হিসেবে নিয়ে বাকি জেলাগুলোতেও তা সম্প্রসারণ করা।
মনিটরিং ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা সরকারি এমআইএসের সঙ্গে যুক্ত করে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের স্থানীয়ভাবে খেলনা তৈরি ও ব্যবহারে সম্পৃক্ত করে খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুর জ্ঞানগত, ভাষাগত ও সামাজিক বিকাশ সম্পর্কে তাঁদের বোঝাতে হবে। ধাপে ধাপে এই কার্যক্রমকে সরকারের নিজস্ব কর্মসূচিতে পরিণত করতে হবে।
আতাউর রহমান
ব্যবস্থাপক, ব্র্যাক শিক্ষা কার্যক্রম
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার কার্যক্রমে আমরা দেখেছি, শিশুর সামগ্রিক বিকাশে অভিভাবক ও কমিউনিটির সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আটটি জেলার ২৮টি উপজেলায় ৩০০টি বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। মা স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ইতিবাচক অভিভাবকত্ব ও শিশুর বিকাশ বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যালয়গুলোয় প্রায় ৯৮ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় উপকরণ দিয়ে খেলনা তৈরিতেও কমিউনিটিকে যুক্ত করেছি। প্রকল্প শেষে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্থানীয় চ্যাম্পিয়ন স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করা হয়েছে। অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ে। তাই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে পরিবার ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে শিশুর সামগ্রিক বিকাশের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। এতে শিশুদের শেখার পরিবেশ আরও আনন্দময় ও কার্যকর হবে।
মো. আবদুর রফিক
উপপরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, সিলেট
সিলেটে সুবিধাবঞ্চিত, আইনের সঙ্গে সংঘাতে থাকা এবং বিভিন্নভাবে সুরক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আমাদের আটটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশুদের লালন-পালন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে জনবল–স্বল্পতা, কর্মীদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় উপকরণের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রথমে মানসিক সহায়তা, পরে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও প্রাতিষ্ঠানিক সেবা নিশ্চিত করতে হয়।
প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রয়োজন ও বিকাশের ধরন বুঝে বিশেষ যত্ন ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য কর্মী ও অভিভাবকদের শিশুদের সঙ্গে ইতিবাচক আচরণ সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও গতিশীল করতে খেলাধুলা, থেরাপি ও অন্যান্য বিকাশমূলক কার্যক্রমে সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর শিশু বিকাশের জন্য থাকা কক্ষগুলোয়ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।
শাহিনা আক্তার
উপপরিচালক, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, সিলেট
মা ও শিশুসহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে গর্ভবতী মা ও শূন্য থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুদের সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রশিক্ষণের পরিবেশের ঘাটতি রয়েছে। কিশোর-কিশোরী ক্লাবগুলোও শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সিলেটের কিছু এলাকায় সামাজিক রক্ষণশীলতার কারণে শুরুতে চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের পরিবর্তে স্থায়ী ব্যবস্থা প্রয়োজন। সিলেটের প্রেক্ষাপটে শিশুর সামগ্রিক বিকাশে আমাদের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে হবে।
সিলেটে মাত্র একটি ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। তাই আরও ডে-কেয়ার সেন্টার ও কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল স্থাপন করা দরকার। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরী ক্লাব জাতীয়করণ এবং মা ও শিশুসহায়তা কর্মসূচিতে জনবল বাড়িয়ে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করতে হবে।
দিদারুল ইকবাল
কর্মসূচি ব্যবস্থাপক, ইনোসেন্ট
আমরা থিয়েটারের মাধ্যমে শিশুদের, বিশেষ করে পথশিশুদের, শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের বেশির ভাগ উদ্যোগই প্রকল্পনির্ভর। প্রকল্প শেষ হলে কার্যক্রমও থেমে যায়। একটি উদ্যোগ যখন কার্যকর হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়, তখনই তা বন্ধ হয়ে যায়। তাই এসব উদ্যোগকে কীভাবে সক্রিয় ও ধারাবাহিক রাখা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
সিলেটের চা-বাগান–অধ্যুষিত এলাকায় মাঠপর্যায়ে কাজ না করলে শিশুদের বাস্তব সমস্যাগুলো বোঝা কঠিন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা নানা সমস্যার মুখোমুখি।
শিশুর সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বর্তমানে চলমান উদ্যোগগুলোও সক্রিয় ও দীর্ঘমেয়াদি রাখা প্রয়োজন। শুধু গোলটেবিল আলোচনা করে নয়, মাঠপর্যায়ে গিয়ে শিশুদের বাস্তবতা বুঝে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এভাবেই শিশুর উন্নয়নের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও ধারাবাহিক করা সম্ভব।
প্রণবকান্তি দেব
সহযোগী অধ্যাপক, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
সিডিজি প্রকল্পসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও জনবলের সংকটও রয়েছে। সিলেটের এই সংকট মোকাবিলায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের অংশ হিসেবে এ কাজে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
আমাদের সিডিজি কেন্দ্রগুলোয় শিশুর বিকাশে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষকের অভাব রয়েছে। পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকার বা দাতা সংস্থা সব সময় প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারবে না। এ জন্য সিলেটের স্থানীয় ও প্রবাসী কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে তাদের অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এর মধ্য দিয়ে চলমান উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শিশুর সামগ্রিক বিকাশ কার্যক্রমকে দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই করা সম্ভব।
শিরিন আক্তার
পরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি, এফআইভিডিবি
আমরা ১৯৮৫ সাল থেকেই শৈশবের প্রারম্ভিক বিকাশ (ইসিডি) নিয়ে কাজ করে আসছি। মাঝখানে বিভিন্ন কারণে প্রকল্প বন্ধ হয়েছে, আবার নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর কয়েকটিতে আমাদের বইও ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু এনজিওদের কাজ ও অবদানকে সরকারিভাবে সব সময় যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। আমাদের তৈরি বইগুলোয় লেখক ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ও যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, মোবাইল গেম ও অনলাইন জুয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। বিশেষ করে চা-বাগানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর। শিশুদের নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে তাদের সামগ্রিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হবে। সিলেট অঞ্চলে শিশুর সামগ্রিক বিকাশের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এসব বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সাইদুর রহমান ভূঞা
জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, সিলেট
সিলেটে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। আইসিবিসি কর্মসূচি সিলেটে না থাকায় এখানকার শিশু ও মায়েরা বঞ্চিত হয়েছেন। শিশু একাডেমি সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশুদের বিকাশে কাজ করছে। এই কার্যক্রম গ্রামপর্যায়ে পৌঁছে দিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে।
শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে তাঁরা শিশুদের পাশাপাশি মা-বাবাকেও সচেতন করতে পারবেন। এ জন্য জেলা পর্যায়ে শিশুর বিকাশ ও মনঃসামাজিক বিষয়ে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা থাকা প্রয়োজন।
পাশাপাশি নবম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ধারণা যুক্ত করা যেতে পারে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে এমন বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা থাকলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকেরা এ কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে পারবেন।
তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী
সহকারী প্রোগ্রামার, জেলা শিক্ষা অফিস, সিলেট
মাধ্যমিক পর্যায়ে শিশুর সামগ্রিক বিকাশে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ থাকলেও অনেক সময় অভিভাবকদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ কম থাকে। যাঁরা প্রশিক্ষণ নেন, তাঁরা এর গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়।
বিদ্যালয়ে গার্লস গাইড, স্কাউট, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো কার্যক্রম জোরদার করা দরকার। এসব কার্যক্রমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও অন্যদের সঙ্গে সহজে মিশতে পারে। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও সাইবার বুলিং বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম আরও বাড়ানো প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক অজানা বিষয় সামনে আসে। সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করলে কিশোরদের অস্থিরতা, মাদকসহ নানা সমস্যা মোকাবিলায় সহায়তা হবে।
বাদল চন্দ্র বর্মণ
জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুরে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বাংলাদেশ শিশু একাডেমির প্রকল্প আইসিবিসির আওতায় আমরা শিশুযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করছি। সকাল নয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত দুজন পরিচর্যাকারী মায়ের মতো শিশুদের যত্ন নেন। এতে অভিভাবকেরা যেমন সন্তুষ্ট, তেমনি হাওরাঞ্চলে পানিতে পড়ে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকিও কমছে। শিশুদের সামগ্রিক বিকাশে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সমন্বয় কমিটিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে অনেক কমিটি সক্রিয় নেই। প্রকল্পটির দ্বিতীয় ধাপের পরিকল্পনায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের জন্য সরকারি সেবা প্রদানে খাতভিত্তিক সমন্বয়ের ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে শিশুদের পারস্পরিক মেলামেশা, খাবার, ঘুম ও যত্নের বিষয়ে অভিভাবকদেরও নিয়মিত সচেতন করা হয়। মুঠোফোনের প্রতি আসক্তি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা দিচ্ছে। তাই সুনামগঞ্জসহ সিলেট অঞ্চলে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
সাবিহা সুলতানা
সহকারী পরিচালক, সিলেট যুব একাডেমি
সিলেট যুব একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে ইসিডি নিয়ে কাজ করছে। সিলেট সিটি করপোরেশন ও লাকাতুরা এবং মাঙ্গিছড়া চা-বাগানে আমাদের প্রায় ১২টি কেন্দ্র চলছে। তবে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এসব কার্যক্রম কীভাবে চলবে, সেটি বড় প্রশ্ন। আগামী জুনে প্রকল্প শেষ হবে। চা-বাগানের বিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রি-প্রাইমারি কার্যক্রম যুক্ত করে যাওয়ার জন্য প্রায় এক বছর ধরে যোগাযোগ করেও এখনো সম্মতি পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও শিক্ষকসংকট রয়েছে। সিটি করপোরেশনের একটি বিদ্যালয়ে আমাদের দুজন শিক্ষক কাজ করছেন। এতে অভিভাবকেরা আগ্রহী হলেও জায়গার অভাবে অতিরিক্ত শিশু নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই সিলেটের শিশুর সামগ্রিক বিকাশ কার্যক্রম টেকসই করতে সরকারকে বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। একই সঙ্গে চা-বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ও বাড়াতে হবে।
সুপারিশ:
প্রাক্-প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক কার্যক্রম বিস্তৃত করতে হবে।
শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচর্যাকারীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ বাড়াতে হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
মাদক, মোবাইল, সাইবার বুলিং ও অনলাইন জুয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে।
প্রকল্পনির্ভরতা কমিয়ে প্রমাণিক মডেলগুলোকে সরকারি ব্যবস্থায় একীভূত করতে হবে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়, সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ ও কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে।
অংশগ্রহণকারী:
আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, প্রশাসক, সিলেট সিটি করপোরেশন। অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, উপাচার্য, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রশাসক, সিলেট। মাহমুদা সুলতানা, উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিলেট। জেমস ওয়ার্ড খকশী, সিনিয়র রিসার্চ কোঅর্ডিনেটর, বিআইজিডি। ফারাহ মুনীর, সিনিয়র রিসার্চ কোঅর্ডিনেটর, বিআইজিডি। মাসুমা কাওসার, জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা, আইসিডিডিআরবি। আতাউর রহমান, ব্যবস্থাপক, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি। মো. আবদুর রফিক, উপপরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, সিলেট। শাহিনা আক্তার, উপপরিচালক, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, সিলেট। দিদারুল ইকবাল, কর্মসূচি ব্যবস্থাপক, ইনোসেন্ট। প্রণবকান্তি দেব, সহযোগী অধ্যাপক, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। শিরিন আক্তার, পরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি, এফআইভিডিবি। সাইদুর রহমান ভূঞা, জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, সিলেট। তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, সহকারী প্রোগ্রামার, জেলা শিক্ষা অফিস, সিলেট। বাদল চন্দ্র বর্মণ, জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা, সুনামগঞ্জ। সাবিহা সুলতানা, সহকারী পরিচালক, সিলেট যুব একাডেমি। মুক্তা দেব, প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর, প্রচেষ্টা। জিহাদ–আল–মেহেদী, ডেপুটি ম্যানেজার, মিডিয়া অ্যান্ড এনগেজমেন্ট, বিআইজিডি । সঞ্চালনা: ফিরোজ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো