যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান–ইফপ্রি, হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের মাধ্যমে দেশে ১০টি জিংকসমৃদ্ধ এ ধরনের ধানের জাত ছাড় করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস–আইডিএস যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। বায়োফরটিফায়েড চাল বাংলাদেশে উৎপাদন এবং ভোক্তা পর্যায়ে জনপ্রিয় করতে সংস্থাগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় একটি প্রকল্প পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিসচিব সায়েদুল ইসলাম বলেন, বায়োফরটিফায়েড প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে দেশে ধান উৎপাদিত হচ্ছে। অন্যান্য শস্যেও এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে পুষ্টিকর উপাদান বাড়ানো উচিত। যাতে সাধারণ মানুষ কম মূল্যে তাদের নিয়মিত খাবারের সঙ্গে এ ধরনের পুষ্টিকর উপাদান পেতে পারে।

সাবেক কৃষিসচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, ‘আমি নিজে জিংকসমৃদ্ধ ধানের চাষ করি। এই ধান চাষ করার জন্য কৃষকদের বাড়তি কোনো সুবিধা না দিলে এবং সাধারণ ভোক্তাদের কাছে এ ধরনের চাল সহজে পৌঁছাতে না পারলে তা জনপ্রিয় হবে না।’

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক মো. শাহজাহান কবীর বলেন, দেশের ১২ কোটি মানুষ নিয়মিতভাবে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের মতো পুষ্টিকর খাবার খেতে পায় না। দেশের মানুষ গড়পড়তায় দিনে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ভাত খায়। এ তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ওই চালে যদি জিংক যোগ করতে পারি, তাহলে দৈনিক জিংকের চাহিদার ৬০ শতাংশ ভাত থেকে জোগান দেওয়া সম্ভব। তাই জিংকসমৃদ্ধ চালের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

হারভেস্টপ্লাস–বাংলাদেশের মাধ্যমে দেশে ১০টি জিংকসমৃদ্ধ এ ধরনের ধানের জাত ছাড় করা হয়েছে।

বিএআরসির চেয়ারম্যান শেখ মো. বখতিয়ার বিজ্ঞানীদের জিংকসমৃদ্ধ ধানের পাশাপাশি অন্যান্য সবজি ও ফসল উৎপাদনে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি এ ধরনের চালের বিপণনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কার্যালয়ের কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা কার্যক্রমের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক মার্গারেটা কাপালবি বাংলাদেশের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতিতে বায়োফরটিফায়েড চালের অবদান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ ধরনের চাল যাতে দরিদ্র মানুষের হাতের নাগালে আসতে পারে, সে জন্য এর বিপণনব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. বেনজীর আলম বলেন, জিংকসমৃদ্ধ চালের উপকারিতা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাঁদেরকে ওই জাতের ধান চাষে উৎসাহিত করছে।

হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার খায়রুল বাশার বাংলাদেশে জিংকসমৃদ্ধ ধানের চাষের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের ৩০ লাখের বেশি কৃষক বায়োফরটিফায়েড ধানের চাষ করছেন। দেশের ১০৫টি ছোট ও বড় চালকল ওই ধান ভাঙিয়ে বাজারজাত করছে। ওই প্রকল্প থেকে ৫০ হাজার টন জিংকসমৃদ্ধ চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ২০২২ সালে পাঁচ হাজার টন এই জাতের ধানের বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে।

অনুষ্ঠানে জামালপুরের জিংকসমৃদ্ধ ধানচাষি কাদেম আলী ও হারুন উর রশিদ তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরনে। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ভিশনের ড. মেরি রশিদ, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অব ইমপ্রুভড নিউট্রেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রুদাবা খন্দকারসহ দেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে বক্তব্য দেন।