default-image
default-image

নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন এবং তাঁর সরকারের পতন ঘটে। সেদিন সামরিক বাহিনীর একাংশের অভ্যুত্থানে সংঘটিত আকস্মিক ও অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনাবলি দেশে-বিদেশে সকলকেই স্তম্ভিত করেছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। বহু অত্যাচার ও নিপীড়ন সহ্য করে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জনগণের গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলন ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। একাত্তরের ৯ মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধের দুঃসহ দিনগুলোতে বাঙালি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুঃখজনক ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর বিগত প্রায় পাঁচ দশক ধরে তাঁর সম্পর্কে বহু প্রশংসা, অনেক সাফল্যের কথার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু সমালোচনা, অনেক বিতর্ক উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র আর স্বাধিকারের সংগ্রামে তাঁর ঐতিহাসিক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাকে খাটো করা সম্ভব নয়। বিগত দশকগুলোতে ও ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যত পরিবর্তনই আসুক না কেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতার আসন থেকে তাঁকে অপসারিত করা সম্ভব নয়। সে জন্য বঙ্গবন্ধুর অবদানকে কেউ মেনে নিতে পারুন আর না-ই পারুন, ইতিহাসে এ সত্য সমুজ্জ্বল থাকবে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে তাঁর নাম অক্ষয় হয়ে থাকবে। যে জন্য বিএনপির সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদকেও এ স্বীকৃতি দিতে হয় যে, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতীয় পরিচিতি নির্ধারণে তাঁর চেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন, এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। শেখ মুজিব ছিলেন সেই ব্যক্তি, জীবনব্যাপী যিনি এই জাতির স্বার্থে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন, বিরাজ করেছিলেন সেই জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হিসেবে।’ (শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল, মওদুদ আহমদ, ইউপিএল, পৃ. ৩৫০)।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি একুশ বছর। ইনডেমনিটি আইন প্রণয়ন করে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে, হত্যাকাণ্ডের ঠিক দুই দশক পরে, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়। সাধারণ আইনে নিয়মিত নিম্ন আদালত থেকে উচ্চতম আদালতে নানা ধাপে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচার শেষ হয়। রায়ে ১২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

অভ্যুত্থানের পূর্বাভাস

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের আগে এটা সাধারণভাবে কেউ ভাবতেই পারেননি, যে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই, এমনকি শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রাম করে বাংলাদেশ স্বাধীন হলো, স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মধ্যেই সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটতে পারে। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তাঁর সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র তখন একদম অনালোচিত ছিল, তা নয়। বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে তাঁর নিরাপত্তা ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্কতার কথা বলেছিলেন অনেকে। দেশের ভেতরের শুভানুধ্যায়ী অনেকেই যেমন তাঁকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, তেমনি কোনো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রও এ ব্যাপারে তাঁকে জানিয়েছিল। ভারতের পক্ষ থেকে তো চুয়াত্তর সালের ডিসেম্বর ও পঁচাত্তর সালের মার্চে দুবার সামরিক বাহিনীতে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে জানানো হয়েছিল। ভারতের বেসামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান আর এন কাও ১৯৮৯ সালের ২৩–২৯ এপ্রিল কলকাতার ইংরেজি সাপ্তাহিক সানডেতে এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন।

তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব ফখরুদ্দিন আহমেদ লিখেছেন, ১৫ আগস্টের দুই সপ্তাহ আগে সুইডেনে প্রকাশিত বিশেষ রিপোর্ট সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেছিলেন, যাতে সেনাবাহিনীতে অসন্তোষ ও সেনাসদস্যদের অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ ছিল। (ক্রিটিকাল টাইমস: মেমোয়ার্স অব এ সাউথ এশিয়ান ডিপ্লোম্যাট, ফখরুদ্দিন আহমেদ, ১৯৯৫, পৃ. ১৪০)

বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের কাছেও এ রকম তথ্য ছিল। এই সংস্থার প্রধান ব্রিগেডিয়ার আবদুর রউফ এক সাক্ষাৎকার (ফ্যাক্টস অ্যান্ড ডকুমেন্টস: বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, চতুর্থ সংস্করণ, ১৯৯৪, পৃ. ২৬৫) থেকে জানা যায়, চুয়াত্তরের শেষে বা পঁচাত্তরের শুরুর দিকে তিনি খবর পেয়েছিলেন যে, ট্যাঙ্ক রেজিমেন্টের কিছু লোক একটা শো-ডাউন করতে চায়। তবে শেখ মুজিবকে হত্যা করা হবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে এটা জানা গিয়েছিল যে, এই পরিকল্পনার সঙ্গে লে. ক. ফারুক ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল। বি. রউফ এ খবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে দিয়েছিলেন। তিনি এ সবকিছু জানেন বলে জানিয়েছিলেন।

সে সময়ে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল শফিউল্লাহও এ রকম তথ্য বঙ্গবন্ধুকে দিয়েছিলেন (এ নিবন্ধকারের সঙ্গে সাক্ষাৎকার, ভোরের কাগজ–এ প্রকাশিত, ১৫-১৬ আগস্ট ১৯৯৩)। কিন্তু এসব সতর্কীকরণকে বড় হৃদয়ের মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কোনো আমল দেননি। এসব শুনে বঙ্গবন্ধু বলতেন, ওরা (সেনাসদস্যরা) আমার সন্তান, ওরা আমার কোনো ক্ষতি করবে না।

>বিগত দশকগুলোতে ও ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যত পরিবর্তনই আসুক না কেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতার আসন থেকে তাঁকে অপসারিত করা সম্ভব নয়। সে জন্য বঙ্গবন্ধুর অবদানকে কেউ মেনে নিতে পারুন আর না-ই পারুন, ইতিহাসে এ সত্য সমুজ্জ্বল থাকবে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে তাঁর নাম অক্ষয় হয়ে থাকবে।

কিন্তু ১৫ আগস্ট সকালে সে ভয়ংকর ঘটনাটি ঘটে যায়। সামরিক বাহিনীর ক্ষুদ্র এক অংশের (এর মধ্যে তিনজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসারও ছিল) নেতৃত্বে এক আকস্মিক অভ্যুত্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হলেন। স্বাধীনতার চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে যে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা ঘটে তা আর থেমে থাকেনি। সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন, ক্যু, পাল্টা ক্যু, বহু সামরিক ব্যক্তি নিহত এবং ঢাকা জেলের অভ্যন্তরে বন্ধ প্রকোষ্ঠে চার জাতীয় নেতার জঘন্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এ ধারাতেই। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও সামরিক বাহিনীর একটি অংশের অভ্যুত্থানে নিহত হন ১৯৮১ সালের ৩০ মে, চট্টগ্রামে। আবার সামরিক অভ্যুত্থান হয় ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বে।

রাজনীতির অমানিশা

পঁচাত্তরের ঘটনাবলির পর প্রায় দেড় দশকজুড়ে দেশে সামরিক-বেসামরিক শাসনে এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান শেষে এখন পর্যন্ত নয়টি সাধারণ নির্বাচনের পরও দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল অবস্থাতেই রয়ে গেছে। পঁচাত্তরের আগস্টের পর থেকে সকল সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দুর্নীতি উচ্ছেদ ও গণতন্ত্রের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তা রূপলাভ করেনি। বিগত প্রায় পাঁচ দশক ধরে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত নয়টি সরকারের অধীনেও দেশে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বরং রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা আর সংঘাত চলেছে। নির্বাচিত সরকারগুলো তাদের ঘোষিত অনেক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে না, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের ঘটনাবলি ও তার সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মহলে আজও তেমন কোনো গভীর অনুসন্ধানী পর্যালোচনা হলো না। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও সে রকম কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যা হচ্ছে তা শুধু অতীতের সাফল্যের বক্তৃতা-বিবৃতি বা আলোচনারই পুনরাবৃত্তি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগবিরোধী শক্তিগুলো স্বাধীনতা-উত্তর আওয়ামী সরকারের ব্যর্থতাগুলোকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করেই শুধু রাজনৈতিক সুবিধা লাভের চেষ্টা করেছে।

তবে দেশের বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এ বিষয়ের ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই স্বাধীনতা–উত্তর বঙ্গবন্ধু সরকারের বিভিন্ন মাত্রার বেশকিছু সাফল্যের কথা স্বীকার করেন। সে সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা প্রাথমিকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়। বিধ্বস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ব্যবস্থাকে পুনর্গঠিত করতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। স্বল্প সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্বাধীনতার ১০ মাসের মধ্যেই নতুন সংবিধান দেওয়া হয় এবং তার ৬ মাস পরে নতুন সংবিধানের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেড় বছরের মধ্যে পরিকল্পনা কমিশন প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন সমাপ্ত করে। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীন অবস্থান নিতে সক্ষম হন। এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। এসব ক্ষেত্রে শেখ মুজিবের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, উদ্যোগ ও তাঁর অবস্থানই নিঃসন্দেহে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।

তারপরও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন নীতির ফলে সৃষ্ট জনজীবনের সংকট, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি, নিজের দলের ভেতরে অন্তর্দ্বন্দ্ব, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো নিপীড়ন, গণতান্ত্রিক অধিকার বাতিল, জরুরি আইনের প্রয়োগ এবং শেষ পর্যন্ত একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ‘বাকশাল’ প্রভৃতি ঘটনাবলির নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। এসব কিছুর বিভিন্নমুখী ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী ঘটনাবলি সৃষ্টির পটভূমি তৈরি হয়েছিল বলে তারা মনে করেন।

শুধু অভ্যন্তরীণ কারণ নয়, মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজের ‘মার্ডার অব মুজিব’ শিরোনামে বড় নিবন্ধটির (বাংলাদেশ: অ্যান আনফিনিশ্ড্ রেভোল্যুশন গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশ) তথ্যানুসন্ধান থেকে জানা যায়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর জ্ঞাতসারে কয়েকজন দক্ষিণপন্থী আওয়ামী লীগ নেতা ও সামরিক অফিসারের বছরাধিক কালের ষড়যন্ত্রের ফলে শেখ মুজিব নিহত হন। প্রায় এক বছর ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। উৎখাতের দিন পর্যন্ত এ যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। আর এ তো সকলের জানা কথা, মার্কিন সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি কখনো খুশি ছিল না। নিক্সন-কিসিঞ্জার স্বাধীন বাংলাদেশকে কখনো মেনে নিতে পারেননি। স্বাধীন বাংলাদেশ ছিল তাঁদের জন্য ব্যক্তিগত বড় পরাজয়। সে জন্য চুয়াত্তর সালে খাদ্যসাহায্য না দিয়ে মার্কিন সরকারের রাজনৈতিক চাপ ও তার ফলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্য সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছিল। ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ ও মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন ঘটে। এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, শেখ মুজিবের পতনে তারা খুশি হয়েছে। অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরই শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধী পাকিস্তান, চীন ও সৌদি আরব সরকার বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো স্বীকৃতি দেয়।

অস্থির পটভূমিকা

পঁচাত্তর-পূর্ববর্তী দুই দশকে তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংঘটিত অভ্যুত্থানগুলো পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের অত্যন্ত সফল একটি অভ্যুত্থান সংঘটিত করা অসম্ভব ছিল। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের মূল্যায়নটি আমরা বিবেচনায় নিতে পারি। তাঁর মতে, ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থান সম্পর্কিত ষড়যন্ত্রের বিভিন্ন তত্ত্বের সত্যতা যাই থাকুক না কেন, বাস্তব এই যে, প্রায় সকল অভ্যুত্থান অভ্যন্তরীণ ঘটনাবলি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে উদ্ভূত হলেও বাইরের শক্তির উৎসাহ বা নিরুৎসাহ এর সাফল্য ও ব্যর্থতার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে। শেখ মুজিবের পরবর্তী সরকারগুলোর সফলতা বিপুলভাবে নির্ভরশীল ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের ওপর এবং বাংলাদেশ-মার্কিন উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পনেরো আগস্টের অভ্যুত্থান দিক-পরিবর্তনকারী ভূমিকা পালন করেছে। ( দি মিলিটারি রুল অ্যান্ড দি মিথ অব ডেমোক্র্যাসি, এমাজউদ্দীন আহমদ, ইউপিএল, পৃ. ৬৫)।

৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর বিধ্বস্ত দেশ ও অর্থনীতি নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রেই বিরাজ করছিল বহুবিধ জটিল ও কঠিন সমস্যা। সৃষ্টি হয়েছিল গভীর ক্ষত, অনেক অনিশ্চয়তা। তা সত্ত্বেও স্বাধীনতা দেশবাসীর মনে বিপুল আশা সঞ্চার করেছিল। তারা ভেবেছিল, দ্রুত তাদের জীবনের নানাবিধ সমস্যার সমাধান হবে।

প্রাথমিকভাবে বঙ্গবন্ধু সরকারের বেশ কিছু সাফল্যের পর তাঁর সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রমের ফলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সমস্যা ও সংকট দেখা দিতে শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। চুয়াত্তর সালে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ। মৃত্যু হয় বহু মানুষের। অসহায় মানুষের এই মৃত্যু, দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, দুর্নীতি ও অরাজকতা প্রভৃতি জনজীবনের সমস্যাগুলোকে গভীর করে তোলে। এসব সমস্যা সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের ব্যর্থতা, আওয়ামী লীগের ভেতরে দুর্নীতি ও কোন্দল ইত্যাদি কারণে মানুষের মধ্যে আওয়ামী লীগ দল ও তার সরকার সম্পর্কে সমালোচনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এসব কিছুর পটভূমিতে চুয়াত্তর থেকে পঁচাত্তর—এই এক বছরে আওয়ামী লীগের ভেতরেও রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিভক্তি ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নানাভাবে দলের ঐক্যবদ্ধ ভাবমূর্তি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন। সরকার ও দলের সর্বক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ব্যক্তিগত প্রভাবই সে সময়ে নির্ধারকের ভূমিকা পালন করেছে।

এ সময়ে আওয়ামী লীগের ভেতর থেকেই অসন্তুষ্ট ক্ষুব্ধ তরুণের একটি বড় অংশ বের হয়ে গিয়ে উগ্র স্লোগান ও বক্তব্য দিয়ে সরকারবিরোধী দল ‘জাসদ’ গড়ে তোলে। দেশব্যাপী তারা দ্রুত সমর্থন পায়। সভা, মিছিল, ঘেরাও কর্মসূচি দিয়ে দেশে তারা এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। সরকারের বিরুদ্ধে তারা প্রত্যক্ষ সংগ্রামের হুমকি পর্যন্ত দেয় এবং পুলিশ-বিডিআরের সঙ্গে রক্তাক্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে স্বাধীনতাবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও গোপন উগ্র বামপন্থীদের গোপন সশস্ত্র তৎপরতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, চীনপন্থী উগ্র বামপন্থী দলগুলো পঁচাত্তর সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নেয়নি। তখন এসব গোষ্ঠী নিজেদের ‘পূর্ব পাকিস্তান’ বা ‘পূর্ব বাংলা’র দল হিসেবে অভিহিত করত। আর সিডনি উলপার্টের জুলফি ভুট্টো অব পাকিস্তান গ্রন্থে এ তথ্য পাওয়া যায় যে, এদের এক নেতা আবদুল হক (স্বাধীনতার পর থেকে আমৃত্যু আত্মগোপনকারী) মুজিব সরকারকে উৎখাতের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টোর কাছে সাহায্য পর্যন্ত চেয়েছিলেন। সিডনি উলপার্টের কাছ থেকে আরও জানা যায়, ভুট্টো বাংলাদেশের মুজিববিরোধী রাজনৈতিক দলকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছেন (জুলফি ভুট্টো অব পাকিস্তান, পৃষ্ঠা. ২৪৮)। অন্যদিকে, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন চরম ডানপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী অপ্রকাশ্যে তাদের সকল তৎপরতা অব্যাহত রেখেছিল। নানা প্রচারণায় ধর্মকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতা করছিল। এসব কিছুর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চক্রান্ত ও অন্তর্ঘাতী তৎপরতার মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের ধারা পাল্টে দেওয়ার প্রবল চেষ্টা চলছিল।

default-image

এসব কিছুর পাশাপাশি সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল শফিউল্লাহর লেখা ও সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, দেশবাসীর মধ্যে যেসব সমস্যা বিরাজ করছিল, সামরিক বাহিনীর মধ্যেও তা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তা ছাড়া সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এ মনোভাব ছিল যে, তারা অবহেলিত। অফিশিয়াল আর্মির পাশাপাশি রক্ষীবাহিনী গঠন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল (বর্তমান নিবন্ধকারকে দেওয়া সাক্ষাৎকার, ১৫ ও ১৬ আগস্ট ১৯৯৩ তারিখে ভোরের কাগজ–এ প্রকাশিত)। সে সময়ে ঢাকার ৪৬ ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল শাফায়াত জামিলও লিখেছেন যে, সে সময়ে সেনাবাহিনীতে রেষারেষি ছিল। চক্রান্তও ছিল। (কাছে থেকে দেখা: আগস্ট ট্র্যাজেডি, কর্নেল শাফায়াত জামিল, ভোরের কাগজ, ১৫-২২ আগস্ট ১৯৯৪)। অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগতদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের জ্যেষ্ঠতা প্রদান ও দ্রুত পদোন্নতি ইত্যাদিসহ নানা কারণে অসন্তোষ ছিল। তা ছাড়া চুয়াত্তর সালের প্রথমভাগে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার, দুর্নীতি দমন ও চোরাচালান বন্ধের জন্য সামরিক বাহিনীকে নিয়োজিত করলে কোনো কোনো আওয়ামী লীগ নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এতেও তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল।

এক দল, এক পথ

পঁচাত্তরে দেশের এক সংকটজনক পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রাষ্ট্রপতি শাসন ও একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের পথে গেলেন। অবশ্য এর আগে চুয়াত্তরের ডিসেম্বরেই জরুরি আইন বলবৎ করা হয়। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ দলে ও মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। জনগণের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা থেকে বঙ্গবন্ধু এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলা হলেও আওয়ামী লীগ ও বাঙালি জাতির দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নতুন এ ব্যবস্থা কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পঁচিশ বছর সংগ্রাম করেছে ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার কয়েক বছরের মধ্যেই সংসদীয় গণতন্ত্রের জায়গায় একদলীয় শাসন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে বহু প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মধ্যেও এ ব্যাপারে ঐকমত্য ছিল না। মন্ত্রীদের মধ্যেও অনেকেই এ নতুন ব্যবস্থার বিরোধী ছিলেন। দলের কার্যকরী কমিটি বা সংসদীয় দলে এ নিয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সামনে বস্তুত কারও পক্ষেই এ ব্যাপারে ভিন্নমত প্রকাশ সম্ভব ছিল না। মাত্র দুজন সংসদ সদস্য (জেনারেল ওসমানী ও ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন) এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছিলেন। রাষ্ট্রপতির শাসন ও একক জাতীয় দল গঠনসহ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী বিলটি সংসদে কোনো আলোচনা ছাড়াই মাত্র আধঘণ্টার মধ্যে পাস করা হয়।

জাতীয় সংসদে চতুর্থ সংশোধনী পাস করানোর পর একক জাতীয় দল বাকশালকে কেন্দ্র করে যা হচ্ছিল তার সবকিছুই ঘটেছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে কেন্দ্র করে। পরিবর্তন হচ্ছিল শুধু ওপরতলায়। দলের ভেতরে ও বাইরে বস্তুত কারো কাছে পরিষ্কার কোনো ধারণা ছিল না যে কী হতে চলেছে। বাকশালের বিভিন্ন কমিটিতে মানুষ নতুন তেমন কিছু দেখতে পায়নি। বাকশালের সর্বস্তরের কমিটিতে স্থান পায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতারা, যাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ ছিল, বহু অভিযোগ ছিল। এমনকি, বাকশালের সর্বোচ্চ কমিটিতে জায়গা পেল খন্দকার মোশতাকসহ পরিচিত ষড়যন্ত্রকারীরা। অথচ, একাত্তর সাল থেকেই তার নানা ষড়যন্ত্রের কথা সকলেই জানতেন। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগী তাজউদ্দীন আহমদকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল আগেই। এ দুজনের মধ্যে বিভেদ দল ও সরকারের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়েছিল। এসবের ফলে মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অগ্রসরমানরা এ পরিবর্তন গ্রহণ করতে পারেননি। প্রস্তাব করা সত্ত্বেও তাঁদের অনেকে বাকশালে যোগ দেননি। তাঁদের মধ্যে বেগম সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, আবু জাফর শামসুদ্দিন, কবি শামসুর রাহমান প্রমুখ অনেকেই ছিলেন। কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতে, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ও দ্বিতীয় বিপ্লব দেশের তৎকালীন প্রধান প্রধান সামাজিক শক্তি ও গোষ্ঠীকে বঙ্গবন্ধু বা তাঁর সরকারের কাছ থেকে শুধু বিচ্ছিন্নই করেনি, তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কেও ভীত করে তুলেছিল।

সে সময়ের পররাষ্ট্রসচিব ফখরুদ্দিন আহমেদ ১৫ আগস্টের পূর্ববর্তী অবস্থাকে ১৯৬৫ সালে ঘানার জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক নক্রুমার বিরুদ্ধে তরুণ অফিসারদের অভ্যুত্থান-পূর্ব অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। ১৫ আগস্ট সকালে অভ্যুত্থানের খবর শোনার পরই তাৎক্ষণিকভাবে তার ঘানার নক্রুমাবিরোধী অভ্যুত্থানের ঘটনাবলির কথা মনে পড়েছিল। প্রেসিডেন্ট নক্রুমা ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু তাঁর একক দল তাঁকে অধিকাংশ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। ১৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশে ঘানার মতোই পরিস্থিতি ছিল। (ফখরুদ্দিন আহমেদের পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃ. ১৩৯)।

এ কথা ঠিক যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আহ্বানে অনেক রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও সাংবাদিক বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন। তবে তাঁদের অনেকেই যে বিশ্বাস থেকে যোগ দেননি তার প্রমাণ পাওয়া গেল ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পরই। বাকশালের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের বড় এক অংশ নতুন অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে উৎসাহের সঙ্গে প্রচারে নেমে পড়েন। অনেকে খন্দকার মোশতাক আহমদকে পূর্ণ সহযোগিতা করেন। শুধু মোশতাকের সঙ্গেই নয়, তাদের অনেকেই পরে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন, মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0