যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজ করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার বিধান আছে। সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ও এ নিয়মের বাইরে নয়। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর—এলজিইডি বিভিন্ন নদী ও খালের ওপর সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে সে নিয়মের তোয়াক্কা করে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় তৈরি অনেক সেতু মাঝনদীতে করা হয়। পরে দুই পাড়ে মাটি ফেলে অবৈধভাবে নদী সংকুচিত করা হয়। শেষে সেতু বরাবর নদীর পাড় দখল করে নেয় প্রভাবশালীরা। সারা দেশে এভাবে নদী, খাল সংকোচন ও দখলের ফলে সেগুলো ধ্বংস এবং পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার মহাপরিচালক মুহাম্মদ ইনামুল হক প্রথম আলো কে জানান, ব্যক্তিগত পর্যায়ে নদী কিংবা খালে এভাবে মাটি ফেলে ভরাট করা হলে সেটা দখল হিসেবে চিহ্নিত হয়। আর সরকারি প্রতিষ্ঠান করলে তাকে নদীর পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দুটোই বেআইনি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নদীর দুই পাড় সংকুচিত করে সেতু নির্মাণের ফলে সেতুর ভাটি অংশে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে চর জাগে। এতে পানি নিষ্কাশন সমস্যা, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, জলজ সম্পদ কমে যাওয়াসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। পানিপ্রবাহ বাধা পেলে নদী প্রায় মরে যায়। তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে সেতুর দুই পাড়ে পানির চাপ সৃষ্টি হয়, মাটি ধুয়ে যায়। পুনরায় মাটি না ফেলা পর্যন্ত ওই সেতু ব্যবহারের অনুপযোগী পড়ে থাকে।

পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত প্রথম আলো কে বলেন, বর্ষাকালে নদীর প্রশস্ততা মাথায় রেখে সেতুর নকশা তৈরি করা উচিত। সেটা চিন্তা করলে নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড় পর্যন্ত সেতু তৈরি করতে হয়। তিনি আরও জানান, এলজিইডির সেতুগুলো বেশির ভাগই দেখা যায় নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। তারা পেশাদারির সঙ্গে কাজ করলে সব দিক খেয়াল করেই সেতু তৈরি করত। নদী সংকুচিত করে সেতু তৈরি করা মানে তাদের পেশা ও পরিবেশের ভারসাম্যর সঙ্গে আপস করা।

রংপুরের পীরগাছার হাট-পাওটানা হাট সড়কে তাম্বুলপুরের বুড়াল নদীর মাঝখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুতে ওঠার সড়ক তৈরি করতে গিয়ে দুই পাশে মাটি ফেললে নদীটি সংকুচিত হয়ে পড়ে। কিন্তু বর্ষায় পানির তোড়ে সে মাটি ধুয়ে গেছে। এখন সেতুটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় এলজিইডির প্রকৌশলী এ কে এম সাদিকুর রহমান দাবি করেছেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই এভাবে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার পিয়ার বিশ্বাসের ঘাট এলাকায় নদীর প্রায় মাঝখানে সেতু নির্মাণ করা হয়। তারপর দুই পাড় থেকে সেতু পর্যন্ত মাটি ফেললে নদীটি সংকুচিত হয়ে পড়ে। দুই বছর পরই পানির তোড়ে সে মাটি ভেসে যায়। এখন সেতুটি মাঝনদীতে পড়ে আছে। স্থানীয় এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, অনেক আগে সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। এত দিন পর বলা সম্ভব নয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল কি হয়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (কারিগরি) রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এলজিইডি কখনো কখনো বৃহৎ প্রকল্প নিয়ে ছাড়পত্র সংগ্রহের জন্য এসেছে কিন্তু এভাবে শুধু সেতুর জন্য ছাড়পত্র নেয়নি।

এলজিইডির প্রশাসন শাখার প্রধান কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইদুল হক জানান, প্রধানত খরচ কমাতেই নদীর দুই পাড়ে একটু মাটি ভরাট করে সেতু তৈরি করা হয়। এতে নদীর পানিপ্রবাহে তেমন বাধা সৃষ্টি করা হয় না। তিনি দাবি করেন, এখন নতুন প্রকল্পে নদীর এক পাড় থেকে অপর পাড় পর্যন্ত সেতু তৈরি করা হচ্ছে।

এলজিইডির নকশা (সেতু) বিভাগের পরামর্শক (ডিজাইন কনসালটেন্ট) প্রকৌশলী মোকসেদ আলম বলেন, সেতু তৈরি করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছ থেকে ছাড়পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। তবে যেসব নদীতে লঞ্চ কিংবা বড় জলযান চলাচল করে সেসব নদীতে সেতু তৈরি করতে হলে বিআইডব্লিউটিএর ছাড়পত্র নিতে হয়। বিআইডব্লিউটিএ সেতুর সর্বনিম্ন উচ্চতা ঠিক করে দেয়, যেন সেখান দিয়ে জলযান নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। কিন্তু ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথের বিরুলিয়ায় এলজিইডির নির্মাণাধীন সেতুর পিলার পড়েছে মাঝনদীতে। লঞ্চ চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে বিধায় এখনই প্রতিকার চেয়ে বিআইডব্লিউটিএ এলজিইডিকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু এলজিইডি এর কোনো সুরাহা করেনি। এই নৌপথে আশুলিয়া ও আমিনবাজার সেতু দুটি নিচু হওয়ায় বর্ষায় এগুলোর নিচ দিয়ে লঞ্চ চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আশুলিয়ার ধৌর এলাকায় সড়ক ও জনপথের তৈরি সেতুটিরও একই অবস্থা।

সাইফুরের নামে শুরু হলেও শেষ হচ্ছে না

উজ্জ্বল মেহেদী, সিলেট ও সাত্তার আজাদ, বিয়ানীবাজার

‘হুনছি তাইনের (এম সাইফুর রহমান) নামে দেওয়া অইছিল। আমরা মনে করছিলাম, নাম দিলে কাম অই যাইব। অনে মনে অয় নামের লাগিই আটকি গেল কাম!’

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর তীরে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলেন বসন্তপুরের বাসিন্দা প্রবীণ আজ্জাদ আলী।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের সুনামপুর-চন্দরপুর সড়কে ওই সেতুর নামকরণ সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের নামে করা। কিন্তু সেতুর ভিত্তিপ্রস্তরে ‘এম সাইফুর রহমান সেতু’ আর কাগজপত্রে ‘চন্দরপুর সেতু’ নাম থাকায় এ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর তিন মাসের মাথায় নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

সলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গোলাপগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াত ও সরাসরি যান চলাচল সুবিধার জন্য ২০০৫-০৬ অর্থবছরে একনেকের বৈঠকে কুশিয়ারা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়। এর আগে ২০০৫ সালের ৬ মার্চ এম সাইফুর রহমান সেতু হিসেবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন স্থানীয় সাংসদ মকবুল হোসেন। প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ কোটি টাকা এবং তিন বছরের মধ্যে প্রথম ধাপের কাজ সমাপ্তির নির্দেশনা ছিল। বিএনপি ঘরানার ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত লুৎফর রহমান কাজটি পান এবং প্রথম ধাপের কাজ শেষ করে পুরো টাকা তুলে নিয়ে গেছেন। কিন্তু পরে সেতুর ধাপ বাড়িয়ে নির্মাণব্যয় আরও ২২ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টি ঝুলে থাকায় কাজ গত বছরের এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়ে পড়ে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৎকালীন সাংসদ মকবুল হোসেনের সঙ্গে এম সাইফুর রহমান অনুসারী বিএনপির সরাসরি বিরোধ ছিল। সেতুটি নির্মাণ করলে জনসমর্থন বাড়বে, এই ধারণা থেকে মকবুল যেকোনো কৌশলে কাজটি করার চেষ্টা চালান। তিনি সংসদ অধিবেশনে সেতু নির্মাণের দাবি জানান এবং তা এম সাইফুর রহমানের নামে করার প্রস্তাব করেন। পরে দ্রুতই সেটি একনেকের বৈঠকে অনুমোদন লাভ করে।

সাবেক সাংসদ মকবুল হোসেন সাইফুর রহমানের নামে সেতুটির নামকরণের কথা স্বীকার করে প্রথম আলো কে বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকতে তিনি (সাইফুর) সিলেটের উন্নয়নে টাকা ছাড়তেন না। নিজের নামে সেতু দেখে যাতে খুশি হয়ে অর্থ বরাদ্দ দেন, এ জন্য তার নামে নামকরণ করা হয়েছিল। তবে কাগজপত্রে কেন নাম নেই—তা আমি জানি না।’

সেতু নির্মাণ শেষ না হওয়ায় কুশিয়ারার দুই পারের মানুষের যাতায়াতের জন্য একাধিক খেয়া এবং যান চলাচলের জন্য সওজের উদ্যোগে ফেরি চালানো হচ্ছে। সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সবুর বলেন, ‘সাইফুর রহমান সেতু নামকরণ হলো কি করে তা আমার জানা নেই। এই কাজ শুরু হয় আমি আসার আগে। তবে নকশায় আরো দুটি স্প্যান বাড়ানোর জন্য আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।’

তিন বছর পর আবার কেন নকশা পরিবর্তন করে স্প্যান বাড়ানো হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেতুর কাজ এভাবেই হয়। এক ধাপ শেষ হলে আরেক ধাপ শুরু হয়।

ভোলায় বিএনপি-জামায়াতের দেড় শ নেতা-কর্মীর বাড়ির সামনে একটি করে সেতু!

নেয়ামতউল্যাহ, দৌলতখান (ভোলা)

ভোলা সদরের রাজাপুর ইউনিয়নে রামদাসপুর এলাকায় সুলতানি খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য গত জোট সরকারের আমলে এলাকাবাসী বহু আবেদন-নিবেদন করেছে। কোনো কাজ হয়নি। ওই সেতুটি হলে জেলা সদরের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের যাতায়াত সহজ হতো।

কিন্তু ভোলায় ওই সময়ে বিএনপি-জামায়াতের দেড় শতাধিক নেতা-কর্মীর বাড়ির সামনে সরকারি টাকায় একটি করে সেতু নির্মাণের অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে। এতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর একেকটি সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে সাত থেকে নয় লাখ টাকা। ভোলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর—এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী আবদুল হাই এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 সূত্র জানায়, নীতিমালা ভঙ্গ করে ক্ষমতার দাপটে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এলজিইডিকে দিয়ে ওই সেতুগুলো করিয়ে নিয়েছেন। সেতুগুলো নির্মাণের ঠিকাদারির কাজও করেছে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। একাধিক ঠিকাদার ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকৌশলীরা জানান, স্থানীয় সাবেক মন্ত্রী-সাংসদেরা নিজ দলের প্রভাবশালী নেতা-কর্মীদের বাড়ির সামনে এভাবে সেতু বানিয়ে দিয়ে তাদের রাজনৈতিকভাবে কিনে নেন। স্থানীয়-জাতীয় সব নির্বাচনে এদের সমর্থন পেতে এটা করা হয়।

জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোল্লা মো. শাহ নেওয়াজ প্রথম আলো কে বলেন, সেতু-কালভার্ট জনগুরত্বপূর্ণ এলাকাতেই হওয়ার কথা। আপাত দৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বাড়ির সামনে একটি সেতু হয়েছে এবং সেটি ব্যবহার করছেও একটি পরিবার। তবে ভবিষ্যতে এগুলো আরও পরিবার ব্যবহার করবে বলে তিনি আশা করেন।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেদওয়ান চৌধুরী নয়ন, দক্ষিণ কুড়ালিয়া ওয়ার্ড বিএনপির নেতা নাগর পাটওয়ারী, বড় মানিকা ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহে আলম মাতব্বর, টগবী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা নশু পাটওয়ারীর বাড়িতে যাতায়াতের জন্য সরকারি টাকায় একটি করে সেতু নির্মাণ করেছে এলজিইডি। টগবী ইউনিয়নের কাশেম হাওলাদার, জিল্লু মাস্টারের বাড়ির সামনেও রয়েছে এ রকম সেতু।

অথচ বোরহানউদ্দিন-লালমোহন সীমানায় দাউরি বেইলি সেতুটি ১৫ বছর ধরে প্রায় অকেজো পড়ে আছে। একই অবস্থা ভোলা-চরফ্যাশন রোডের আরও ছয়-সাতটি বেইলি সেতুর। বিপুল জনগোষ্ঠীর ব্যবহার করা এই সেতুগুলো ব্যবহার উপযোগী করার কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সদর উপজেলার ঘুইংগার হাট থেকে গজারিয়া পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার রাস্তায় নয়টি সেতু বানানো হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, আবু সরদার ও তৈয়বআলী ডাক্তারের বাড়িতে যাওয়ার জন্য একটি করে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথম বাড়িটি বিএনপিকর্মী আমির হোসেন ও মোসলেম উদ্দিনের। দ্বিতীয় বাড়িটি বিএনপির কর্মী আনোয়ার, শাজাহান এবং মাহে আলমের। স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা মোখলেছুর রহমানের শ্বশুরবাড়ি হাজী বাড়ির মুখেও করা হয়েছে একটি সেতু। ওই বাড়ির বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, সেতুটি বাড়ির তিনটি পরিবার ব্যবহার করে।

কীভাবে এমনটা হলো জানতে চাইলে সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘তৎকালীন ক্ষমতাসীন নেতারা সেতুগুলোর জন্য বরাদ্দ এনেছেন। আমি শুধু বলেছি—এটা জনগুরুত্বপূর্ণ।’

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুনসুর আহমেদ জানান, উত্তর দিঘলদী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোশারেফ হোসেন মশুর সঙ্গে বিএনপির তৎকালীন এমপি-মন্ত্রীদের ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি তদবির করে এলাকায় এ ধরনের ২০-২৫টি সেতু পাস করিয়ে এনে স্থানীয় জোট নেতা-কর্মীদের বাড়ির সামনে নির্মাণ করেছেন।

মোশারেফ হোসেন মশু এখন ঢাকায় থাকেন। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক মো. ফারুক মিয়ার বাড়ির সামনেও করা হয়েছে একটি সেতু। চরপাতা সড়কের পাশে আখন্দ বাড়ির দরজায় সেতুটি নির্মাণ হয় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের তদবিরে। কারণ ওই বাড়ির সবাই বিএনপির সমর্থক। চরপাতা নৈমুদ্দির হাটের কাছে বিএনপি কর্মী নুরুল ইসলাম মালের বাড়িতে ঢুকার পথে সেতু বানানো হয় ওয়ার্ড বিএনপির সম্পাদক আ. রশিদ হাওলাদার ও বিএনপির কর্মী ইয়াসিন হাওলাদারের তদবিরে। এ বাড়ির আশপাশে কোন ঘরবাড়ি নেই; রাস্তা নেই। প্রতিবেশী আ. রহমান জানান, ওই বাড়ির লোকজন ছাড়া আর কেউ সেতুটি ব্যবহার করে না। কিন্তু ওই ইউপির চেয়ারম্যান বললেন, কোনো ব্রিজই বিনা দরকারে করা হয়নি। বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির সদস্য জাহিদ মাস্টার ও লাল মিয়ার তদবিরে আলমগীর ব্যাপারীর বাড়ির জন্যও সরকারি টাকায় সেতু করা হয়েছে।

স্থানীয় এলজিইডি সূত্র জানায়, ভোলায় ২০০০-০৬ সাল পর্যন্ত ‘লো-কস্ট মানি’ প্রকল্পের আওতায় ১৮৪টি সেতু নির্মাণ হয়। এর মধ্যে ভোলা সদরে ১৬টি, দৌলতখানে ১৭টি, বোরহানউদ্দিনে ৪৭টি, লালমোহনে ১৭টি, চরফ্যাশনে ৭৪টি এবং মনপুরা উপজেলায় ১৩টি সেতু নির্মাণ হয়। এরই দেড় শতাধিক সেতু ব্যক্তির বাড়ির সামনে তৈরি করা হয়েছে।

এলজিইডির জেলা সহকারী প্রকৌশলী আবদুল হাই প্রথম আলো কে জানান, ‘ওই সময় স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা, ব্যক্তি এবং সাবেক সাংসদেরা সেতুগুলো নির্মাণের জন্য সুপারিশ করেছেন। এলজিইডি সেই সুপারিশগুলো ঢাকায় পাঠিয়েছে। মন্ত্রী-সাংসদেরা ঢাকায় গিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, প্রকৌশল অধিদপ্তরে তদবির করে এগুলো পাস করিয়ে এনেছেন।

বাংলাদেশের কমিনিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী সরকারি অর্থের এই নজিরবিহীন অপচয়ের যথাযথ তদন্ত দাবি করেছেন। অভিযোগের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সেতুর খরচ আদায় করা উচিত বলেও মত দেন তিনি।

রাজশাহী বিভাগে ৬০০ সেতুর সঙ্গে সড়ক নেই, আছে দুর্ভোগ

আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, রাজশাহী

 গত জোট সরকারের সময় তানোর উপজেলার চান্দুড়িয়া খালের ওপর ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এর দুই পাশে আধা কিলোমিটারের মধ্যে কোনো রাস্তা নেই। ২০০৬ সালের ১৫ মার্চ সেতু থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে এর ফলক উন্মোচন করেন বিএনপি নেতা সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক। সেতুটির পশ্চিম পাড়ে তানোর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও চান্দুডিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিনের খামার, পূর্ব পাড়ে তাঁর কৃষিজমি। নিজের জমিতে যাতায়াতের জন্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মফিজ এই সেতু করিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক এ সেতু দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। যৌথ বাহিনী তাঁকে আটক করলেও সম্প্রতি তিনি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।

 জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী এলাকায় ২০০৬ সালে ১১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় আরেকটি সেতু। কিন্তু লাখ টাকার সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। দুই বছরেও সেতুর সঙ্গে রাস্তার সংযোগ ঘটেনি।

৬৭ লাখ টাকা খরচ করে চারঘাট উপজেলার বড়াল নদের ওপর একই বছর সেতু বানানো হয়। বাঘা-চারঘাটের বিএনপিদলীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট কবির হোসেন রাস্তাবিহীন সেতুটি উদ্বোধন করেন। এটি এখনু সেভাবেই পড়ে আছে।

রাস্তা নেই এমন জায়গায় নির্মাণ করা এ রকম ২০টি সেতু রাজশাহীবাসীর বোঝায় পরিণত হয়েছে। পুরো রাজশাহী বিভাগে এ রকম ৬০০ সেতু পড়ে আছে, যেগুলো জনগণের কোনো কাজে আসছে না। সাবেক সরকারদলীয় সাংসদ আর মন্ত্রীদের নির্দেশনায় দলীয় বা দলের সিন্ডিকেটভুক্ত ঠিকাদাররা এসব সেতু তৈরি করে সব টাকা তুলে নিয়ে গেছেন।

চারঘাট উপজেলার কাঁকড়ামারী এলাকায় গত বছর প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সেতু বানানো হয়। সেতুটির দুই পাশে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় নিচু কাঁচা রাস্তা। হেঁটে কোনোমতে চলাফেরা করা গেলেও এই রাস্তায় যান চলাচলের ব্যবস্থা নেই।

চারঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো আলাউদ্দিন দাবি করেন, ‘ওই রাস্তায় দুবার মাটি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্ষায় নষ্ট হয়ে গেছে। এবার আবার রাস্তাটি করা হবে।’

গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের বিলাসীখাড়ির ওপর একটি সেতুর সংযোগ সড়কের মাটি গত বন্যায় সরে গেছে। এলাকার লোকজন এখন ইট দিয়ে সিঁড়ি বানিয়ে সেতুতে ওঠা-নামা করছে। মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের দেওপুর গ্রামের শহীদ কামরুজ্জামান সড়কের শেষ মাথায় ছয় সাত বছর আগে একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও এখন পর্যন্ত এর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।

বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রামে ২০০৩ সালে সাত লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এরও দুই পাশে রাস্তা নেই। এলাকার লোকজনকে ১২-১৪ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে চলাফেরা করতে হয়। ওই অর্থবছরে একই ইউনিয়নের চক সেওজবাড়ী-কাটাখালী দহে ১৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত আরেকটি সেতুরও একই অবস্থা। কাটাখালী দহের অন্য প্রান্তে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় আরেকটি সেতু। এটার দুই পাশেও সংযোগ সড়ক নেই। বাগমারার কাচারী কোয়ালিপাড়া ইউনিয়নের ঢেকরতলা-জাঙ্গালপাড়া খালের ওপরে ২০০৩-০৪ অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এটিরও একই অবস্থা।

উপজেলা প্রকৌশলী নূহুল ইসলাম দাবি করেন, আসলে এই সব অঞ্চলে রাস্তাঘাটই ছিল না। মানুষের উপকারের কথা ভেবে সেতুগুলো করা হয়, যাতে পরে রাস্তার বরাদ্দ পাওয়া যায়। কিন্তু যথাসময়ে বরাদ্দ না আসায় রাস্তা আর হচ্ছে না। তবে ঝিকড়া ও জুগিপাড়া ইউনিয়নের সেতুর জন্য২৭ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছে।

সেতু নিয়ে কষ্টে সাটুরিয়ার মানুষ

অরূপ রায়, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার মানুষ জেলা সদরে যাতায়াত করে মূলত গোলড়া-সাটুরিয়া সড়ক দিয়ে। এ সড়কের কামতা ও কান্দাপাড়ায় দুটি বেইলি সেতু ছিল। ১৯৯৮ সালের বন্যায় দুটি সেতুই পানির তোড়ে ভেসে যায়। এরপর দীর্ঘদিন পার হলেও বিধ্বস্ত সেতু দুটি পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। বন্যার পর মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সেতু দুটির পাশ দিয়ে ইট বিছানো বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করে। সেগুলোও এখন যান চলাচলের অনুপযোগী।

একই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপজেলার জান্না, ফুকুরহাটি, ধুল্লা, কৃষ্ণপুর ও কান্দাপাড়ার আরও একটি করে পাকা সেতু। বন্যার পর সওজ জান্না ও ফুকুরহাটির বিধ্বস্ত সেতু দুটিতে সামান্য সংস্কারকাজ করে। ২০০৬ সালে সওজ কান্দাপাড়ার পাকা সেতুর জায়গায় একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করে। আর গত সপ্তাহে ধুল্লার বিধ্বস্ত সেতুটি ভেঙে সেখানে একটি নতুন পাকা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

কামতার কৃষক হানিফ আলী জানান, কামতা সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ার কয়েক মাস পর ওই এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষকের জমির ওপর দিয়ে বিকল্প রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। তাঁর নিজেরও প্রায় ২০ শতাংশ জমি আটকে আছে রাস্তায়, যার বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ১২ লাখ টাকা। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময় সওজ ফসলের ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রতিবছর টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল। গত ১০ বছরে তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি।

মানিকগঞ্জ সওজর নয়ারহাট উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কামতা ও কান্দাপাড়া সেতু দুটি ধসে যাওয়ার পর সেখানে ২৪০ ফুট লম্বা বেইলি সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। উভয় সেতুর দুই পাশে দুটি করে অ্যাবার্টমেন্ট (দুই পাড়ের মূল পিলার) ও মাঝে লোহার পিলার স্থাপন করা হয়। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় নির্মাণকাজ শেষ করা যায়নি।

সওজের নয়ারহাট উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা বলেন, যোগাযোগসচিবের নির্দেশে সম্প্রতি কামতা ও কান্দাপাড়ার সেতু দুটির মধ্যবর্তী পিলার পরিবর্তন করে আরসিসি পিলার (রড ও কংক্রিটের ঢালাইয়ের তৈরি পিলার) দিয়ে পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে তাও নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বিকল্প রাস্তা দুটিতে জনসাধারণের যে জায়গা সওজের দখলে রয়েছে, তা অধিগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট মালিকেরা জমির মূল্য পাবেন।’

দৌলতপুরের তিন সেতু: উপজেলার ধামসর ও কলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের আরেক নাম ভেঙে পড়া উলাইল, টেপড়ি ও চকমিরপুর সেতু। বন্যায় ভেঙে যাওয়ার পর প্রায় ১০ বছরেও সেতু তিনটি পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

কলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ওই সেতু তিনটি ভাঙা থাকায় প্রায় ১০ বছর ধরে এ ইউনিয়নের বাসিন্দারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিভিন্ন সময় সরকারের উচ্চপর্যায়ে সেতু তিনটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু এ ব্যাপারে আজও সাড়া মেলেনি।’

দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী এস এম মাসুদ আলী বলেন, ‘সেতু তিনটি পুনর্নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কতৃ‌র্পক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

বরিশালে ৩৩৬ সেতু কাজে আসছে না

তৌফিক মারুফ, বরিশাল

বরিশাল নগরীর পানি উন্নয়ন বোর্ড আবাসিক এলাকা ঘেঁষে সাগরদী খালের ওপর রয়েছে একটি সেতু। এটি প্রায় ৪০ বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুটির পূর্ব পাশে ওয়াপদার সীমানাপ্রাচীর দিয়ে আটকানো, আর পশ্চিম পাশে ধানক্ষেত। কোনো সংযোগ সড়ক নেই। একই খালের ওপর দুই বছর আগে ধরনের আরেকটি সেতু নির্মাণ করেছে সিটি করপোরেশন। ওই সেতুরও একই অবস্থা। দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। সেতু নির্মাণের সময় খালটি বন্ধ করে রাখায় নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে নৌ চলচালে।

 বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আওলাদ হোসেন দিলু প্রথম আলো কে বলেন, ‘যেসব সেতু, কালভার্ট সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে, সেগুলোর ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ, সেতু-কালভার্টের প্রকল্পের সঙ্গেই সংযোগ সড়কের অর্থ ধরা থাকে। আর সেতু-কালভার্ট যদি ব্যবহার করা না যায়, তাহলে সেই অর্থ খরচ করে লাভ কী?’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগে এলজিইডিসহ অন্যান্য সংস্থার ৩৩৬টি সেতু সংযোগহীন অবস্থায় পড়ে আছে।ু

 সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর এলাকায় নির্মিত একটি সেতু প্রায় এক দশক ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। সম্প্রতি ওই সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হয়েছে।

সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন সিকদার জানান, তাঁর এলাকার ছয়মাইল-শেখের হাট সড়কে আরেকটি সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

রায়পাশা কড়াপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন জানান, তাঁর এলাকায় কমপক্ষে পাঁচটি সেতু ও কালভার্টের সংযোগ সড়ক না থাকায় ওই সেতু ও কালভার্টের সুফল থেকে এলাকার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেগুলো নির্মাণ করেছে।

সদর উপজেলা প্রকৌশলী ফোরকান বাদশা জানান, বুখাইনগর সেতুর সংযোগ সড়কের জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হলে ওই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।

আগৈলঝাড়া উপজেলার ভেতর দিয়ে যাওয়া বার্থী-ভালুকসী সড়কের মাগুড়া বাজারের কাছে একটি সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ এখন চরমে। পয়সার হাটের কাছে আরও একটি সেতুর একই দশা। এলাকাবাসী জানায়, সম্প্রতি সেতুর দুই পাশে কিছু মাটি ফেলে কোনোমতে সেটি চলাচালের উপযোগী করে তুলেছে উপজেলা প্রশাসন।

আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই এলাকায় পাঁচ-ছয়টি সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় ওই সড়ক এত দিন ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল। তবে সম্প্রতি মাটি ফেলে সেতুগুলো কিছুটা সচল করা হয়েছে। ’

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বরিশাল-১ এর উপসহকারী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, তাঁর আওতায় থাকা সংযোগ সড়কবিহীন কোনো সেতু বা কালভার্ট এখন নেই। যেগুলো ছিল, সেগুলো এলজিইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এলজিডিইর বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হেমায়েতউদ্দীন বলেন, ‘ আমাদের অধীনে থাকা সেতু-কালভার্টগুলোর মধ্যে ১০৩টির সংযোগ সড়ক করতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।’

বগুড়ায় আট সেতু আট বছর সড়কহীন

জে এম রউফ, মাঝিড়া (বগুড়া)

বগুড়ার শেরপুর, শাজাহানপুর ও ধুনট—এ তিন উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী সড়কটির নাম আমরুল-নয়মাইল-টেঙ্গামাগুর সড়ক। সড়কের আট কিলোমিটার এলাকায় আটটি ছোট সেতু আছে। কিন্তু আট বছর ধরে সেতুগুলোর সংযোগ সড়ক নেই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকার চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাবেক সাংসদ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর দ্বন্দ্বের কারণেই সেতুগুলোর সংযোগ সড়ক হয়নি।

আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজিবুল ইসলাম প্রথম আলো কে বলেন, ১৯৮৭ সালে তিনি যখন প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন সে সময়ও এ রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করেছে। ১৯৮৮ সালের বন্যায় সড়কটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। ১৯৯৯ সালে পুনরায় এ সড়কে সেতুগুলো নির্মাণ করা হয়, কিন্তু সংযোগ সড়কগুলো আর করা হয়নি।

শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌড় গ্রামের মাদ্রাসাশিক্ষক আমজাদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চেয়ারম্যানের সঙ্গে এলাকার বিএনপির সাবেক সাংসদ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর দ্বন্দ্বের কারণেই এত দিন এ সড়কের কোনো কাজ হয়নি।’

এলাকাবাসী জানান, রাজিবুল ইসলাম ইউপি নির্বাচনে বিএনপির এক প্রার্থীকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। এ কারণে সাবেক সাংসদ লালু তাঁকে কোনো কাজে অর্থ দিতেন না। কাবিখার গম বিতরণে লালুর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বর্তমানে জেলহাজতে আছেন।

চেয়ারম্যান রাজিবুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের সময় প্রতি বছর চেয়ারম্যানদের নামে কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খ্যাদ্য) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) কর্মসূচির আওতায় ১০টি করে সড়কের কাজ দেওয়া হলেও সেসব কাজ সাংসদ নিজের লোকদের মাধ্যমে করিয়েছেন। এ কারণেই ওই সংযোগ সড়কের কাজ করা যায়নি।

শাজাহানপুর উপজেলা এলজিইডর প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, শাজাহানপুর উপজেলা অংশের পাঁচটি সেতু এখন সংযোগ সড়কবিহীন। এগুলো নির্মাণে সে সময় ব্যয় করা হয়েছে ৪৭ লাখ টাকা। সর্বশেষ গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সড়কটি মেরামতের জন্য একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই সেতুগুলো সচল করাসহ সড়কটি লোক চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে।

ঘটা করে উদ্বোধন, হয়েছে কেবল পিলার নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক , ময়মনসিংহ ফুলপুর প্রতিনিধি

১৯৮৮ সালের বন্যায় সেতু ধসে পড়ার প্রায় ১৭ বছর পর ঘটা করে সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন হলো। ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া রাংশা নদীর দুই পারের মানুষ তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল। ২০০৫ সালে কাজ শুরু হওয়ার এক বছরের মধ্যে পিলারও হলো। এরপর হঠাৎ করে থেমে গেল সবকিছু। অসমাপ্ত সেতুর সাক্ষী হয়ে আছে পিলারগুলো। নদীর দুই পারের মানুষের ভোগান্তিরও শেষ হলো না।

সম্প্রতি ফুলপুরের গালাগাঁও ইউনিয়নের ভাটিয়া গ্রামে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা সেতু না হওয়ায় তাদের দুর্ভোগের কথা বলে। গ্রামের যুবক মো. ফারুক মিয়া বলেন, ‘আগে এখানে একটি পাকা সেতু ছিল। ১৯৮৮ সালের বন্যায় তা ভেঙে যায়। প্রায় ১৭ বছর পর ভাঙা সেতুর পাশে নতুন সেতু তৈরির জন্য পিলার তৈরি করা হয়।’

 গাওয়াগাঁথি গ্রামের ময়েজ উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘সেতু না থাকায় এ পথে সরাসরি যানবাহন চলে না। এতে বেশি দুর্ভোগে পড়ে রোগীরা। বর্ষাকালে সন্ধ্যার পর নৌকা চলাচল বন্ধ থাকে। তাই জরুরি প্রয়োজনেও দুই পারের লোকজনের নদী পারাপারের উপায় থাকে না।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পাশে ভিত্তিপ্রস্তরটি মাটি থেকে আলাদা হয়ে উপুড় হয়ে পড়ে আছে। পাথরে খোদাই করে এতে লেখা আছে, সেতুটি ২৭ দশমিক ৪৪ মিটার দৈর্ঘে্যর স্প্যানের ফুটব্রিজ হবে। সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন হয় ২০০৫ সালের ৯ ডিসেম্বর। ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজের দায়িত্বে আছে ফুলপুরের ঠিকাদারি সংস্থা দেশ কনস্ট্রাকশন। দেশ কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার মো. রাশিদুল ইসলাম উজ্জ্বল জানান, এ সেতুর নির্মাণকাজ দুই দফায় হওয়ার কথা। তাঁর দায়িত্ব ছিল প্রথম দফায় মোট সাত লাখ টাকায় পিলার তৈরি করে দেওয়া। তিনি তা করে দিয়েছেন। প্রথম দফায় সেতুর গার্ডারের (ছাদ) কাজ তাঁর করার কথা ছিল না।

জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এ সেতুর পিলার নির্মাণের জন্য সাত লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। ওই টাকা দিয়ে পিলার তৈরি করা হয়। পিলারের ওপর গার্ডার তৈরির টাকা বরাদ্দ না পাওয়ায় সেতুর নির্মাণকাজ ওই সময়ে আর শেষ হয়নি। তিনি বলেন, সেতুটির সংযোগ সড়ক, সড়কের পাশে দেয়াল নির্মাণ, পিলারের ওপর বিম তৈরি এবং গার্ডার তৈরির জন্য ১২-১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন। তিনি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন বলে জানান। কবে নাগাদ বরাদ্দ পাওয়া যাবে, সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

ঘনিরামপুর সেতু ২০ বছর রাস্তাহীন

রহিদুল মিয়া, (তারাগঞ্জ) রংপুর

২০ বছর আগের কথা। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর নালার ওপর ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় একটি সেতু। কিন্তু এত বছরেও এর সঙ্গে রাস্তার সংযোগ ঘটেনি।

তারাগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী অনুপ পোদ্দার ও প্রকৌশলী মজিবর রহমান জানান, তাঁরা ঘনিরামপুর পুরোনো সেতুটির কাছে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে। তাহলে আগের সেতুটির ১০ লাখ টাকা অপচয়ই হলো?

ঘনিরামপুর সেতুর মতো উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন নদী-খালের ওপর নির্মিত বেশ কয়েকটি সেতুর একই অবস্থা।

ডাঙ্গীর হাট ঈদগাহ মাঠের সামনে আছেএমন একটি সেতু। ১৯৮৬ সালে উপজেলা পরিষদের অধীনে সেতুটি নির্মিত হয়েছিল ১২ লাখ টাকায়। এরও দুই পাশে রাস্তার সংযোগ নেই।

উপজেলার মাঝের হাট থেকে তারাগঞ্জ সদরে যাওয়ার রাস্তায় সতীর ঘাটে পড়ে একটি সেতু। ২০০২ সালে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। এরও রাস্তা নেই।কিশোরীগঞ্জ থেকে তারাগঞ্জ সদরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে ১৩ মাইল নালার ওপর ১৯৯৬ সালে নির্মাণ করা হয় বালাপাড়া সেতু। সংযোগ সড়ক নেই এই সেতুরও।

নাটোরের শালাইনগর সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে কবে?

মো. মুক্তার হোসেন, নাটোর

 ’ক্যা বাবা! সরকার কি এই বিরিজের (সেতু) কথা ভুলি গিছে? চার বছর আগে চারডা খঁুটি বানায়ে ঠিকাদার ওই যে গ্যাছে, আর একবারও খোঁজ নেয় নাই। তাইলে কি বিরিজডা আর হবি না?’ এই প্রশ্ন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার শালাইনগর গ্রামের কৃষক আবদুর রাজ্জাকের। তাঁর মতো এলাকার অনেকেরই এখন একই প্রশ্ন—ছয় বছর আগে শুরু হওয়া বড়াল নদের ওপর নির্মাণাধীন শালাইনগর সেতুর কাজ কি শেষ হবে না?

স্থানীয় সূত্র জানায়, নেদারল্যান্ডস সরকারের সহযোগিতায় ২০০২ সালে শালাইনগর গ্রামের বড়াল নদের ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু ধীরগতির কারণে নেদারল্যান্ডস সরকার সেতু নির্মাণের চুক্তি বাতিল করে। পরে এলাকাবাসীর দাবির মুখে এলজিইডি নিজস্ব অর্থায়নে টানা সেতু (আরসিসি গার্ডার ব্রিজ) নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০০৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০০৭ সালের ১২ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও হয়নি।

জেলা এলজিইডি কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারের অবহেলার কারণে সেতুর কাজটি শেষ হচ্ছে না। গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি, ২ আগস্ট ও ৯ আগস্ট লিখিতভাবে ঠিকাদারকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তিনি তাতে সাড়া দেননি। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম বলেন, মাছ চাষের জন্য রেগুলেটরের মাধ্যমে সারা বছর পানি ধরে রাখা হয়। ফলে খঁুটি নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সেতুর দাবি পূরণ হয়েছে, তবে দুর্ভোগ কমেনি

 আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

 জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার কলেজহাটসংলগ্ন ১০ গ্রামের মানুষের দাবি পুরণ হয়েছিলচার বছর আগে। তুলসীগঙ্গা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে; কিন্তু লোকজনের দুর্ভোগ কমেনি। সেতুর সংযোগ সড়ক নেই।

এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। আক্কেলপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কমল বলেন, ‘সেতুর নির্মাণব্যয়ের সঙ্গে রাস্তা ধরা ছিল না; তাই রাস্তা হয়নি।’

জয়পুরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সালেহ আহাম্মেদ বলেন, ‘কেবল আক্কেলপুরে নয়, জেলায় আরও কিছু সেতু আছে, যেগুলোর রাস্তা নেই। আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

খুলনার আট সেতুর কাজ শেষই হচ্ছে না

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর—সওজ এবংস্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর—এলজিইডির অর্থায়নে চলা খুলনা বিভাগের আট সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিনেও শেষ হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি, ঠিকাদারদের গাফিলতিসহ কয়েকটি কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সওজের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তাদের অর্থায়নে নির্মাণাধীন চার সেতু হচ্ছে—খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার মধ্যকার শিববাড়ী সেতু, বটিয়াঘাটার শৌলমারী নদীর ওপর বটিয়াঘাটা সেতু, বাগেরহাটের মুনিগঞ্জ সেতু ও সাতক্ষীরার মানিকখালী সেতু।

 প্রায় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ প্লানার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড শিববাড়ী সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। ৩৪৬ দশমিক ৭৬ মিটার দীর্ঘ এ সেতুর কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০০৬ সালের ২৩ জানুয়ারি। কিন্তু নয়টি পিলার গেঁথে গত বছরের ডিসেম্বরে ঠিকাদার সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান বলেন, নদীতে ব্যাপক কচুরিপানার কারণে প্রতিবছরের চার মাস কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম তিন গুণ বেড়েছে। তাই পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে বরাদ্দ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েও কতৃ‌র্পক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা সাড়া না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সওজের খুলনার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ আব্দুল আলী বলেন, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেছে। দুই বছর পর এখন আর অতিরিক্ত বরাদ্দের কোনো বিধান নেই।

বটিয়াঘাটা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৯ সালের ১৫ নভেম্বর। ৩৬ মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো শেষ হয়নি। বাগেরহাটের মুনিগঞ্জ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৩ সালের ১৯ জুন। ২০০৫ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। সাতক্ষীরার মানিকখালী সেতুরও অবস্থা একই। এ তিনটি সেতুর কাজ সময় বাড়িয়ে বাড়িয়ে এখনো চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এলজিইডির তদারকি ও অর্থায়নে নির্মাণাধীন খুলনা বিভাগের চার সেতু হলো—রূপসা উপজেলার আলাইপুর ও পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি সেতু, সাতক্ষীরা জেলার চৌদ্দরশি সেতু এবং তালা উপজেলার তালা সেতু।

এলজিইডির খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় সেতুগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে পারেনি। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, ‘নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় সেতুগুলোর নির্মাণকাজ যথাসময়ে শেষ করা যায়নি। আমরা ঠিকাদারদের জরিমানা, জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত ও পুনঃদরপত্র দিয়ে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করেও কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।’

এলজিইডির খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে আজাদ বলেন, ‘আমরা ঠিকাদারদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছি। কয়েকজন ঠিকাদারকে বাদ দিয়ে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। তার পরও একই অবস্থা। আমরাও বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছি।’

তিতাস সেতুর তিক্ত অভিজ্ঞতা

এম মনিরুল ইসলাম, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর সদরের পাশে তিতাস নদীতে বাঞ্ছারামপুর-ছলিমাবাদ সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে সেতুটির নির্মাণকাজ পায় জেলার নবীনগর উপজেলার মেসার্স ছাদেকুল হক ট্রেডার্স। নির্মাণব্যয় ধরা হয় তিন কোটি ১৬ লাখ টাকা। ২০০৫ সালের প্রথম দিকে শুরু করে ছয় মাসে মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ করে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলে যায়।

সম্প্রতি মেসার্স ছাদেকুল হক ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এলজিইডি অফিসকে লিখিতভাবে অনুরোধ করেছে বাঞ্ছারামপুর এলজিইডি। ট্রেডাসের মালিক মো. ছাদেকুল হক বলেন, ‘আমি অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। তাই কাজটি আর করা হয়নি।’ তবে সেতুর ২৫ শতাংশ কাজের বিল তুলে নিয়েছেন তিনি।

বাঞ্ছারামপুর এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে ফের দরপত্র আহ্বানের চিন্তা-ভাবনা চলছে। কাজ সম্পন্ন না করায় ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা সব স্বীকার করে বলেন, ‘আপাতত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করার কোনো চিন্তা করছি না।’

শান্তিপুরে সেতু নিয়ে অশান্তি: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিচ্ছিন্ন শান্তিপুরের মানুষের যাতায়াতের জন্য নতুন দুলারামপুর থেকে শান্তিপুর পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তায় চারটি ছোট সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১০ বছর ধরে এগুলো জনগণের কোনো কাজে আসেনি। বরং বর্ষা মৌসুমে নৌকা চলাচলের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। শান্তিপুরে মানুষের শান্তির জন্য এসব ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও এখন এগুলো তাদের অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাঞ্ছারামপুর এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ব্যবহার করা হয় না এ রকম কিছু ব্রিজ আছে ওসব এলাকায়। এগুলো ৮-১০ বছর আগে তৈরি করা।’

‘রাস্তার প্রকল্প নেই’, তবে সেতু হয়েছে ৯টি

আকমল হোসেন নিপু, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পালপুর-ধলাই ফেরিঘাট সড়কটির অবকাঠামো আছে, কিন্তু মাটি নেই। সেই ‘রাস্তার কঙ্কালের’ ওপর সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তার সঙ্গে যোগ না থাকায় এগুলো এখন সড়কটিকেই ব্যবহারের অনুপযোগী করে রেখেছে। তিন উপজেলার অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ এখন সেতুর পাশ দিয়ে ঘুরে চলাচল করছে।

এলজিইডি রাজনগরের উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল্লাহ বলেন, ‘রাস্তার জন্য কোনো প্রকল্প নেই। সেতুর সংযোগ সড়ক করার জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।’

এলাকাবাসী জানায়, রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চল, কমলগঞ্জের পতনউষার ইউনিয়নের উত্তরাঞ্চল এবং কুলাউড়ার হাজীপুর ইউনিয়নের একাংশের মানুষ সড়কটি ব্যবহার করে। রাস্তার দুই পাশে করাইয়া বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে কৃষিজমি। কৃষকেরাও এই রাস্তা নিয়ে পড়েছে বিপদে।

প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ১৯৯৫-৯৭ সালের দিকে নয়টি সেতু করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পালপুর-ধলাই ফেরিঘাট রাস্তার দলদলি, খইয়াজানি ও ফরকা খালের ওপর নির্মিত সেতুগুলোর দুপাশের মাটি নেই। সেতুতে উঠতে না পেরে লোকজন খালের কাদা-পানি ভেঙে চলাচল করছে। এলাকাবাসী জানায়, বর্ষা মৌসুমে তাঁদের পানি ভেঙে চলাচল করতে হয়। রাস্তার দশাও করুণ। কোথাও কোথাও রাস্তা জমির সরু আইলের মতো হয়ে গেছে। দক্ষিণ করাইয়া গ্রামের উমর আলী বলেন, ‘আমরার এই রাস্তার লাগি কান্দার (কান্নার) লোক নাই।’

 দিলবরনগর সেতু: শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি জানান, উপজেলার শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নে ২০০২ সালের মে মাসে দিলবরনগর সেতুটির নির্মাণ করা হয়।কিন্তু পাঁচ বছরের বেশি সময় পার হওয়ার পরও সেতুর সংযোগ সড়ক হয়নি। এলাকাটি গ্রীষ্মকালীন ফল কাঁঠাল, আনারস ও লেবুর জন্য বিখ্যাত। সেতু অচল থাকায় অর্ধ শতাধিক ফলবাগানের মালিক পরিবহন সংকটে ভুগছেন। এতে তাঁরা প্রকৃত বাজারমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মাদারগঞ্জে যমুনার ওপর সেতুর জন্য তিন বছর ধরে অপেক্ষা

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া-খিলকাটি যমুনা নদীর শাখার ওপর সেতুর নির্মাণকাজ সোয়া তিন বছরেও শেষ হয়নি। ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।

মাদারগঞ্জ এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০০৫ সালের ১৬ জুলাই প্রায় ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৮ দশমিক ৫ মিটার দৈর্ঘ্য এ সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ পান জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমজাদ হোসেন। তিনি সে কাজ বিক্রি করে দেন মজিবুর রহমানের কাছে। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।

এলাকাবাসী জানায়, কিছুদিন চলার পর অজ্ঞাত কারণে কাজ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার। এখনো সেতুর দুই-তৃতীয়াংশ কাজই বাকি। সেতুর ওপরের পাকা অংশের কাজসহ দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ এখনো বাকি।

জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শেখ আব্দুর রব বলেন, ঠিকাদারকে বহুবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু করতে না পারলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে।

কুমিল্লায় ২১০টি সড়কহীন সেতু, জনদুর্ভোগ

গাজীউল হক সোহাগ, কুমিল্লা ও আবদুর রহমান ঢালী, দাউদকান্দি

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী-গলিয়ারচর সড়কের কালাডুমুর নদীর ওপর ছান্দ্রা সেতুর নির্মাণকাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। আবার জেলায়২১০টি সেতু রয়েছে যেগুলোর সঙ্গে সড়কের সংযোগ না থাকায় সেগুলো এলাকার মানুষের কোনো কাজে আসছে না।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের ১৯ জুলাই কালাডুমুর নদীর ওপর ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭০ মিটার দীর্ঘ ছান্দ্রা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খন্দকার কনস্ট্রাকশন কাজের দায়িত্ব পায়। ২০০২ সালের ২৫ জানুয়ারি কাজ শেষ করার কথা। এখনো সেতুর অর্ধেক কাজই বাকি। তবে এলজিইডির দাবি, ৩০ শতাংশ কাজ বাকি আছে।

একই সড়কে গলিয়ারচর-আদম আলী সরকারের বাড়ির কাছে খালের ওপর ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করা হয়।কিন্তু সংযোগ সড়কের অভাবে সেটি অব্যবহৃত পড়ে আছে। এ ছাড়া কুমিল্লার হোমনা উপজেলার উবদী-নিলুখী সড়কে বাতাকান্দি বাজারসংলগ্ন কাঁঠালিয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির দুই প্রান্তে মাটি নেই। ফলে সেতুটি ২৭টি গ্রামের প্রায় ২৭ হাজার মানুষের কোনো কাজে আসছে না।

এলজিইডি সূত্র জানায়, এক কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০৩-০৪ অর্থবছরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ ২০০৬ সালে শেষ হলেও দুই প্রান্তের সংযোগস্থলে মাটি ভরাট করা হয়নি।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের পূর্ববামপাড়া এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জঙ্গলপুর সীমান্তে ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুটিও কোনো কাজে আসছে না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে করা সেতুটি দুই উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় নাঙ্গলকোটের পূর্ববামপাড়া এবং চৌদ্দগ্রামবাসী সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেনা। এ ছাড়া সেতুটি নিচু করে তৈরি করায় লোকজনকে বর্ষা মৌসুমে নৌকায় চলাচল করতে হয় ঘুরপথে। এ কারণে সেতু হওয়ার পর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের নৌকায় পারাপারে ভাড়াও বেড়ে গেছে।

 আরও অসমাপ্ত সেতু: কুমিল্লায় অসমাপ্ত সেতুরও অভাব নেই। গোমতী নদীর ওপর টিক্কারচর-সালদা সেতুর নির্মাণকাজ সাত বছরেও শেষ হয়নি। সওজের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম মনির হোসেন পাঠান বলেন, ‘এ পর্যন্ত সেতুর ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। অর্থ প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়ায় কাজ কিছুটা ধীরলয়ে হচ্ছে। আরও বছর খানেক লাগবে কাজ শেষ হতে।’

দাউদকান্দির কাউয়াদি-নৈয়ার সড়কের কাউয়াদি বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে খিরাইট নদীর শাখার ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালের ১ জুলাই। ১৮ মিটার দীর্ঘ এ সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ১০ মাসে। অথচ এখনো সেতু পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।

সেতু নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মজিবুর রহমান দাবি করেন, ‘৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ বন্ধ থাকায় কাজ আগাতে পারছি না।’

দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম কবির জানান, সেতুর অবশিষ্ট কাজ সমাপ্ত করতে ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। ঠিকাদার বিল বাকির অজুহাত দেখিয়ে কাজটি বন্ধ রেখেছেন। তবে এ সংক্রান্ত ঝামেলা মিটিয়ে নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৮টি ফুটব্রিজের (ছোট সেতু) নির্মাণকাজ আট বছরেও শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় এসব সেতু আদৌ পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেতুগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় দেড় কোটি টাকা। ওই সরকারের সময়েই ৬০ শতাংশ কাজ (পিলার স্থাপন) শেষ হয়। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম প্রথম আলো কে বলেন, ‘সেতুগুলোর নির্মাণ সম্পন্ন করতে ঊর্ধ্বতন কতৃ‌র্পক্ষের কাছে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।’

রক্তি সেতু সাত বছর ধরে ৪০ গ্রামের মানুষের বিরক্তির কারণ

খলিল রহমান, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রক্তি নদীর ওপর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০০০ সালের শুরুতে। কিন্তু খুঁটি নির্মাণ ও একটি পাটাতনের অর্ধেক বসিয়ে সাত বছর ধরে ফেলে রাখা হয়েছে সেতুটি। অসম্পূর্ণ সেতুর পাশ দিয়ে দুটি ইউনিয়নের কমপক্ষে ৪০ গ্রামের মানুষজনকে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হতে হচ্ছে।

সুনামগঞ্জের টুকেরবাজার থেকে জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার সড়কের যে স্থানে রক্তি নদীর ওপর সেতুর কাজ চলছে, তার পূর্ব পাড়ে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়ন এবং পশ্চিম পাড়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন। ফতেপুর ইউনিয়নের মানুষকে জেলা শহরে আসা-যাওয়া করতে হয় এ সড়ক দিয়ে। আবার গৌরারং ইউনিয়নের মানুষজনকে জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার, দুলভারচর বাজারসহ ওই এলাকায় যেতে হয় রক্তি নদী পার হয়ে। টুকেরবাজার থেকে যাত্রীবাহী টেম্পো নিয়ামতপুর পর্যন্ত যায়। সেতুর কাজ শেষ হলে একেবারে সাচনাবাজার পর্যন্ত টেম্পোয় যেতে পারত যাত্রীরা।

এখন ফতেপুর ইউনিয়নবাসীকে জেলা সদরে আসতে সাত কিলোমিটার হেঁটে প্রথমে যেতে হয় দুলভারচর বাজারে। এরপর রক্তি নদীর খেয়া পার হয়ে নিয়ামতপুর থেকে টেম্পোয় উঠতে হয়।

এলাকাবাসী জানায়, রক্তি নদীর এ খেয়াঘাটটি জেলা পরিষদ ইজারা দিয়ে থাকে। চলতি বছর আড়াই লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। ফতেপুর ইউনিয়নের ফিরোজপুর গ্রামে লাল মিয়া (৪০) বলেন, ‘ব্রিজ অইলেত সাত বছর টেকা ছাড়াই নদী পার অইতে পারতাম। মানুষেরও অত দুর্ভোগ অইত না।’

এলাকার কলেজছাত্র সৈয়দ ফুজায়েল কিবরিয়া জানায়, নদী পারাপারে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয় বেশি। নিয়ামতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নদী পার হয়ে আসতে হয় ওপারের শিক্ষার্থীদের। আবার ওপারে দুলভারচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয় এপারের শিক্ষার্থীদের।

ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান এবং গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ফুল মিয়া বলেন, ‘আমরা নিজেরাও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃ‌র্পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কোনো ফল হয়নি।’

সুনামগঞ্জ সওজ সূত্র জানায়, ওখানে একটি বেইলি ব্রিজ হওয়ার কথা ছিল। খুঁটি এবং সংযোগ সড়কের গাইড দেয়াল নির্মাণ করার পর আর বেইলি ব্রিজ পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে বেইলির স্থলে পাকা সেতু নির্মাণের জন্য এক কোটি ৪০ লাখ টাকার দরপত্র হয়।

সুনামগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম রহমান প্রথম আলো কে বলেন, ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দিয়ে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে।

সাঙ্গু সেতু ১৫ বছর ধরে পঙ্গু

বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, বান্দরবান

 বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সাঙ্গু সেতুর নির্মাণকাজ কবে শুরু হয়েছিল এলাকার অনেকেরই তা মনে নেই। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, জেলা সদরের সঙ্গে রুমার সরাসরি সড়ক যোগাযোগের জন্য প্রায় ১৫ বছর আগে ওই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। এ পর্যন্ত সেতুর ছয়টি পিলারের ভিত্তি নির্মাণ শেষ হয়েছে। রুমা সেনা গ্যারিসন ঘাটের (এক নম্বর ঘাট) সাঙ্গু নদীর ওপর নির্মাণাধীন ওই সেতুর কাজ কবে শেষ হবে, তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লাচিং মারমা আক্ষেপ করে বলেন, ‘এ কাজ শেষ করার জন্য বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী-সাংসদদের কাছে ধরনা দিয়েও কাজ হয়নি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯২ সালে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ পর্যন্ত সেতুর কেবল ছয়টি পিলারের ভিত্তি নির্মাণ করা হয়েছে। সওজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সাত কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২১৭ মিটার দীর্ঘ সেতুটির এ যাবত ১৫ শতাংশ কাজ হয়েছে।

সওজের বান্দরবানের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফজলুল হক জানান, মেরামত খাত থেকে সেতুর নির্মাণকাজ হাতে নেওয়ার কারণে নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এ জন্য খাত পরিবর্তন করে সেতুর নির্মাণকাজ যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে গত বছর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর বলা যাবে সেতুর নির্মাণকাজ কখন শেষ করা যাবে।

মেহেরপুরে সময় গেলেও বিরভিরি সেতুর কাজ শুরু হয়নি, বন্ধ আছে সাতটির

তুহিন আরণ্য, মেহেরপুর

মেহেরপুর সদর উপজেলার ময়ামারী-মদনাডাঙ্গা সড়কে বিরভিরি খালের ওপর সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল ২০০৬ সালের ১৯ অক্টোবর। অথচ সেতুটির নির্মাণকাজই এখনো শুরু হয়নি।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও বেশ কয়েকটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা পার হলেও সেগুলো অসমাপ্ত রয়েছে। সাতটির কাজ বন্ধ হয়েআছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, নির্মাণসামগ্রীর দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় আগের দরে তাদের পোষাচ্ছে না। এ কারণে তারা কাজ বন্ধ রেখেছে। তবে এলাকাবাসী বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজে ফাঁকি দিয়ে দুর্নীতি করতে পারবে না—এ আশঙ্কায় তারা কাজ বন্ধ রেখেছে।

 এলজিইডি সূত্র জানায়, সদর উপজেলার ময়ামারী-মদনাডাঙ্গা সড়কে বিরভিরি খালের ওপর ৩৯ মিটার দীর্ঘ সেতুর কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০০৬ সালের ৩০ এপ্রিল। এর ব্যয় ধরা হয় ২৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা। কাজ পায় জহিরুল লিমিটেড। ২০০৬ সালের ১৯ অক্টোবরের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ করতে বলা হয়। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই সেতুর নির্মাণকাজ শুরুই হয়নি।

সূত্র আরও জানায়, জেলার গাংনী উপজেলার কুলবাড়িয়া-মাইলমারী সড়কে কাজলা নদীর ওপর ৬০ মিটার, সদর উপজেলার চাঁদপুর ঘাটে ১২০ মিটার ও মুজিবনগর উপজেলার গোপালপুর-টেংরামারী সড়কে শিবপুর ঘাটে ১৪০ মিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণকাজ দুই বছর ধরে বন্ধ। কাজলা সেতুর কাজ চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল। চাঁদপুর ঘাটের সেতুটির ৪০ শতাংশ এবং শিবপুর ঘাটের সেতুর ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন পড়ে আছে।

জেলার আরও চারটি সেতুর নির্মাণকাজ বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ আছে। এগুলো হচ্ছে সদর উপজেলার আমঝুপি-কালিতলা সড়কে ৩০ ফুট দীর্ঘ সেতু, গাংনীর মালসাদহ-হিজলবাড়িয়া সড়কে কাজলা নদীর ওপর ২০ ফুট দীর্ঘ হিন্দা সেতু, একই উপজেলার দেবীপুর দক্ষিণপাড়া-চক কল্যাণপুর খালে ২৯ ফুট সেতু, মুজিবনগরের মোনাখালী ইউপিসি-রতনপুর হাট সড়কে ভৈরব নদীর ওপর ১৩৩ ফুট দীর্ঘ সেতু।

হিন্দা সেতুর ঠিকাদার ও মেহেদী কনস্ট্রাকশন ফার্মের স্বত্বাধিকারী গোলাম মেহেদী বলেন, ‘শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ কম দরে সেতু নির্মাণের কাজ নেওয়া হয়। ফলে বাড়তি মূল্যে উপকরণ সামগ্রী কিনে সেতু নির্মাণ করা কোনোক্রমেই সম্ভব না।’

মেহেরপুর জেলা ঠিকাদার সমিতির সভাপতি ও বিরভিরি সেতুর ঠিকাদার জহিরুল ইসলাম জানান, নির্মাণসামগ্রীর দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। তাই এই মুহূর্তে কাজ করলে তাঁদের অনেক টাকা লোকসান হবে।

মেহেরপুর এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হবে।

সংযোগ সড়ক নেই, কাজে আসছে না সেতু

মীর মাহমুদুল হাসান আস্তাক, নীলফামারী

 নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের কলমদার নদীর ওপর ২০০১-০২ অর্থবছরে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ২৫০ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করে এলজিইডি। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না।

হরিণচড়া ইউনিয়নের হরিহারা গ্রামের মোসলেম আলী (৩২) বলেন, ‘রাস্তা না থাকায় পাঁচ মাইলের পথ এখন ১০ মাইল ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।’

উপজেলার সদর ইউনিয়নের খাটুরিয়া সড়কের ডাক্তারপাড়ায় তিন বছর আগে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দুই ধারে মাটি ভরাট না করায় এটিও এলাকাবাসীর কাজে আসছে না।

একই অবস্থা ওই ইউনিয়নের পূর্ব খাটুরিয়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাকা রাস্তা থেকে ফার্মের হাট যাওয়ার রাস্তায় প্রায় ১০ বছর আগে নির্মিত সেতুরও।

কাজ শেষ হয়নি ১০ বছরেও

 ডোমার উপজেলার বোরাগাড়ী থেকে নয় কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং ডিমলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বুড়িতিস্তা নদীর ওপর ১০৭ দশমিক ৫৬ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি ১০ বছরেও। লোকজনকে প্রয়োজনীয় কাজে নদী পারাপার হতে হচ্ছে নৌকা করে।

নীলফামারী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সালাহ উদ্দিন প্রথম আলো কে বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন সেতুর সংযোগ সড়কের ব্যাপারে সব উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেসব স্থানে সংযোগ সড়ক নেই, সেখানে সড়ক তৈরির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সড়কের অভাবে সেতু চালু হচ্ছে না!

আয়শা সিদ্দিকা মুন্নী, শিবচর (মাদারীপুর)

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার শেখপুরে মাদারীপুর-শিবচর সড়কে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মিত সেতুটি সংযোগ সড়কের অভাবে চালু হচ্ছে না। কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর গত ডিসেম্বরে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতু থেকে সড়ক অনেক নিচে। এখন ফেরিতে করে লোকজন ও যানবাহন পারাপার হচ্ছে।

শিবচর সওজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮-৯৯ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ১৬১ দশমিক ৬৪ মিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেতুর কাজ বন্ধ থাকে। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর যৌথ বাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে সওজ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে দিয়ে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে। সেতুটি নির্মাণে ছয় কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়।

সওজ মাদারীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রেজ্জাক বলেন, ‘সেতুর সংযোগ সড়কের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ ছিল না। এ ছাড়া সড়কের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এখন সড়কের জন্য তিন কোটি ৪৭ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিকে এন্টারপ্রাইজ কাজ পেয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে ছয় মাসের মধ্যে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে।’

দুই বছরেও শেষ হয়নি ধোপপুল সেতুর নির্মাণ

মো. ইব্রাহিম খলিল, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের মোহরার ধোপপুল সেতুর নির্মাণকাজ দুই বছরেও শেষ হয়নি। বিকল্প সরু সেতু দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে যানবাহন চালকেরা। ঘটছে দুর্ঘটনাও। প্রতিদিন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে ধোপপুল এলাকায়।

২০০৫ সালের মাঝামাঝি মোহরার ধোপপুল সেতুটি ভেঙে সওজ প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ঠিকাদার ইব্রাহিম ২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাজ শুরু করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যানবাহন চলাচলের জন্য ওই সময় সেতুটির পাশে আরেকটি বিকল্প সেতু নির্মাণ করে।

রাঙ্গুনিয়া সওজ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল মতিন বলেন, সেতুটি নির্মাণ শুরুর এক মাসের মধ্যে বর্ষা শুরু হওয়ায় কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে নির্মাণসামগ্রীর অভাবে সঠিক সময়ে কাজ চালাতে পারেনি ঠিকাদার। তিনি দাবি করেন, নির্মাণকাজ এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

ধরমপাশার তিন সেতুর নির্মাণকাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি

সালেহ আহমদ, ধরমপাশা

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার মধ্যনগর-মহেষখলা সড়কের দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার। ২০০৫ সালের শুরুর দিকে এ সড়কের হামিদপুর, ছামারদানী ও ছাতুরবাজার এলাকায় তিনটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০০৬ সালের শুরু থেকে তিনটি সেতুর কাজই বন্ধ আছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বরাদ্দ না আসায় কাজ বন্ধ।

জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের অধীনে ওই তিন সেতুর কাজ শুর হয়। হামিদপুর সেতুর জন্য দুই কোটি ৬০ লাখ, ছাতুরবাজার সেতুর ৩৩ লাখ ও ছামারদানী সেতুর জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। এক বছর ধরে হামিদপুর সেতুর কয়েকটি খুঁটি আর দুই পারে কিছু কাজ হয়। অন্য দুটির প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে।

হামিদপুর সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুন্নী কনস্ট্রাকশনের পরিচালক পাভেল আহমদ বলেন, ‘আমাদের কোনো অবহেলা নেই। টাকা পেলে আমরা আবার কাজ করব।’

ছাতুরবাজার সেতুর নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে সুনামগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বসু নির্মাণ সংস্থা। ছামারদানী সেতুর নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছেন সুনামগঞ্জের ঠিকাদার মেজবাহ উদ্দিন। উপজেলা এলজিইডি থেকে দেওয়া ওই দুই প্রতিষ্ঠানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কথা বলা যায়নি।

দশমিনায় এক তীরে সাত বছরে অবকাঠামো নির্মাণ

শংকর দাস , পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আলীপুরা সেতুর কেবল পূর্ব অংশে নদীর তীরসংলগ্ন স্থানে পাকা অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এরপর ২০০১ সাল থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের অক্টোবরে ঠিকাদার জসীমউদ্দিন আহমেদ দশমিনার গাববুনিয়া নদীর ওপর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করেন। ১৮১ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় এক কোটি ৪৮ লাখ টাকা। কিন্তু নদীর পূর্ব অংশে নদীর তীরসংলগ্ন অবকাঠামো নির্মাণের পর কাজ আর এগোয়নি। ঠিকাদার ৪০ লাখ টাকার বিল তুলে নিয়ে গেছেন।

আলীপুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহজাহান আলম হাওলাদার জানান, সেতু নির্মাণ শেষ না হওয়ায় নদীর পশ্চিম পারের নয় গ্রামের মানুষ উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়কপথে সরাসরি যাতায়াত করতে পারছে না। নৌকা বা ট্রলারে তাদের নদী পার হতে হয়। তিনি জানান, সেতুটি হলে দশমিনার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলার দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার কমে যাবে।

এলজিইডির পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী স ম আবদুস ছালাম জানান, নকশায় ত্রুটি থাকায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সেতুর মাপজোখসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে কয়েক বছর লেগে যায়। ২০০৬ সালের ১১ জুলাই সেতুর বাকি কাজ শেষ করার জন্য আবার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে সর্বনিম্ন দরপত্র দাখিল করেন ঠিকাদার মাহফুজ খান। মূল্যায়নের জন্য এই দরপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সোয়া কোটি টাকার সেতু দুই বছর ধরে অকেজো

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

যশোর সদর উপজেলার বুড়ি ভৈরব নদের ওপর ঘুনি ঘাটে প্রায় দেড় বছর আগে নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো কাজে আসে না। এটি মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৬০ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ১০ লাখ টাকা। ২০০৬ সালের শেষ দিকে নির্মাণকাজ শেষ হয়। সড়ক হলে সেতুটি যশোর-খুলনা সড়কের ঘুনি ও বাঘারপাড়া উপজেলার চাড়াভিটা বাজারকে যুক্ত করত।

বসুন্দিয়া ইউনিয়নের ঘুনি গ্রামের বাসিন্দা আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘ব্রিজ হয়েছে, কিন্তু রাস্তা নেই। এতে আমাদের কষ্ট আরও বেড়েছে। এর চেয়ে খেয়াঘাটই ভালো ছিল।’ তিনি জানান, বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ চরমে ওঠে। সেতুর দুই প্রান্ত পানিতে ডুবে গেলে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে সেতু পারাপার হতে হয়।

বাসুয়াড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মসিয়ার রহমান জানান, সেতু নির্মাণের বছরখানেক পর সংযোগ সড়কের মাটি ভরাটের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ করেননি। শেষ পর্যন্ত জনস্বার্থে তিনি নিজের দায়িত্বে এই কাজটুকু সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।বাঘারপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান জানান, তিনি নতুন এসেছেন। এত দিন সংযোগ সড়ক কেন হয়নি, তা বলতে পারবেন না। এখন কাজ শুরু হবে।

 বাঁশের হাতল ধরে উঠতে হয় রাজপাট সেতুতে

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ইউনিয়নের দুই প্রান্ত সংযোগকারী সড়কের প্রায় ৬০০ মিটারে মাটি নেই। এতে ওই সড়কে নির্মিত সেতুটি মানুষ ব্যবহার করতে পারছে না। শীত মৌসুমে লোকজনকে বাঁশের হাতল ধরে ওই সেতুতে ওঠানামা করতে হয়। আর বর্ষা মৌসুমে এটি ব্যবহার করা যায় না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ওই সড়ক ও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাফা ব্রিকসের। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সেতু নির্মাণ শেষ করলেও সড়কের ৬০০ মিটারে মাটি ফেলেনি। এ কারণে সেতুটি কোনো কাজে আসছে না।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাফা ব্রিকসের মালিক ফকরুল বাশার দাবি করেন, কিছু মানুষের অসহযোগিতার কারণে সংযোগ সড়কে তিনি মাটি ফেলতে পারছেন না। স্থানীয় লোকজন মাটি দিতে রাজি নয়। কিছু লোক মাদ্রাসার পাশ দিয়ে রাস্তা করতে দেবে না। এ নিয়ে অনেকবার সভা করা হলেও কোনো লাভ হয়নি।

গোপালগঞ্জ এলজিইজির নির্বাহী প্রকৌশলী গোপাল কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, ‘যেভাবেই হোক কাজ শেষ করা হবে। ঠিকাদার ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

কলাম-১

তিন সরকার পার করেছে তালতলী সেতু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বরিশাল নগরীর পার্শ্ববর্তী শায়েস্তাবাদ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ১৯৯৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস তালতলী নদীর ওপর তালতলী সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের আওতায় সেতুটির সব পিলারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রকল্পের নানা বিষয় নিয়ে কতৃ‌র্পক্ষের বিরোধ সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগের আমলে সে বিরোধ নিষ্পত্তিও হয়। আবার বিএনপি সরকার গঠন করে। কিন্তু তাদের আমলেও সেতুটির কাজ শেষ হয়নি। ২০০৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ২০০৬ সালে এই সেতুর কাজ আবার শুরু হয়। সেই কাজ এখনো চলছে।

চার কোটি টাকার সেতু কাজে আসছে না

নিজস্ব প্রতিবদেক, বগুড়া

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাইগুনি-দুর্গাহাটা রাস্তায় দুটি খালের ওপর সেতু হয়েছে। ঢাকঢোল পিটিয়ে এগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান। সেতু দুটি নির্মাণ করতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর খরচ করেছে চার কোটি টাকা। কিন্তু কোনো সেতুরই দুই পাশে রাস্তা নেই। ফলে সেতু দুটি কোনো কাজেই আসছে না। ২৫টি গ্রামের মানুষ সেতুর নিচ দিয়ে অথবা বহু দূর ঘুরে ভিন্নপথে চলাচল করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাইগুনি-দুর্গাহাটা সড়কে কানিদহ ও বাশকাবাড়ী খালের ওপর ২০০৩ সালের মে মাসে শুরু হয়েছিল সেতু দুটির নির্মাণকাজ। ২০০৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর এ নিয়ে প্রথম আলো য় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

১৮ কোটি টাকার সেতুটি অব্যবহৃত পড়ে আছে

নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পাটুলি ইউনিয়নে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০০৬ সালের ৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এটি উদ্বোধন করেন। তিনি সেতুটির যে পাশ দিয়ে উদ্বোধন করেছেন সে পাশে সংযোগ সড়ক করে দেওয়া হয়। কিন্তু অপর পাশে কোনো সংযোগ সড়ক করা হয়নি। সে পাশে বিন্নাবদি গ্রামের পুরোনো কাঁচা রাস্তাটি সেতু থেকে ২০ ফুট নিচে। সম্প্রতি সেই সেতুর সংযোগস্থলও ভেঙে গেছে। এটি এখন লোকজনের কোনো কাজে আসছে না। ২০০৭ সালের ২ অক্টোবর এ নিয়ে প্রথম আলো য় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সাত বছর পর কাজে এসেছে সেতুটি

শেরপুর প্রতিনিধি

২০০০ সালের ৬ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জামালপুর-শেরপুর সড়কের সংযোগস্থলে শেরপুর সদর উপজেলার পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ৪২৭ দশমিক ৫২ মিটার ‘ব্রহ্মপুত্র সেতু’ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০০২ সালের ১০ আগস্ট কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নদীভাঙন ও বন্যার কারণে যথাসময়ে কাজ শেষ হয়নি। পরে কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে সেতুটি দীর্ঘ দিন অব্যবহৃত পড়ে ছিল।

এ নিয়ে ২০০৬ সালের ৬ জুন প্রথম আলো য় সংবাদ প্রকাশিত হলে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হয়। গত বছরের মে মাসে কাজ শেষ হলে সেতুটি চালু হয়।

নয় বছরেও করতোয়া সেতুর নির্মাণ শেষ হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মধ্যে সংযোগকারী করতোয়া সেতুর নির্মাণকাজ নয় বছরেও শেষ হয়নি। নদীর দুই পারে খালাসপীর ও নবাবগঞ্জ নামের দুটি বড় হাট। ওই অঞ্চলের মানুষের, বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের এখন পণ্য নিয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ—সওজ সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালের ১৩ মে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ব্যয় ধরা হয়েছিল দেড় কোটি টাকা। কিন্তু সেতুর পিলারের ভিত নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

২০০৭ সালের ১৫ জুলাই এ নিয়ে প্রথম আলো য় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজানুর রহমান বলেছিলেন, ‘সেতুটি নির্মাণে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।’ কিন্তু এক বছরেও সেই কাজই শেষ হয়নি।

বেড়ার কাজীরহাট সেতু আট বছরেও হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা

 পাবনার বেড়া উপজেলার কাজীরহাটে মরা পদ্মা নদীর ওপর সেতুর নির্মাণকাজ আট বছরেও শেষ হয়নি। ফলে এলাকার ৫০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ কাটছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢাকার মেসার্স এন আলম পুরো বিল তুলে নিয়েছে পাঁচ বছর আগেই।

পাবনা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের ১৫ অক্টোবর কার্যাদেশ পেয়ে মেসার্স এন আলম নির্মাণকাজের দায়িত্ব (সাব-কন্ট্রাক্ট) দেয় বেড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রইচ উদ্দিনকে। ২০০৭ সালের ২৫ জুন এ নিয়ে প্রথম আলো য় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গত এক বছরেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ছয় বছরেও আমতলা সেতুর কাজ হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

 দুই দফা ঠিকাদার পরিবর্তন করেও খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার আমতলা-সুখদাড়া খালের ওপর সেতু নির্মাণের কাজ ছয় বছরে শেষ করা যায়নি। ফলে ৬৪ বছরের পুরোনো আরেকটি ভাঙা, জরাজীর্ণ, লোহা ও কাঠের সেতু দিয়ে প্রতিদিন পাঁচ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

২০০২ সালের ৩০ এপ্রিল ২০ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় মেসার্স রানা ব্রাদার্সকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখা হয়। ২০০৬ সালের ২৭ নভেম্বর ৩০ লাখ ৪৮ হাজার টাকায় বাকি অংশের কাজ শেষ করতে মেসার্স আলিফ এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তারা সামান্য কিছু কাজ করে মালামাল ফেলে চলে গেছে। ২০০৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে প্রথম আলো য় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ধনাগোদা সেতুর কাজও ছয় বছরে হয়নি

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়। সেতুটি নির্মিত হলে মতলব উত্তর ও কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

কুমিল্লা এলজিইডি সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যের সাহাঘ্য সংস্থা ডিএফআইডির আর্থিক সহায়তায় সেতুটি নির্মিত হচ্ছিল। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও মেসার্স মাহমুদা বিল্ডার্স তা করেনি।

২০০৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে প্রথম আলো য় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এখনো সেভাবেই পড়ে আছে সেতুটি।

পাঁচ বছর চলে যাচ্ছে ভৈরব সেতু হচ্ছেই

মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া-চাঁদপুর ঘাটে ভৈরব নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় সাড়ে চার বছর আগে। অর্ধেকের বেশি কাজ হয়েছে। বাকি কাজ বন্ধ আছে।

মেহেরপুর এলজিইডি সূত্র জানায়, এক কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২০ মিটার দীর্ঘ এ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৩ সালের ১১ জানুয়ারি।

২০০৭ সালের ২১ আগস্ট এ নিয়ে প্রথম আলো য় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে এক বছরেও অবস্থার কোনো হেরফের হয়নি।

সড়ক নেই, কিন্তু সেতু হয়ে আছে সাত বছর

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দৈয়াপাড়া-চরমাহমুদ্দী গ্রামের খালের ওপর সেতু হলে উপজেলার নূরপুর থেকে চরমাহমুদ্দী, দৈয়াপাড়া হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-হোমনা সড়কের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ—এলজিইডি পাঁচ লাখ তিন হাজার টাকা ব্যয়ে ২০০১ সালে সেতু নির্মাণ করে। কিন্তু সাত বছর পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক না করায় সেটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

২০০৭ সালের ১৮ জুলাই এ নিয়ে প্রথম আলো য় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

পট্টি সেতুর কাজের গিট্টুও খুলছে না

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

ঠিকাদারের অবহেলার কারণে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট-চাঁদপুর সড়কে পট্টি সেতুর নির্মাণকাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ২০০৩ সালের ৮ জুন চার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯০ দশমিক ৮৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের কাজ পায় সাবেক সাংসদ হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খান ইন্টারন্যাশনাল। ২০০৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও এর বেশির ভাগ কাজই বাকি।

এ নিয়ে ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর প্রথম আলো য় সংবাদ প্রকাশিত হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক প্রদীপ বলেছিলেন, নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় সময় লাগছে। এখন লোকসান দিয়ে হলেও নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। তবে গত ছয় মাসেও তা আর হয়নি।

সড়ক যোগাযোগ স্বপ্নই রয়ে গেছে

তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে সদর ইউনিয়নের নরসুন্দা নদীর ওপর রাইজানি সেতুর নির্মাণকাজ সাড়ে ছয় বছরেও শেষ হয়নি। সাড়ে পাঁচ বছর আগে পিলার বসানোর পর আর কোনো কাজই হয়নি। ফলে করিমগঞ্জ-তাড়াইল সরাসরি সড়ক যোগাযোগের বিষয়টি দুই উপজেলার মানুষের জন্য স্বপ্নই রয়ে গেছে।

২০০০-০১ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ব্যবস্থাপনায় ৮০ লাখ ২৮ হাজার ৪৭৮ টাকায় ৭৫ দশমিক ৭৭ মিটার দীর্ঘ সেতুর পিলার নির্মাণের কার্যাদেশ পায় আব্দুস ছালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স। ২০০৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে প্রথম আলো য় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

‘পোল দিয়া পার হওনের স্বপ্ন নিয়া মরতে হইব’

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

‘ছয়-সাত বছর আগে স্কুলমাঠে মন্ত্রী ঘোষণা দিল পোল হইব। কিন্তু কোথায় পোল? মনে হয় পোল দিয়া গাঙ পার হওনের স্বপ্ন নিয়া মরতে হইব।’ কথাগুলো শরীয়তপুর সদর উপজেলার ভত্তাইসার গ্রামের গফুর চানের (৬৫)।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, ২০০১ সালের জুনে তৎকালীন পানিসম্পদমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক মুন্সিরহাট পয়েন্টে সাত কোটি ৬৭ লাখ ৩২ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে ১৪৮ দশমিক ৬৮ মিটার দীর্ঘ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর থেমে যায় নির্মাণকাজ। ২০০৭ সালের ৪ অক্টোবর এ নিয়ে প্রথম আলো য় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেতুটি এখনো সেভাবেই পড়ে আছে।

এখন ভ্যান-সাইকেলও চলে না

কালাই (জয়পুরহাট) ও শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের কালাই ও বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে নুনগোলা খাঁড়ি (খাল)। দুই পাশের ২৫টি গ্রামে থাকে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। চলাচলে দুর্ভোগ লাঘবে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল খাঁড়ির ওপর একটি সেতু নির্মাণের। আট বছর আগে সেতু হয়েছেও, কিন্তু সেতুর সংযোগ সড়ক হয়নি। তাই দুর্ভোগ না কমে উল্টো বেড়েছে। এখন মই লাগিয়ে সেতুতে ওঠানামা করতে হয়।

২০০৭ সালের ৪ নভেম্বর এ নিয়ে প্রথম আলো য় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সেতু আছে রাস্তা নেই, রাস্তা আছে সেতু নেই

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের তারাগঞ্জের ইকরচালী ইউনিয়নের জিগাতলা খালের ওপর ১৯৭৫ সালে উপজেলা পরিষদের অধীনে সাত লাখ টাকা ব্যয়ে, ভেরভেরী খালের ওপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ১৯৯১ সালে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে, ২০০৩ সালে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাচনা দোলার ওপর ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দুই পাশে সংযোগ সড়ক না করায় সেতুগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের বাহাগিলী নালার ওপর ১৯৮৫ সালে ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি সেতু নির্মাণ করে। কিন্তু গত ২৩ বছরেও সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল।

২০০৭ সালের ৫ নভেম্বর সেতুগুলোর দুরবস্থা নিয়ে প্রথম আলো য় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বাহাগিলী ও ভেরভেরী সেতুর সংযোগ লাগে রাস্তার সঙ্গে।

মুন্সিরহাটে সংযোগ সড়ক নেই

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের মুন্সিরহাটে কীর্তিনাশা নদীতে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে আট মাস আগে। কিন্তু সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় এটি কাজে লাগছে না। মই বেয়ে এলাকার মানুষদের সেতু দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।

২০০৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর এ নিয়ে প্রথম আলো য় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সে সময় শরীয়তপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী নিরঞ্জন দাস জানান, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসনে চিঠি দিয়েছি। তবে এখনও মাসেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।

তারাগঞ্জবাসীর দীর্ঘশ্বাস এবংদুটি সেতু

তারাগঞ্জ প্রতিনিধি

চিকলী নদীর তেঁতুলতলা পারঘাটে সেতু নির্মাণের জন্য পাথর-সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে পানির মধ্যে কিছু লোহার রড দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে। একই অবস্থা খারুভাজ নদীর মমিনপুর পারঘাটের আরেকটি সেতুর। প্রায় পাঁচ বছর অর্থহীন এক স্থাপনা প্রহসনের মতো দাঁড়িয়ে আছে সেতু নাম নিয়ে।

২০০৭ সালের ২২ মে এ নিয়ে প্রথম আলো য় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর দুটি সেতুরই নির্মান কাজ দ্রুত শেষ করা হয়। কিন্তু সড়ক নিচু হওয়ায় মানুষ চলাচল করতে পারছে। যানবাহন চলাচল করছে না।

৫৬ লাখ টাকার সেতু কাজে আসছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ার সোনাতলার সুজাতপুর গ্রাম থেকে বালুয়া ইউনিয়নের রশিদপুর ও সাজনীটাইর গ্রামের ভেতর দিয়ে পূর্ব-পশ্চিম লম্বালম্বি বালুয়াহাট পর্যন্তচলে গেছে একটি রাস্তা। পাশের সারিয়াকান্দি উপজেলার লোকজনকেও যাতায়াত করতে হয় এ রাস্তা দিয়ে। ১৯৯৮-৯৯ এ রাস্তায় গোবর চর বিলের মধ্যবর্তী আধা কিলোমিটারে চারটি সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ওই সেতুগুলোর পাশের মাটি ধসে যাওয়ায় সেগুলো হয়ে পড়ে অকেজো। এখনো সেগুলো ঠিক করা হয়নি।

২০০৭ সালের ২৯ এপ্রিল এ নিয়ে প্রথম আলো য় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

‘ইবার যে কতজনের মরণ আচে...’

নিজস্ব প্রতিবেদক , বগুড়া শিবগঞ্জ প্রতিনিধি

‘একবার বাস পানিত পড়ে ২২ জন মরিচে, ইবার যে কতজনের মরণ আচে তা কে জানে? ৩০ মাসের সাঁকোর কাম যেন ৩০ বচর লাগবে, তাও শ্যাষ হবে কি না আল্লায় জানে।’

এমনই ক্ষোভ বগুড়ার কিচক এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল আজিজের। দীর্ঘদিনেও গাংনই নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় কিচকের সবাই ক্ষুব্ধ। শুধু কিচক সেতুই নয়, মাত্র চার কিলোমিটার ব্যবধানে আরও একটি সেতু নির্মাণের অপেক্ষায় পড়ে আছে সাড়ে তিন বছর ধরে।

২০০৭ সালের ২৭ মে এ নিয়ে প্রথম আলো য় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সে সময় শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল হক খান বলেন, সড়ক বিভাগকে দ্রুত কাজ শেষ করতে তাগাদা দিয়েছেন। আবারও তাগাদা দেবেন। কিন্তু সেই তাগাদার কোনো ফল পায়নি এলাকাবাসী।

সেতুর সংযোগ সড়ক যখন সাঁকো

কিশোরগঞ্জ ও করিমগঞ্জ প্রতিনিধি

সংযোগ সড়ক না থাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে কিশোরগঞ্জের ইটনা সদরে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি এলাকাবাসীর কাজে লাগছে না। এক বছর পরিত্যক্ত থাকার পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের উদ্যোগে সংযোগ সাঁকো তৈরি করে সেতুটিকে কোনো রকমে কাজে লাগাচ্ছে এলাকাবাসী।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ইটনা সদরের পুরোনো বাজার ও নতুন বাজারের মধ্যবর্তী খালে ২০০১ সালে এক কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৭ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০০৪ সালের শেষদিকে সেতুর কাজ শেষ হয়। ২০০৭ সালের ৩ আগস্ট প্রথম আলো য় এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু অবস্থার কোন হেরফের হয়নি।

‘রাস্তা ছাড়া পুল দিয়া আমাগো কী অইব’

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

২০০৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চেলার চর ও নবীনগর গ্রামের মাঝখানে বিলের মধ্যে নয়নপুর খালে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ২০০৪ সালে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়, কিন্তু সেতুর সংযোগ সড়ক ও চেলার চর-নবীনগর সড়ক উন্নয়নে কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত সেতুটি এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না।

২০০৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

২৫ হাজার লোকের দুর্ভোগ এবং একটি সেতু

কুমিল্লা অফিস

কুমিল্লার বুড়িচংয়ের দক্ষিণ এলাকার তিনটি ইউনিয়ন—ময়নামতি, মোকাম ও ভারেল্লা। এ তিন ইউনিয়নের ২৫ হাজার লোকের দুর্ভোগের আরেক নাম গোবিন্দপুর-এতবারপুর সেতু। গোমতী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি গত সাড়ে চার বছরেও ব্যবহারের উপযোগী হয়নি।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বারবার পিছিয়ে ২০০৬ সালের ২ আগস্ট সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে। কিন্তু দেড় বছর পার হলেও রাস্তা না হওয়ায়সেতুটি লোকজন ব্যবহার করতে পারছে না।

২০০৭ সালের ২২ অক্টোবর এ নিয়ে প্রথম আলো য় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সে সময় কুমিল্লা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মধ্যবর্তী জায়গায় মাটি ফেলার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখা হয়েছে।’

সাত কোটি টাকার সেতু চার বছর ধরে অকেজো

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ভালুকা-সখীপুর সড়কের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার খিরু নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০০৩ সালে। কিন্তু চার বছর পরও সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করেনি সওজ। ফলে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু গত সাড়ে চার বছরেও এলাকার মানুষের কোনো কাজে আসেনি।

সওজ দাবি করেছে, এ পর্যন্ত তারা দুবার সেতুর দুই পাশে আধা কিলোমিটার করে মাটি ফেলেছে। খরচ হয়েছে দেড় কোটি টাকা। কিন্তু দুই পাশে ‘গাইড দেয়াল’ না থাকায় মাটি দেবে যায়।

এই সেতু চালু হলে সিলেট বিভাগ থেকে যমুনা সেতুতে যেতে প্রায় ৮০ কিলোমিটার রাস্তা কমে যাবে। ২০০৭ সালের ২৩ অক্টোবর এ নিয়ে প্রথম আলো য় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

আরও পড়ুন :

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0