রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পলান সরকার। গ্রামে গ্রামে হেঁটে হেঁটে বই বিলিয়ে আসেন। যাতে গ্রামের মানুষ বিনি পয়সায় জ্ঞান অর্জন করতে পারে। বৃদ্ধ পলান সরকারের এই ব্যতিক্রমী কাজ নিয়ে ২০০৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর শনিব​ারের ক্রোড়পত্র ‘ছুটির দিনে’র প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ১৯২১ সালে জন্ম নেওয়া পলান সরকার ২০১১ সালে একুশে পদক পেয়েছেন। পদক পেয়েই তিনি সরাসরি চলে আসেন প্রথম আলোর কার্যালয়ে।

পাক্কা ৮৫ বছর বয়স পলান সরকারের। এই বয়সেই তিনি বইয়ের ঝোলা কাঁধে ঘুরে বেড়ান গ্রামের পর গ্রাম। বিনি পয়সায় মানুষকে পড়তে দেন বই। আবার ফেরতও নিয়ে আসেন নিজে হেঁটে গিয়েই। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষ এখন তাঁর পাঠক। এবারের মূল রচনায় পড়ুন ব্যতিক্রমী এই বইপাগল মানুষটির গল্প। লিখেছেন আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ

default-image

প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠেই বেরিয়ে পড়েন ৮৫ বছর বয়সী পলান সরকার। গ্রামের মেঠো পথ ধরে তিনি হাঁটেন মাইলের পর মাইল। তাঁর এই হাঁটা উদ্দেশ্যহীন নয়। সব সময় তাঁর কাঁধের ঝোলায় আর হাতে থাকে বই। এ বই নিয়ে পলান সরকার যান গ্রামের ঘরে ঘরে। কারও পছন্দ রবীন্দ্রনাথ, কারওবা নজরুল কিংবা শরত্চন্দ্র। সব বয়সের সব পাঠকের হাতেই তিনি তুলে দিতে চান তাঁর পছন্দের বইটি। না, জীবিকার দায় বা টাকাপয়সা রোজগারের ইচ্ছে থেকে নয়, পলান সরকার বই বিলির কাজ করেন গ্রামের মানুষকে বই পড়ার আনন্দের সঙ্গে পরিচয় করানোর জন্য। শুরু করেছিলেন তাঁর নিজের গ্রাম থেকে। এখন পলান সরকারের পাঠক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আশপাশের ১০-১২টি গ্রামে। গ্রামের যুবক-যুবতী, কিশোর, বৃদ্ধ এমনকি গৃহবধূরা পর্যন্ত তাঁর পাঠক। বর্তমানে তাঁর পাঠকসংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

পলান সরকার এখন রাজশাহীর বাউসা ইউনিয়নের বেণুপুর, হরিপুর, দীঘা, হাটপাড়া, পূর্বপাড়া, সরকারপাড়া, মাঠপাড়া, ঠাকুরপাড়াসহ ১২টি গ্রামে পরিচিত ‘বইওয়ালা দুলাভাই’ নামে। গ্রামের মানুষজন হাটবাজারে যায় দরকারি জিনিসপত্র কিনতে। হাটে যান পলান সরকারও। তবে সদাই করতে নয়, মানুষকে বই বিলি করতে। হাটে রাজ্যের মানুষ আসে। পলান সরকারের পাঠক খুঁজে পেতে সুবিধা হয়। সম্প্রতি সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে পলান সরকারকে নিয়ে প্রচারিত হয়েছে একটি বিশেষ প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পর দেশের অনেকের কাছেই চেনা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের এই বইপাগল মানুষটি।

হপ্তা খানেক আগে হাটে এসে রোজকার মতো পাঠক খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন পলান সরকার। কাঁধে ঝুলছিল তাঁর সেই চিরাচরিত ঝোলা। হাটে বসেই কথা হয় পলান সরকারের সঙ্গে। জানতে চাই কীভাবে আর কেন তিনি শুরু করেছিলেন বই বিলি করার কাজ।

পলান সরকারের সারা জীবন

পলান সরকারের জন্ম ১৯২১ সালে। তাঁর আসল নাম হারেজ উদ্দিন। তবে পলান সরকার নামেই তাঁকে চেনে দশগ্রামের মানুষ। জন্মের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তাঁর বাবা মারা যান। টাকাপয়সার টানাটানির কারণে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই লেখাপড়ায় ইস্তফা দিতে হয় তাঁর। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া বন্ধ হলেও লেখাপড়া থেকে দূরে থাকেননি পলান সরকার। নিজের চেষ্টায়ই চালিয়ে গেছেন পড়া। গ্রামেগঞ্জে তো আর খুব বেশি গ্রন্থাগার নেই। তখন বইপত্রও কিনা পড়ার লোকজন ছিল না বেশি। ফলে হাতের কাছে যে বই পেয়েছেন, তা-ই গোগ্রাসে গিলেছেন পলান সরকার।

একটা সময় যাত্রায় অভিনয় করেছেন পলান সরকার। ভাঁড়ের চরিত্রে অভিনয় করে সে সময় বহু লোককে আনন্দ দিয়েছেন তিনি। সে সময় গ্রামাঞ্চলে যাঁরা যাত্রা-নাটকে অভিনয় করতেন তাঁদের অনেকেই পড়ালেখা জানতেন না। পলান সরকারের সে সমস্যা ছিল না। তাই যাত্রার পাণ্ডুলিপি লেখার কাজটা অনেক সময় করতে হতো তাঁকেই। অভিনয়, পাণ্ডুলিপি রচনার পাশাপাশি একসময় পেছন থেকে সংলাপ বলে দেওয়ার কাজটাও নিতে হলো পলান সরকারকে পাকাপাকিভাবে। পাণ্ডুলিপি পড়ে সংলাপগুলো টানা বলে যাওয়া। এটাই ছিল তাঁর কাজ। এই ‘প্রম্পট’ করার কাজ করতে গিয়েই বই পড়ার নেশাটা আরও পেয়ে বসে তাঁকে। একসময় ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রসারের কারণে গ্রামাঞ্চলে যাত্রাপালা অনুষ্ঠান অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু থেকে যায় পলান সরকারের বই পড়ার নেশা।

বাবার মৃত্যুর পর বাউসা গ্রামের নানার বাড়িতে মানুষ হয়েছেন পলান সরকার। তরুণ বয়সে তিনি তাঁর নানার প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের দায়িত্ব পান। খাজনা আদায়ের চল উঠে গেলে ১৯৬২ সাল থেকে বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের কর আদায়কারী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। বেতনের একটা বড় অংশ তিনি খরচ করতেন বই কিনে। বই বিলির কার্যক্রম শুরু করার পেছনেও একটা মোটামুটি লম্বা গল্প আছে। স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন পলান সরকার। তো পলান সরকার যেহেতু বইপাগল মানুষ তাই তিনি ঠিক করলেন, প্রতিবছর স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যারা ১ থেকে ১০-এর মধ্যে মেধা তালিকায় স্থান পাবে তাদের তিনি একটি করে বই উপহার দেবেন। এখান থেকেই আসলে শুরু তাঁর বই বিলির অভিযান। স্কুলের ছাত্রছাত্রী যারা উপহার হিসেবে বই পায় না (মানে যাদের রোল নম্বর ১০-এর নিচে থাকে) একসময় তারাও পলান সরকারকে চেপে ধরে। তারাও বই পড়তে চায়। কিন্তু সবাইকে বই দিলে তো আর মেধা তালিকার সম্মান থাকে না। তাই তিনি নতুন পদ্ধতি চালু করলেন। সবাই বই পড়তে পারবে। তিনি সবাইকে বই দেবেন। তবে যাদের রোল নম্বর ১০-এর পরে তাদের বই পড়ে আবার ফেরত দিতে হবে। এভাবেই তাঁর বই পড়ানোর গল্প চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রছাত্রী ছাড়াও গ্রামের লোকজন তাঁর কাছে বইয়ের জন্য ধরনা দিতে লাগল। পলান সরকার কাউকে না করতে পারেন না। একসময় পলান সরকারের কাছ থেকে বই নিয়ে আসাটা সাধারণ নিয়মে দাঁড়িয়ে যায় গ্রামের মানুষজনের কাছে। টাকাপয়সা দিতে হয় না। পলান সরকার যে আসে তার হাতেই বই তুলে দেন। বইয়ের কোনো ক্ষতি না করে সময়মতো ফেরত দিলেই তিনি খুশি। এভাবেই তাঁর নিজের গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর বই বিলি করার খবর।

এ সময় পলান সরকারের জীবনে আরেকটি ঘটনা ঘটে। ডাক্তারি পরীক্ষায় তাঁর ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। ডাক্তারের কড়া নির্দেশ প্রতিদিন তাঁকে কমপক্ষে তিন কিলোমিটার হাঁটতে হবে। ডাক্তারের এই পরামর্শ তাঁর বই পড়ানোর আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়। তিনি ঘোষণা দেন—কাউকে তাঁর বাড়িতে বই নিতেও আসতে হবে না, দিতেও আসতে হবে না। তিনি নিজেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই দিয়ে আসবেন আবার পড়া শেষ হলে বই নিয়ে আসবেন। এভাবেই শুরু। এখন বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বেণুপুর, হরিপুর, দীঘা, বাউসা টলটলিপাড়া, চকরপাড়া, হাটপাড়া, পূর্বপাড়া, সরকারপাড়া, মাঠপাড়া, ঠাকুরপাড়া, ফতেপুর ও অমরপুর গ্রামে হেঁটে গিয়ে পলান সরকার বই দিয়ে আসেন এবং নিয়ে আসেন। প্রতিদিনই একটি-দুটি করে গ্রামে যাওয়া-আসা করেন তিনি। গ্রামের পাঠকেরা ঘুম ভেঙে সকালে উঠেই দেখেন পলান সরকার বই নিয়ে হাজির।

পলান সরকার বলেন, ‘এক দিনের জন্যও আমি ডাক্তারের পরামর্শের অমর্যাদা করিনি। প্রতিদিন মাইলের পর মাইল হাঁটি। এতে আমার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে। হাঁটতে হাঁটতে নানা রকম চিন্তাভাবনা করি। ভালো লাগে।’

পলান সরকার তাঁর পাঠকের সব ধরনের বইয়ের চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করেন। তাঁর সংগ্রহে বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ—সবার বই আছে। বেশকিছু ধর্মীয় বইপুস্তকও রেখেছেন তিনি তাঁর সংগ্রহে। হালের লেখকদের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হকের বই তরুণ বয়সী পাঠকেরা বেশি পড়তে চায় বলে জানিয়েছেন তিনি।

বই পাগল

কেবল বই বিলি করা নয়, পলান সরকার সেই গোড়া থেকেই পুরোপুরি এক বইপাগল মানুষ। নিজের সবকিছুর সঙ্গেই তিনি জড়িয়ে রাখতে চান বইপুস্তককে। বই পড়ার প্রতি মানুষকে আগ্রহী করে তোলার জন্য তিনি নিজে সবাইকে বই উপহার দেন, অন্যদেরও উত্সাহিত করেন। তাঁর নিজের চালকলে প্রতিবার হালখাতার সময় যাঁরা টাকা শোধ করেন তিনি তাঁদের একটি করে বই উপহার দেন। বিয়েসহ যাবতীয় অনুষ্ঠানে তিনি বই ছাড়া অন্য কিছু উপহার দেন না। পাঠকেরা যে বই আবদার করেন তিনি সে বই-ই জোগাড় করে দেন।

যাত্রাপালায় অভিনয় করতেন বলেই তিনি এই ৮৫ বছর বয়সে এসেও খুব মজার এক মানুষ। গল্প বলে মানুষকে হাসানোর কাজে জুড়ি নেই তাঁর। গ্রামের তরুণ-তরুণী সবার কাছেই তিনি ‘বইওয়ালা দুলাভাই’। যে বাড়িতেই যান সবাই খুব খাতির-যত্ন করে তাঁকে।

বাড়িতে ঢুকলেই মা-বাবা ছেলে মেয়েদের বলেন, ‘তোদের দুলাভাইকে বসতে দে।’ এভাবেই তিনি গ্রামের প্রতিটি পরিবারের সঙ্গেই গড়ে তুলেছেন আত্মীয়তার সম্পর্ক। পলান সরকার বলেন, ‘এই সম্পর্কের কারণে বই লেনদেনে খুব সুবিধা হয়। কোনো পরিবারের ছেলেমেয়ে বই মেরে দিতে চাইলেও গোটা পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক হয়ে যাওয়ার কারণে তারা পারে না।’ জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে পলান সরকারকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পর আরও বেড়েছে তাঁর পরিচিতি। এখন বই নেওয়ার খাতিরে তাঁকে দেখতেও আসে বহু মানুষ। ইত্যাদির পক্ষ থেকে হানিফ সংকেত পলান সরকারকে উপহার হিসেবে দেন পুরো দুই শেলফ বই। পলান সরকার বলেন, এখন বাঘা ছাড়া পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও পাঠক আসছে আমার কাছে বইয়ের জন্য।

পাঠকের কথা

পলান সরকারের পাঠক বেণুপুর গ্রামের গৃহবধূ রাশিদা বেগম বলেন, আমাদের বই কিনে পড়ার সুযোগ নেই। পলান সরকারের সৌজন্যে আমরা বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছি। একই গ্রামের রেখা বেগম বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখা যায় পলান সরকার বই নিয়ে হাজির। তাঁকে দেখলেই বই পড়ার ইচ্ছে জাগে। তিনি বলেন, বই পড়ত না—এমন অনেক লোকই পলান সরকার গ্রামে আসার কারণে এখন বই পড়া ধরেছেন। দীঘা গ্রামের কলেজশিক্ষক মিলন বলেন, বাউসা ইউনিয়নের ১০-১২টি গ্রামে পলান সরকার বই পড়ার আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। তাঁর পাঠকসংখ্যা কয়েক হাজারের বেশি হবে। দীঘা গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি রহিমুদ্দিন, কাশেম ডিলার, আনছার আলী, ফতেপুরের ওহাব ডাক্তার থেকে শুরুকরেস্কুলের ছাত্রছাত্রী সবাই তাঁর পাঠক।

বাউসা হারুন অর রশিদ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন, পলান সরকার একজন সত্যিকারের বইপাগল মানুষ। ক্লাসের বইয়ের বাইরে পড়াশোনার একটা আলাদা জগত্ আছে। পলান সরকার তা স্কুলের ছেলেমেয়েদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা ধরে-বেঁধে ওনাকে এখনো স্কুলের সভাপতি করে রেখেছেন।

পলান সরকারের পরিবার

নিজের লেখাপড়া হয়নি, কিন্তু পলান সরকার তাঁর ছেলেদের সবাইকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন। তাঁর চার ছেলে শিক্ষকতা করছেন। কেউ কলেজে আর কেউ স্কুলে। আরেক ছেলে লেখাপড়া শেষ করে বাড়িতে থাকেন। বাবার চালকলের ব্যবসা দেখেন। আর সবার ছোটজন একটেল কোম্পানির প্রকৌশলী। তাঁর তিন মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। পলান সরকার নিজে প্রায় ৪০ বিঘা জমির মালিক। সব মিলিয়ে বইয়ের সংখ্যা কত দাঁড়িয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খাতা-কলমে বই হিসাব করা নেই। হাজারখানেক বা তার বেশি হবে। এত মানুষকে বই পড়াতে পেরে পলান সরকার নিজে ভীষণ গর্ববোধ করেন। তবে তাঁর দুঃখ কিছু ছেলে-পাঠকের জন্য। তিনি জানান, ‘ওইসব ছেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই পড়া শেষ করে না। বইয়ের ভেতরের পাতা কেটে নেয়। আঁকাআঁকি করে। নিজে পড়ে জমা না দিয়ে অন্যকে দিয়ে দেয়। খুব কষ্ট লাগে। মেয়েরা সেদিক দিয়ে অনেক ভালো। যত্ন করে বই পড়ে। সময়মতো ফেরত দেয়। ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। সংসারের দায়িত্ব এখন আর তাঁর নেই। এখন শুধুই অবসর। এখনো কোনোভাবে হাতে টাকা এলেই বই কেনেন পলান সরকার। যত দিন বাঁচেন এই বই বিলি করার কাজটা তিনি চালিয়ে যেতে চান। গ্রামের মানুষকে দিতে চান আনন্দময় এক জগতের খোঁজ। যে জগতের খোঁজ তিনি বহু আগে পেয়েছিলেন বইয়ের ছাপানো অক্ষরে। সেই আনন্দের ভাগ মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিতেই তিনি হাঁটেন মাইলের পর মাইল।

আরও পড়ুন :

 

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0