>

রাউফুন বসুনিয়ার মৃত্যু হলে একদিকে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন বেগবান হয়, অন্যদিকে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সামরিক শাসনের সমর্থক ছাত্রসংগঠন নতুন বাংলা ছাত্রসমাজের অনুপ্রবেশের পথ বন্ধ করে দেয়

default-image

পিঠের ওপর মা-বাবার স্বপ্নতাড়িত ছলো ছলো চোখসমেত এক ছাত্র ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছিল কার্তিকের মঙ্গায় হাহাকার তোলা উত্তরের এক অজপাড়াগাঁ ছেড়ে। বাড়ির কাছের তিস্তা-ধরলা শুকিয়ে যাচ্ছে তখন, নগরের দিকে হাঁটতে হাঁটতে তার প্রাত্যহিক কথাবার্তা থেকেও উধাও হতে শুরু করেছে ‘ন যাঁও’ ‘ন খাও’। তখনো শৈশবে যাঁকে মুক্তিযুদ্ধের নেতা বলে জেনেছে কৈশোরে তাঁর সপরিবারে আকাশের তারা হয়ে যাওয়ার বেদনাকে প্রতিদিন অনুভব করে সে, দিনদুপুরের ভীষণ রোদ-বৃষ্টি ও জনতার ভিড়ে দাঁড়িয়েও। আর তাই জলপাইরঙা পোশাকের মার্চপাস্টকে চ্যালেঞ্জ করতে করতে সে সামনে এগোতে থাকে। আচানক একদিন জন্ম দেয় এমন এক স্লোগানের, যা এখন অনেকেরই জানা; যদিও সেই অনেকে আবার কেবলই ভুলতে থাকে সে স্লোগানের জন্মকথা। আমরা ভুলে গেছি ‘সময়ের সাহসী সন্তানেরা বারবার আসে, বারবার যুদ্ধে যায়’ স্লোগানটির জন্ম উত্তরের অজপাড়াগাঁ থেকে আসা রাউফুন বসুনিয়ার রক্তপ্রবাহ থেকে।

রাউফুন বসুনিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার পাইকপাড়া গ্রাম থেকে। তাঁর মা ফিরোজা বেগম। বাবা ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল ইসলাম। বসুনিয়া মাধ্যমিক পর্বের লেখাপড়া করেছেন পাঙ্গারানি লক্ষ্মীপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে, উচ্চমাধ্যমিক পর্বের লেখাপড়া করেছেন রংপুর কারমাইকেল মহাবিদ্যালয়ে। এরপর তিনি ঢাকায় এসে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। ১৯৮৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি শহীদ হওয়ার সময় স্নাতকোত্তর পরীক্ষার্থী ছিলেন তিনি। কিন্তু জীবনের এই সাধারণ তথ্যপত্র থেকে নয়, রাউফুন বসুনিয়ার অসাধারণত্ব ফুটে ওঠে তার সমকালীন প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে। বসুনিয়ার সময় ছিল রাষ্ট্র-সমাজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঢেলে সাজানোর জন্য অকাতরে রক্তদানের সময়, সামরিক শাসন ও অগণতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সময়। আইয়ুব-ইয়াহিয়ার সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধও যেমন অনিবার্য হয়ে ওঠে, জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনও তেমনি গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে এসে নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন সৃষ্টি করে। ১৯৮২ সালের শিক্ষা দিবসে ডাকসু ও ১৪টি ছাত্রসংগঠনের ঐক্যে গড়ে ওঠা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা এ সময় ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন গড়ে তোলে, যেগুলো ছিল মূলত মুক্তিযুদ্ধের অপূরিত স্বপ্নসাধ (আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের কথা ঘোষণা করা হয় ১৯৮২ সালের ২১ নভেম্বর)। পাকিস্তান-পর্বের আইয়ুব-ইয়াহিয়ার সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন ছিল—এমনকি আওয়ামী লীগও আরও অনেক কিছুর সঙ্গে সমাজতন্ত্রের কথা বলত। আরও অনেকের মতো রাউফুন বসুনিয়ারও স্বপ্ন ছিল সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার। ১৯৮০-এর দশকে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ দলের নীতিমালা ও লক্ষ্যসমূহের তালিকা থেকে সমাজতন্ত্রকে বিদায় জানায়।

বাকশালি/সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ লালনপালন করা হবে কি না, এ বিতর্কে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ছাত্রলীগ ১৯৮২ সালেই বিভক্ত হয়। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিতর্কে রাউফুন বসুনিয়া বাকশালী মতাদর্শের পক্ষে দাঁড়ান এবং ফজলুর রহমান ও বাহালুল মাজনুন চুন্নুর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হন। পরের বছর ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে এসে আবদুর রাজ্জাক ও অন্য নেতারা বাকশাল গঠন করেন। ছাত্রলীগ (ফজলুর-চুন্নু) এ সময় জাতীয় ছাত্রলীগ নাম নিয়ে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করে। এর গঠন ও বিকাশে যাঁরা বিশেষ ভূমিকা রাখেন, বসুনিয়া ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

ওই সময় সামরিক বাহিনীতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে কর্মরত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারকে পদত্যাগে বাধ্য করে সামরিক শাসন জারি করে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হলেন। এই শাসন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর অংশীদারি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদ ও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী কাঠামোগত সমন্বয় সাধন করতে বেসরকারীকরণের প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেয়। শিক্ষাব্যবস্থাকেও এ লক্ষ্য পূরণের জন্য ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করা হয়। প্রণীত হয় ড. মজিদ খানের শিক্ষানীতি, যার বিরুদ্ধে দ্রুতই রাজপথে নেমে আসে ছাত্রসমাজ। এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের মূল কেন্দ্রে ছিল বিভিন্ন বামমনা ছাত্রসংগঠন। ওই সময় একমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্বাচিত ছাত্রসংসদগুলোও ছিল মূলত বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণে। এককথায় বলতে গেলে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ও বিকাশও ঘটে এদের নেতৃত্বে। আন্দোলনের মূল শক্তিও ছিল তারা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সারা দেশে কমবেশি সাংগঠনিকভাবে বিস্তৃত ছিল বটে; রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একসময় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তাদের উত্থান ঘটলেও এরশাদবিরোধী আন্দোলন তাদের আদর্শিক ও সাংগঠনিকভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। সমমনা ছাত্রসংগঠনগুলোকে নিয়ে সংগ্রামী ছাত্রজোট গঠন করলেও আন্দোলনের বিভিন্ন পর্বে তারা এককভাবে পেশিশক্তিরই প্রকাশ ঘটায়। ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটার পরপরই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দল ও বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দল গড়ে ওঠে—কিন্তু আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যায় মূলত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনে যেমন ছাত্রদের ১১ দফা উত্থানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, তেমনি ১৯৮০-এর দশকের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের মূল স্রোতও আবর্তিত হয় সংগ্রাম পরিষদের ১০ দফাকে ঘিরে। আবার আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে দমিয়ে দিতে যেমন ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ফ্রন্ট’ (এনএসএফ) গড়ে উঠেছিল, জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনকে কুসুমাস্তীর্ণ করতে যেমন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল গড়ে উঠেছিল, তেমনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও চেষ্টা করেন ১৯৮৩ সালের ২৭ মার্চ নতুন বাংলা ছাত্রসমাজ গঠন করে শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানবাদী ও সুবিধাবাদী রাজনীতিমুখী করতে।

এর আগে ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ড. মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে শিক্ষা ভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেয়। এদিন মিছিলের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে জাফর-জয়নাল ও দীপালি সাহা ছাড়া আরও কতজন নিহত হয়েছেন, তা আজও অস্পষ্ট। ১৯৮৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মিছিলের ওপর ট্রাক তুলে দিয়ে হত্যা করা হয় ছাত্রনেতা সেলিম ও দেলোয়ারকে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাউফুন বসুনিয়ার মৃত্যু হলে একদিকে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন বেগবান হয়, অন্যদিকে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সামরিক শাসনের সমর্থক ছাত্রসংগঠন নতুন বাংলা ছাত্রসমাজের অনুপ্রবেশের পথ বন্ধ করে দেয়। নতুন বাংলা ছাত্রসমাজ কোণঠাসা হয়ে পড়ায় এরশাদ সংগঠনটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। তিনি তাঁর দলের কোনো ছাত্রসংগঠন থাকবে না ঘোষণা দিয়ে সস্তা রাজনৈতিক হাততালি অর্জনেরও চেষ্টা করেন। তবে অচিরেই বছর খানেকের মধ্যেই জাতীয় পার্টি গড়ে উঠলে নতুন করে জাতীয় ছাত্রসমাজের আবির্ভাব ঘটে। পরে ১৯৮৭ সালের ১৯ আগস্ট এ সংগঠনকে এরশাদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।

default-image

১৯৮৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির রাত ছিল অন্য সব রাতের মতোই সাদামাটা, সাধারণ। পরদিন ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র গণ-আন্দোলন দিবস উপলক্ষে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কর্মসূচি। এ দিবসের কর্মসূচির প্রচারাভিযান উপলক্ষে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে সংগ্রাম পরিষদের একটি মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল, মুহসীন হল হয়ে জহুরুল হক ও এফ রহমান হলের মাঝখানের সড়কে ওঠে। মিছিলটি এফ রহমান হলে অবস্থানরত নতুন বাংলা ছাত্রসমাজ ও মুহসীন হলে অবস্থানরত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যায়। এ সময় নতুন বাংলা ছাত্রসমাজের ক্যাডারদের কাঁটা রাইফেলের গুলি লেগে লুটিয়ে পড়েন জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাউফুন বসুনিয়া। সানাউল হক নীরুর নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ক্যাডাররা গুলিবিদ্ধ বসুনিয়াকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। বসুনিয়াকে তারা মুহসীন হলের ক্যানটিনে রেখে যায়। ওই সময়ের ছাত্রনেতা মাসুদ রানার মতে, তখনো তাঁর হৃৎপিণ্ড সচল ছিল। বসুনিয়াকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যান সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতা মোস্তফা ফারুক ও ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও বসুনিয়ার বন্ধু মাসুদ রানা। সেখানে ডাক্তাররা জানান, তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বসুনিয়া হত্যার প্রতিবাদে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করে। ক্যাম্পাস ছেয়ে যায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নতুন স্লোগানে, ‘সময়ের সাহসী সন্তানেরা বারবার আসে, বারবার যুদ্ধে যায়’। ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণাধীন সংগ্রামী ছাত্রজোটও যুগপৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগরে অর্ধদিবস হরতাল ঘোষণা করে।

রাউফুন বসুনিয়া হত্যার বিচারও হয়নি আজ অবধি। যদিও বিচার করা আজও সম্ভব। নতুন বাংলা ছাত্রসমাজের ক্যাডাররা এ হত্যাকাণ্ডের মামলায় ফেঁসে যাবেন, এটি বুঝতে পেরেই ১৯৮৬ সালের নভেম্বরে রাউফুন বসুনিয়া হত্যা মামলা সরকারিভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ৩০ নভেম্বর জাতীয় ছাত্রলীগের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে। তত দিনে ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ দুভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। কিন্তু সব সংগঠনই এ ধর্মঘটকে সমর্থন ও মিছিল করে।

রাউফুন বসুনিয়াকে কবর দেওয়া হয় তাঁর জন্মস্থান পাইকপাড়াতেই, পারিবারিক কবরস্থানে। ইতিহাসের কাছে এ তথ্যের হয়তো কোনো তাৎপর্যই নেই, তাঁর মা এ ঘটনার পর প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন, প্রতিদিনই বসুনিয়ার কবরের পাশে এসে দাঁড়াতেন, কাঁদতেন মনে মনে, কখনো বা প্রকাশ্যেই। দুই দশকেরও বেশি সময় এভাবে পাড়ি দেওয়ার পর ২০০৮ সালের জুলাইয়ে মারা যান বসুনিয়ার বাবা, এর কয়েক মাস বাদেই মারা যান মা।

মানুষের এই ক্ষুদ্র দুঃখকষ্ট মহাকালের নিচে চাপা পড়ে যেতে পারে, কিন্তু ইতিহাস আজ না হোক ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই এই বিষয়টি বিবেচনা করবে, রাউফুন বসুনিয়ার মতো তরুণেরা যে সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে জীবন দিয়েছিলেন, সেই সামরিক স্বৈরাচারের প্রতিভূ এরশাদ ও তার দল গণতন্ত্রের ধ্বজাধারীদের কাছেও কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কী করে তারা সবাই একই মঞ্চের ও মিছিলের যাত্রী হয় এবং কোন দুর্বলতা ঢাকতে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনকারী দলগুলোকেও এরশাদের জিন্দা লাশ এখনো টানতে হচ্ছে। শুধু মৃত্যুই তো নয়, যেসব দাবিদাওয়ার জন্য দীর্ঘ এক দশক বসুনিয়ার মতো সংগঠকেরা আন্দোলন করেছেন, সেসব দাবিদাওয়াও কেন, কোন আস্তাকুঁড়েতে নিক্ষেপ করা হয়েছে, তা পর্যালোচনার নিরিখেই লেখা হবে নতুন ইতিহাস। কেননা যেমন রবীন্দ্রনাথে, তেমন ইতিহাসেও রয়েছে একই প্রত্যয়, ‘হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান/অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।’

ইমতিয়ার শামীম: কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0