মনে রেখো, উত্তর করতে হবে ১৫টি প্রশ্নের

প্রিয় পরীক্ষার্থী, বাংলা বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৫০ নম্বর থাকবে যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন। এই প্রশ্নগুলোর মধ্যে পাঠ্যবইয়ের বাইরের কোনো অনুচ্ছেদ বা কবিতাংশ থেকে থাকবে ২৫ নম্বর। আর যুক্তবর্ণ, দরখাস্ত বা চিঠি লিখন ও রচনা লিখন প্রশ্নে থাকবে ২৫ নম্বর। অন্য প্রশ্নগুলো থাকবে পাঠ্যবই সম্পৃক্ত গতানুগতিক ধারার। অনুচ্ছেদ বা কবিতাংশ থাকবে তোমার জানাশোনা পরিবেশের বিষয়বস্তুর ওপর। 

পাঠ্যবইয়ের ভেতরের থেকে অনুচ্ছেদ বা কবিতাংশ: প্রশ্নকাঠামো অনুসারে ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্ন থাকবে পাঠ্যবইয়ের ভেতরের অনুচ্ছেদ বা কবিতাংশ থেকে। এ অনুচ্ছেদ বা কবিতাংশের আলোকে বহুনির্বাচনি প্রশ্ন, শব্দার্থ, প্রশ্নের উত্তর ও অনুচ্ছেদ বা কবিতাংশের মূলভাব লিখতে হবে।
পাঠ্যবইবহির্ভূত অনুচ্ছেদ বা কবিতাংশ: পাঠ্যবইবহির্ভূত অনুচ্ছেদটি যদি এমন হয়:
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ক্রমিকের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো:
গাছপালা আমাদের পরম বন্ধু। গাছপালা ছাড়া পৃথিবীতে আমাদের জীবন অচল। বাতাসে শ্বাস নিতে না পারলে আমাদের মৃত্যু অনিবার্য। বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে আমরা বাঁচি। অন্যদিকে, গাছপালা বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং বাতাসে অক্সিজেন ছাড়ে। গাছপালা না থাকলে একসময় বাতাসের অক্সিজেন একেবারেই শেষ হয়ে যেত। আর আমরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তাম। গাছপালা আরও একভাবে আমাদের বাঁচতে সাহায্য করে। সেটা হলো, গাছপালা আমাদের নানা রকম খাদ্যের জোগানদার।
কেবল পরিবেশের সৌন্দর্য নয়, মানুষের অস্তিত্ব রক্ষায় অনুকূল পরিবেশ তৈরিতেও গাছের জুড়ি নেই। যেখানে গাছপালা ও বনভূমি বেশি, সেখানে ভালো বৃষ্টি হয়। এর ফলে ভূমিতে পানির পরিমাণ বাড়ে, চাষাবাদ ও ফসল ভালো হয়। ঝড়, বৃষ্টি ও বন্যা প্রতিরোধেও গাছপালা সহায়তা করে। গাছপালা না থাকলে পরিবেশ হয়ে উঠত উষ্ণ। পৃথিবী হয়ে উঠত মরুভূমি। মানুষের অস্তিত্ব হতো বিপন্ন। আমাদের পরিবেশ রক্ষার জন্য গাছপালার কোনো বিকল্প নেই। তাই আজ স্লোগান উঠেছে—‘গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান’। আমরা গাছ লাগাব এবং পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করব।
৫ নম্বর প্রশ্ন: এ ধরনের একটি অনুচ্ছেদের ৫ নম্বর প্রশ্নটির ‘ক’ নম্বর যদি এমন হয়: ক. অনুচ্ছেদটি মূলত কোন বিষয় নিয়ে লেখা?
১. পরিবেশ ২. গাছপালা ৩. অরণ্য ৪. প্রকৃতি
অনুচ্ছেদটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়লে তুমি খুব সহজেই এই প্রশ্নের উত্তর লিখবে: খ. গাছপালা। কারণ, অনুচ্ছেদটি গাছপালা নিয়ে রচিত। একইভাবে ৫ নম্বর প্রশ্নে দেওয়া ‘সঠিক উত্তরটি উত্তরপত্রে লেখো’র জন্য প্রদত্ত অনুচ্ছেদ মনোযোগসহ পড়লেই সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর তুমি লিখতে পারবে।
৬ নম্বর প্রশ্ন: অনুচ্ছেদভিত্তিক ৬ নম্বর প্রশ্নে থাকবে পাঁচটি শব্দ এবং শব্দগুলোর অর্থ। অনুচ্ছেদ থেকে নেওয়া প্রদত্ত শব্দগুলোর অর্থ অনুধাবন করে তুমি শূন্যস্থান পূরণ করবে। শব্দের অর্থ দিয়ে নয়, মূল শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে। যেমন প্রদত্ত শব্দ যদি হয় ‘বন্ধু’ এবং এর অর্থ দেওয়া থাকল ‘সুহূদ’।
শূন্যস্থান পূরণ করতে বলা হলো:
ক) গাছপালা আমাদের প্রকৃত—।
তুমি উত্তর লিখবে: ক) বন্ধু
৭ নম্বর প্রশ্ন: প্রশ্নের ধারাবাহিকতায় ৭ নম্বর প্রশ্নে থাকবে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ তিনটি কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন। যেমন প্রদত্ত অনুচ্ছেদের আলোকে প্রশ্ন হতে পারে—
ক. গাছপালাকে পরম বন্ধু বলার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করো।
খ. প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গাছপালা কী ভূমিকা পালন করে?
গ. গাছপালা না থাকলে কী হতো? আজকের দিনে পরিবেশ রক্ষার স্লোগান কী?
নির্দেশনা অনুসারে প্রশ্নগুলোর উত্তর যথাযথভাবে লিখতে পারলে ভালো নম্বর পাবে।
৮ নম্বর প্রশ্ন: ৮ নম্বর প্রশ্নটি থাকবে যুক্তবর্ণ-সম্পর্কিত। এখানে পাঁচটি যুক্তবর্ণ দেওয়া থাকবে। তোমাকে বলা হবে: যুক্তবর্ণগুলো কোন কোন বর্ণ দিয়ে তৈরি, তা লেখো। প্রদত্ত যুক্তবর্ণ দিয়ে একটি করে শব্দ লেখো এবং বাক্যে প্রয়োগ দেখাও। অথবা যুক্তবর্ণগুলো বিভাজন করে বাক্যে প্রয়োগ দেখাও।
যেমন: ‘ক্ত’ যুক্তবর্ণটি যদি পাঁচটি যুক্তবর্ণের একটি হয় এবং প্রশ্ন হয়ে থাকে ওপরে বর্ণিত দ্বিতীয়টি, তাহলে উত্তর লিখতে হবে: ক্ত = ক্ + ত = মুক্ত। পাখি মুক্ত আকাশে উড়তে ভালোবাসে। মনে রাখবে এই প্রশ্নটি যোগ্যতাভিত্তিক।
৯ নম্বর প্রশ্ন: বিরাম চিহ্ন: ‘বিরাম চিহ্ন’ অনুশীলনের জন্য বাছাই করে নিতে পারো পাঠ্যবইয়ের গদ্যাংশের এমন সব অনুচ্ছেদ, যেখানে কমপক্ষে পাঁচটি বিরাম চিহ্ন আছে। সেই সঙ্গে কবিতার মূলভাবগুলোও পড়বে।
১০ নম্বর প্রশ্ন: এককথায় প্রকাশ/ ক্রিয়াপদের চলিত রূপ: প্রশ্নানুসারে ক্রিয়াপদের সঠিক চলতি রূপ লিখতে পারলে পুরো নম্বরই পাবে। এই প্রশ্নটির যথার্থ উত্তর দেওয়ার জন্য পাঠ্যবইয়ে ব্যবহূত ক্রিয়াপদগুলো বাছাই করে নিতে পারো। মনে রাখতে হবে, এই প্রশ্নটি ‘এককথায় প্রকাশ করো’-এর বিকল্প প্রশ্ন হিসেবে থাকতে পারে।
১১ নম্বর প্রশ্ন: বিপরীত শব্দ বা সমার্থক শব্দ: পাঠ্যবইয়ের ‘পাঠ শিখি’ অংশে দেওয়া বিপরীত শব্দগুলো ভালোভাবে আয়ত্তে থাকলে এবং কিছু প্রচলিত বিপরীত শব্দ ও সমার্থক শব্দ শেখা থাকলে এই প্রশ্নের উত্তর লেখাও সহজ হবে।
১২ নম্বর প্রশ্ন: কবিতার চরণ সাজিয়ে লেখো: প্রশ্নে দেওয়া পাঠ্যবইয়ের যেকোনো একটি কবিতার ছয়টি লাইন এলোমেলো করে দেওয়া থাকবে। সঠিকভাবে সাজিয়ে বানান এবং যতিচিহ্ন সঠিকভাবে ব্যবহার করে কবিতাংশ লিখতে পারলে ৬ নম্বর পাবে। এই প্রশ্নের সঙ্গেই থাকবে প্রদত্ত কবিতার নাম সঠিকভাবে লেখার জন্য ১ নম্বর, কবির নাম সঠিকভাবে লেখার জন্য ১ নম্বর এবং কবিতাংশভিত্তিক একটি প্রশ্ন সঠিকভাবে লেখার জন্য ২ নম্বর।
১৩ নম্বর প্রশ্ন: ফরম পূরণ: যেকোনো প্রতিযোগিতায় কিংবা বিষয়ে অংশ নেওয়ার জন্য বা ক্লাব, পাঠাগার, সমবায় সমিতি, শিশুসংগঠন ইত্যাদি সদস্যপদ লাভের জন্য তোমার ব্যক্তিগত তথ্যাদির বিবরণমূলক একটি নির্দিষ্ট ফরমের নমুনা প্রশ্ন দেওয়া থাকবে, যা পরীক্ষার খাতায় তুলে পূরণ করতে হবে।
১৪ নম্বর প্রশ্ন: দরখাস্ত বা চিঠি লেখা: এই প্রশ্ন যোগ্যতাভিত্তিক। এখানে যেকোনো বিষয় নিয়ে একটি দরখাস্ত অথবা চিঠি লিখতে বলা থাকবে। সঠিক নিয়মে দরখাস্ত বা চিঠি লিখতে পারলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়।
১৫ নম্বর প্রশ্ন: এবারের রচনা লিখন প্রশ্নটিও যোগ্যতাভিত্তিক। পাঠ্যবই-সম্পৃক্ত বিষয়ের আলোকে অথবা নিকট পরিবেশের যেকোনো একটি বিষয় নিয়ে রচনা লেখার জন্য প্রশ্নে দেওয়া উপশিরোনাম অনুসরণ করবে। ২০০ শব্দের মধ্যে রচনাটি লিখে শেষ করবে। অপ্রাসঙ্গিক কিছু লিখবে না। রচনা লেখায় প্রশ্নে প্রদত্ত উপশিরোনাম ছাড়া তুমি প্রাসঙ্গিক উপশিরোনাম ব্যবহার করতে পারো।

শিক্ষক, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা