
রাইডিং বাংলাদেশ ট্যাগলাইনযুক্ত ‘পাঠাও’ একটি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ। শুরু হয়েছিল ছোট্ট ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে। শুধু পরিচিতজনের প্রয়োজনে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ পণ্যসামগ্রী বা পার্সেল ঠিক সময়ে যথাস্থানে পৌঁছে দেওয়া হতো মোটরবাইকের মাধ্যমে। কখনো কখনো তাঁদেরও নিয়ে যাওয়া হতো কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। প্রথম দিকে পুরো ব্যাপারটি ছিল শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এসব করতে করতেই একদিন ইলিয়াসের মাথায় এল যুগান্তকারী এক ভাবনা—গ্রুপের ডেলিভারি দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা মোটরবাইকগুলো কী করে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়।
বাংলাদেশে প্রথাগত যেকোনো ব্যবসা শুরু করা সহজ। কিন্তু সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ (স্টার্ট–আপ) সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ। আবার তা যদি হয় মোটরবাইকের মতো যানকে পরিবহন সেবা কিংবা রাইড শেয়ারিং অপশন হিসেবে চালু করা। পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন করতে পাঠাওয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হুসাইন এম ইলিয়াসকে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি।
>পাঠাও
* যাত্রা শুরু ৫টি মোটরবাইক ও ৩০ জন মানুষকে নিয়ে।
* এখন কাজ করছেন ৫০০ জন।
* ঢাকায় ৪টি বিশাল অফিস।
* পৃথক ২ অফিস চট্টগ্রাম ও সিলেটে ।
পাঠাওয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র ৫টি মোটরবাইক আর ৩০ জন স্বপ্নবান মানুষকে নিয়ে। সেখানে এখন কাজ করছেন ৫০০ নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। ঢাকায় চারটি বিশাল অফিস ছাড়াও ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেটে দুটি পৃথক অফিস স্থাপন করা হয়েছে।
প্রথম দিকে ইলিয়াসকে পুরো সার্ভিসের দেখভাল ম্যানুয়ালিই করতে হতো। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে চালু হলো পাঠাওয়ের অফিশিয়াল অ্যাপ। অ্যাপটি চালু করা ছিল বিরাট চ্যালেঞ্জ। ছিল না ইঞ্জিনিয়ার, ছিল না ডেভেলপার। ইলিয়াস, আদনান আর ফাহাদ—এই তিন তরুণের স্বপ্ন ও প্রচেষ্টার কাছে দূর হয়ে গেল সব প্রতিবন্ধকতা। অ্যাপটা চালু হওয়ার পরপরই আমূল পরিবর্তন এল সবকিছুতে। অ্যাপের আওতায় পুরো সার্ভিসটিকে আনা সম্ভব হলো ।
তারপর শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা। ২০১৭ সালের অক্টোবরে পাঠাওয়ের কার্যক্রম চট্টগ্রামেও শুরু হলো । আর ঢাকায় চালু করা হলো পাঠাওয়ের কার সার্ভিস। অসংখ্য মানুষ উপকৃত হতে লাগল। এ বছরের জানুয়ারিতে চালু হয়েছে পাঠাওয়ের নতুন সেবা ‘পাঠাও ফুড’।
এখন পাঠাওয়ের জনপ্রিয়তা বিপুল। যানজটে বিপর্যস্ত নগরীতে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো যখন যুদ্ধের মতো, তখন পাঠাওয়ের সেবায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন অসংখ্য নাগরিক। রাইড শেয়ারিং অ্যাপ, যেখানে প্রধান রাইড মূলত মোটরবাইক এবং অ্যাপটা তৈরি করেছেন বাংলাদেশেরই কেউ। কিছুদিন আগ পর্যন্ত বিষয়টাকে অনেকেই নেহাত আকাশকুসুম কল্পনা ভেবে উড়িয়ে দিত। কিন্তু ওই কল্পনাটিকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন আমাদের দেশেরই এক অদম্য স্বপ্নবান তরুণ: হুসাইন এম ইলিয়াস। ব্যতিক্রমী ভাবনা ও তার পেছনে নিরলস পরিশ্রমের ফলে যে পরিবর্তন আসতে পারে, তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ‘পাঠাও’। ইলিয়াসদের মতো সৃজনশীল ভাবুক ও স্বপ্নবান তরুণ–তরুণীদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
আয়মান সাদিক: টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা