ডারবানে বড় ব্যবধানে হারের দুঃস্মৃতি নিয়েই পোর্ট এলিজাবেথে গেছে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টের ইতিবাচক দিকগুলো নেওয়ার সঙ্গে ডমিঙ্গো বলছেন, ব্যাটসম্যানদের আরও সক্রিয় হতে হবে। একটা ম্যাচ বাজে করলেই কোনো ব্যাটসম্যান স্পিনের বিপক্ষে খারাপ হয়ে যান না, এমনও বলেছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ।

default-image

ডারবানে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ১০টিসহ দক্ষিণ আফ্রিকার দুই স্পিনার মিলে ম্যাচে নিয়েছেন ১৪ উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকার শীর্ষ সারির পেসারদের অনুপস্থিতিকে বাংলাদেশের বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হলেও স্পিনারদের তোপেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

তবে স্পিনের বিপক্ষে নিজের ব্যাটসম্যানদের কৌশলের পক্ষেই কথা বললেন ডমিঙ্গো, ‘একটা ম্যাচ বাজে করলেই সে ব্যাটসম্যান স্পিনের বিপক্ষে খারাপ হয়ে যায় না। প্রথম ইনিংসের ইতিবাচক দিকগুলোই নিতে হবে, দ্বিতীয় ইনিংসের কিছু ভুলও সংশোধন করতে হবে। আমরা ব্যাটিংয়ে আরেকটু ইতিবাচক ও সক্রিয় হতে চাই। ব্যক্তিগত দিক দিয়ে কৌশলের ব্যাপারে পরিষ্কার হতে হবে আরও। যাতে ছেলেরা বুঝতে পারে, তাদের কী কাজ এবং তারা কীভাবে রান করতে পারে।’

ডারবানের হতাশা ভুলে পোর্ট এলিজাবেথের দিকেই নজর দিতে চান বাংলাদেশ কোচ, ‘ডারবানে আসলে কাজটা কঠিন ছিল, আপনি জানতেন না কতক্ষণ ব্যাটিং করবেন—৫ ওভার, ২৫ ওভার, ১ ঘণ্টা, ১০ মিনিট। ব্যাটিংয়ের জন্য কোনো ইনিংসেই পরিস্থিতি সহজ ছিল না। তবে তার চেয়ে ভালো করতে হবে, কোনো সন্দেহ নেই। আগের ম্যাচের হতাশাজনক পারফরম্যান্স কাটিয়ে উঠতে চাইব। কারণ, দুই দিনের মধ্যে আরেকটি টেস্ট শুরু। হতাশা কাটিয়ে এখন নজর দিতে হবে এখানে কী করতে পারি। কোন কোন দিকে ভালো করতে পারি, সেদিকে নজর দিতে হবে।’

default-image

ডারবানের মতো পোর্ট এলিজাবেথেও স্পিনের ভূমিকা থাকবে, এমনটাই জানিয়েছেন ডমিঙ্গো, ‘ডারবানের চেয়ে কন্ডিশন এখানে একটু আলাদা। বাতাস আর আবহাওয়ার একটা ভূমিকা আছে। উইকেটে ঘাস থাকতে পারে মাঝেমধ্যে, ম্যাচ যত গড়াবে ততই স্পিনের ভূমিকাও বাড়বে। বাতাস, উইকেটের ধরন—সব মিলিয়ে ঐতিহাসিকভাবেই সেন্ট জর্জেস পার্কে স্পিনের ভূমিকা থাকে। পোর্ট এলিজাবেথে আবহাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ, মেঘাচ্ছন্ন কন্ডিশন, সঙ্গে বাতাসের দিক—শুক্রবার এসব বিবেচনায় এনেই ম্যাচ শুরু করতে হবে আমাদের।’

এ ম্যাচে বাংলাদেশ চোটের কারণে পাচ্ছে না দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলামকে। তবে তাদের অনুপস্থিতিতে নতুনদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগও দেখছেন ডমিঙ্গো। অবশ্য এ টেস্ট দিয়ে ফেরার কথা অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের, পেটের পীড়ার কারণে ডারবানে খেলেননি তিনি।

আলোচনা আছে মুমিনুল হকের অধিনায়কত্ব নিয়েও। ডারবানে টসে জিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে গেল কি না, কথা উঠেছে সেটি নিয়েও। অবশ্য ডমিঙ্গো বলছেন, তাদের কাজগুলো এমনই, ‘পরে গিয়ে আসলে অনেক কিছুই বলা যায়। অধিনায়ক ও ম্যানেজমেন্টকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কখনো কাজে দেয়, কখনো দেয় না। আমার অধিনায়কের প্রতি শতভাগ সমর্থন আছে। সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করছে সে, মাঝেমধ্যে বেশ কঠিন পরিস্থিতিতেও। আমরা আসলে চার দিন খুব ভালো খেলেছি। চতুর্থ দিন হয়তো কয়েক ওভারে বড় ধাক্কা লেগেছে, পঞ্চম দিন ব্যর্থ হয়েছি। তবে ব্যাটিং বা বোলিংয়ে ইতিবাচক অনেক দিক আছে আগের টেস্টের তুলনায়। পরের ম্যাচে সেগুলোই টেনে নিতে হবে।’

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন