বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় মুখোমুখি দুই দল। মুম্বাই পেসার জয়দেব উনাদকাট আর রাখঢাক রাখেননি, এই ম্যাচকে কী চোখে দেখেন, সেটা বলে দিয়েছেন, ‘সবাই জানে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ও চেন্নাই সুপার কিংস সবচেয়ে সফল দল। বলতে গেলে, এটা আইপিএলের এল ক্লাসিকো। দুই দলই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই এটি একটি ভালো প্রতিযোগিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে।’ ‘কঠিন সময়’ বললেও যেন কম বলা হয়। এ মৌসুমে দুই দল যেন বড় অচেনা। ছয় ম্যাচে একটি ম্যাচেই শুধু জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই। আর টুর্নামেন্টে ছয় ম্যাচ খেলেও এখনো জয়ের দেখা পায়নি মুম্বাই।

default-image

খেলায় সাফল্য-ব্যর্থতা থাকতেই পারে। ব্যর্থতার মাঝেই তো সফলতার স্বপ্ন আঁকা থাকে। কিন্তু একই মৌসুমে সফলতম দুই দলের ব্যর্থতা এর আগে খুব বেশি দেখা যায়নি। লা লিগায় ২০১৮–১৯ মৌসুমে যেমন দেখা গিয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় তারকা রোনালদো পাড়ি জমান জুভেন্টাসে। মৌসুমটা ভুলে যেতে চাইবে রিয়াল সমর্থকেরা। লিগে এমন ব্যর্থতা কেটেছে যে, একসময় সেরা চারে থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা নিয়েই শঙ্কা জেগেছিল। পরে অবশ্য শিরোপাজয়ী বার্সেলোনার থেকে ১৯ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে মৌসুম শেষ করে রিয়াল।

আবার এ মৌসুমে বেতনকাঠামো জটিলতায় দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছেদ করতে বাধ্য হয় বার্সেলোনা। আর এর পর থেকে টানা ব্যর্থতা স্পেনের ক্লাবটির। লিগের সর্বশেষ ম্যাচে অবনমনের শঙ্কায় থাকা কাদিজের বিপক্ষেও হারে তারা। আর তাদের থেকে দুই ম্যাচ বেশি খেলে ১৮ পয়েন্টে এগিয়ে শীর্ষে আছে রিয়াল। এ মৌসুমে পাঁচটি শিরোপাদৌড়েই ব্যর্থ বার্সেলোনা।

default-image

ব্যর্থতা মুম্বাই-চেন্নাই দুই দলই দেখেছে। সফলতার মতো ব্যর্থতার দিকটায়ও এগিয়ে মুম্বাই। এ পর্যন্ত পাঁচবার কোয়ালিফায়ারে উঠতে পারেনি তারা। ২০০৯ সালে একবার সপ্তম হয়েছিল। গত মৌসুমে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চেন্নাই যেখানে শিরোপা জিতেছে, সেখানে সেরা চারে ছিল না মুম্বাই। ওদিকে ২০২০ মৌসুমে সবার আগে বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল চেন্নাইয়ের। সেবার শিরোপাটাও যায় মুম্বাইয়ের ঘরে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের এক দলের বেদনায় উৎসবে মেতে উঠে অন্য দল।

কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপটটা যেন ভিন্ন। দুই দলেরই সর্বনাশ। আসরের সফল দুই দলের পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান পাশাপাশি কিন্তু সেটা নিচ থেকে।

মুম্বাই ভবিষ্যতের জন্য দল গোছাতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে দলে নেয় তরুণদের। আর সেখানে বাধে বিপত্তি। কুইন্টন ডি কক, ট্রেন্ট বোল্ট, হার্দিক পান্ডিয়া ও ক্রুনাল পান্ডিয়াদের মতো ক্রিকেটাররা অন্য দলে চলে গেছেন এ সুযোগে। এবারের আইপিএলে নিজ নিজ দলের হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন সবাই। ওদিকে এখনো নতুন মুখদের নিয়ে গুছিয়ে উঠতে পারেনি মুম্বাই।

অপর দিকে চেন্নাই তাঁদের বিদেশি কয়েকটা বড় নাম বাদ দিয়ে আস্থা রাখে দেশীয়দের ওপর। ফাফ ডু প্লেসি ও জশ হ্যাজলউডকে ধরে রাখেনি তারা। দুজনই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ম্যাচ জেতাচ্ছেন। পাশাপাশি টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক দিন আগে হঠাৎ করেই অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেয় মহেন্দ্র সিং ধোনি। অধিনায়কত্বের বাড়তি চাপ সামলাতে রীতিমতো ব্যর্থ রবীন্দ্র জাদেজা। এখন প্লে-অফে কোয়ালিফাই নিয়ে দুই দলই এখন পড়েছে কঠিন সমীকরণে।

default-image

টানা ছয় ম্যাচে ব্যর্থ মুম্বাইয়ের প্রধান সমস্যা দলের বোলারদের ব্যর্থতা। বুমরাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারছেন না বাকি বোলাররা। উনাদকাট নিজেও মানছেন সেটা, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকতে হবে, আমরা চেষ্টা করছি। কীভাবে বোলিং ইউনিট এক হয়ে পারফর্ম করতে পারে আমরা সেটা নিয়ে কাজ করছি।’ ব্যাটিংটাও জুতসই হচ্ছে না রোহিতের দলের। অধিনায়ক নিজেও ফর্মে নেই। প্রথম দুটি ম্যাচের পর আর রান নেই ঈশান কিষানের ব্যাটে। ‘বেবি এবি’ নামে খ্যাত ভেভাল্ড ব্রেভিস ভালো খেললেও ম্যাচ জয়ে তা কাজে আসছে না।

৩০ বছর বয়সী মুম্বাই পেসার মনে করছেন একটি জয়েই ফিরে আসবে আত্মবিশ্বাস, ‘মুম্বাই এত দিনে অনেক কিছু ঘটতে দেখেছে। ব্যর্থতাও দেখেছে আবার ট্রফিও জিতেছে। এর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।’

এদিকে টানা চার ম্যাচ হারার পরে বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় চেন্নাই। কিন্তু সর্বশেষ ম্যাচে শীর্ষে থাকা গুজরাট লায়নসের কাছে হেরে আবারও বিপর্যয়ে পড়ে তারা। যেখানে শেষ ৩ বলে ১৩ রান নিয়ে একাই চেন্নাইকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকান হার্ডহিটার ডেভিড মিলার। তবে আত্মবিশ্বাস পেতে পারে চেন্নাই। খারাপ সময় কাটিয়ে ৪৮ বলে ৭৩ রান করে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। এ ছাড়া বোলিংয়ে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন মহিশ তিকশানা, মুকেশ চৌধুরীরা। তাই আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে থাকবে চেন্নাই।

মুখোমুখি দুই দলের লড়াইয়ে জয়ের পাল্লাটা মুম্বাইয়ের দিকে। ৩২ ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে ১৯টি জয় মুম্বাইয়ের। ১৩টিতে জিতেছে চেন্নাই। পরিসংখ্যান তো অতীতের কথা বলে, ভবিষ্যতের ইঙ্গিত তো আর তাতে থাকে না। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে আজ কে টিকে থাকবে, সেটা জানার অপেক্ষা আর কিছুক্ষণের।

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন