ক্রীড়াবিদেরা জানেন–ই না যে দেশে ‘ক্রীড়া দিবস’ বলে একটা ব্যাপার আছে
ক্রীড়াবিদেরা জানেন–ই না যে দেশে ‘ক্রীড়া দিবস’ বলে একটা ব্যাপার আছেছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশে একটি জাতীয় ক্রীড়া দিবস আছে, আপনি কি জানেন?

গতকাল প্রশ্নটি করা হয়েছিল দেশের দুজন নামী ক্রীড়াবিদকে। দুজনই অভিন্ন সুরে বললেন, ‘তাই নাকি! কই, জানি না তো!’ তাঁদের একজন উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ। অন্যজন আন্তর্জাতিক গলফে বাংলাদেশের মুখ হয়ে ওঠা সিদ্দিকুর রহমান।

জরিপ করলে শতকরা ৯৫ ভাগেরও বেশি খেলোয়াড় হয়তো প্রশ্নটার এই উত্তরই দেবেন। এসএ গেমসে জোড়া সোনাজয়ী মাহফুজা খাতুন যেমন বলেছেন, ‘আমি আসলে জানি না, কবে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রীড়া দিবস। জানব কীভাবে, প্রচারণাই তো নেই!’ কথাটা বলে যেন তিনি নিজেও বিব্রত, ‘দেশে একটা ক্রীড়া দিবস আছে, অথচ ক্রীড়াবিদেরা জানবেন না, এটা কেমন দেখায়!’

আজ ৬ এপ্রিলই সেই জাতীয় ক্রীড়া দিবস। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) প্রস্তাবে ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট জাতিসংঘ প্রতিবছর ৬ এপ্রিলকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। জাতিসংঘ স্বীকৃত অন্যান্য দিবসের মতো ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালিত হয়ে আসছে, যার মূল প্রতিপাদ্য—উন্নয়ন ও শান্তির জন্য ক্রীড়া। ১৮৯৬ সালে এথেন্সে প্রথম আধুনিক অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধন হয়েছিল ৬ এপ্রিল। সে জন্যই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস হিসেবে দিনটিকে বেছে নেওয়া।

default-image
বিজ্ঞাপন

আইওসি ও জাতিসংঘ মনে করে, শুভেচ্ছা-সম্প্রীতি, স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা এবং সহযোগিতার মানসিকতা তৈরির ইতিবাচক উপায় হচ্ছে খেলাধুলা। সমাজ পরিবর্তনে খেলাকে অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে আইওসি ও জাতিসংঘের। এ নিয়ে যৌথ কর্মসূচিও আছে সংস্থা দুটির। দুটি সংস্থাই সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অলিম্পিক গেমসের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে।

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবসের পাশাপাশি আজকের দিনটিকে জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসেবেও পালন করছে। তবে সেটি নামমাত্রই। ‘ক্রীড়ায় বিশ্ব সম্প্রীতি, বাংলাদেশের অগ্রগতি’ স্লোগানে সর্বশেষ ২০১৯ সালে দিনটি উদ্‌যাপন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের অংশগ্রহণে একটি শোভাযাত্রাও বের করা হয়েছিল সেদিন। জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোকেও দেওয়া হয়েছিল দিনটি পালনের নির্দেশনা।

default-image

করোনার কারণে গত বছর দিবসটি পালিত হয়নি বাংলাদেশে। আজও কোনো কর্মসূচি নেই। ক্রীড়া পরিষদের সচিব মাসুদ করিম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া দিবস পালন করতে ৬ এপ্রিল (আজ) একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল এনএসসি। কিন্তু লকডাউনের কারণে সেটি বাতিল করতে হলো। সরকারি কোনো কর্মসূচি নেই এবারও।’ অথচ বাংলাদেশ গেমস চলমান থাকায় এবারই ক্রীড়াবিদদের কাছে ক্রীড়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরার সুযোগ বেশি ছিল। উল্লেখ্য, পাশের দেশ ভারতে প্রতিবছর ২৯ আগস্ট জাতীয় ক্রীড়া দিবস পালিত হয়। দেশটির কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় মেজর ধ্যান চাঁদের জন্মদিনে রাষ্ট্রপতি ‘অর্জুন ও খেলরত্ন’ পুরস্কার তুলে দেন ক্রীড়াজগতের কৃতী লোকজনের হাতে।

বাংলাদেশেও ক্রীড়া দিবসে তেমন কিছু করা উচিত বলে মনে করেন অনেকে। তার আগে অন্তত ক্রীড়াঙ্গনের মানুষদের তো জানতে হবে ক্রীড়া দিবস কবে এবং এর মাহাত্ম্য কী! সেটিই যেহেতু বেশির ভাগ মানুষের অজানা, ৬ এপ্রিলের প্রচারটাই সবার আগে করা উচিত বলে মনে করেন ভারোত্তোলনের সংগঠক মহিউদ্দিন আহমেদ, ‘জাতীয় ক্রীড়া দিবসের প্রচার সরকারকেই করতে হবে। প্রচার না করলে মানুষ জানবে কীভাবে? সবার মাথায় এটা ঢুকিয়ে দিতে হবে, যাতে লোকজন খেলাধুলায় উৎসাহী হয়।’

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন