ফর্মুলা রেসিংয়ের নেশায় মাহফুজুর

ফর্মুলা ফোরে আগেই অভিষেক হয়েছে মাহফুজুর রহমানের। এবার তাঁর আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা ষ সৌজন্য ছবি
ফর্মুলা ফোরে আগেই অভিষেক হয়েছে মাহফুজুর রহমানের। এবার তাঁর আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা ষ সৌজন্য ছবি

বিওএ মিলনায়তনে প্রজেক্টরের পর্দায় দেখানো হলো গতির খেলা ফর্মুলা রেসিংয়ের খণ্ডদৃশ্য। লাল-সবুজ পতাকা আঁকা গাড়িটি ততক্ষণে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। গত জুলাইয়ে তামিলনাড়ুর কোয়েমব্যাটরে যখন একের পর এক রেসিং কার টপকাচ্ছে সাদা গাড়িটি, ধারাভাষ্যকার বলে চলেছেন, ‘ওয়েলডান বাংলাদেশি ম্যান। প্রথমবারের মতো রেসিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে যথেষ্ট ভালো করেছ।’ দৃশ্যটি ছিল সিক্সটিন জেকে টায়ার রেসিং চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম রাউন্ডের। যেখানে প্রথমবার অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ মাহফুজুর রহমান (তুষার)।
শুধু কোয়েমব্যাটরে নয়, রেসিং কার চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ধাপ অর্থাৎ ফর্মুলা ফোরে অংশ নেওয়া প্রথম বাংলাদেশিও বংশালের ২৫ বছর বয়সী যুবক। বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। এ জন্য মাহফুজুরকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু মন টেকেনি। পরে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন ঢাকা পলিটেকনিকে। পড়াশোনার জন্য বেছে নেন অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। ফর্মুলা রেসের গতিযুদ্ধে নামবেন বলেই!
ফর্মুলা ওয়ানের সর্বকালের অন্যতম সেরা জার্মানির মাইকেল শুমাখারকে দেখেই মাহফুজুরের রেসিংয়ে নামার ইচ্ছা জাগে। তবে পেছনে আছে আরেকটি ঘটনাও। ছয় বছর আগে একবার অনলাইন গেমস ডব্লুসিজিতে (ওয়ার্ল্ড সাইবার গেমস) অংশ নিয়ে প্রথম রাউন্ডে বাদ পড়ে যান। তখন মাহফুজুরকে দেখে হাসাহাসি করেছিল বন্ধুরা। কিন্তু মাহফুজুর বন্ধুদের বলেছিলেন, ‘দেখিস কম্পিউটারে নয়, একদিন সত্যিকারের রেসে খেলব।’ কিন্তু চাইলেই তো আর হয় না। রেসিং কার লাগে, প্রয়োজন অনুশীলনের জন্য ২.২ কিলোমিটারের রেসিং ট্র্যাক। ঢাকায় যেখানে সাইক্লিস্টদের জন্য ভেলোড্রামই নেই, সেখানে রেসিং ট্র্যাক তো কষ্টকল্পনা।
মাহফুজুর শুরুটা করেছিলেন এক্সট্রিম রেসিং গোকার্ট চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে। ফ্যান্টাসি কিংডমে ১১ জনকে হারিয়ে ২০১০-এ দ্বিতীয়। পরের বছর ৩০০ জনের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন। এতেই আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। সেই রেশ ধরেই জুলাই ও আগস্টে কোয়েমব্যাটরে অংশ নেন ফর্মুলা ফোর চ্যাম্পিয়নশিপে।
ফর্মুলা ফোরে সিঙ্গেল সিট ওপেন হুইল ক্লাসের কারের জন্য সুপার স্পিডের মারুতি স্টিম এমপিএফআই ১৩০০ সিসির গাড়ি লাগে। যেটির সর্বোচ্চ গতি ২০০ কিলোমিটার। অনুশীলনের জন্য ট্র্যাকও দরকার। কিন্তু মাহফুজুরের কিছুই তো নেই! টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ভেন্যুতে গিয়ে তিন-চার দিন অনুশীলন সারেন। কোয়েমব্যাটরে গত দুবারের ফলাফল তাই মনমতো হয়নি। মাহফুজুরকে সাহায্য করতে পাশে অবশেষে এসে দাঁড়িয়েছে শাহ্ সিমেন্ট। কাল বিওএ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজুরকে পৃষ্ঠপোষকতা করার ঘোষণা দিলেন শাহ্ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তা আহসান জুয়েল। ২৭ নভেম্বর-১ ডিসেম্বর দিল্লিতে হবে ফর্মুলা ফোরের তৃতীয় রাউন্ড। সেখানে যাওয়ার আগে এমন পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে খুবই খুশি মাহফুজুর, ‘ব্যয়বহুল এমন খেলায় শাহ্ সিমেন্ট আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। আমি খুব আনন্দিত।’

ফর্মুলা ফোরে শুরু। কিন্তু মাহফুজুর স্বপ্ন দেখেন একদিন খেলবেন ফর্মুলা ওয়ানে।