বাছাইপর্ব স্থগিত হওয়ায় র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। পরের দুটি দল সুযোগ পাবে ১০ দলের মেয়েদের চ্যাম্পিয়নশিপেও। তবে ওয়ানডে মর্যাদা নেই বলে থাইল্যান্ডের সুযোগ হয়নি কোনোটিতেই। গত বছরের ওই বাছাইপর্বের পর আর কোনো ম্যাচও খেলার সুযোগ পায়নি থাইল্যান্ড। আগামী সেপ্টেম্বরে এশিয়ান গেমসের আগে সূচিতে কোনো ম্যাচও নেই তাদের।

গত বছর আইসিসি তার পূর্ণ সদস্য সব দেশকেই মেয়েদের টেস্ট ও ওয়ানডে মর্যাদা দিয়েছে। আফগানিস্তানের মেয়েদের দল এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি, মর্যাদা পেয়েছে তারাও। তবে সেটি মেলেনি থাইল্যান্ডের। কারণ, তাদের ছেলেদের দলের উন্নতি আটকে আছে!

ক্রিকইনফোকে সেগাল বলেছেন, মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে অনেক খাটুনির পরও মর্যাদা পাচ্ছেন না তাঁরা, ‘আমাদের ক্রিকেটাররা পুরোপুরি আমাদের এখান থেকেই উঠে আসা (বাইরের দেশের বংশোদ্ভূত নয়)। এই মানে নিয়ে আসতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। তবে এখনো সহায়তা প্রয়োজন আমাদের। আমাদের ছেলেদের উন্নতি তেমন নয়, ফলে নজর মেয়েদের দলের ওপরই। তারা অসাধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে, বিশেষ করে শীর্ষস্থানীয় ১০টি দলের সঙ্গে খেলতে পারলে।’

এখনকার নিয়ম অনুযায়ী, আইসিসির পূর্ণ সদস্য অথবা মেয়েদের চ্যাম্পিয়নশিপে সুযোগ পেলেই শুধু ওয়ানডে মর্যাদা মেলে। তবে এ পদ্ধতি বদলানো নিয়ে আলোচনা করবে আইসিসি। সহযোগী দেশগুলোর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পথটা নিয়েও আলোচনা হবে আগামীকাল দুবাইয়ে শুরু হতে যাওয়া আইসিসির সভায়।

প্রতিটি সহযোগী দেশের জন্যই থাইল্যান্ডের গল্পটা দারুণ অনুপ্রেরণামূলক। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, জার্মানির মতো উঠতি ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর জন্য। তাদের কাঠামোটা ভালো।
আমিনুল ইসলাম, আইসিসির এশিয়া অঞ্চলের ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার ও বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক

আইসিসিতে প্রধান নির্বাহীদের কমিটিতে সহযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধি সুমোদ দামোদার বলছেন, থাইল্যান্ডের আরও ভালো কিছু প্রাপ্য, ‘এটা গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। যাদের প্রাপ্য, তাদের ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়া উচিত। সবার সমর্থনও দরকার। থাইল্যান্ডের সঙ্গে যা হয়েছে, সেটি হতাশাজনক। থাইল্যান্ডের কি এর চেয়ে ভালো কিছু প্রাপ্য? অবশ্যই। তারা পূর্ণ সদস্য দুটি দলকে হারিয়েছে। অন্তত ওয়ানডে মর্যাদার ক্ষেত্রে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করার দরকার ছিল।’

থাইল্যান্ড উঠতি ক্রিকেট দলগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে বলে মনে করেন আইসিসির এশিয়া অঞ্চলের ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার ও বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম, ‘প্রতিটি সহযোগী দেশের জন্যই থাইল্যান্ডের গল্পটা দারুণ অনুপ্রেরণামূলক। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, জার্মানির মতো উঠতি ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর জন্য। তাদের কাঠামোটা ভালো। কোচ ও ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে ধারাবাহিকতা আছে, টেকসই সাফল্যের ক্ষেত্রে যেসব মূল ভিত্তি। ক্রিকেট যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বাইরেও প্রসারিত হচ্ছে, থাইল্যান্ড এর প্রমাণ। তাদের ক্রিকেট সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। তাদের আরও ম্যাচ খেলা দরকার।’

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন