বোলিং সহায়ক কন্ডিশনে টসে জিতে ফিল্ডিং নেয় ভারত। আর ইংল্যান্ড বুমরার তোপে পড়ে শুরুতেই। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বুমরার অফ স্টাম্পের বাইরের বলটি স্টাম্পে ডেকে আনেন ফর্মের দিক দিয়ে নড়বড়ে থাকা রয়, ইংল্যান্ডের ধসের শুরুও সেখান থেকেই। এক বল পরেই বাড়তি বাউন্সে ভড়কে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন রুট। এরপর মোহাম্মদ শামির ভেতরের দিকে ঢোকা বলে কট-বিহাইন্ড স্টোকস, ঋষভ পন্ত নেন দারুণ এক ক্যাচ।

default-image

রয়, রুট ও স্টোকস ফেরেন দলীয় ৭ রানের মধ্যেই, কেউ কোনো রান না করেই। ওয়ানডেতে এই প্রথম তিনজনই একই ম্যাচে আউট হলেন ০ রানে। প্রথম ৩ ওভারের মধ্যেই ভারত নেয় এ ৩ উইকেট—ওয়ানডেতে মাত্র দ্বিতীয়বার ইনিংসের প্রথম ৩ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট নিল ভারত।

সেই ডামাডোলের মাঝে বেয়ারস্টো ৭ রান করেন, তবে তিনিও ফেরেন দলীয় ১৭ রানে। এরপর লিয়াম লিভিংস্টোন যখন ইনিংসের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে কোনো রান না করেই আউট হলেন, ইংল্যান্ডের রান তখন ২৬। ইংল্যান্ড সর্বশেষ এত কম রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল চার বছর আগে, ২০১৮ সালে।

বেয়ারস্টোর উইকেটটি ছিল ভারতের দিক দিয়ে আরও দুর্দান্ত, বুমরার বলটি যেমন ছিল, তেমনই ছিল পন্তের ক্যাচ। লিভিংস্টোন নেমে আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন, তবে পায়ের পেছন দিয়ে বোল্ড হয়েছেন তিনি। বুমরার ওই বলে সুইং ছিল ৩.২ ডিগ্রি, ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এর আগে কখনোই এত বেশি মুভমেন্টের বলে উইকেট পাননি ভারতীয় পেসার।

default-image

প্রথম স্পেলে বুমরার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল এমন—৫ ওভার, ২ মেডেন, ৯ রান, ৪ উইকেট! ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভুবনেশ্বর কুমারের ৮ রানে ৩ উইকেটের পর ভারতের কোনো বোলারের এটিই সেরা ওপেনিং স্পেল।

২৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা ইংল্যান্ডকে একটু আগলে রাখার চেষ্টা করেন অধিনায়ক বাটলার ও মঈন আলী। তবে দুজনের জুটি ২৭ রানের বড় হয়নি। সে জুটি ভাঙেন প্রসিধ কৃষ্ণ, ১৮ বলে ১৪ রান করে ফিরতি ক্যাচ দেন মঈন। ততক্ষণ পর্যন্ত ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ ছিল মঈনেরই। এরপর শামির বাউন্সারে ক্যাচ দেন ৩২ বলে ৩০ রান করা বাটলার। পরের ওভারে ক্রেইগ ওভারটনকে বোল্ড করে তৃতীয় উইকেটটি পান শামি, ইংল্যান্ড অষ্টম উইকেট হারায় ৬৮ রানে।

নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তখন ইংল্যান্ডের সামনে। ব্রাইডন কার্স ও ডেভিড উইলি সেটি হতে দেননি, পার করিয়েছেন রেকর্ড ৮৬। দুজন এরপর পার করিয়েছেন ওভালে কোনো দলের সর্বনিম্ন ১০৩ রানের স্কোরও। দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা বুমরাকে দুটি চার মারেন উইলি, তবে কার্সকে দারুণ ইয়র্কারে বোল্ড করে নিজের পঞ্চম উইকেটটি নেন তিনি। পরে উইলিকেও বোল্ড করেন বুমরা, ইংল্যান্ড গুটিয়ে যায় তাতেই। ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের এটিই সর্বনিম্ন স্কোর।

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন